খুলনার মানুষ ধানের শীষকেই বেছে নেবে

সেনা মোতায়েন ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়

- নজরুল ইসলাম মঞ্জু

  নূর ইসলাম রকি, খুলনা ব্যুরো ২৯ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনা সিটি

সেনা মোতায়েন ছাড়া খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হওয়া সম্ভব নয়। গত ৯ বছরে স্থানীয় সব নির্বাচনে ভোট কারচুপি, ছিনতাই হয়েছে।

এগুলো বন্ধ করার জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিকল্প নেই। তা না হলে নির্বাচনে কোনো সহিংসতা ঘটলে তার জন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশন দায়ী থাকবে। কেসিসি নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু না হলে এর প্রভাব পড়বে আগামী জাতীয় নির্বাচনে। শুক্রবার যুগান্তরকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী ও নগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে নগরবাসী ধানের শীষকেই বেছে নেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচনী পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপির মেয়র প্রার্থী বলেন, এখনই মন্তব্য করার সময় আসেনি। সবে আমরা প্রচার শুরু করেছি। আমাদের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ইশতেহার ঘোষণা করেছি। তবে বিভিন্ন জায়গায় কর্মীদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা, পোস্টার লাগাতে পুলিশি বাধার সম্মুখীন হচ্ছি। নির্বাচন কমিশনকে বলেছি ভোটারদের শঙ্কামুক্ত করার জন্য। নির্বাচনী আইন সবাই যেন মানে সেজন্য পদক্ষেপ নিতে বলেছি। কিন্তু খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি। এ অবস্থা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য শুভকর নয়। আমরা এ অবস্থার পরিবর্তন চাই।

নির্বাচন নিরপেক্ষ করার জোর দাবি জানিয়ে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, জনগণও সেটা আশা করছে। তাই ভোটারদের সকালেই ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। যাতে সন্ত্রাসীরা কোনো কেন্দ্র দখল করতে না পারে বা কোনো সন্ত্রাস সৃষ্টি করতে না পারে। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বড় ধরনের ভূমিকা আছে। তিনি বলেন, আমরা জনগণের সঙ্গে আছি। জনগণকে ভোট পাহারা দেয়ার জন্য তৈরি করছি। ভোট কেন্দ্রে ব্যাপক উপস্থিতি এবং ভোটের ফল না নিয়ে বাড়ি না ফেরার জন্য সবাইকে আহ্বান জানানো হয়েছে। জনগণকে নিয়ে সব অপ্রীতিকর ঘটনার মোকাবেলা করা হবে। সরকারি দল ভোট ডাকাতির চেষ্টা করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিরোধ করা হবে।

জনগণ কেন ধানের শীষে ভোট দেবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি নগরবাসীর কাছে বিশ্বস্ত নাগরিক নেতা এবং গ্রহণযোগ্য মানুষ। সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মাঠপর্যায়ের একজন নেতা। ভোটারদের সঙ্গে বেড়ে ওঠা সাহসী রাজনৈতিক কর্মী। তাছাড়া খুলনা বিএনপির ঘাঁটি। তাই বিগত দিনের মতো খুলনার মানুষ ধানের শীষকেই বেছে নেবে। তিনি আরও বলেন, আমি আকাশচুম্বী স্বপ্ন দেখাব না। এমন কোনো স্বপ্ন দেখাব না যা আমি বাস্তবায়ন করতে পারব না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কেসিসিকে গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটিতে রূপান্তরিত করব। ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যেতে পারলে আমি অবশ্যই জয়ী হব।

প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বিএনপির মেয়র প্রার্থী বলেন, খুলনা শহরের প্রভাবশালীদের নিয়ে বৈঠক করার খবর আমাদের কাছে আছে এবং পুলিশের চেহারায় ‘চাপে থাকার’ ছাপ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। সেনা মোতায়েন না করলে এ শঙ্কা যাবে না। সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে সেনা মোতায়েন ছাড়া জনগণের আস্থা ফিরে আসবে না। তিনি আরও বলেন, কেসিসিতে সুষ্ঠু নির্বাচন নির্ভর করছে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ওপর। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতা, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, চাকরির ক্ষেত্রে মেধাতালিকা বাদ দিয়ে দলীয়করণ করাসহ নানা কারণে নতুন ভোটাররা সরকারের ওপর বিরক্ত। তারা আমাকেই ভোট দেবে।

বর্তমান সরকার গত ৯ বছরে প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠান দখল করেছে মন্তব্য করে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, খুলনা ডায়াবেটিক সমিতি, সমবায় ব্যাংক সমিতি নির্বাচনে কাউকে অংশগ্রহণ করতে দেয়নি। খুলনা শিশু হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে ভোট কেন্দ্রে হামলা করে ব্যালটবাক্স ছিনতাই করেছে। খুলনা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ফল গভীর রাতে পরিবর্তন করেছে। শহরে বিভিন্ন সময় যারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে তারাই এসব কাজের মূল নায়ক। এদের সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের যে দহরম-মহরম তাতে নিরপেক্ষ নির্বাচন কোনোভাবেই আশা করা যায় না।

তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাচনের ১ম ও ২য় পর্যায় সুষ্ঠু হয়েছিল। এরপর থেকে সব নির্বাচনে ভোট ডাকাতি করা হয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে হয়রানিমূলক অভিযান, মামলা ও গ্রেফতার করা হয়েছে। ভোট কেন্দ্রে বোমা ফাটিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে আমাদের বিজয় ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে।

নির্বাচনী কৌশল সম্পর্কে তিনি বলেন, কেসিসি নির্বাচনের জন্য ২৮৯টি ভোট কেন্দ্রভিত্তিক সেন্টার কমিটি গঠন প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। আমাদের প্রস্তুতি কাজ বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। গণসংযোগ চলবে, পথসভা চলবে, কেন্দ্রীয় নেতারা আসবেন। প্রতিটি ওয়ার্ডে ১ জন সিনিয়র নেতাকে পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছি। আমরা ৫ দিন করে ১৫ দিনের তিনটি পদক্ষেপ নিয়েছি। এ প্যাকেজের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার চালানো হবে।

ঘটনাপ্রবাহ : খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ২০১৮

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×