অ্যাস্ট্রাজেনেকার আড়াই লাখ ডোজ টিকা এসেছে
jugantor
অ্যাস্ট্রাজেনেকার আড়াই লাখ ডোজ টিকা এসেছে

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৫ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বজুড়ে টিকা সরবরাহের আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফরম কোভ্যাক্সের আওতায় জাপান থেকে ২ লাখ ৪৫ হাজার ২০০ ডোজ অক্সফোর্ড-আস্ট্রাজেনেকার টিকা এসেছে। শনিবার রাজধানীর হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেনের হাতে টিকাগুলো হস্তান্তর করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি।

টিকা গ্রহণ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা সৌভাগ্যবান। কারণ, যে টিকার জন্য অনেকে অপেক্ষা করছেন, প্রায় ১৫-১৬ লাখ মানুষ, এ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা প্রথম ডোজ নিয়েছিলেন, দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষা করছিলেন। আমরা খুবই আনন্দিত আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ জাপান, আজকে ২ লাখ ৪৫ হাজার অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা উপহার দিচ্ছে। শুক্রবার জাপান থেকে দ্বিতীয় চালানে পাঁচ লাখের মতো টিকা আসবে বলে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুক্রবার তারা এর থেকে ডাবলের বেশি দেবে। তারা ৩০ লাখ ৫০ হাজার অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেবে। আগে বলেছিল ২৯ লাখ দেবে, তার পরে আরও দেড় লাখ যোগ হয়েছে। এজন্য জাপানকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, জাপান আমাদের পুরোনো বন্ধু, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে জাপান আমাদের সঙ্গে ছিল। আমাদের এ কঠিনতম সময়ে জাপান আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।

কোভিড টিকা নিয়ে সমস্যা কেটে যাচ্ছে জানিয়ে মোমেন বলেন, আমরা বিভিন্ন দেশ থেকে টিকা পাচ্ছি। আমরা টিকা প্রাপ্তির বিষয়টি প্রক্রিয়ার মধ্যে নিয়ে এসেছি। আগামীতে টিকার সমস্যা হবে না। তবে স্থানীয়ভাবে এটা তৈরি করতে হবে, এর বিকল্প নেই। আমরা সেজন্য প্রস্তাবও পেয়েছি এবং খুব শিগগির যৌথ উৎপাদনে যাব। অন্যান্য দেশ যৌথ উৎপাদনে গেছে, ওরা ভালো করছে।

১৩ জুলাই ফেসবুক পোস্টে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, কোভ্যাক্সের আওতায় জাপান ২৯ লাখ টিকা পাঠাবে। এছাড়া চীন ১০ লাখ ডোজ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ১০ লাখ ডোজ টিকা বাংলাদেশকে দেবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশনস বা ‘গ্যাভি’ এবং কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনসের গড়া প্ল্যাটফরম হলো ‘কোভ্যাক্স’। অনুন্নত ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোও যাতে করোনাভাইরাসের টিকার ন্যায্য হিস্যা পায়, তা নিশ্চিত করতে এ প্ল্যাটফরম গড়ে তোলা হয়েছে। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কোভিশিল্ডের তিন কোটি ডোজ কেনার জন্য গত বছরের শেষ দিকে চুক্তি করেছিল বাংলাদেশ। সেই টিকার প্রথম চালান পাওয়ার পর ৭ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে গণটিকাদান শুরু হয়। কিন্তু দুই চালানে ৭০ লাখ ডোজ পাঠানোর পর ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দিলে সংকটে পড়ে বাংলাদেশ। পর্যাপ্ত টিকা না থাকায় ২৫ এপ্রিল দেশে টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। যারা প্রথম ডোজ কোভিশিল্ড নিয়েছেন, তাদের সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া যায়নি। এ পর্যন্ত যারা প্রথম ডোজ টিকা পেয়েছেন তাদের সবার দ্বিতীয় ডোজ পূর্ণ করতে হলে আরও ১৫ লাখ ২১ হাজার ৯৪৭ ডোজ টিকা দরকার। জাপান থেকে আসা প্রায় আড়াই লাখ ডোজ দিয়ে সামান্য একটি অংশ পূরণ করা সম্ভব।

বাংলাদেশকে কোভ্যাক্স সুবিধার আওতায় ৬ কোটি ডোজের বেশি দেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ফাইজার-বায়োএনটেকের তৈরি ১ লাখ ৬২০ ডোজ এবং মডার্নার তৈরি ৪৫ লাখ ডোজ ইতোমধ্যে দেশে এসেছে। এছাড়া এর চীনের উপহার হিসাবে পাঠানো এবং কেনা টিকা মিলিয়ে মোট ৫১ লাখ ডোজ সিনোফার্মার টিকা বাংলাদেশ হাতে পেয়েছে।

অ্যাস্ট্রাজেনেকার আড়াই লাখ ডোজ টিকা এসেছে

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৫ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বজুড়ে টিকা সরবরাহের আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফরম কোভ্যাক্সের আওতায় জাপান থেকে ২ লাখ ৪৫ হাজার ২০০ ডোজ অক্সফোর্ড-আস্ট্রাজেনেকার টিকা এসেছে। শনিবার রাজধানীর হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেনের হাতে টিকাগুলো হস্তান্তর করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি।

টিকা গ্রহণ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা সৌভাগ্যবান। কারণ, যে টিকার জন্য অনেকে অপেক্ষা করছেন, প্রায় ১৫-১৬ লাখ মানুষ, এ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা প্রথম ডোজ নিয়েছিলেন, দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষা করছিলেন। আমরা খুবই আনন্দিত আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ জাপান, আজকে ২ লাখ ৪৫ হাজার অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা উপহার দিচ্ছে। শুক্রবার জাপান থেকে দ্বিতীয় চালানে পাঁচ লাখের মতো টিকা আসবে বলে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুক্রবার তারা এর থেকে ডাবলের বেশি দেবে। তারা ৩০ লাখ ৫০ হাজার অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেবে। আগে বলেছিল ২৯ লাখ দেবে, তার পরে আরও দেড় লাখ যোগ হয়েছে। এজন্য জাপানকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, জাপান আমাদের পুরোনো বন্ধু, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে জাপান আমাদের সঙ্গে ছিল। আমাদের এ কঠিনতম সময়ে জাপান আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।

কোভিড টিকা নিয়ে সমস্যা কেটে যাচ্ছে জানিয়ে মোমেন বলেন, আমরা বিভিন্ন দেশ থেকে টিকা পাচ্ছি। আমরা টিকা প্রাপ্তির বিষয়টি প্রক্রিয়ার মধ্যে নিয়ে এসেছি। আগামীতে টিকার সমস্যা হবে না। তবে স্থানীয়ভাবে এটা তৈরি করতে হবে, এর বিকল্প নেই। আমরা সেজন্য প্রস্তাবও পেয়েছি এবং খুব শিগগির যৌথ উৎপাদনে যাব। অন্যান্য দেশ যৌথ উৎপাদনে গেছে, ওরা ভালো করছে।

১৩ জুলাই ফেসবুক পোস্টে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, কোভ্যাক্সের আওতায় জাপান ২৯ লাখ টিকা পাঠাবে। এছাড়া চীন ১০ লাখ ডোজ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ১০ লাখ ডোজ টিকা বাংলাদেশকে দেবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশনস বা ‘গ্যাভি’ এবং কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনসের গড়া প্ল্যাটফরম হলো ‘কোভ্যাক্স’। অনুন্নত ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোও যাতে করোনাভাইরাসের টিকার ন্যায্য হিস্যা পায়, তা নিশ্চিত করতে এ প্ল্যাটফরম গড়ে তোলা হয়েছে। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কোভিশিল্ডের তিন কোটি ডোজ কেনার জন্য গত বছরের শেষ দিকে চুক্তি করেছিল বাংলাদেশ। সেই টিকার প্রথম চালান পাওয়ার পর ৭ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে গণটিকাদান শুরু হয়। কিন্তু দুই চালানে ৭০ লাখ ডোজ পাঠানোর পর ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দিলে সংকটে পড়ে বাংলাদেশ। পর্যাপ্ত টিকা না থাকায় ২৫ এপ্রিল দেশে টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। যারা প্রথম ডোজ কোভিশিল্ড নিয়েছেন, তাদের সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া যায়নি। এ পর্যন্ত যারা প্রথম ডোজ টিকা পেয়েছেন তাদের সবার দ্বিতীয় ডোজ পূর্ণ করতে হলে আরও ১৫ লাখ ২১ হাজার ৯৪৭ ডোজ টিকা দরকার। জাপান থেকে আসা প্রায় আড়াই লাখ ডোজ দিয়ে সামান্য একটি অংশ পূরণ করা সম্ভব।

বাংলাদেশকে কোভ্যাক্স সুবিধার আওতায় ৬ কোটি ডোজের বেশি দেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ফাইজার-বায়োএনটেকের তৈরি ১ লাখ ৬২০ ডোজ এবং মডার্নার তৈরি ৪৫ লাখ ডোজ ইতোমধ্যে দেশে এসেছে। এছাড়া এর চীনের উপহার হিসাবে পাঠানো এবং কেনা টিকা মিলিয়ে মোট ৫১ লাখ ডোজ সিনোফার্মার টিকা বাংলাদেশ হাতে পেয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন