বিদেশিদের জন্য দুবাইয়ের চেয়েও ব্যয়বহুল ঢাকা
jugantor
বিদেশিদের জন্য দুবাইয়ের চেয়েও ব্যয়বহুল ঢাকা

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৪ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিদেশি কর্মজীবীদের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির চেয়েও ঢাকায় জীবনযাপনে বেশি ব্যয় হয়। এমনকি পাশের দেশ ভারতের বিখ্যাত মুম্বাই শহরে থাকতে গেলেও বিদেশি কর্মজীবীদের ঢাকার চেয়ে খরচ কম হয়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জরিপকারী প্রতিষ্ঠান মার্সার তালিকায় বিদেশি কর্মজীবীদের জন্য ব্যয়বহুল শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ৪০তম। মঙ্গলবার ২০৯টি শহরের ওপর ‘কস্ট অব লিভিং সিটি র‌্যাংকিং’ শীর্ষক জরিপের ফলাফল প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি।

জরিপে দেখা গেছে, বিদেশি কর্মজীবীদের জন্য সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশখাবাদ। আর সবচেয়ে কম ব্যয়বহুল শহর কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেক।

জানা গেছে, বিদেশি কর্মীদের থাকা, খাওয়া ও যাতায়াতের খরচ বিবেচনায় নিয়ে ব্যয়বহুল শহরের বার্ষিক তালিকা করে মার্সা। গত বছরের একই জরিপে ঢাকার অবস্থান ছিল ২৬ নম্বরে। সে হিসাবে ঢাকার অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে ১৪ ধাপ। অর্থাৎ এক বছরে ঢাকায় জীবনযাত্রার খরচ কিছুটা কমেছে।

এবারের তালিকায় এক ধাপ এগিয়ে শীর্ষে উঠেছে আশখাবাদ। গেল বছর শীর্ষে থাকা হংকং চলে গেছে ২ নম্বরে। মার্সার গ্লোবাল মোবিলিটি প্র্যাকটিস শাখার প্রধান জ্যাঁ ফিলিপ্পে সারা বলছেন, আশখাবাদের অবস্থান পরিবর্তনের মূল কারণ অতি মাত্রায় মুদ্রাস্ফীতি। তুর্কমেনিস্তান মূলত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। ২০১৪ সালে বিশ্বে জ্বালানির দামের যে পতন শুরু হয়েছিল তা পুনরুদ্ধারে সংগ্রাম করছে দেশটি।

এতে দেশটির মুদ্রা মানাতের মান কমেছে এবং দরিদ্র হয়েছে বহু মানুষ। তালিকায় ৪২ ধাপ এগিয়ে তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে লেবাননের রাজধানী বৈরুত। তালিকায় এরপর যথাক্রমে রয়েছে- জাপানের টোকিও (চতুর্থ), সুইজারল্যান্ডের জুরিখ (পঞ্চম), চীনের সাংহাই (ষষ্ঠ), সিঙ্গাপুর সিটি (সপ্তম), সুইজারল্যান্ডের জেনেভা (অষ্টম), চীনের বেইজিং (নবম) ও সুইজারল্যান্ডের বের্ন (দশম)। অন্যদিকে কম ব্যয়বহুল শহরগুলোর মধ্যে বিশকেকের পরেই রয়েছে যথাক্রমে জাম্বিয়ার লুসাকা, জর্জিয়ার তিবলিস, তিউনিসিয়ার তিউনিস ও ব্রাজিলের ব্রাসিলিয়ার নাম।

মার্সার তালিকা অনুযায়ী, বিদেশি কর্মজীবীদের জীবনযাপনে ঢাকার চেয়েও কম ব্যয় হয় দুবাইয়ে। শহরটির অবস্থান ঢাকার চেয়ে দুই ধাপ পরে, ৪২ নম্বরে। ঢাকার চেয়ে কম ব্যয়ের শহরের মধ্যে আরও রয়েছে- ব্যাংকক (৪৬তম), ওয়াশিংটন ডিসি (৫১তম), মিউনিখ (৫২তম), মেলবোর্ন (৫৯তম), বার্লিন (৬০তম), মস্কো (৬২তম), স্টকহোম (৭২তম), মুম্বাই (৭৮তম), জেদ্দা (৯৪তম), দিল্লি (১১৭তম), দোহা (১৩০তম), কুয়ালালামপুর (১৫২তম), বেঙ্গালুরু (১৭০তম), ইস্তাম্বুল (১৭৩তম), কলকাতা (১৮১তম), কলম্বো (১৮৫তম), ইসলামাবাদ (১৯৯তম) ও করাচি (২০১তম)।

এদিকে চলতি বছর ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) জরিপে বিশ্বের বসবাসযোগ্য শহরের তালিকায় তলানিতে দেখা গেছে ঢাকার নাম। তালিকায় ১৪০টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ছিল ১৩৭ নম্বরে।

বিদেশিদের জন্য দুবাইয়ের চেয়েও ব্যয়বহুল ঢাকা

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৪ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিদেশি কর্মজীবীদের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির চেয়েও ঢাকায় জীবনযাপনে বেশি ব্যয় হয়। এমনকি পাশের দেশ ভারতের বিখ্যাত মুম্বাই শহরে থাকতে গেলেও বিদেশি কর্মজীবীদের ঢাকার চেয়ে খরচ কম হয়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জরিপকারী প্রতিষ্ঠান মার্সার তালিকায় বিদেশি কর্মজীবীদের জন্য ব্যয়বহুল শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ৪০তম। মঙ্গলবার ২০৯টি শহরের ওপর ‘কস্ট অব লিভিং সিটি র‌্যাংকিং’ শীর্ষক জরিপের ফলাফল প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি।

জরিপে দেখা গেছে, বিদেশি কর্মজীবীদের জন্য সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশখাবাদ। আর সবচেয়ে কম ব্যয়বহুল শহর কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেক।

জানা গেছে, বিদেশি কর্মীদের থাকা, খাওয়া ও যাতায়াতের খরচ বিবেচনায় নিয়ে ব্যয়বহুল শহরের বার্ষিক তালিকা করে মার্সা। গত বছরের একই জরিপে ঢাকার অবস্থান ছিল ২৬ নম্বরে। সে হিসাবে ঢাকার অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে ১৪ ধাপ। অর্থাৎ এক বছরে ঢাকায় জীবনযাত্রার খরচ কিছুটা কমেছে।

এবারের তালিকায় এক ধাপ এগিয়ে শীর্ষে উঠেছে আশখাবাদ। গেল বছর শীর্ষে থাকা হংকং চলে গেছে ২ নম্বরে। মার্সার গ্লোবাল মোবিলিটি প্র্যাকটিস শাখার প্রধান জ্যাঁ ফিলিপ্পে সারা বলছেন, আশখাবাদের অবস্থান পরিবর্তনের মূল কারণ অতি মাত্রায় মুদ্রাস্ফীতি। তুর্কমেনিস্তান মূলত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। ২০১৪ সালে বিশ্বে জ্বালানির দামের যে পতন শুরু হয়েছিল তা পুনরুদ্ধারে সংগ্রাম করছে দেশটি।

এতে দেশটির মুদ্রা মানাতের মান কমেছে এবং দরিদ্র হয়েছে বহু মানুষ। তালিকায় ৪২ ধাপ এগিয়ে তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে লেবাননের রাজধানী বৈরুত। তালিকায় এরপর যথাক্রমে রয়েছে- জাপানের টোকিও (চতুর্থ), সুইজারল্যান্ডের জুরিখ (পঞ্চম), চীনের সাংহাই (ষষ্ঠ), সিঙ্গাপুর সিটি (সপ্তম), সুইজারল্যান্ডের জেনেভা (অষ্টম), চীনের বেইজিং (নবম) ও সুইজারল্যান্ডের বের্ন (দশম)। অন্যদিকে কম ব্যয়বহুল শহরগুলোর মধ্যে বিশকেকের পরেই রয়েছে যথাক্রমে জাম্বিয়ার লুসাকা, জর্জিয়ার তিবলিস, তিউনিসিয়ার তিউনিস ও ব্রাজিলের ব্রাসিলিয়ার নাম।

মার্সার তালিকা অনুযায়ী, বিদেশি কর্মজীবীদের জীবনযাপনে ঢাকার চেয়েও কম ব্যয় হয় দুবাইয়ে। শহরটির অবস্থান ঢাকার চেয়ে দুই ধাপ পরে, ৪২ নম্বরে। ঢাকার চেয়ে কম ব্যয়ের শহরের মধ্যে আরও রয়েছে- ব্যাংকক (৪৬তম), ওয়াশিংটন ডিসি (৫১তম), মিউনিখ (৫২তম), মেলবোর্ন (৫৯তম), বার্লিন (৬০তম), মস্কো (৬২তম), স্টকহোম (৭২তম), মুম্বাই (৭৮তম), জেদ্দা (৯৪তম), দিল্লি (১১৭তম), দোহা (১৩০তম), কুয়ালালামপুর (১৫২তম), বেঙ্গালুরু (১৭০তম), ইস্তাম্বুল (১৭৩তম), কলকাতা (১৮১তম), কলম্বো (১৮৫তম), ইসলামাবাদ (১৯৯তম) ও করাচি (২০১তম)।

এদিকে চলতি বছর ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) জরিপে বিশ্বের বসবাসযোগ্য শহরের তালিকায় তলানিতে দেখা গেছে ঢাকার নাম। তালিকায় ১৪০টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ছিল ১৩৭ নম্বরে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন