এনআইডি টেবিল চেয়ার নয় উঠিয়ে নিয়ে গেলাম: সিইসি
jugantor
এনআইডি টেবিল চেয়ার নয় উঠিয়ে নিয়ে গেলাম: সিইসি

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৪ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা বলেছেন, এনআইডি সেবা টেবিল-চেয়ার না যে উঠিয়ে নিয়ে গেলাম। এটা নিয়ে আলোচনায় বসতে হবে। এনআইডি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চলে গেলে ইসির কার্যক্রমে সমস্যা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অপরদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, এনআইডি নিয়ে যেসব কথা হচ্ছে তা অবান্তর। আমরা জেনেবুঝেই এনআইডি সেবাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনছি। এখানে সবার মতামত রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও নেওয়া হয়েছে।

বুধবার পৃথক দুই অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিইসি এসব কথা বলেন। রাজধানীর নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনে মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সিইসি এনআইডি প্রসঙ্গে কথা বলেন।

অপরদিকে রাজধানীর পুরাতন কারাগার কনভেনশন হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে কারাবন্দিদের ১০০ সন্তানকে বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এনআইডি নিয়ে কথা বলেন তিনি। এনআইডি সেবা সুরক্ষা বিভাগে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনার মধ্যে সিইসি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য নতুন মাত্রা পেল।

এনআইডি প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, নিশ্চয়ই সচিব পর্যায়ে এ বিষয়ে কথাবার্তা হবে। আমাদের সুবিধা-অসুবিধাগুলো তাদের (সরকার) জানাব। তিনি বলেন, সরকারের কাছে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত হয়েছে এরকম বলা যায় না। তারা নিতে চাইলে আমরা দেব না এরকমও বলা যায় না। তাদের সঙ্গে আমাদের বসতে হবে- এটা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ কথা। আমাদের যে অবস্থান আছে সেটা তাদের বুঝাব, সিদ্ধান্ত কি হবে তখন দেখা যাবে। এক প্রশ্নের উত্তরে সিইসি বলেন, একথা আমি অনেকবার বলেছি যে, কমিশন চায় এনআইডি আমাদের কাছে থাকুক।

সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে কমিশনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেবিনেট তো আমাদের কাছে উচ্চপর্যায়। কেবিনেট থেকে আমরা চিঠি পেয়েছি। তাদের আমরা উত্তর দিয়েছি। আমরা এ পর্যায়ে আছি। তারা যদি এ বিষয়ে আমাদের কাছে মতামত বা পরামর্শ বা তারা কি করতে চায় তা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশনের সচিবের সঙ্গে বসে তখন আমাদের বক্তব্য তুলে ধরা হবে।

সিইসি বলেন, সরকারের অবশ্যই কিছু যুক্তি আছে। আমাদেরও কিছু যুক্তি আছে। এগুলো নিয়ে ডায়লগ হবে। আমাদের যুক্তি হলো- এ কাজটা আমাদের অনেক পরিশ্রমের ফসল। এজন্য আমাদের কয়েক হাজার নিবেদিত কর্মী তৈরি হয়েছে এবং তারা অত্যন্ত প্রফেশনাল। এত দিনের ভুল-ভ্রান্তি শেষে সব পেরিয়ে অত্যন্ত উচ্চপর্যায়ের প্রযুক্তিসম্পন্ন কাজ তারা তৈরি করতে পেরেছে। এটার জন্য নির্বাচন কমিশন গর্ববোধ করে। এ প্রেক্ষিতে আমরা বলেছিলাম যে, এত লোক আবার তৈরি করা, আবার ১২ বছর ঘুরে অন্য কোনো ডিপার্টমেন্টের পক্ষে সম্ভব নয়।

এনআইডি প্রসঙ্গে বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, সুরক্ষা সেবা বিভাগে এলে সেবা নিয়ে কোনো ধরনের জটিলতা তৈরি হবে না। বরং এনআইডি সেবা এখন যথাস্থানে আসছে।

টিকটক বন্ধের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারি পর্যায়ে টিকটক বন্ধের আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে পরিবারের কর্তাব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ছেলেমেয়েরা কোথায় কী করছে তা দেখবেন না? টিকটক করছে, লাইকি করছে, ভিডিও করছে, মাদক গ্রহণ করছে, নষ্ট হয়ে যাচ্ছে; এগুলো অভিভাবকদেরও দেখতে হবে। না পারলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেবেন।

নির্বাচন কমিশন থেকে এনআইডি কার্যক্রম সুরক্ষা বিভাগে নিতে ১৭ মে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়। ইসির হাতেই এ সেবা রাখতে ৭ জুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে চিঠি দেয় ইসি। ২০ জুন ইসিকে দেওয়া চিঠিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সরকারের সিদ্ধান্ত আবারও জানিয়ে দেয়।

এনআইডি টেবিল চেয়ার নয় উঠিয়ে নিয়ে গেলাম: সিইসি

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৪ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা বলেছেন, এনআইডি সেবা টেবিল-চেয়ার না যে উঠিয়ে নিয়ে গেলাম। এটা নিয়ে আলোচনায় বসতে হবে। এনআইডি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চলে গেলে ইসির কার্যক্রমে সমস্যা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অপরদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, এনআইডি নিয়ে যেসব কথা হচ্ছে তা অবান্তর। আমরা জেনেবুঝেই এনআইডি সেবাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনছি। এখানে সবার মতামত রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও নেওয়া হয়েছে।

বুধবার পৃথক দুই অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিইসি এসব কথা বলেন। রাজধানীর নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনে মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সিইসি এনআইডি প্রসঙ্গে কথা বলেন।

অপরদিকে রাজধানীর পুরাতন কারাগার কনভেনশন হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে কারাবন্দিদের ১০০ সন্তানকে বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এনআইডি নিয়ে কথা বলেন তিনি। এনআইডি সেবা সুরক্ষা বিভাগে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনার মধ্যে সিইসি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য নতুন মাত্রা পেল।

এনআইডি প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, নিশ্চয়ই সচিব পর্যায়ে এ বিষয়ে কথাবার্তা হবে। আমাদের সুবিধা-অসুবিধাগুলো তাদের (সরকার) জানাব। তিনি বলেন, সরকারের কাছে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত হয়েছে এরকম বলা যায় না। তারা নিতে চাইলে আমরা দেব না এরকমও বলা যায় না। তাদের সঙ্গে আমাদের বসতে হবে- এটা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ কথা। আমাদের যে অবস্থান আছে সেটা তাদের বুঝাব, সিদ্ধান্ত কি হবে তখন দেখা যাবে। এক প্রশ্নের উত্তরে সিইসি বলেন, একথা আমি অনেকবার বলেছি যে, কমিশন চায় এনআইডি আমাদের কাছে থাকুক।

সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে কমিশনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেবিনেট তো আমাদের কাছে উচ্চপর্যায়। কেবিনেট থেকে আমরা চিঠি পেয়েছি। তাদের আমরা উত্তর দিয়েছি। আমরা এ পর্যায়ে আছি। তারা যদি এ বিষয়ে আমাদের কাছে মতামত বা পরামর্শ বা তারা কি করতে চায় তা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশনের সচিবের সঙ্গে বসে তখন আমাদের বক্তব্য তুলে ধরা হবে।

সিইসি বলেন, সরকারের অবশ্যই কিছু যুক্তি আছে। আমাদেরও কিছু যুক্তি আছে। এগুলো নিয়ে ডায়লগ হবে। আমাদের যুক্তি হলো- এ কাজটা আমাদের অনেক পরিশ্রমের ফসল। এজন্য আমাদের কয়েক হাজার নিবেদিত কর্মী তৈরি হয়েছে এবং তারা অত্যন্ত প্রফেশনাল। এত দিনের ভুল-ভ্রান্তি শেষে সব পেরিয়ে অত্যন্ত উচ্চপর্যায়ের প্রযুক্তিসম্পন্ন কাজ তারা তৈরি করতে পেরেছে। এটার জন্য নির্বাচন কমিশন গর্ববোধ করে। এ প্রেক্ষিতে আমরা বলেছিলাম যে, এত লোক আবার তৈরি করা, আবার ১২ বছর ঘুরে অন্য কোনো ডিপার্টমেন্টের পক্ষে সম্ভব নয়।

এনআইডি প্রসঙ্গে বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, সুরক্ষা সেবা বিভাগে এলে সেবা নিয়ে কোনো ধরনের জটিলতা তৈরি হবে না। বরং এনআইডি সেবা এখন যথাস্থানে আসছে।

টিকটক বন্ধের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারি পর্যায়ে টিকটক বন্ধের আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে পরিবারের কর্তাব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ছেলেমেয়েরা কোথায় কী করছে তা দেখবেন না? টিকটক করছে, লাইকি করছে, ভিডিও করছে, মাদক গ্রহণ করছে, নষ্ট হয়ে যাচ্ছে; এগুলো অভিভাবকদেরও দেখতে হবে। না পারলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেবেন।

নির্বাচন কমিশন থেকে এনআইডি কার্যক্রম সুরক্ষা বিভাগে নিতে ১৭ মে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়। ইসির হাতেই এ সেবা রাখতে ৭ জুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে চিঠি দেয় ইসি। ২০ জুন ইসিকে দেওয়া চিঠিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সরকারের সিদ্ধান্ত আবারও জানিয়ে দেয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন