টিকাদানই প্রধান চ্যালেঞ্জ
jugantor
উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম চালুর চিন্তা
টিকাদানই প্রধান চ্যালেঞ্জ
উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও জনবল প্রায় ৪৭ লাখ * ১ লাখ ৩১ হাজারের মধ্যে ১ লাখ ১৩ হাজারের নেই এনআইডি

  মুসতাক আহমদ  

২৪ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম চালুর ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে টিকা। প্রথমে শুধু আবাসিক শিক্ষার্থীদের টিকা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এখন অবশ্য সব শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক ও জনবলকে টিকা দিয়ে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার চিন্তা করছে সরকার।

এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ এবং মাদ্রাসার সংশ্লিষ্টদের তালিকা তৈরি ও নাম নিবন্ধন করা হচ্ছে। পাশাপাশি তা পাঠানো হচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু সব শিক্ষার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) না থাকায় এই কর্মসূচি ঝুলে যেতে পারে। এর ফলে সবাইকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য অর্জনও বিলম্বিত হতে পারে। এতে দীর্ঘ হতে পারে প্রতিষ্ঠানগুলোর চলমান ছুটি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, ইতোমধ্যে চল্লিশোর্ধ্ব শিক্ষক এবং অন্যান্য জনবল টিকা পেয়েছে। বর্তমানে ত্রিশ বছর বয়সিরা টিকা পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে সর্বনিম্ন ১৮ বছর বয়সি সব শিক্ষার্থীকেই টিকা দেওয়ার চিন্তা করা হয়েছে। এনআইডি থাকলে টিকা সংশ্লিষ্টরা টিকা পাবেন। পাশাপাশি শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও টিকা পাবেন। এখন এ ক্ষেত্রে যদি কোনো চ্যালেঞ্জ থাকে তবে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্তমানে শিক্ষার্থী আছে ৪৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৫১ জন। এছাড়া শিক্ষক আছেন ১ লাখ ৮৯ হাজার ৮২৩ জন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন ৪৭ হাজার ৭৬৬ জন। এই প্রায় ৪৭ লাখ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৪০ বছরের বেশি বয়সিদের অনেকেই প্রথম ধাপে টিকা নিয়েছেন। দ্বিতীয় ধাপে ইতোমধ্যে ৩০ বছর বয়সি বিভিন্ন ক্যাটাগরির নাগরিকরা টিকা পাচ্ছেন।

অন্যদিকে ইতোমধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ লাখ ১৩ হাজার আবাসিক শিক্ষার্থী, ৪ হাজার ১শ শিক্ষক এবং ৮ হাজার কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নামের তালিকা এনআইডিসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। যদিও প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বলেছিল যে, আবাসিক হলে ১ লাখ ৩১ হাজার শিক্ষার্থী আছে। কিন্তু এনআইডি না থাকায় বাকি ১৮ হাজারকে তালিকাভুক্ত করা যায়নি। যারা তালিকাভুক্ত হয়েছেন তারা টিকা নিবন্ধনের ওয়েবসাইট সুরক্ষাডটগভডটবিডিতে নাম লিখিয়ে টিকা নিতে পারছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সচিব (চলতি দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস জামান যুগান্তরকে বলেন, শিক্ষার্থীদের বড় একটা অংশের এনআইডি না থাকলেও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আমাদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কথা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে ইসির কার্যালয়ে গেলে দুদিনের মধ্যে এনআইডি করে দেওয়া হবে।

দেশে বর্তমানে প্রায় দেড়শ সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন প্রায় আড়াই হাজার কলেজ এবং ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ১ হাজার ৩৪৬ মাদ্রাসা আছে।

জানা গেছে, উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন পেতে এনআইডি করার নির্দেশনা জারি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ পরিচালক মাহমুদ আলম জানান, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইসির সঙ্গে আলোচনা করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এনআইডি প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

শিক্ষার্থীদের https://services.nidw.gov.bd/new_voter ওয়েব লিংকে গিয়ে বর্ণিত ধাপসমূহ সম্পন্ন করে অনলাইনে পূরণকৃত ফরমটি (ফরম-২) পিডিএফ ফরম্যাটে ডাউনলোড করতে হবে। এরপর পিডিএফ ফরমটি প্রিন্ট করে প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর ও সত্যায়িত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ডের কপি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসহ আবেদনপত্র উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে জমা দিলে তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এনআইডি প্রদান করা হবে। তাই নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাদের এনআইডি নেই তাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিকার জন্য ইউনিক আইডি তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে গত ১৫ জুলাই ইউজিসি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সংস্থাটির সদস্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ জানান, এনআইডি আছে এমন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ডাটাবেজ সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এখন এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ছাত্র ভর্তিসহ সব কার্যক্রম এখন থেকে উল্লিখিত ইউনিক পরিচিতি নম্বরের ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। কমিশন শিক্ষার্থীদের ইউনিক পরিচিতি নম্বরের ডাটাবেজ পাওয়ার পর টিকা প্রদানের জন্য পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের জরুরিভিত্তিতে কোভিড-১৯ টিকা প্রদান করা না হলে দ্রুততম সময়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এই ইউনিক পরিচিতি নম্বর বর্তমান ও ভবিষ্যতের সব শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন নম্বর হিসেবেও কাজ করবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও আলাদাভাবে শিক্ষার্থীদের টিকা দিতে নিবন্ধনের ব্যবস্থা করেছে। এ লক্ষ্যে গত ১৯ জুলাই পর্যন্ত http://103.113.200.29/student-covidinfo/ শীর্ষক লিংকে তথ্যছক পূরণ করানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করতে অধিভুক্ত কলেজের অধ্যক্ষরা তদারকি করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যে আমরা ইতোমধ্যে শিক্ষকদের তালিকা পাঠিয়েছি। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রায় ৭ লাখ শিক্ষার্থী তথ্যছক পূরণ করেছে। সবার এনআইডি কার্ড নেই। কিন্তু শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে হলে সবাইকে এনআইডি কার্ড দিতে হবে নতুবা আমাদের যে রেজিস্ট্রেশন কার্ড আছে সেটির মাধ্যমে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এ বিষয়ে প্রস্তাব দু-একদিনের মধ্যে আমরা পাঠাব।

ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ফাজিল ও কামিল মাদরাসায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের কোভিড-১৯ টিকা দিতে তথ্য সংগ্রহ করেছে। http://vaccine.iau.edu.bd/reg শীর্ষক লিঙ্কে দেওয়া ছক পূরণ করিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটির সহকারী রেজিস্ট্রার (প্রশাসন) মো. জাকির হোসেন জানান, শিক্ষা কার্যক্রম আশু শুরু করার লক্ষ্যে সরকারি সিদ্ধান্তে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। আমাদের প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার শিক্ষার্থী আছে। তাদের সবারই বয়স ১৮ বছরের বেশি।

উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম চালুর চিন্তা

টিকাদানই প্রধান চ্যালেঞ্জ

উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও জনবল প্রায় ৪৭ লাখ * ১ লাখ ৩১ হাজারের মধ্যে ১ লাখ ১৩ হাজারের নেই এনআইডি
 মুসতাক আহমদ 
২৪ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম চালুর ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে টিকা। প্রথমে শুধু আবাসিক শিক্ষার্থীদের টিকা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এখন অবশ্য সব শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক ও জনবলকে টিকা দিয়ে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার চিন্তা করছে সরকার।

এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ এবং মাদ্রাসার সংশ্লিষ্টদের তালিকা তৈরি ও নাম নিবন্ধন করা হচ্ছে। পাশাপাশি তা পাঠানো হচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু সব শিক্ষার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) না থাকায় এই কর্মসূচি ঝুলে যেতে পারে। এর ফলে সবাইকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য অর্জনও বিলম্বিত হতে পারে। এতে দীর্ঘ হতে পারে প্রতিষ্ঠানগুলোর চলমান ছুটি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, ইতোমধ্যে চল্লিশোর্ধ্ব শিক্ষক এবং অন্যান্য জনবল টিকা পেয়েছে। বর্তমানে ত্রিশ বছর বয়সিরা টিকা পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে সর্বনিম্ন ১৮ বছর বয়সি সব শিক্ষার্থীকেই টিকা দেওয়ার চিন্তা করা হয়েছে। এনআইডি থাকলে টিকা সংশ্লিষ্টরা টিকা পাবেন। পাশাপাশি শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও টিকা পাবেন। এখন এ ক্ষেত্রে যদি কোনো চ্যালেঞ্জ থাকে তবে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্তমানে শিক্ষার্থী আছে ৪৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৫১ জন। এছাড়া শিক্ষক আছেন ১ লাখ ৮৯ হাজার ৮২৩ জন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন ৪৭ হাজার ৭৬৬ জন। এই প্রায় ৪৭ লাখ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৪০ বছরের বেশি বয়সিদের অনেকেই প্রথম ধাপে টিকা নিয়েছেন। দ্বিতীয় ধাপে ইতোমধ্যে ৩০ বছর বয়সি বিভিন্ন ক্যাটাগরির নাগরিকরা টিকা পাচ্ছেন।

অন্যদিকে ইতোমধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ লাখ ১৩ হাজার আবাসিক শিক্ষার্থী, ৪ হাজার ১শ শিক্ষক এবং ৮ হাজার কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নামের তালিকা এনআইডিসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। যদিও প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বলেছিল যে, আবাসিক হলে ১ লাখ ৩১ হাজার শিক্ষার্থী আছে। কিন্তু এনআইডি না থাকায় বাকি ১৮ হাজারকে তালিকাভুক্ত করা যায়নি। যারা তালিকাভুক্ত হয়েছেন তারা টিকা নিবন্ধনের ওয়েবসাইট সুরক্ষাডটগভডটবিডিতে নাম লিখিয়ে টিকা নিতে পারছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সচিব (চলতি দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস জামান যুগান্তরকে বলেন, শিক্ষার্থীদের বড় একটা অংশের এনআইডি না থাকলেও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আমাদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কথা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে ইসির কার্যালয়ে গেলে দুদিনের মধ্যে এনআইডি করে দেওয়া হবে।

দেশে বর্তমানে প্রায় দেড়শ সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন প্রায় আড়াই হাজার কলেজ এবং ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ১ হাজার ৩৪৬ মাদ্রাসা আছে।

জানা গেছে, উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন পেতে এনআইডি করার নির্দেশনা জারি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ পরিচালক মাহমুদ আলম জানান, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইসির সঙ্গে আলোচনা করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এনআইডি প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

শিক্ষার্থীদের https://services.nidw.gov.bd/new_voter ওয়েব লিংকে গিয়ে বর্ণিত ধাপসমূহ সম্পন্ন করে অনলাইনে পূরণকৃত ফরমটি (ফরম-২) পিডিএফ ফরম্যাটে ডাউনলোড করতে হবে। এরপর পিডিএফ ফরমটি প্রিন্ট করে প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর ও সত্যায়িত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ডের কপি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসহ আবেদনপত্র উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে জমা দিলে তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এনআইডি প্রদান করা হবে। তাই নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাদের এনআইডি নেই তাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিকার জন্য ইউনিক আইডি তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে গত ১৫ জুলাই ইউজিসি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সংস্থাটির সদস্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ জানান, এনআইডি আছে এমন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ডাটাবেজ সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এখন এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ছাত্র ভর্তিসহ সব কার্যক্রম এখন থেকে উল্লিখিত ইউনিক পরিচিতি নম্বরের ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। কমিশন শিক্ষার্থীদের ইউনিক পরিচিতি নম্বরের ডাটাবেজ পাওয়ার পর টিকা প্রদানের জন্য পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের জরুরিভিত্তিতে কোভিড-১৯ টিকা প্রদান করা না হলে দ্রুততম সময়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এই ইউনিক পরিচিতি নম্বর বর্তমান ও ভবিষ্যতের সব শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন নম্বর হিসেবেও কাজ করবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও আলাদাভাবে শিক্ষার্থীদের টিকা দিতে নিবন্ধনের ব্যবস্থা করেছে। এ লক্ষ্যে গত ১৯ জুলাই পর্যন্ত http://103.113.200.29/student-covidinfo/ শীর্ষক লিংকে তথ্যছক পূরণ করানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করতে অধিভুক্ত কলেজের অধ্যক্ষরা তদারকি করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যে আমরা ইতোমধ্যে শিক্ষকদের তালিকা পাঠিয়েছি। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রায় ৭ লাখ শিক্ষার্থী তথ্যছক পূরণ করেছে। সবার এনআইডি কার্ড নেই। কিন্তু শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে হলে সবাইকে এনআইডি কার্ড দিতে হবে নতুবা আমাদের যে রেজিস্ট্রেশন কার্ড আছে সেটির মাধ্যমে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এ বিষয়ে প্রস্তাব দু-একদিনের মধ্যে আমরা পাঠাব।

ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ফাজিল ও কামিল মাদরাসায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের কোভিড-১৯ টিকা দিতে তথ্য সংগ্রহ করেছে। http://vaccine.iau.edu.bd/reg শীর্ষক লিঙ্কে দেওয়া ছক পূরণ করিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটির সহকারী রেজিস্ট্রার (প্রশাসন) মো. জাকির হোসেন জানান, শিক্ষা কার্যক্রম আশু শুরু করার লক্ষ্যে সরকারি সিদ্ধান্তে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। আমাদের প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার শিক্ষার্থী আছে। তাদের সবারই বয়স ১৮ বছরের বেশি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১