ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন না করলে বাড়তি কর
jugantor
উদ্দেশ্য জালিয়াতি প্রতিরোধ
ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন না করলে বাড়তি কর

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২২ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংক বা মোবাইল ফাইনান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে টাকার লেনদেন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেসব ক্ষেত্রে অর্থ পরিশোধে ব্যাংক লেনদেনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে ব্যাংক লেনদেনের পাশাপাশি এমএফএসের মাধ্যমে পরিশোধের বিধান বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় লেনদেন না করলে গ্রাহককে বাড়তি কর দিতে হবে।

আগামী ৩০ জুন বাজেট পাস হবে। ওই সময়ে এসব বিধান অন্তর্ভুক্ত থাকলে আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। নগদ টাকার লেনদেন নিরুৎসাহিত করে ই-মানি বা প্লাস্টিক মানির (অনলাইন লেনদেন) ব্যবহার বাড়ানোর জন্য বেশ কয়েক দফা নতুন বিধান সংযোজন করা হয়েছে। এর মধ্যে আরও আছে, ৫০ হাজার টাকার বেশি পেমেন্ট হলে তা ক্রস চেকের মাধ্যমে বা ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। এর বাইরে এগুলো এমএফএসের মাধ্যমে গ্রহণ না করা যাবে। এসব মাধ্যম ছাড়া নগদ আকারে পরিশোধ করলে লেনদেনের বিপরীতে যে পরিমাণ উৎসে কর কর্তন করার কথা তার চেয়ে বেশি উৎসে কর কর্তন করা হবে।

পণ্য ও সেবার সরবরাহ বা ঠিকানাধারীর বিল ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করা না হলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উৎসে করের অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ কর কর্তন করা হবে। করনেট সম্প্রসারণে বাড়ির নকশা অনুমোদনে ও সমবায় সমিতির রেজিস্ট্র্রেশনে এবং দুই লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র ক্রয়ে বা পোস্টাল সেভিংস অ্যাকাউন্ট খুলতে টিআইএন গ্রহণের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে করতে হবে। নগদ আকারে করা যাবে না।

এ ছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে ই-কমার্স প্ল্যাটফরমকে উৎসে কর কর্তনকারী কর্তৃপক্ষ হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। অর্থাৎ ই-কমার্স সেবা যেসব প্রতিষ্ঠান দিচ্ছে তারা সেবা গ্রহীতার কাছ থেকে উৎসে কর কর্তন করতে পারবে।

এ সম্পর্কে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির আকার বড় হবে। বিনিয়োগ ও রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে। ব্যাংক লেনদেনের মতো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরকে আইগত ভিত্তি দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত হবে। অনলাইনে লেনদেনের পরিধি আরও বাড়বে।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যাংকিং খাতে লেনদেন করলে তার একটি রেকর্ড থাকে। ফলে কোন দুর্নীতি বা জাল জালিয়াতি হলে সেগুলো পরে শনাক্ত করা সহজ হয়। এ কারণে ব্যাংকিং লেনদেনে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হলে দুর্নীতি কমানো সম্ভব। তবে এই ক্ষেত্রে আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। এ ছাড়া নোট ব্যবস্থাপনা এখন জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে খরচও বাড়ছে। ব্যাংকিং লেনদেন চালু হলে এসব ক্ষেত্রেও বাড়তি সুবিধা পাবে অর্থনীতি।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় অংকের নগদ লেনদেন নিরুৎসাহিত করে ব্যাংকের মাধ্যমে চালু করার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বাজেটের নির্দেশনাগুলো এ পদক্ষেপকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। দেশের অর্থনীতির আকার বড় হওয়ায় বাজারে নোটের সরবরাহও বাড়াতে হয়েছে। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২২ দশমিক ৩২ শতাংশ বেড়েছে নোটের সরবরাহ। এদিকে বাড়ছে অনলাইন লেনদেন। ফলে টাকার স্থানান্তর অনেক কমেছে। গত অর্থবছরে ৩১৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে নোট ছাপানোর কাজে। এর আগের বছর খরচ হয়েছিল ৪৮১ কোটি টাকা। করোনার কারণে গত অর্থবছরে নোটের ব্যবহার কম হয়েছে। যে কারণে চাহিদাও ছিল কম। এতে নোট ছাপানোর চাপও ছিল না। যে কারণে খরচ কমেছে। তবে করোনার প্রভাব মোকাবিলা করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থের প্রবাহ বাড়ানো হয়েছে।

উদ্দেশ্য জালিয়াতি প্রতিরোধ

ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন না করলে বাড়তি কর

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২২ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংক বা মোবাইল ফাইনান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে টাকার লেনদেন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেসব ক্ষেত্রে অর্থ পরিশোধে ব্যাংক লেনদেনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে ব্যাংক লেনদেনের পাশাপাশি এমএফএসের মাধ্যমে পরিশোধের বিধান বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় লেনদেন না করলে গ্রাহককে বাড়তি কর দিতে হবে।

আগামী ৩০ জুন বাজেট পাস হবে। ওই সময়ে এসব বিধান অন্তর্ভুক্ত থাকলে আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। নগদ টাকার লেনদেন নিরুৎসাহিত করে ই-মানি বা প্লাস্টিক মানির (অনলাইন লেনদেন) ব্যবহার বাড়ানোর জন্য বেশ কয়েক দফা নতুন বিধান সংযোজন করা হয়েছে। এর মধ্যে আরও আছে, ৫০ হাজার টাকার বেশি পেমেন্ট হলে তা ক্রস চেকের মাধ্যমে বা ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। এর বাইরে এগুলো এমএফএসের মাধ্যমে গ্রহণ না করা যাবে। এসব মাধ্যম ছাড়া নগদ আকারে পরিশোধ করলে লেনদেনের বিপরীতে যে পরিমাণ উৎসে কর কর্তন করার কথা তার চেয়ে বেশি উৎসে কর কর্তন করা হবে।

পণ্য ও সেবার সরবরাহ বা ঠিকানাধারীর বিল ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করা না হলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উৎসে করের অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ কর কর্তন করা হবে। করনেট সম্প্রসারণে বাড়ির নকশা অনুমোদনে ও সমবায় সমিতির রেজিস্ট্র্রেশনে এবং দুই লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র ক্রয়ে বা পোস্টাল সেভিংস অ্যাকাউন্ট খুলতে টিআইএন গ্রহণের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে করতে হবে। নগদ আকারে করা যাবে না।

এ ছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে ই-কমার্স প্ল্যাটফরমকে উৎসে কর কর্তনকারী কর্তৃপক্ষ হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। অর্থাৎ ই-কমার্স সেবা যেসব প্রতিষ্ঠান দিচ্ছে তারা সেবা গ্রহীতার কাছ থেকে উৎসে কর কর্তন করতে পারবে।

এ সম্পর্কে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির আকার বড় হবে। বিনিয়োগ ও রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে। ব্যাংক লেনদেনের মতো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরকে আইগত ভিত্তি দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত হবে। অনলাইনে লেনদেনের পরিধি আরও বাড়বে।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যাংকিং খাতে লেনদেন করলে তার একটি রেকর্ড থাকে। ফলে কোন দুর্নীতি বা জাল জালিয়াতি হলে সেগুলো পরে শনাক্ত করা সহজ হয়। এ কারণে ব্যাংকিং লেনদেনে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হলে দুর্নীতি কমানো সম্ভব। তবে এই ক্ষেত্রে আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। এ ছাড়া নোট ব্যবস্থাপনা এখন জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে খরচও বাড়ছে। ব্যাংকিং লেনদেন চালু হলে এসব ক্ষেত্রেও বাড়তি সুবিধা পাবে অর্থনীতি।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় অংকের নগদ লেনদেন নিরুৎসাহিত করে ব্যাংকের মাধ্যমে চালু করার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বাজেটের নির্দেশনাগুলো এ পদক্ষেপকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। দেশের অর্থনীতির আকার বড় হওয়ায় বাজারে নোটের সরবরাহও বাড়াতে হয়েছে। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২২ দশমিক ৩২ শতাংশ বেড়েছে নোটের সরবরাহ। এদিকে বাড়ছে অনলাইন লেনদেন। ফলে টাকার স্থানান্তর অনেক কমেছে। গত অর্থবছরে ৩১৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে নোট ছাপানোর কাজে। এর আগের বছর খরচ হয়েছিল ৪৮১ কোটি টাকা। করোনার কারণে গত অর্থবছরে নোটের ব্যবহার কম হয়েছে। যে কারণে চাহিদাও ছিল কম। এতে নোট ছাপানোর চাপও ছিল না। যে কারণে খরচ কমেছে। তবে করোনার প্রভাব মোকাবিলা করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থের প্রবাহ বাড়ানো হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন