ভ্রমণ খাতের ব্যয় স্থগিত ১০৬৬ কোটি টাকা
jugantor
ভ্রমণ খাতের ব্যয় স্থগিত ১০৬৬ কোটি টাকা
নতুন বাজেটে কৃচ্ছ্রসাধন

  মিজান চৌধুরী  

০২ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা মোকাবিলায় চলতি অর্থবছরের বাজেট ব্যয়ে কৃচ্ছ সাধনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। আজ নতুন বাজেট বাস্তবায়ন শুরু। কিন্তু বাস্তবায়নের প্রথম দিনেই ব্যয় স্থগিত করা হয় ১ হাজার ৬৬ কোটি টাকা।

এটি করা হয়েছে ভ্রমণ খাত থেকে। একই সঙ্গে নির্র্দেশ দেওয়া হয়েছে আগামী দিনগুলোতে সরকারি চাকরিজীবীদের সব ধরনের রুটিন ভ্রমণ পরিহারের। এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

এর আগে বুধবার জাতীয় সংসদে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা ব্যয়ের বাজেট পাশ হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এ তথ্য।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ সাধনের পরিকল্পনার অংশ হিসাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি করোনার প্রাদুর্ভাব অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এটি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার যে কঠোর লকডাউন দিয়েছে সেটি অর্থবছরের প্রথম দিনই।

ফলে নতুন অর্থবছরের যাত্রাতে অর্থনীতির অঙ্গনে স্থবিরতা নেমে আসছে। সব ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গেছে। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে পণ্য আনা-নেওয়া বন্ধ আছে। ফলে চলতি অর্থবছরে ৩ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের খুবই কঠিন হবে। আর আয় না করতে পারলে ব্যয় করতে পারবে না। যে কারণে বছরের শুরুতে ব্যয় কমানোর পক্ষে হাঁটছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

সদ্য বিদায়ী অর্থবছরেও ভ্রমণসহ কয়েকটি খাতে ব্যয় স্থগিত করায় সরকারের প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। সাশ্রয়কৃত অর্থ গুরুত্বপূর্ণ অন্য খাতে স্থানান্তর করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (বাজেট) সিরাজুর নুর চৌধুরী যুগান্তরকে জানান, বিদায়ী অর্থবছরে ভ্রমণ খাত থেকে ৫০ শতাংশ, সরকারি গাড়ি কেনাকাটা পুরোটা এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ১৫ শতাংশ ব্যয় স্থগিত করা হয়েছিল। এসব সিদ্ধান্তের কারণে যে অর্থ সাশ্রয় হয়েছে সেটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় করা হয়েছে। বিশেষ করে করোনাভাইরাসের কারণে অধিক ব্যয় মোকাবিলা করতে গিয়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

জানা গেছে, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে সরকারি চাকরিজীবীদের ভ্রমণ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে বলা হয় ‘সরকারি ভ্রমণের ব্যয় নির্বাহের ক্ষেত্রে বরাদ্দকৃত অর্থের ৫০ শতাংশ বরাদ্দ স্থগিত থাকবে।’ এ নির্দেশের ফলে ভ্রমণ ব্যয় খাতে সাশ্রয় হবে ১ হাজার ৬৬ কোটি টাকা।

ওই নির্দেশনায় আরও বলা হয়, বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) এর প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকারের অগ্রাধিকার খাতগুলোতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

পাশাপাশি সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে চলতি অর্থবছরে ‘সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা ও উন্নয়ন বাজেট (অর্থনৈতিক কোড-৩২৪৪১০১) ভ্রমণ ব্যয় খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় শুধু জরুরি ও অপরিহার্যের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হবে। তবে চাকরিজীবীদের সব ধরনের রুটিন ভ্রমণ পরিহার করতে হবে।

সেখানে আরও বলা হয়, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। আর অবিলম্বে এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান স্বাক্ষরিত এ পরিপত্র অতি জরুরি হিসাবে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এরই মধ্যে বিতরণও করা হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, আগামী দিনগুলোতে সরকারি গাড়ি কেনাকাটা বন্ধ রাখা এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে কিছু অংশ অর্থ ব্যয়ের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। কারণ সম্প্রতি ভয়াবহ মাত্রায় করোনাভাইরাস পরিস্থিতি রূপ নিয়েছে। এতে আক্রান্ত ও মৃত্যুহার বাড়ছে। এতে বাড়ছে নানা খাতে সরকারের ব্যয়ও।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র আরও জানায়, এর আগে বিদায়ী অর্থবছরে মন্ত্রণালয়গুলো যে এডিপির বাস্তবায়ন করছে সেটির মোট বরাদ্দের মধ্যে ১৫ শতাংশ ব্যয়ের ওপর অর্থ বিভাগ স্থাগিতাদেশ দিয়েছে। এর ফলে এডিপি খাত থেকে সরকারের সাশ্রয় হয়েছে ২৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

অর্থাৎ মন্ত্রণালয়গুলো এডিপির বরাদ্দের অর্থের ৮৫ শতাংশ ব্যয় করতে পারছে। একইভাবে সরকারি বিভিন্ন অফিস আদালতে গাড়ি ক্রয় বন্ধ রাখা হয়। এতে সরকারের সাশ্রয় হয়েছে ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। পাশাপাশি সব ধরনের ভ্রমণ ব্যয়ও ৫০ শতাংশ স্থগিত করা হয়েছিল।

এখাতে সরকারের প্রায় সাড়ে ৭শ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। আর সাশ্রয় হয়েছে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রশিক্ষণ বন্ধ রাখায়। এখাতে প্রায় ২৩শ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় কৃচ্ছ সাধনের আওতায় বিদায়ী অর্থবছরে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। এ টাকা ব্যবহার করা হয়েছে স্বাস্থ্য, খাদ্য ও কৃষিতে। কারণ করোনাকালীন স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হচ্ছে।

অপরদিকে রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল সেটিও অর্জন হচ্ছে না। ফলে এ সাশ্রয়ী অর্থ গুরুত্বপূর্ণ অন্য খাতে ব্যয় করে সরকার উপকৃত হয়েছে। সে পরিকল্পনা নিয়ে চলতি অর্থবছরেও হাঁটা শুরু করছে সরকার।

ভ্রমণ খাতের ব্যয় স্থগিত ১০৬৬ কোটি টাকা

নতুন বাজেটে কৃচ্ছ্রসাধন
 মিজান চৌধুরী 
০২ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা মোকাবিলায় চলতি অর্থবছরের বাজেট ব্যয়ে কৃচ্ছ সাধনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। আজ নতুন বাজেট বাস্তবায়ন শুরু। কিন্তু বাস্তবায়নের প্রথম দিনেই ব্যয় স্থগিত করা হয় ১ হাজার ৬৬ কোটি টাকা।

এটি করা হয়েছে ভ্রমণ খাত থেকে। একই সঙ্গে নির্র্দেশ দেওয়া হয়েছে আগামী দিনগুলোতে সরকারি চাকরিজীবীদের সব ধরনের রুটিন ভ্রমণ পরিহারের। এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

এর আগে বুধবার জাতীয় সংসদে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা ব্যয়ের বাজেট পাশ হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এ তথ্য।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ সাধনের পরিকল্পনার অংশ হিসাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি করোনার প্রাদুর্ভাব অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এটি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার যে কঠোর লকডাউন দিয়েছে সেটি অর্থবছরের প্রথম দিনই।

ফলে নতুন অর্থবছরের যাত্রাতে অর্থনীতির অঙ্গনে স্থবিরতা নেমে আসছে। সব ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গেছে। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে পণ্য আনা-নেওয়া বন্ধ আছে। ফলে চলতি অর্থবছরে ৩ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের খুবই কঠিন হবে। আর আয় না করতে পারলে ব্যয় করতে পারবে না। যে কারণে বছরের শুরুতে ব্যয় কমানোর পক্ষে হাঁটছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

সদ্য বিদায়ী অর্থবছরেও ভ্রমণসহ কয়েকটি খাতে ব্যয় স্থগিত করায় সরকারের প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। সাশ্রয়কৃত অর্থ গুরুত্বপূর্ণ অন্য খাতে স্থানান্তর করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (বাজেট) সিরাজুর নুর চৌধুরী যুগান্তরকে জানান, বিদায়ী অর্থবছরে ভ্রমণ খাত থেকে ৫০ শতাংশ, সরকারি গাড়ি কেনাকাটা পুরোটা এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ১৫ শতাংশ ব্যয় স্থগিত করা হয়েছিল। এসব সিদ্ধান্তের কারণে যে অর্থ সাশ্রয় হয়েছে সেটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় করা হয়েছে। বিশেষ করে করোনাভাইরাসের কারণে অধিক ব্যয় মোকাবিলা করতে গিয়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

জানা গেছে, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে সরকারি চাকরিজীবীদের ভ্রমণ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে বলা হয় ‘সরকারি ভ্রমণের ব্যয় নির্বাহের ক্ষেত্রে বরাদ্দকৃত অর্থের ৫০ শতাংশ বরাদ্দ স্থগিত থাকবে।’ এ নির্দেশের ফলে ভ্রমণ ব্যয় খাতে সাশ্রয় হবে ১ হাজার ৬৬ কোটি টাকা।

ওই নির্দেশনায় আরও বলা হয়, বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) এর প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকারের অগ্রাধিকার খাতগুলোতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

পাশাপাশি সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে চলতি অর্থবছরে ‘সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা ও উন্নয়ন বাজেট (অর্থনৈতিক কোড-৩২৪৪১০১) ভ্রমণ ব্যয় খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় শুধু জরুরি ও অপরিহার্যের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হবে। তবে চাকরিজীবীদের সব ধরনের রুটিন ভ্রমণ পরিহার করতে হবে।

সেখানে আরও বলা হয়, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। আর অবিলম্বে এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান স্বাক্ষরিত এ পরিপত্র অতি জরুরি হিসাবে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এরই মধ্যে বিতরণও করা হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, আগামী দিনগুলোতে সরকারি গাড়ি কেনাকাটা বন্ধ রাখা এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে কিছু অংশ অর্থ ব্যয়ের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। কারণ সম্প্রতি ভয়াবহ মাত্রায় করোনাভাইরাস পরিস্থিতি রূপ নিয়েছে। এতে আক্রান্ত ও মৃত্যুহার বাড়ছে। এতে বাড়ছে নানা খাতে সরকারের ব্যয়ও।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র আরও জানায়, এর আগে বিদায়ী অর্থবছরে মন্ত্রণালয়গুলো যে এডিপির বাস্তবায়ন করছে সেটির মোট বরাদ্দের মধ্যে ১৫ শতাংশ ব্যয়ের ওপর অর্থ বিভাগ স্থাগিতাদেশ দিয়েছে। এর ফলে এডিপি খাত থেকে সরকারের সাশ্রয় হয়েছে ২৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

অর্থাৎ মন্ত্রণালয়গুলো এডিপির বরাদ্দের অর্থের ৮৫ শতাংশ ব্যয় করতে পারছে। একইভাবে সরকারি বিভিন্ন অফিস আদালতে গাড়ি ক্রয় বন্ধ রাখা হয়। এতে সরকারের সাশ্রয় হয়েছে ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। পাশাপাশি সব ধরনের ভ্রমণ ব্যয়ও ৫০ শতাংশ স্থগিত করা হয়েছিল।

এখাতে সরকারের প্রায় সাড়ে ৭শ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। আর সাশ্রয় হয়েছে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রশিক্ষণ বন্ধ রাখায়। এখাতে প্রায় ২৩শ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় কৃচ্ছ সাধনের আওতায় বিদায়ী অর্থবছরে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। এ টাকা ব্যবহার করা হয়েছে স্বাস্থ্য, খাদ্য ও কৃষিতে। কারণ করোনাকালীন স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হচ্ছে।

অপরদিকে রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল সেটিও অর্জন হচ্ছে না। ফলে এ সাশ্রয়ী অর্থ গুরুত্বপূর্ণ অন্য খাতে ব্যয় করে সরকার উপকৃত হয়েছে। সে পরিকল্পনা নিয়ে চলতি অর্থবছরেও হাঁটা শুরু করছে সরকার।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন