টিকা কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
jugantor
টিকা কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ওয়ার্ড-ইউনিয়ন পর্যায়েও জোরদার হচ্ছে -স্বাস্থ্যমন্ত্রী * শিল্পকারখানা খুললেই ব্যবস্থা -জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৭ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টিকা কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, এজন্য ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে করোনাভাইরাসের টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।

আর কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে কোনো শিল্পকারখানা খুললে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তারা এসব তথ্য জানান।

এছাড়া করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে আজ (মঙ্গলবার) দুপুর দেড়টায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশনা দিয়েছেন। ওয়ার্ড পর্যায়ে বয়স্ক লোকদের ভ্যাকসিনেট করার ব্যবস্থা করা, ভ্যাকসিন নেওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে একটা অনীহা আছে। হাসপাতালে দেখা গেছে, গ্রামের বয়স্ক লোকরাই আছেন ৭৫ শতাংশ। তাদের মৃত্যু সংখ্যা বেশি, আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৯০ শতাংশ। তাদের ভ্যাকসিনেট করার জন্য আমাদের চেষ্টা করে যেতে হবে। আমরা কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কার হিসাবে ডাক্তার-নার্স, আর্মি, পুলিশ, সাংবাদিক রয়েছেন। তারা তো পেয়েছেন। বাকিদেরও দিতে বলা হয়েছে। তাদের পরিবারকে টিকা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। পরিবারে যদি কোনো ড্রাইভার থাকে তাকেও দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। পরিবারে ১৮ বছরের বেশি যাদের বয়স তারা এ ভ্যাকসিনটা পাবে। ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম তো চলছেই। এখন আমরা ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা লেভেলে জোর দেব বেশি। পাশাপাশি টেস্টের বিষয়েও জোর করা হয়েছে। গ্রামের লোকরা অনেক সময় পরীক্ষা করতে চায় না।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘দেশে করোনা মহামারিকালের সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতি বিরাজ করছে এখন। সংক্রমণের ভয়াবহ এই পরিস্থিতিতে মানুষের চলাচল সীমিত করে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। সব ধরনের অফিস-আদালত থেকে শুরু করে শিল্প-কলকারখানাও বন্ধ রয়েছে। এতে অর্থনীতির ক্ষতি হলেও জীবনকে প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার। জীবন আগে, অর্থনীতি পরে। লকডাউনের তিন-চার দিন চলছে। কিন্তু রাস্তাঘাটে মানুষ যেভাবে চলাফেরা করছে, যেভাবে গাড়ি চলাচল করছে তাতে আমরা খুবই দুঃখিত। যারা লকডাউন ব্রেক করছে তারা নিজেদের ক্ষতি করছে। প্রতিটি রাষ্ট্রের সক্ষমতার একটা সীমাবদ্ধতা আছে। আমাদের হাসপাতালে ৯০ শতাংশ সিট বুক হয়ে গেছে, রোগী আছে সেখানে। নতুন করে আর কোথায় হাসপাতাল চালু করব। নতুন তো কোনো ভবনও নেই। ডাক্তার-নার্সরাও ক্লান্ত হয়ে গেছেন। তারা আর কত কাজ করবেন? নতুন চার হাজার ডাক্তার নেওয়া হচ্ছে, নার্স নেওয়া হচ্ছে। দেশে মোট ২১ কোটি ভ্যাকসিন আসবে। যেটা মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এদিকে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে কোনো শিল্পকারখানা খুললে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এর আগে কয়েক দফা লকডাউনে শিল্পকারখানা খোলা রাখা হয়েছিল। কিন্তু মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণ ও মৃত্যু লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ায় ২৩ জুলাই থেকে শুরু হওয়া লকডাউনে শিল্পকারখানাও বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এর মধ্যেও কিছু শিল্পকারখানা খোলা রাখা হচ্ছে বলে খবর মিলছে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা-এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ কারখানা খুলে থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছি।’ সংক্রমণ যে গতিতে ছড়াচ্ছে, তাতে এখন কঠোর বিধিনিধেষের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। পোশাক কারখানা খোলার বিষয়ে ফরহাদ হোসেন বলেন, লকডাউনের মধ্যে পোশাক কারখানা খোলা নিয়ে সরকারের এখন পর্যন্ত কোনো চিন্তাভাবনা নেই।

প্রধানমন্ত্রী বিশেষ কোনো নির্দেশনা দিয়েছেন কিনা-জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা যে পরিস্থিতিতে ছড়িয়ে গেছে, এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা কঠিনভাবেই তো প্রজ্ঞাপন জারি করেছি। এ ব্রেকটা খুব দরকার। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের সংক্রমণ কমানোর জন্য ব্রেক প্রয়োজন। ব্রেকটার জন্য এটাই উপযুক্ত কৌশল, সেটি হচ্ছে বিধিনিষেধ।’

বিধিনিষেধ কঠোরভাবে পালনের কথা থাকলেও সড়কে চলাচল বাড়ছে। এ বিষয়ে ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘পোশাক কারখানা ও রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা বন্ধ থাকায় লাখ লাখ কর্মী আর বের হচ্ছেন না। এরা ছাড়াও বিভিন্ন কারণে অনেককে বাইরে আসতে হচ্ছে। হাসপাতাল, জরুরি সেবার সঙ্গে জড়িত মানুষ বের হচ্ছেন। হাসপাতালে যারা আছেন তাদের অ্যাটেনডেন্টরা আছেন, তাদের বের হতে হচ্ছে। রাস্তায় বের হয়ে মানুষ বলছে, চাকরিতে যেতে হচ্ছে। তারা যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম বলেছে, আমরা সেগুলো যাচাই করছি।’

সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদের হিসাব দেওয়া নিয়ে এক প্রশ্নে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি চাকরি আইনে বলা আছে পাঁচ বছর পরপর সবাই সম্পদের হিসাব দেবে। যাতে করে আয়বহির্ভূত কোনো সম্পদ আছে কিনা, সেটা আমরা চেক করতে পারি। সরকারি চাকরিজীবীরা ট্যাক্স রিটার্ন দেবেন। আমাদেরও তাদের সম্পদের হিসাব সাবমিট করতে হবে। কেউ তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চাইলে আমরা দিতে পারব।’

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক আজ : আজ (মঙ্গলবার) করোনা সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সচিবালয়ে একটা বড় মিটিং অনুষ্ঠিত হবে। হাসপাতালের সিট বাড়িয়ে, ডাক্তার বাড়িয়ে এগুলো (করোনা) নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। ইউরোপের দেশগুলো দেখেন, স্পেন, ডেনমার্ক, সুইডেন, নরওয়ে, জার্মানি। জার্মানি তো অসহায়ভাবে পড়েছিল। ইন্ডিয়ার অবস্থা দেখেন, কী হয়েছে। একমাত্র মানুষ যদি মাস্ক না পরে, দূরত্ব না মানে ‘ইট উইল বি অলমোস্ট ইমপসিবল।’

আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, মক্কা-মদিনা দেখেন, মদিনার ভেতরে ৩ ফিটের মধ্যে কাউকে আসতে দেবে না। মক্কাতে আপনি খেয়াল করে দেখেছেন কিনা, নামাজ বা তাওয়াফ করে, কী রকম ডিসিপ্লিন মেনে চলছে মানুষ। সেজন্যই সৌদি আরব নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে। লকডাউন আর বাড়ানো হবে কিনা, কঠোর করা হবে কিনা-এ বিষয়ে তিনি বলেন, কালকে আমরা মিটিং করব। তারপর সিদ্ধান্ত।

বিধিনিষেধেও বেসরকারি অনেক অফিস খোলা আছে-এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমার সঙ্গে রোববারও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজির সঙ্গে কথা হয়েছে, অফিসগুলোর কিছু মেশিন চালু রাখতে হয়। ওই টেকনিক্যাল কর্মী যায়-আসে। অনেক জিনিস আছে, সার্ভিসিং করতে হয়, এগুলো তারা করছে। এগুলো আমাদের মোবাইল কোর্ট চেক করছে।

টিকা কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ওয়ার্ড-ইউনিয়ন পর্যায়েও জোরদার হচ্ছে -স্বাস্থ্যমন্ত্রী * শিল্পকারখানা খুললেই ব্যবস্থা -জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৭ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টিকা কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, এজন্য ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে করোনাভাইরাসের টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।

আর কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে কোনো শিল্পকারখানা খুললে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তারা এসব তথ্য জানান।

এছাড়া করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে আজ (মঙ্গলবার) দুপুর দেড়টায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশনা দিয়েছেন। ওয়ার্ড পর্যায়ে বয়স্ক লোকদের ভ্যাকসিনেট করার ব্যবস্থা করা, ভ্যাকসিন নেওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে একটা অনীহা আছে। হাসপাতালে দেখা গেছে, গ্রামের বয়স্ক লোকরাই আছেন ৭৫ শতাংশ। তাদের মৃত্যু সংখ্যা বেশি, আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৯০ শতাংশ। তাদের ভ্যাকসিনেট করার জন্য আমাদের চেষ্টা করে যেতে হবে। আমরা কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কার হিসাবে ডাক্তার-নার্স, আর্মি, পুলিশ, সাংবাদিক রয়েছেন। তারা তো পেয়েছেন। বাকিদেরও দিতে বলা হয়েছে। তাদের পরিবারকে টিকা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। পরিবারে যদি কোনো ড্রাইভার থাকে তাকেও দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। পরিবারে ১৮ বছরের বেশি যাদের বয়স তারা এ ভ্যাকসিনটা পাবে। ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম তো চলছেই। এখন আমরা ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা লেভেলে জোর দেব বেশি। পাশাপাশি টেস্টের বিষয়েও জোর করা হয়েছে। গ্রামের লোকরা অনেক সময় পরীক্ষা করতে চায় না।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘দেশে করোনা মহামারিকালের সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতি বিরাজ করছে এখন। সংক্রমণের ভয়াবহ এই পরিস্থিতিতে মানুষের চলাচল সীমিত করে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। সব ধরনের অফিস-আদালত থেকে শুরু করে শিল্প-কলকারখানাও বন্ধ রয়েছে। এতে অর্থনীতির ক্ষতি হলেও জীবনকে প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার। জীবন আগে, অর্থনীতি পরে। লকডাউনের তিন-চার দিন চলছে। কিন্তু রাস্তাঘাটে মানুষ যেভাবে চলাফেরা করছে, যেভাবে গাড়ি চলাচল করছে তাতে আমরা খুবই দুঃখিত। যারা লকডাউন ব্রেক করছে তারা নিজেদের ক্ষতি করছে। প্রতিটি রাষ্ট্রের সক্ষমতার একটা সীমাবদ্ধতা আছে। আমাদের হাসপাতালে ৯০ শতাংশ সিট বুক হয়ে গেছে, রোগী আছে সেখানে। নতুন করে আর কোথায় হাসপাতাল চালু করব। নতুন তো কোনো ভবনও নেই। ডাক্তার-নার্সরাও ক্লান্ত হয়ে গেছেন। তারা আর কত কাজ করবেন? নতুন চার হাজার ডাক্তার নেওয়া হচ্ছে, নার্স নেওয়া হচ্ছে। দেশে মোট ২১ কোটি ভ্যাকসিন আসবে। যেটা মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এদিকে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে কোনো শিল্পকারখানা খুললে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। 

করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এর আগে কয়েক দফা লকডাউনে শিল্পকারখানা খোলা রাখা হয়েছিল। কিন্তু মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণ ও মৃত্যু লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ায় ২৩ জুলাই থেকে শুরু হওয়া লকডাউনে শিল্পকারখানাও বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এর মধ্যেও কিছু শিল্পকারখানা খোলা রাখা হচ্ছে বলে খবর মিলছে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা-এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ কারখানা খুলে থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছি।’ সংক্রমণ যে গতিতে ছড়াচ্ছে, তাতে এখন কঠোর বিধিনিধেষের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। পোশাক কারখানা খোলার বিষয়ে ফরহাদ হোসেন বলেন, লকডাউনের মধ্যে পোশাক কারখানা খোলা নিয়ে সরকারের এখন পর্যন্ত কোনো চিন্তাভাবনা নেই।

প্রধানমন্ত্রী বিশেষ কোনো নির্দেশনা দিয়েছেন কিনা-জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা যে পরিস্থিতিতে ছড়িয়ে গেছে, এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা কঠিনভাবেই তো প্রজ্ঞাপন জারি করেছি। এ ব্রেকটা খুব দরকার। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের সংক্রমণ কমানোর জন্য ব্রেক প্রয়োজন। ব্রেকটার জন্য এটাই উপযুক্ত কৌশল, সেটি হচ্ছে বিধিনিষেধ।’

বিধিনিষেধ কঠোরভাবে পালনের কথা থাকলেও সড়কে চলাচল বাড়ছে। এ বিষয়ে ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘পোশাক কারখানা ও রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা বন্ধ থাকায় লাখ লাখ কর্মী আর বের হচ্ছেন না। এরা ছাড়াও বিভিন্ন কারণে অনেককে বাইরে আসতে হচ্ছে। হাসপাতাল, জরুরি সেবার সঙ্গে জড়িত মানুষ বের হচ্ছেন। হাসপাতালে যারা আছেন তাদের অ্যাটেনডেন্টরা আছেন, তাদের বের হতে হচ্ছে। রাস্তায় বের হয়ে মানুষ বলছে, চাকরিতে যেতে হচ্ছে। তারা যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম বলেছে, আমরা সেগুলো যাচাই করছি।’

সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদের হিসাব দেওয়া নিয়ে এক প্রশ্নে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি চাকরি আইনে বলা আছে পাঁচ বছর পরপর সবাই সম্পদের হিসাব দেবে। যাতে করে আয়বহির্ভূত কোনো সম্পদ আছে কিনা, সেটা আমরা চেক করতে পারি। সরকারি চাকরিজীবীরা ট্যাক্স রিটার্ন দেবেন। আমাদেরও তাদের সম্পদের হিসাব সাবমিট করতে হবে। কেউ তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চাইলে আমরা দিতে পারব।’

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক আজ : আজ (মঙ্গলবার) করোনা সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সচিবালয়ে একটা বড় মিটিং অনুষ্ঠিত হবে। হাসপাতালের সিট বাড়িয়ে, ডাক্তার বাড়িয়ে এগুলো (করোনা) নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। ইউরোপের দেশগুলো দেখেন, স্পেন, ডেনমার্ক, সুইডেন, নরওয়ে, জার্মানি। জার্মানি তো অসহায়ভাবে পড়েছিল। ইন্ডিয়ার অবস্থা দেখেন, কী হয়েছে। একমাত্র মানুষ যদি মাস্ক না পরে, দূরত্ব না মানে ‘ইট উইল বি অলমোস্ট ইমপসিবল।’

আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, মক্কা-মদিনা দেখেন, মদিনার ভেতরে ৩ ফিটের মধ্যে কাউকে আসতে দেবে না। মক্কাতে আপনি খেয়াল করে দেখেছেন কিনা, নামাজ বা তাওয়াফ করে, কী রকম ডিসিপ্লিন মেনে চলছে মানুষ। সেজন্যই সৌদি আরব নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে। লকডাউন আর বাড়ানো হবে কিনা, কঠোর করা হবে কিনা-এ বিষয়ে তিনি বলেন, কালকে আমরা মিটিং করব। তারপর সিদ্ধান্ত।

বিধিনিষেধেও বেসরকারি অনেক অফিস খোলা আছে-এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমার সঙ্গে রোববারও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজির সঙ্গে কথা হয়েছে, অফিসগুলোর কিছু মেশিন চালু রাখতে হয়। ওই টেকনিক্যাল কর্মী যায়-আসে। অনেক জিনিস আছে, সার্ভিসিং করতে হয়, এগুলো তারা করছে। এগুলো আমাদের মোবাইল কোর্ট চেক করছে।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন