চট্টগ্রামে বেড়েছে চালের দাম
jugantor
মিলার ও আড়তদারদের কারসাজিতে কৃত্রিম সংকট
চট্টগ্রামে বেড়েছে চালের দাম

  চট্টগ্রাম ব্যুরো  

১৯ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে আড়তদার ও মিলারদের কারসাজিতে বাড়ছে চালের দাম। সব ধরনের চাল প্রতি বস্তায় ২০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ চাল আমদানি করা হলেও বাজারে এর প্রভাব নাই। সরকার মজুদ সংকট ঠেকাতে চট্টগ্রাম জেলায় ৫ হাজার ৯১৫ টন চাল মিলারদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ করছে। মিলারদের কাছ থেকে আতপ চাল ৩৯ টাকা এবং সিদ্ধ চাল ৪০ টাকা কেজি দরে কিনেছে। আবার ধানের ক্ষেত্রে মণপ্রতি ৫০ টাকা করে বাড়িয়ে ৯০০ টাকা করা হয়েছে। ধানের দাম বাড়ার ফলে চালের দামেও প্রভাব পড়েছে। এদিকে মিলাররা বাইরে চাল বিক্রি করছেন না। আবার কিছু আড়তদার চাল মজুদ করছেন। ফলে বাজারে চালের দাম বেড়েছে।

পাহাড়তলী ও খাতুনগঞ্জের চালের একাধিক আড়তদার জানান, বাজারে আতপ চালের মধ্যে মোটা আতপ ৫০ কেজি বস্তায় ২০০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৯০০ টাকা, বেতি আতপ ৫০ কেজি বস্তায় ১০০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৫০০ টাকা, ২৮ নম্বর বেতির প্রতি ৫০ কেজি বস্তায় ১০০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৬০০ টাকা, কাটারি আতপ ২৫ কেজি বস্তায় ৩০০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৬০০ টাকা, নাজিরশাইল (২৫ কেজি) ১০০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৬০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে সিদ্ধ চালের মধ্যে পারি সিদ্ধ ৫০ কেজির বস্তায় ১০০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৭০০ টাকা, জিরাশাইল সিদ্ধ ২০০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৬৫০ টাকা, কাটারি সিদ্ধ (২৫ কেজি) ২০০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৭০০ টাকা এবং স্বর্ণা সিদ্ধ ৫০ কেজির বস্তায় ২০০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৪৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এদিকে খুচরা বাজারে চালের দাম আরও বেড়েছে। প্রতিকেজি পারি সিদ্ধ ৫৩ টাকা থেকে ৫৫ টাকা, জিরাশাইল ও নাজিরশাইল ৬০ টাকা ৬২ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আতপ চালের মধ্যে বেতি আতপ কেজি ৫৪ টাকা থেকে ৫৬ টাকা, মিনিকেট ৬০ টাকা থেকে ৬৪ টাকা, পাইজাম ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং কাটারিভোগ চাল ৭২ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগ সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম জেলায় ২০২০-২১ অর্থ বছরে বোরো মৌসুমে আতপ চাল সংগ্রহ করা হবে ৫ হাজার ৯১৫ টন। জেলার ফটিকছড়ি উপজেলা থেকে ৮৪৫ টন, আনোয়ারা উপজেলা থেকে ৫৯৪ টন, পাঁচলাইশ থানা এলাকা থেকে ২৮ টন, বাঁশখালীতে ৩৯৫ টন, বোয়ালখালী থেকে ৫৭ টন, চন্দনাইশ থেকে ৮৪ টন, হাটহাজারী থেকে ১০৯ টন, লোহাগাড়া থেকে ৮৩ টন, মিরসরাইয়ে ৩৯ টন, পটিয়া ৫৬৫ টন, রাঙ্গুনিয়া থেকে ১ হাজার ৬০০ টন, রাউজান থেকে ২৪৬ টন, সাতকানিয়া থেকে ১২৩ টন, চান্দগাঁও থেকে ৮৭০ টন, পাহাড়তলি থেকে ২১২ ও কর্ণফুলী উপজেলা থেকে ৬৫ টন আতপ চাল সংগ্রহ করা হবে। এসব উপজেলা মধ্যে সবচেয়ে বেশি বোরো সংগ্রহ করার পরিকল্পনা রয়েছে রাঙ্গুনিয়া থেকে।

চালের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ ও পাহাড়তলী থেকে জেলার ১৪টি উপজেলায় চাল সরবরাহ করা হয়। বৃহত্তর চট্টগ্রামেও এখান থেকে চাল সরবরাহ করা হয়। পাইকারি বাজারে দাম বৃদ্ধির ফলে উপজেলায়ও চালের দাম বেড়েছে। সামনে বর্ষায় চট্টগ্রামে যেসব চালের চাহিদা বেশি ওইসব চাল মিলাররা মজুদ করছেন। এর প্রভাব পড়ছে চালের বাজারে। এ কারণে চালের বাজার দিনদিন ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। পাহাড়তলী চালের বাজারের আড়তদার ওসমান গনি জানান, এখন সরকারের প্রকিউরমেন্ট চলছে। জিরাশাইলসহ মোটা যেসব চালের চাহিদা রয়েছে সেগুলো একটি চক্রের মাধ্যমে গুদামজাত হয়ে যাচ্ছে। ফলে চাহিদামত চাল আর পাচ্ছি না। বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়াতে দামবৃদ্ধির এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে। এছাড়াও উত্তরবঙ্গের মিলাররা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে চাল দিচ্ছে; যারা প্যাকেটজাত করে বিক্রি করে থাকে। ফলে চাহিদার একটি অংশ সেখানে চলে যাচ্ছে। আবার সরকারের সঙ্গে চুক্তির চাল দেওয়ার জন্য আগস্ট মাসের মধ্যে একটি সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সেখানে মধ্যস্বত্বভোগী একটি চক্র চাল গুদামজাত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে।

মিলার ও আড়তদারদের কারসাজিতে কৃত্রিম সংকট

চট্টগ্রামে বেড়েছে চালের দাম

 চট্টগ্রাম ব্যুরো 
১৯ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে আড়তদার ও মিলারদের কারসাজিতে বাড়ছে চালের দাম। সব ধরনের চাল প্রতি বস্তায় ২০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ চাল আমদানি করা হলেও বাজারে এর প্রভাব নাই। সরকার মজুদ সংকট ঠেকাতে চট্টগ্রাম জেলায় ৫ হাজার ৯১৫ টন চাল মিলারদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ করছে। মিলারদের কাছ থেকে আতপ চাল ৩৯ টাকা এবং সিদ্ধ চাল ৪০ টাকা কেজি দরে কিনেছে। আবার ধানের ক্ষেত্রে মণপ্রতি ৫০ টাকা করে বাড়িয়ে ৯০০ টাকা করা হয়েছে। ধানের দাম বাড়ার ফলে চালের দামেও প্রভাব পড়েছে। এদিকে মিলাররা বাইরে চাল বিক্রি করছেন না। আবার কিছু আড়তদার চাল মজুদ করছেন। ফলে বাজারে চালের দাম বেড়েছে।

পাহাড়তলী ও খাতুনগঞ্জের চালের একাধিক আড়তদার জানান, বাজারে আতপ চালের মধ্যে মোটা আতপ ৫০ কেজি বস্তায় ২০০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৯০০ টাকা, বেতি আতপ ৫০ কেজি বস্তায় ১০০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৫০০ টাকা, ২৮ নম্বর বেতির প্রতি ৫০ কেজি বস্তায় ১০০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৬০০ টাকা, কাটারি আতপ ২৫ কেজি বস্তায় ৩০০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৬০০ টাকা, নাজিরশাইল (২৫ কেজি) ১০০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৬০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে সিদ্ধ চালের মধ্যে পারি সিদ্ধ ৫০ কেজির বস্তায় ১০০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৭০০ টাকা, জিরাশাইল সিদ্ধ ২০০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৬৫০ টাকা, কাটারি সিদ্ধ (২৫ কেজি) ২০০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৭০০ টাকা এবং স্বর্ণা সিদ্ধ ৫০ কেজির বস্তায় ২০০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৪৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এদিকে খুচরা বাজারে চালের দাম আরও বেড়েছে। প্রতিকেজি পারি সিদ্ধ ৫৩ টাকা থেকে ৫৫ টাকা, জিরাশাইল ও নাজিরশাইল ৬০ টাকা ৬২ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আতপ চালের মধ্যে বেতি আতপ কেজি ৫৪ টাকা থেকে ৫৬ টাকা, মিনিকেট ৬০ টাকা থেকে ৬৪ টাকা, পাইজাম ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং কাটারিভোগ চাল ৭২ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগ সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম জেলায় ২০২০-২১ অর্থ বছরে বোরো মৌসুমে আতপ চাল সংগ্রহ করা হবে ৫ হাজার ৯১৫ টন। জেলার ফটিকছড়ি উপজেলা থেকে ৮৪৫ টন, আনোয়ারা উপজেলা থেকে ৫৯৪ টন, পাঁচলাইশ থানা এলাকা থেকে ২৮ টন, বাঁশখালীতে ৩৯৫ টন, বোয়ালখালী থেকে ৫৭ টন, চন্দনাইশ থেকে ৮৪ টন, হাটহাজারী থেকে ১০৯ টন, লোহাগাড়া থেকে ৮৩ টন, মিরসরাইয়ে ৩৯ টন, পটিয়া ৫৬৫ টন, রাঙ্গুনিয়া থেকে ১ হাজার ৬০০ টন, রাউজান থেকে ২৪৬ টন, সাতকানিয়া থেকে ১২৩ টন, চান্দগাঁও থেকে ৮৭০ টন, পাহাড়তলি থেকে ২১২ ও কর্ণফুলী উপজেলা থেকে ৬৫ টন আতপ চাল সংগ্রহ করা হবে। এসব উপজেলা মধ্যে সবচেয়ে বেশি বোরো সংগ্রহ করার পরিকল্পনা রয়েছে রাঙ্গুনিয়া থেকে।

চালের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ ও পাহাড়তলী থেকে জেলার ১৪টি উপজেলায় চাল সরবরাহ করা হয়। বৃহত্তর চট্টগ্রামেও এখান থেকে চাল সরবরাহ করা হয়। পাইকারি বাজারে দাম বৃদ্ধির ফলে উপজেলায়ও চালের দাম বেড়েছে। সামনে বর্ষায় চট্টগ্রামে যেসব চালের চাহিদা বেশি ওইসব চাল মিলাররা মজুদ করছেন। এর প্রভাব পড়ছে চালের বাজারে। এ কারণে চালের বাজার দিনদিন ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। পাহাড়তলী চালের বাজারের আড়তদার ওসমান গনি জানান, এখন সরকারের প্রকিউরমেন্ট চলছে। জিরাশাইলসহ মোটা যেসব চালের চাহিদা রয়েছে সেগুলো একটি চক্রের মাধ্যমে গুদামজাত হয়ে যাচ্ছে। ফলে চাহিদামত চাল আর পাচ্ছি না। বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়াতে দামবৃদ্ধির এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে। এছাড়াও উত্তরবঙ্গের মিলাররা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে চাল দিচ্ছে; যারা প্যাকেটজাত করে বিক্রি করে থাকে। ফলে চাহিদার একটি অংশ সেখানে চলে যাচ্ছে। আবার সরকারের সঙ্গে চুক্তির চাল দেওয়ার জন্য আগস্ট মাসের মধ্যে একটি সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সেখানে মধ্যস্বত্বভোগী একটি চক্র চাল গুদামজাত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন