আজিমপুর কলোনিতে বাসা বরাদ্দে অনিয়ম
jugantor
আজিমপুর কলোনিতে বাসা বরাদ্দে অনিয়ম
তদন্ত কমিটি গঠন

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৫ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আজিমপুর সরকারি কলোনিতে নবনির্মিত ভবনে বাসা বরাদ্দ নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পদমর্যাদা ও বেতন স্কেল অনুযায়ী যাদের যে শ্রেণির বাসা পাওয়ার কথা নয়, তাদেরকে সেই শ্রেণির বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দেখা গেছে, যেসব বাসা সাধারণত কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়ে থাকে, সেখানে বেশকিছু বাসায় তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের তির সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের দিকে। এ বিষয়ে তদন্ত দাবি করে গৃহায়ন ও পূর্ত মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কেউ কেউ।

প্রসঙ্গত, বেশকিছু সরকারি বাসভবন বসবাসের অনুপযোগী হওয়ায় পুরোনো ভবন ভেঙে সরকার নতুন নতুন বহুতল ভবন নির্মাণ করছে। আজিমপুর, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। নির্মাণকাজ শেষে ইতোমধ্যে আজিমপুর ও মতিঝিলে বেশ কয়েকটি বহুতল ভবনের কয়েক শ ফ্ল্যাটের বরাদ্দ প্রক্রিয়া এখন সম্পন্ন করা হচ্ছে। লকডাউন শেষ হলে ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এসব ফ্ল্যাট আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন।

সূত্র জানায়, আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টারে নতুন করে কয়েকটি ভবন নির্মাণ করে প্রায় ৬০০ ফ্ল্যাট প্রস্তুত করা হয়েছে। আবেদন গ্রহণের মাধ্যমে ইতোমধ্যে এসব বাসার বরাদ্দ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়। আজিমপুর সরকারি কলোনিতে ৩০৪টি ডি-২ শ্রেণির বাসা বরাদ্দের জন্য ১৩ জুন দরখাস্ত আহ্বান করা হয়। যেখানে বরাদ্দ প্রার্থীর যোগ্যতা হিসাবে বলা হয়, মূল বেতন ন্যূনতম ১৪ হাজার ৪৫০ টাকাসহ বেতন স্কেলের গ্রেড ১০, ১১ ও ১২ হতে হবে। আবেদনের মেয়াদ শেষ হয় ১৫ জুন। অপরদিকে ১২টি ডি-১ শ্রেণির বাসা বরাদ্দের জন্য ২৯ জুন দরখাস্ত আহ্বান করা হয়। যেখানে আবেদনের মেয়াদ ছিল ১০ জুলাই। ডি-১ শ্রেণির বাসা বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্যতা মূল বেতন ন্যূনতম ২২ হাজার টাকাসহ বেতন স্কেল হতে হবে ৭, ৮ ও ৯। তবে বাসা বরাদ্দের ক্ষেত্রে এ নীতি সবার ক্ষেত্রে মানা হয়নি। আবাসন পরিদপ্তরের ওয়েবপেজে বাসা বরাদ্দের প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার পর অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসে।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, ডি-২ শ্রেণির বাসা যারা বরাদ্দ পেয়েছেন, তাদের বেশকিছু সংখ্যক কর্মচারীর ওই বাসা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জিত হয়নি। অথচ তাদের অনুকূলে বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরপর বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনপাড়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। তালিকায় দেখা গেছে, ডি-১ এবং ডি-২ উভয় শ্রেণির বাসা বরাদ্দে অনিয়ম হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্যতা না থাকলেও বাসা পেয়েছেন বেঞ্চ সহকারী, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহায়ক, স্টোর কাম ফিল্ডম্যান, সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, সাঁটলিপিকার, গাড়িচালক ও মালী। এছাড়া অবসর বা পিআরএল যাওয়ার পরও নিয়মবহির্ভূতভাবে কয়েকজনকে বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (উপসচিব) মো. শাহীন হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ‘বাসা বরাদ্দের ক্ষেত্রে কিছু ভুলত্রুটি হয়েছে, এটা সত্য। তবে শিগগির এগুলো সংশোধন করে দেওয়া হবে। ধরে নিতে পারেন সংশোধন হয়ে গেছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কাজ করতে গেলে কিছু ভুলত্রুটি হতেই পারে। তবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। এজন্য ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের উপসচিব প্রশাসন-১ মো. মোতাহার হোসেনকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে তদন্তকাজ শুরু করেছে।

আজিমপুর কলোনিতে বাসা বরাদ্দে অনিয়ম

তদন্ত কমিটি গঠন
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৫ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আজিমপুর সরকারি কলোনিতে নবনির্মিত ভবনে বাসা বরাদ্দ নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পদমর্যাদা ও বেতন স্কেল অনুযায়ী যাদের যে শ্রেণির বাসা পাওয়ার কথা নয়, তাদেরকে সেই শ্রেণির বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দেখা গেছে, যেসব বাসা সাধারণত কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়ে থাকে, সেখানে বেশকিছু বাসায় তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের তির সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের দিকে। এ বিষয়ে তদন্ত দাবি করে গৃহায়ন ও পূর্ত মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কেউ কেউ।

প্রসঙ্গত, বেশকিছু সরকারি বাসভবন বসবাসের অনুপযোগী হওয়ায় পুরোনো ভবন ভেঙে সরকার নতুন নতুন বহুতল ভবন নির্মাণ করছে। আজিমপুর, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। নির্মাণকাজ শেষে ইতোমধ্যে আজিমপুর ও মতিঝিলে বেশ কয়েকটি বহুতল ভবনের কয়েক শ ফ্ল্যাটের বরাদ্দ প্রক্রিয়া এখন সম্পন্ন করা হচ্ছে। লকডাউন শেষ হলে ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এসব ফ্ল্যাট আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন।

সূত্র জানায়, আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টারে নতুন করে কয়েকটি ভবন নির্মাণ করে প্রায় ৬০০ ফ্ল্যাট প্রস্তুত করা হয়েছে। আবেদন গ্রহণের মাধ্যমে ইতোমধ্যে এসব বাসার বরাদ্দ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়। আজিমপুর সরকারি কলোনিতে ৩০৪টি ডি-২ শ্রেণির বাসা বরাদ্দের জন্য ১৩ জুন দরখাস্ত আহ্বান করা হয়। যেখানে বরাদ্দ প্রার্থীর যোগ্যতা হিসাবে বলা হয়, মূল বেতন ন্যূনতম ১৪ হাজার ৪৫০ টাকাসহ বেতন স্কেলের গ্রেড ১০, ১১ ও ১২ হতে হবে। আবেদনের মেয়াদ শেষ হয় ১৫ জুন। অপরদিকে ১২টি ডি-১ শ্রেণির বাসা বরাদ্দের জন্য ২৯ জুন দরখাস্ত আহ্বান করা হয়। যেখানে আবেদনের মেয়াদ ছিল ১০ জুলাই। ডি-১ শ্রেণির বাসা বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্যতা মূল বেতন ন্যূনতম ২২ হাজার টাকাসহ বেতন স্কেল হতে হবে ৭, ৮ ও ৯। তবে বাসা বরাদ্দের ক্ষেত্রে এ নীতি সবার ক্ষেত্রে মানা হয়নি। আবাসন পরিদপ্তরের ওয়েবপেজে বাসা বরাদ্দের প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার পর অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসে।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, ডি-২ শ্রেণির বাসা যারা বরাদ্দ পেয়েছেন, তাদের বেশকিছু সংখ্যক কর্মচারীর ওই বাসা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জিত হয়নি। অথচ তাদের অনুকূলে বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরপর বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনপাড়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। তালিকায় দেখা গেছে, ডি-১ এবং ডি-২ উভয় শ্রেণির বাসা বরাদ্দে অনিয়ম হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্যতা না থাকলেও বাসা পেয়েছেন বেঞ্চ সহকারী, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহায়ক, স্টোর কাম ফিল্ডম্যান, সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, সাঁটলিপিকার, গাড়িচালক ও মালী। এছাড়া অবসর বা পিআরএল যাওয়ার পরও নিয়মবহির্ভূতভাবে কয়েকজনকে বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (উপসচিব) মো. শাহীন হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ‘বাসা বরাদ্দের ক্ষেত্রে কিছু ভুলত্রুটি হয়েছে, এটা সত্য। তবে শিগগির এগুলো সংশোধন করে দেওয়া হবে। ধরে নিতে পারেন সংশোধন হয়ে গেছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কাজ করতে গেলে কিছু ভুলত্রুটি হতেই পারে। তবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। এজন্য ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের উপসচিব প্রশাসন-১ মো. মোতাহার হোসেনকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে তদন্তকাজ শুরু করেছে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন