রাজশাহীর ঘরে ঘরে করোনা রোগী
jugantor
সংক্রমণ চূড়ায় উঠেছে
রাজশাহীর ঘরে ঘরে করোনা রোগী

  আনু মোস্তফা, রাজশাহী  

২২ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীতে করোনা সংক্রমণ বাড়ছেই। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সংক্রমণ এখন চূড়ায় উঠে গেছে। এদিকে রাজশাহী মেডিকেলে সোমবার দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে আক্রান্তদের ভিড় প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এদিন দুপুর পর্যন্ত এই হাসপাতালে ৩০৯টি করোনা বেডের বিপরীতে ৪০৯ জন চিকিৎসাধীন ছিলেন। আর হাসপাতাল ও বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৫ হাজার ৭৯৬ জন। আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে চিকিৎসাধীন আছেন ৫ হাজার ৩৮৭ জন।

রামেক হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, গ্রামাঞ্চলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার কারণে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। এক সপ্তাহ ধরে এই হাসপাতালে আসা করোনায় আক্রান্তদের অধিকাংশই গ্রামের। আগে বয়স্করা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে এলেও এখন সব বয়সের মানুষই আক্রান্ত হচ্ছেন। এমনকি শিশু-কিশোর, তরুণরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। রাজশাহীতে ঘরে ঘরে এখন কোভিড রোগী। সংক্রমণ না কমে বরং বেড়েই চলেছে। সিভিল সার্জন দপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী রোববার একদিনে রাজশাহীতে ৩৭৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৪৩ দশমিক ১৯।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, পরিস্থিতি ভয়াবহ, মানবেতর ও বিপর্যয়কর। রাজশাহীতে এখন করোনার তাণ্ডব চলছে। সংক্রমণ এখন চূড়ায় উঠে গেছে। একদিন সামান্য কমলে পরের দিন বেড়ে যাচ্ছে। রাজশাহী মেডিকেলে আক্রান্তদের চিকিৎসা নিশ্চিতে সব চেষ্টা করা হচ্ছে। অক্সিজেন, উপকরণ ও জনবল কয়েকগুণ বাড়িয়েও কুলিয়ে ওঠা যাচ্ছে না। কারণ, সক্ষমতার তুলনায় কোভিড রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। যারা হাসপাতালে আসছেন, তাদের ৯৯ শতাংশকেই অক্সিজেন সাপোর্ট দিতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, রাজশাহীর গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা। শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে আসায় গ্রামের রোগীরাই বেশি মারা যাচ্ছেন।

এদিকে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের দৈনিক সংক্রমণ প্রতিবেদন থেকে দেখা গেছে, সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহীতে সংক্রমণের হার ছিল ৪৩ দশমিক ১৯ ভাগ। ১৯ জুন সংক্রমণের এই হার ছিল ৪৬ দশমিক ৯৯ ভাগ। তার আগেরদিন ১৮ জুন ছিল ৩১ দশমিক ৩৫ ভাগ। ১৭ জুন সংক্রমণের হার ছিল ৪৭ দশমিক ২৩ ভাগ। ১৬ জুন ছিল ৪২ দশমিক ৪৩ ভাগ। রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল কাইউম তালুকদার জানান, রাজশাহীতে এক মাস ধরেই সংক্রমণের হার ৪০ থেকে ৫০ ভাগের মধ্যে ওঠানামা করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১১ জুন থেকে ১৭ জুন সর্বাত্মক লকডাউন দেওয়া হয় মহানগরী এলাকায়। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় আরও এক সপ্তাহ বাড়িয়ে ২৪ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত লকডাউন বর্ধিত করা হয়েছে। তার দাবি, লকডাউনের সুফল পেতে আরও এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে।

এদিকে করোনার দ্বিতীয় পর্বের সংক্রমণ ঠেকাতে এখন পর্যন্ত গৃহীত কোনো পদক্ষেপই কার্যকর ফল দেয়নি বলে মনে করছেন ইসলামি ব্যাংক মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিনের বিভাগীয় প্রধান ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ড. চিন্ময় কান্তি দাস। তিনি বলেন, ঈদের পর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পার্শ্ববর্তী জেলা হিসাবে রাজশাহীতেও তখন সংক্রমণ বাড়ছিল। তখনই সর্বাত্মক লকডাউন দেওয়া দরকার ছিল। কিন্তু নানা অজুহাতে বিলম্বিত হয়। এরই ফল হিসাবে এখন রাজশাহীতে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট সংক্রমণের চূড়ায় উঠে গেছে। রাজশাহীতে ব্যাপকভাবে সামাজিক সংক্রমণ ঘটেছে, এটা আমরা ধরে নিতে পারি। এখন কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি পরিপালনে বাধ্য করার উদ্যোগ নেওয়া ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। ঢিলেঢালা লকডাউন কার্যত কোনো ফল দিচ্ছে না। লোকজনের মাঝে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো নুমনাও দেখা যায় না। এদিকে বর্তমানে রাজশাহীতে চিকিৎসাধীন ৫ হাজার ৫৯৬ জন আক্রান্তের মধ্যে ৪ হাজার ৪৮৫ জন মহানগরীর বাসিন্দা। বাকি ১ হাজার ১১ জন জেলার বিভিন্ন উপজেলার রোগী। করোনা শুরুর পর থেকে সোমবার পর্যন্ত রাজশাহী জেলায় ৯২ হাজার ১৮৭ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে এই সময়ে করোনামুক্ত হয়েছেন ৮৬ হাজার ৫৯১ জন। শুরুর পর থেকে রাজশাহীতে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১৮৪ জনের।

সংক্রমণ চূড়ায় উঠেছে

রাজশাহীর ঘরে ঘরে করোনা রোগী

 আনু মোস্তফা, রাজশাহী 
২২ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীতে করোনা সংক্রমণ বাড়ছেই। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সংক্রমণ এখন চূড়ায় উঠে গেছে। এদিকে রাজশাহী মেডিকেলে সোমবার দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে আক্রান্তদের ভিড় প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এদিন দুপুর পর্যন্ত এই হাসপাতালে ৩০৯টি করোনা বেডের বিপরীতে ৪০৯ জন চিকিৎসাধীন ছিলেন। আর হাসপাতাল ও বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৫ হাজার ৭৯৬ জন। আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে চিকিৎসাধীন আছেন ৫ হাজার ৩৮৭ জন।

রামেক হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, গ্রামাঞ্চলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার কারণে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। এক সপ্তাহ ধরে এই হাসপাতালে আসা করোনায় আক্রান্তদের অধিকাংশই গ্রামের। আগে বয়স্করা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে এলেও এখন সব বয়সের মানুষই আক্রান্ত হচ্ছেন। এমনকি শিশু-কিশোর, তরুণরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। রাজশাহীতে ঘরে ঘরে এখন কোভিড রোগী। সংক্রমণ না কমে বরং বেড়েই চলেছে। সিভিল সার্জন দপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী রোববার একদিনে রাজশাহীতে ৩৭৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৪৩ দশমিক ১৯।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, পরিস্থিতি ভয়াবহ, মানবেতর ও বিপর্যয়কর। রাজশাহীতে এখন করোনার তাণ্ডব চলছে। সংক্রমণ এখন চূড়ায় উঠে গেছে। একদিন সামান্য কমলে পরের দিন বেড়ে যাচ্ছে। রাজশাহী মেডিকেলে আক্রান্তদের চিকিৎসা নিশ্চিতে সব চেষ্টা করা হচ্ছে। অক্সিজেন, উপকরণ ও জনবল কয়েকগুণ বাড়িয়েও কুলিয়ে ওঠা যাচ্ছে না। কারণ, সক্ষমতার তুলনায় কোভিড রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। যারা হাসপাতালে আসছেন, তাদের ৯৯ শতাংশকেই অক্সিজেন সাপোর্ট দিতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, রাজশাহীর গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা। শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে আসায় গ্রামের রোগীরাই বেশি মারা যাচ্ছেন।

এদিকে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের দৈনিক সংক্রমণ প্রতিবেদন থেকে দেখা গেছে, সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহীতে সংক্রমণের হার ছিল ৪৩ দশমিক ১৯ ভাগ। ১৯ জুন সংক্রমণের এই হার ছিল ৪৬ দশমিক ৯৯ ভাগ। তার আগেরদিন ১৮ জুন ছিল ৩১ দশমিক ৩৫ ভাগ। ১৭ জুন সংক্রমণের হার ছিল ৪৭ দশমিক ২৩ ভাগ। ১৬ জুন ছিল ৪২ দশমিক ৪৩ ভাগ। রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল কাইউম তালুকদার জানান, রাজশাহীতে এক মাস ধরেই সংক্রমণের হার ৪০ থেকে ৫০ ভাগের মধ্যে ওঠানামা করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১১ জুন থেকে ১৭ জুন সর্বাত্মক লকডাউন দেওয়া হয় মহানগরী এলাকায়। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় আরও এক সপ্তাহ বাড়িয়ে ২৪ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত লকডাউন বর্ধিত করা হয়েছে। তার দাবি, লকডাউনের সুফল পেতে আরও এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে।

এদিকে করোনার দ্বিতীয় পর্বের সংক্রমণ ঠেকাতে এখন পর্যন্ত গৃহীত কোনো পদক্ষেপই কার্যকর ফল দেয়নি বলে মনে করছেন ইসলামি ব্যাংক মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিনের বিভাগীয় প্রধান ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ড. চিন্ময় কান্তি দাস। তিনি বলেন, ঈদের পর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পার্শ্ববর্তী জেলা হিসাবে রাজশাহীতেও তখন সংক্রমণ বাড়ছিল। তখনই সর্বাত্মক লকডাউন দেওয়া দরকার ছিল। কিন্তু নানা অজুহাতে বিলম্বিত হয়। এরই ফল হিসাবে এখন রাজশাহীতে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট সংক্রমণের চূড়ায় উঠে গেছে। রাজশাহীতে ব্যাপকভাবে সামাজিক সংক্রমণ ঘটেছে, এটা আমরা ধরে নিতে পারি। এখন কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি পরিপালনে বাধ্য করার উদ্যোগ নেওয়া ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। ঢিলেঢালা লকডাউন কার্যত কোনো ফল দিচ্ছে না। লোকজনের মাঝে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো নুমনাও দেখা যায় না। এদিকে বর্তমানে রাজশাহীতে চিকিৎসাধীন ৫ হাজার ৫৯৬ জন আক্রান্তের মধ্যে ৪ হাজার ৪৮৫ জন মহানগরীর বাসিন্দা। বাকি ১ হাজার ১১ জন জেলার বিভিন্ন উপজেলার রোগী। করোনা শুরুর পর থেকে সোমবার পর্যন্ত রাজশাহী জেলায় ৯২ হাজার ১৮৭ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে এই সময়ে করোনামুক্ত হয়েছেন ৮৬ হাজার ৫৯১ জন। শুরুর পর থেকে রাজশাহীতে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১৮৪ জনের।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন