দেশে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ১১ শতাংশ
jugantor
আঙ্কটাডের রিপোর্ট 
দেশে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ১১ শতাংশ

  মনির হোসেন  

২২ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিদায়ী ২০২০ সালে দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট বা এফডিআই) কমেছে ৩১ কোটি মার্কিন ডলার। অর্থাৎ প্রতি ডলার ৮৫ টাকা হিসাবে স্থানীয় মুদ্রায় কমেছে ২ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা। যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ।

আলোচ্য সময়ে দেশে এফডিআই এসেছে ২৫৮ কোটি ডলার। যা ২০১৯ সালে ছিল ২৮৯ কোটি ডলার। আর যতটুকু বিনিয়োগ এসেছে, তার বেশির ভাগ বর্তমানে দেশে বিদ্যমান কোম্পানিগুলো তাদের মুনাফা পুনঃবিনিয়োগ করেছে। নতুন বিনিয়োগ একেবারেই কম। তবে করোনার মধ্যেও চীন ও ভারতে বিনিয়োগ বেড়েছে। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় বেড়েছে ২০ শতাংশ।

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাডের প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। তবে করোনার মধ্যে আলোচ্য সময়ে সারাবিশ্বে মোট বিদেশি বিনিয়োগ ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন থেকে কমে ১ ট্রিলিয়নে নেমে এসেছে। শতকরা হিসাবে যা ৩৫ শতাংশ। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে সোমবার এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। তবে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) বলছে, এফডিআই কমার একমাত্র কারণ হলো করোনা পরিস্থিতি।

জানতে চাইলে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, করোনায় মানুষের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে এক রকম স্থবিরতা বিরাজ করছে। এ কারণে বিনিয়োগ আসেনি। তিনি বলেন, ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে কাজ করছে সরকার। আগামীতে বিনিয়োগে এর প্রমাণ পাওয়া যাবে।
আঙ্কটাডের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে সাধারণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও রপ্তানি দুটিই কমেছে। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আদেশ বাতিল হয়েছে। এ দেশে বিদেশি বিনিয়োগের খাতে কিছু পরিবর্তন এসেছে। আগে বেশির ভাগ বিনিয়োগ ছিল তৈরি পোশাক খাতে। বর্তমানে তা কয়েকটি খাতে চলে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে নবায়ন অযোগ্য জ্বালানি, ফাইন্যান্সিয়াল টেকনোলজি, ওষুধ শিল্প, তরল প্রাকৃতিক গ্যাস প্ল্যান্ট এবং কৃষি শিল্প। আর সরকারও এসব খাতগুলোয় পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, এমনিতেই বিনিয়োগে খারাপ অবস্থা ছিল। এরপর করোনার কারণে তাতে আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ অবস্থায়, বিনিয়োগ বাড়ানো অত্যন্ত চ্যালেঞ্জের। কারণ বিদেশিরা অনেক কিছু দেখে বিনিয়োগ করে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বিশ্বব্যাংকের ইজ অব ডুয়িং বিজনেস (সহজে ব্যবসা করা সংক্রান্ত) রিপোর্ট।

বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি : প্রতিবেদনে মোট বিনিয়োগকে তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে নতুন বিনিয়োগ, কোম্পানির আয় পুনরায় বিনিয়োগ এবং কোম্পানিগুলোর মধ্যে নিজস্ব ঋণ। প্রতিবেদন অনুসারে আগের বছরের ২৮৯ কোটি ডলারের বিপরীতে এবার ২৫৮ ডলার এফডিআই এসেছে। এর মধ্যে নতুন বিনিয়োগ হয়েছে ৮৪ কোটি ২০ লাখ ডলার, পুনরায় বিনিয়োগ ১৫৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার এবং কোম্পানির অভ্যন্তরীণ ঋণ ১৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

৭ বছরের বিনিয়োগ : প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৩ সালে দেশে এফডিআইর পরিমাণ ছিল ১৫৯ কোটি ৯১ লাখ ডলার। ২০১৪ সালে কিছুটা কমে ১৫৫ কোটি ১২ ডলারে নেমে আসে। ২০১৫ সালে ৪৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ২২৩ কোটি ৫৩ লাখ ডলারে উন্নীত। ২০১৬ সালে ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়ে ২৩৩ দশমিক ২৭ লাখ ডলারে উন্নীত হয়। আর ২০১৭ সালে ৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ কমে ২১৫ কোটি ১৫ লাখ ডলারে নেমে আসে। তবে ২০১৮ সালে আকিজ গ্রুপের একটি কোম্পানি কিনে নেয় জাপান টোব্যাকো। এর দাম দাঁড়ায় দেড় বিলিয়ন ডলারের বেশি। এছাড়া ওই বছর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ার কিনে নিয়েছে চীনের শেনঝেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ। এই প্রকল্পে চীনের ১১ কোটি ৩০ লাখ ডলার বিনিয়োগ দেখানো হয়েছে। সে কারণে ওই বছর এফডিআইর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬১ দশমিক ৩৩ কোটি ডলার। আগের বছরের চেয়ে যা ৬৮ শতাংশ বেশি।

চ্যালেঞ্জ : আঙ্কটাডের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তিনটি চ্যালেঞ্জকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় জমির অভাব, অবকাঠামো স্বল্পতা এবং বিশ্বব্যাংকের ইজ অব ডুইং (বিজনেস সহজ ব্যবসা করার সূচক) র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকা। বর্তমানে ১৯০টি দেশের মধ্যে এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬৮।

দক্ষিণ এশিয়ার বিনিয়োগ পরিস্থিতি : প্রতিবেদন অনুসারে আলোচ্য সময়ে দক্ষিণ এশিয়ায় ৭ হাজার ১শ কোটি ডলার বিনিয়োগ এসেছে। আগের বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালের চেয়ে যা ২০ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে শুধু ভারতের এফডিআই এসেছে ৬ হাজার ৪শ কোটি ডলার। আগের বছরের চেয়ে যা ২৭ শতাংশ বেশি। পাকিস্তানে ৬ শতাংশ কমেছে। শ্রীলংকায় কমেছে ৪৩ শতাংশ। এছাড়া নেপাল, ভুটান ও আফগানিস্তানে আগের বছরের মতো স্থিতিশীল।

বৈশ্বিক বিনিয়োগ পরিস্থিতি : প্রতিবেদন আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২০ সালে সারাবিশ্বে মোট এফডিআই এসেছে ১ ট্রিলিয়ন ডলার। কিন্তু ২০১৯ সালে এর পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ৫০ ট্রিলিয়ন ডলার। এ হিসাবে বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রায় ৩৫ শতাংশ কমেছে। এছাড়া ২০১৮ সালে ১ দশমিক ২৯, ২০১৭ সালে ১ দশমিক ৪৯ ট্রিলিয়ন, ২০১৬ সালে এফডিআই ছিল ১ দশমিক ৯১ ট্রিলিয়ন ডলার, ২০১৫ সালে ২ দশমিক ০৩ ট্রিলিয়ন ডলার।

শীর্ষ দেশ : আঙ্কটাডের রিপোর্টে অনুসারে ২০২০ সালেও সবচেয়ে বেশি বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে বিনিয়োগের পরিমাণ ১৫৬ বিলিয়ন ডলার। তবে প্রথম অবস্থানে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে আগের বছরের চেয়ে বিনিয়োগ কমেছে। আগের বছর দেশটিতে এফডিআই ছিল ২৬১ বিলিয়ন ডলার। ২০২০ সালে এফডিআইতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল চীন। দেশটিতে এ সময়ে বিনিয়োগের পরিমাণ ১৪৯ বিলিয়ন ডলার। আগের বছর যা ১৪১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ আগের বছরের চেয়ে বিনিয়োগ ৮ বিলিয়ন বেড়েছে। তৃতীয় হংকংয়ের বিনিয়োগ ৭৪ বিলিয়ন থেকে বেড়ে ১১৯ বিলিয়নে উন্নীত হয়েছে। চতুর্থ অবস্থানে সিঙ্গাপুরের ১১৪ ডলার থেকে কমে ৯১ ডলারে নেমে এসেছে। এরপর ধারাবাহিকভাবে ভারতে ৫১ থেকে বেড়ে ৬৪ বিলিয়ন ডলার, লুক্সেমবার্গ ১৫ থেকে ৬২, জার্মানি ৫৪ থেকে ৩৬, আয়ারল্যান্ড ৮১ থেকে ৩৩, মেক্সিকো ৩৪ থেকে ২৯ এবং সুইডেনে ১০ থেকে বেড়ে ২৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে।

আঙ্কটাডের রিপোর্ট 

দেশে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ১১ শতাংশ

 মনির হোসেন 
২২ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিদায়ী ২০২০ সালে দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট বা এফডিআই) কমেছে ৩১ কোটি মার্কিন ডলার। অর্থাৎ প্রতি ডলার ৮৫ টাকা হিসাবে স্থানীয় মুদ্রায় কমেছে ২ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা। যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ। 

আলোচ্য সময়ে দেশে এফডিআই এসেছে ২৫৮ কোটি ডলার। যা ২০১৯ সালে ছিল ২৮৯ কোটি ডলার। আর যতটুকু বিনিয়োগ এসেছে, তার বেশির ভাগ বর্তমানে দেশে বিদ্যমান কোম্পানিগুলো তাদের মুনাফা পুনঃবিনিয়োগ করেছে। নতুন বিনিয়োগ একেবারেই কম। তবে করোনার মধ্যেও চীন ও ভারতে বিনিয়োগ বেড়েছে। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় বেড়েছে ২০ শতাংশ। 

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাডের প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। তবে করোনার মধ্যে আলোচ্য সময়ে সারাবিশ্বে মোট বিদেশি বিনিয়োগ ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন থেকে কমে ১ ট্রিলিয়নে নেমে এসেছে। শতকরা হিসাবে যা ৩৫ শতাংশ। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে সোমবার এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। তবে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) বলছে, এফডিআই কমার একমাত্র কারণ হলো করোনা পরিস্থিতি। 

জানতে চাইলে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, করোনায় মানুষের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে এক রকম স্থবিরতা বিরাজ করছে। এ কারণে বিনিয়োগ আসেনি। তিনি বলেন, ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে কাজ করছে সরকার। আগামীতে বিনিয়োগে এর প্রমাণ পাওয়া যাবে। 
আঙ্কটাডের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে সাধারণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও রপ্তানি দুটিই কমেছে। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আদেশ বাতিল হয়েছে। এ দেশে বিদেশি বিনিয়োগের খাতে কিছু পরিবর্তন এসেছে। আগে বেশির ভাগ বিনিয়োগ ছিল তৈরি পোশাক খাতে। বর্তমানে তা কয়েকটি খাতে চলে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে নবায়ন অযোগ্য জ্বালানি, ফাইন্যান্সিয়াল টেকনোলজি, ওষুধ শিল্প, তরল প্রাকৃতিক গ্যাস প্ল্যান্ট এবং কৃষি শিল্প। আর সরকারও এসব খাতগুলোয় পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, এমনিতেই বিনিয়োগে খারাপ অবস্থা ছিল। এরপর করোনার কারণে তাতে আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ অবস্থায়, বিনিয়োগ বাড়ানো অত্যন্ত চ্যালেঞ্জের। কারণ বিদেশিরা অনেক কিছু দেখে বিনিয়োগ করে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বিশ্বব্যাংকের ইজ অব ডুয়িং বিজনেস (সহজে ব্যবসা করা সংক্রান্ত) রিপোর্ট। 

বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি : প্রতিবেদনে মোট বিনিয়োগকে তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে নতুন বিনিয়োগ, কোম্পানির আয় পুনরায় বিনিয়োগ এবং কোম্পানিগুলোর মধ্যে নিজস্ব ঋণ। প্রতিবেদন অনুসারে আগের বছরের ২৮৯ কোটি ডলারের বিপরীতে এবার ২৫৮ ডলার এফডিআই এসেছে। এর মধ্যে নতুন বিনিয়োগ হয়েছে ৮৪ কোটি ২০ লাখ ডলার, পুনরায় বিনিয়োগ ১৫৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার এবং কোম্পানির অভ্যন্তরীণ ঋণ ১৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। 

৭ বছরের বিনিয়োগ : প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৩ সালে দেশে এফডিআইর পরিমাণ ছিল ১৫৯ কোটি ৯১ লাখ ডলার। ২০১৪ সালে কিছুটা কমে ১৫৫ কোটি ১২ ডলারে নেমে আসে। ২০১৫ সালে ৪৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ২২৩ কোটি ৫৩ লাখ ডলারে উন্নীত। ২০১৬ সালে ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়ে ২৩৩ দশমিক ২৭ লাখ ডলারে উন্নীত হয়। আর ২০১৭ সালে ৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ কমে ২১৫ কোটি ১৫ লাখ ডলারে নেমে আসে। তবে ২০১৮ সালে আকিজ গ্রুপের একটি কোম্পানি কিনে নেয় জাপান টোব্যাকো। এর দাম দাঁড়ায় দেড় বিলিয়ন ডলারের বেশি। এছাড়া ওই বছর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ার কিনে নিয়েছে চীনের শেনঝেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ। এই প্রকল্পে চীনের ১১ কোটি ৩০ লাখ ডলার বিনিয়োগ দেখানো হয়েছে। সে কারণে ওই বছর এফডিআইর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬১ দশমিক ৩৩ কোটি ডলার। আগের বছরের চেয়ে যা ৬৮ শতাংশ বেশি। 

চ্যালেঞ্জ : আঙ্কটাডের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তিনটি চ্যালেঞ্জকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় জমির অভাব, অবকাঠামো স্বল্পতা এবং বিশ্বব্যাংকের ইজ অব ডুইং (বিজনেস সহজ ব্যবসা করার সূচক) র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকা। বর্তমানে ১৯০টি দেশের মধ্যে এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬৮। 

দক্ষিণ এশিয়ার বিনিয়োগ পরিস্থিতি : প্রতিবেদন অনুসারে আলোচ্য সময়ে দক্ষিণ এশিয়ায় ৭ হাজার ১শ কোটি ডলার বিনিয়োগ এসেছে। আগের বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালের চেয়ে যা ২০ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে শুধু ভারতের এফডিআই এসেছে ৬ হাজার ৪শ কোটি ডলার। আগের বছরের চেয়ে যা ২৭ শতাংশ বেশি। পাকিস্তানে ৬ শতাংশ কমেছে। শ্রীলংকায় কমেছে ৪৩ শতাংশ। এছাড়া নেপাল, ভুটান ও আফগানিস্তানে আগের বছরের মতো স্থিতিশীল। 

বৈশ্বিক বিনিয়োগ পরিস্থিতি : প্রতিবেদন আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২০ সালে সারাবিশ্বে মোট এফডিআই এসেছে ১ ট্রিলিয়ন ডলার। কিন্তু ২০১৯ সালে এর পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ৫০ ট্রিলিয়ন ডলার। এ হিসাবে বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রায় ৩৫ শতাংশ কমেছে। এছাড়া ২০১৮ সালে ১ দশমিক ২৯, ২০১৭ সালে ১ দশমিক ৪৯ ট্রিলিয়ন, ২০১৬ সালে এফডিআই ছিল ১ দশমিক ৯১ ট্রিলিয়ন ডলার, ২০১৫ সালে ২ দশমিক ০৩ ট্রিলিয়ন ডলার। 

শীর্ষ দেশ : আঙ্কটাডের রিপোর্টে অনুসারে ২০২০ সালেও সবচেয়ে বেশি বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে বিনিয়োগের পরিমাণ ১৫৬ বিলিয়ন ডলার। তবে প্রথম অবস্থানে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে আগের বছরের চেয়ে বিনিয়োগ কমেছে। আগের বছর দেশটিতে এফডিআই ছিল ২৬১ বিলিয়ন ডলার। ২০২০ সালে এফডিআইতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল চীন। দেশটিতে এ সময়ে বিনিয়োগের পরিমাণ ১৪৯ বিলিয়ন ডলার। আগের বছর যা ১৪১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ আগের বছরের চেয়ে বিনিয়োগ ৮ বিলিয়ন বেড়েছে। তৃতীয় হংকংয়ের বিনিয়োগ ৭৪ বিলিয়ন থেকে বেড়ে ১১৯ বিলিয়নে উন্নীত হয়েছে। চতুর্থ অবস্থানে সিঙ্গাপুরের ১১৪ ডলার থেকে কমে ৯১ ডলারে নেমে এসেছে। এরপর ধারাবাহিকভাবে ভারতে ৫১ থেকে বেড়ে ৬৪ বিলিয়ন ডলার, লুক্সেমবার্গ ১৫ থেকে ৬২, জার্মানি ৫৪ থেকে ৩৬, আয়ারল্যান্ড ৮১ থেকে ৩৩, মেক্সিকো ৩৪ থেকে ২৯ এবং সুইডেনে ১০ থেকে বেড়ে ২৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন