দেশে ফাইজারের টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু
jugantor
দেশে ফাইজারের টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২২ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ফাইজার-বায়োএনটেকের উদ্ভাবিত ও উৎপাদিত টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়েছে। দেশে করোনা প্রতিরোধে তৃতীয় টিকা হিসাবে এর প্রয়োগ শুরু হয়েছে। সোমবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৩৬০ জনকে এই টিকা দেওয়া হয়। সকাল ৯টা থেকে শুরু করে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলে টিকাদান কার্যক্রম।

প্রাথমিক টিকাগ্রহীতাদের পর্যবেক্ষণ শেষে ৭ থেকে ১০ দিন পর অন্যদের এই টিকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সোমবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রথম ফাইজারের টিকা নেন মালিবাগের রাহাত চৌধুরী। তিনি বলেন, রোববার ফাইজারের টিকা নিতে এসএমএস পেয়েছেন এবং সোমবার সবার আগে টিকা পেয়েছেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকাদান কার্যক্রম পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। এ সময় তিনি জানান, পরীক্ষামূলকভাবে টিকা দেওয়ার পর গ্রহীতাদের পর্যবেক্ষণ করা হবে। পরবর্তীতে আরও বেশি মানুষের ওপর এই টিকা প্রয়োগ হবে।

অধ্যাপক ফ্লোরা বলেন, ফাইজারের টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাপমাত্রা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া টিকার মিশ্রণ ঠিকমতো করাও বড় ব্যাপার। এ কারণে এই টিকা দেওয়ার সময় সাবধানতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। সঠিক নিয়মে টিকা দেওয়ার জন্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত তারা সেভাবেই কাজ করছেন। যারা টিকা নিয়েছেন তারাও কোনো সমস্যার কথা জানাননি। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বোঝার মতো সময় এখনও হয়নি। তারপরও যেহেতু এই টিকা আমরা প্রথম দিচ্ছি সে কারণে যেসব হাসপাতালে আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্য কেন্দ্র) রয়েছে, বিশেষ পরিচর্যার ব্যবস্থা আছে সেগুলোকে কেন্দ্র হিসাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি জানান, এ পর্যন্ত ফাইজারের টিকার জন্য কোনো অগ্রাধিকার তালিকা তৈরি করা হয়নি। তবে যারা বিদেশগামী তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ জানুয়ারি রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের নার্স রুনু ভেরোনিকা কস্তাকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেওয়ার মাধ্যমে দেশে করোনা প্রতিরোধী টিকার প্রথম পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়। পরে ৭ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে গণটিকাদান শুরু হয়। দ্বিতীয় টিকা হিসাবে গত ২৫ মে ঢাকা মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী অনন্যা সালাম সমতাকে চীনের সিনোফার্মের টিকা দিয়ে এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়। তারপর গত শনিবার থেকে দেশের ৬৭টি কেন্দ্রে সিনোফার্মের টিকা দেওয়া চলছে। বাংলাদেশে তৃতীয় টিকার চালান হিসাবে কোভ্যাক্স সুবিধা থেকে পাওয়া মার্কিন ওষুধ কোম্পানি ফাইজার ও জার্মান জৈবপ্রযুক্তি কোম্পানি বায়োএনটেকের তৈরি এক লাখ ৬২০ ডোজের চালান এসে পৌঁছায় গত ৩১ মে। ২১ জুন যার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হলো।

দেশে ফাইজারের টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২২ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ফাইজার-বায়োএনটেকের উদ্ভাবিত ও উৎপাদিত টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়েছে। দেশে করোনা প্রতিরোধে তৃতীয় টিকা হিসাবে এর প্রয়োগ শুরু হয়েছে। সোমবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৩৬০ জনকে এই টিকা দেওয়া হয়। সকাল ৯টা থেকে শুরু করে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলে টিকাদান কার্যক্রম।

প্রাথমিক টিকাগ্রহীতাদের পর্যবেক্ষণ শেষে ৭ থেকে ১০ দিন পর অন্যদের এই টিকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সোমবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রথম ফাইজারের টিকা নেন মালিবাগের রাহাত চৌধুরী। তিনি বলেন, রোববার ফাইজারের টিকা নিতে এসএমএস পেয়েছেন এবং সোমবার সবার আগে টিকা পেয়েছেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকাদান কার্যক্রম পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। এ সময় তিনি জানান, পরীক্ষামূলকভাবে টিকা দেওয়ার পর গ্রহীতাদের পর্যবেক্ষণ করা হবে। পরবর্তীতে আরও বেশি মানুষের ওপর এই টিকা প্রয়োগ হবে।

অধ্যাপক ফ্লোরা বলেন, ফাইজারের টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাপমাত্রা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া টিকার মিশ্রণ ঠিকমতো করাও বড় ব্যাপার। এ কারণে এই টিকা দেওয়ার সময় সাবধানতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। সঠিক নিয়মে টিকা দেওয়ার জন্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত তারা সেভাবেই কাজ করছেন। যারা টিকা নিয়েছেন তারাও কোনো সমস্যার কথা জানাননি। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বোঝার মতো সময় এখনও হয়নি। তারপরও যেহেতু এই টিকা আমরা প্রথম দিচ্ছি সে কারণে যেসব হাসপাতালে আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্য কেন্দ্র) রয়েছে, বিশেষ পরিচর্যার ব্যবস্থা আছে সেগুলোকে কেন্দ্র হিসাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি জানান, এ পর্যন্ত ফাইজারের টিকার জন্য কোনো অগ্রাধিকার তালিকা তৈরি করা হয়নি। তবে যারা বিদেশগামী তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ জানুয়ারি রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের নার্স রুনু ভেরোনিকা কস্তাকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেওয়ার মাধ্যমে দেশে করোনা প্রতিরোধী টিকার প্রথম পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়। পরে ৭ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে গণটিকাদান শুরু হয়। দ্বিতীয় টিকা হিসাবে গত ২৫ মে ঢাকা মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী অনন্যা সালাম সমতাকে চীনের সিনোফার্মের টিকা দিয়ে এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়। তারপর গত শনিবার থেকে দেশের ৬৭টি কেন্দ্রে সিনোফার্মের টিকা দেওয়া চলছে। বাংলাদেশে তৃতীয় টিকার চালান হিসাবে কোভ্যাক্স সুবিধা থেকে পাওয়া মার্কিন ওষুধ কোম্পানি ফাইজার ও জার্মান জৈবপ্রযুক্তি কোম্পানি বায়োএনটেকের তৈরি এক লাখ ৬২০ ডোজের চালান এসে পৌঁছায় গত ৩১ মে। ২১ জুন যার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হলো।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন