রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তি

দ্রুত বাস্তবায়নের পথ বের করবে নিরাপত্তা পরিষদ

‘সংকটের অবসান ঘটাতে আমরা বদ্ধপরিকর। এ ইস্যু আমাদের অগ্রাধিকার এজেন্ডা হিসেবে থাকবে’

  কূটনৈতিক রিপোর্টার ০১ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গা

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সম্পাদিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের উপায় খুঁজে বের করবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ।

বাংলাদেশে ৩ দিনের সফর শেষে পরিষদের প্রতিনিধিরা ঢাকা ত্যাগের আগে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন। তারা বলেন, রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ও নিরাপদে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করার লক্ষ্যে কাজ করতে তারা বদ্ধপরিকর।

রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে প্রত্যেক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করতে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য দেশের সবাই বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সফর করছেন। এ সফরের অংশ হিসেবে তারা শনিবার বাংলাদেশে আসেন। রোববার তারা কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেন। সেখানে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন। সোমবার সকালে তারা মিয়ানমারের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিনিধি দলের পক্ষে বক্তব্য রাখেন নিরাপত্তা পরিষদের এপ্রিল মাসের সভাপতি গুস্তাবো আদোলফো মেসা কুয়াদ্রা ভেলাসকাস, কুয়েতের স্থায়ী প্রতিনিধি মনসুর আয়াদ আল-ওতাইবি এবং যুক্তরাজ্যের স্থায়ী প্রতিনিধি কারেন পিয়ার্স।

মনসুর আয়াদ আল ওতাইবি বলেন, ‘যে বার্তা আমরা মিয়ানমার, রোহিঙ্গা শরণার্থী আর পুরো বিশ্বকে দিতে চাই, তা হল এ সংকটের অবসান ঘটাতে এবং সমাধানের একটি পথ খুঁজে বের করতে আমরা বদ্ধপরিকর। এটি আমাদের অগ্রাধিকার এজেন্ডা হিসেবে থাকবে। এভাবে চলতে দেয়া যায় না।’ রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে চীন ও রাশিয়া কোনো বাধা দিচ্ছে কিনা জানতে চাইলে কুয়েতি প্রতিনিধি বলেন, ‘চীন ও রাশিয়া কোনো বাধা দেয়ার বিষয় আমরা দেখতে পাচ্ছি না। তারা আমাদের সঙ্গেই আছেন। তারাও একটি সমাধান দেখতে চান। এটি একই সঙ্গে একটি মানবিক ও মানবাধিকারের ইস্যু। কেউ কাউকে (মিয়ানমার) সুরক্ষা দিচ্ছে না। তারা চান আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা যেন পালিত হয়। সব পক্ষের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সংকট সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করা উচিত। এ বিষয়ে আমাদের নীরব থাকা উচিত নয়।’

তিনি বলেন, তারা নিউইয়র্কে ফিরে গিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে উপায় খুঁজে বের করবেন। নিরাপদ, অবাধ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণভাবে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করতে এ চুক্তি করা হয়েছে। তিনি বলেন, দ্রুত সংকটের সমাধান হয়ে যাবে এমন প্রত্যাশা তারা সৃষ্টি করতে চান না। তবে তারা সই হওয়া চুক্তির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে চান। তিনি আরও বলেন, আমরা সমাধান চাই। তবে সমাধান খুব তাড়াতাড়ি হবে এমন নয়। আশা করি, চুক্তির বাস্তবায়ন হবে। তিনি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার বিষয়টির ভূয়সী প্রশংসা করেন।

পেরুর স্থায়ী প্রতিনিধি গুস্তাবো আদোলফো মেসা কুয়াদ্রা ভেলাসকাস বলেন, ‘আমরা এ ইস্যুর ব্যাপারে একমত আছি। জাতিসংঘ মহাসচিব মিয়ানমার সংক্রান্ত বিশেষ দূত নিয়োগ দিয়ে সংকট সমাধানে ভূমিকা রেখেছেন।’

মিয়ানমারের গণহত্যার তদন্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে বিচার করতে নিরাপত্তা পরিষদ কোনো নির্দেশনা দেবে কিনা জানতে চাইলে যুক্তরাজ্যের স্থায়ী প্রতিনিধি কারেন পিয়ার্স বলেন, জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং পাঠিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছে। কিন্তু গণহত্যার বিচারে আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। তাছাড়া, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ অপরাধ তদন্ত করছে। সেই তদন্তে কী আসে সেটা আমরা দেখব।

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.