করোনায় ঝুলছে মামলার তদন্ত ও বিচার
jugantor
ক্যাসিনোবিরোধী শুদ্ধি অভিযান
করোনায় ঝুলছে মামলার তদন্ত ও বিচার
এক-তৃতীয়াংশ মামলার তদন্তই শেষ হয়নি * কারাগারে সম্রাটসহ ১০ প্রভাবশালী দুজনের জামিন

  হাসিব বিন শহিদ  

২৯ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ক্যাসিনোবিরোধী ও শুদ্ধি অভিযানের দুই বছর পূর্তি হতে যাচ্ছে আগামী সেপ্টেম্বরে। কিন্তু প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচারে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। এখনো শেষ হয়নি এক-তৃতীয়াংশ মামলার তদন্ত।

আর যেসব মামলায় চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর বিচার শুরু হলেও সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম তেমন অগ্রসর হয়নি। মূলত বর্তমানে করোনায় আটকে আছে ক্যাসিনো মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম।

তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, করোনার প্রার্দুভাবে ক্যাসিনো মামলাগুলোর তদন্তে ও বিচারে সময়ক্ষেপণ হয়েছে। করোনা না থাকলে এতদিনে এসব মামলার তদন্ত ও বিচার অনেকটাই গুছিয়ে আনা সম্ভব ছিল।

অবৈধ সম্পদের মামলা ছাড়াও ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ১২ প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় ২৫টি মামলা করা হয়। মামলাগুলোর মধ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাটের অস্ত্র ও মাদক আইনের মামলাসহ মোট ১৬টি মামলায় আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেওয়া হয়েছে।

অপর দিকে অনলাইন ক্যাসিনো জুয়ার আন্তর্জাতিক গডফাদার সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনের মামলাসহ মোট ৯টি মামলা অদ্যাবধি তদন্তাধীন। এসব মামলায় ইতোমধ্যেই দুজন প্রভাবশালীসহ পাঁচজন জামিনে আছেন।

সম্রাট, জিকে শামীমসহ বাকি ১০ প্রভাবশালী কারাগারে। আর কারাগারে থাকা এসব প্রভাবশালীর মধ্যে কেউ কেউ জামিন পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় যুবলীগ নেতাদের নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এর তিন দিন পর ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হয়। ওই দিন রাজধানীর চারটি ক্লাবে অভিযান চালিয়ে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ক্লাবগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ জুয়ার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার করা হয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের। ২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলা ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে যুবলীগ নেতা সম্রাটসহ ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

তবে গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র ও মানি লন্ডারিং আইনে মামলা হলেও, ‘দুর্বল’ জুয়া আইনে একটি মামলাও হয়নি।

জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক যুগান্তরকে বলেন, বিচারাধীন মামলার বিষয়ে কোনো কথা বলা ঠিক হবে না। কারণ কথা বললে মামলার বিচার প্রভাবিত হতে পারে। বিচার তার নিজস্ব গতিতে চলবে। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ক্যাসিনোসহ সব চাঞ্চল্যকর মামলা নিষ্পত্তির জন্য প্রসিকিউশনকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, এখানে দুটি বিষয় বিবেচনা করতে হবে। একটি হলো-মামলাগুলো তদন্তে তদন্ত সংস্থার দক্ষতার ঘাটতি থাকতে পারে।

অপর দিকে বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়ার বিষয় থাকতে পারে। বাংলাদেশে এ ধরনের মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচার দীর্ঘসূত্রতার নমুনা রয়েছে। সার্বিকভাবে দীর্ঘ সময়ে তদন্ত শেষ করতে না পারায় তদন্ত সংস্থাগুলোর দক্ষতার ঘাটতি প্রতীয়মান হয়।

এ ছাড়া তদন্ত সংস্থার সদিচ্ছা ও সৎ সাহসের ব্যাপারও রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের ওপর যেহেতু প্রধানমন্ত্রী বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। সেহেতু এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল। দৃষ্টান্তমূলক সুরাহা হলে সরকারের ওপর জনগণের আস্থা আরও বাড়বে।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি তাপস কুমার পাল যুগান্তরকে বলেন, ক্যাসিনোকাণ্ডে সম্রাট, খালেদ মাহমুদসহ অন্যান্য যাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেওয়া হয়েছে, সেসব মামলার বিচারকাজ চলছে।

তবে করোনার কারণে বর্তমানে বিচারকাজ স্থগিত রয়েছে। আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হলে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এসব মামলায় আসামিদের সাজা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

১২ প্রভাবশালীর মামলা, তদন্ত ও বিচার : ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে সবচেয়ে আলোচিত নেতা হলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাট। তার বিরুদ্ধে পাঁচ মামলার মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেওয়া সাজা তিনি ইতোমধ্যেই ভোগ করেছেন।

অস্ত্র ও মাদক আইনের মামলা বিচারাধীন। মানি লন্ডারিং ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা অবৈধ সম্পদের মামলাটি তদন্তাধীন।

প্রভাবশালী ঠিকাদার এসএম গোলাম কিবরিয়া শামীমের (জিকে শামীম) বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও মানি লন্ডারিং আইনে তিনটি মামলাসহ দুদকের অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা রয়েছে। মামলাগুলোর মধ্যে অস্ত্র ও মাদক মামলা বিচারাধীন। বাকিগুলো তদন্তাধীন।

মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডের ডিরেক্টর ইনচার্জ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে মাদক আইনের মামলা ছাড়াও অবৈধ সম্পদ অর্জনে দুদকের মামলা রয়েছে।

মাদক মামলা বিচারাধীন ও দুদকের মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের সভাপতি ও কৃষক লীগের নেতা শফিকুল আলম ওরফে ফিরোজের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনের মামলা ছাড়াও অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা রয়েছে।

অস্ত্র ও মাদক আইনের দুটি বিচারাধীন ও দুদকের মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। রাজধানীর ইয়ংমেনস ক্লাবের ক্যাসিনোর মালিক ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি, মদক আইনে দুটি, মানি লন্ডারিং আইনে একটি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা রয়েছে।

অস্ত্র, মাদক ও মানি লন্ডারিং আইনের মামলা বিচারাধীন এবং দুদকের মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। অনলাইন ক্যাসিনো জুয়ার আন্তর্জাতিক গডফাদার সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে চারটি মামলা রয়েছে।

এসব মামলার মধ্যে একটিতে সাজা ভোগ করেছেন। মাদক মামলায় চার্জশিট দেওয়া হলেও অস্ত্র ও দুদকের করা মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক এনু ও তার ভাই রুপন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ১০টি মামলা রয়েছে।

মামলাগুলোর মধ্যে মানি লন্ডারিং আইনের চার মামলা বিচারাধীন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিল মো. তারেকুজ্জামান রাজীবের অস্ত্র ও মাদক মামলা বিচারাধীন এবং দুদকের মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।

কাউন্সিলর ময়নুল হকের (মনজু) অস্ত্র ও মাদক আইনের মামলা বিচারাধীন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে পাগলা মিজানের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মানি লন্ডারিং আইনের দুই মামলা বিচারাধীন এবং দুদকের অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। আসামিদের মধ্যে শফিকুল আলম ওরফে ফিরোজ ও লোকমান হোসেন ভূঁইয়া জামিনে আছেন। বাকি সব কারাগারে।

ক্যাসিনোবিরোধী শুদ্ধি অভিযান

করোনায় ঝুলছে মামলার তদন্ত ও বিচার

এক-তৃতীয়াংশ মামলার তদন্তই শেষ হয়নি * কারাগারে সম্রাটসহ ১০ প্রভাবশালী দুজনের জামিন
 হাসিব বিন শহিদ 
২৯ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ক্যাসিনোবিরোধী ও শুদ্ধি অভিযানের দুই বছর পূর্তি হতে যাচ্ছে আগামী সেপ্টেম্বরে। কিন্তু প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচারে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। এখনো শেষ হয়নি এক-তৃতীয়াংশ মামলার তদন্ত।

আর যেসব মামলায় চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর বিচার শুরু হলেও সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম তেমন অগ্রসর হয়নি। মূলত বর্তমানে করোনায় আটকে আছে ক্যাসিনো মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম। 

তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, করোনার প্রার্দুভাবে ক্যাসিনো মামলাগুলোর তদন্তে ও বিচারে সময়ক্ষেপণ হয়েছে। করোনা না থাকলে এতদিনে এসব মামলার তদন্ত ও বিচার অনেকটাই গুছিয়ে আনা সম্ভব ছিল।

অবৈধ সম্পদের মামলা ছাড়াও ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ১২ প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় ২৫টি মামলা করা হয়। মামলাগুলোর মধ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাটের অস্ত্র ও মাদক আইনের মামলাসহ মোট ১৬টি মামলায় আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেওয়া হয়েছে।

অপর দিকে অনলাইন ক্যাসিনো জুয়ার আন্তর্জাতিক গডফাদার সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনের মামলাসহ মোট ৯টি মামলা অদ্যাবধি তদন্তাধীন। এসব মামলায় ইতোমধ্যেই দুজন প্রভাবশালীসহ পাঁচজন জামিনে আছেন।

সম্রাট, জিকে শামীমসহ বাকি ১০ প্রভাবশালী কারাগারে। আর কারাগারে থাকা এসব প্রভাবশালীর মধ্যে কেউ কেউ জামিন পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় যুবলীগ নেতাদের নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এর তিন দিন পর ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হয়। ওই দিন রাজধানীর চারটি ক্লাবে অভিযান চালিয়ে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ক্লাবগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ জুয়ার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার করা হয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের। ২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলা ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে যুবলীগ নেতা সম্রাটসহ ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

তবে গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র ও মানি লন্ডারিং আইনে মামলা হলেও, ‘দুর্বল’ জুয়া আইনে একটি মামলাও হয়নি।

জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক যুগান্তরকে বলেন, বিচারাধীন মামলার বিষয়ে কোনো কথা বলা ঠিক হবে না। কারণ কথা বললে মামলার বিচার প্রভাবিত হতে পারে। বিচার তার নিজস্ব গতিতে চলবে। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ক্যাসিনোসহ সব চাঞ্চল্যকর মামলা নিষ্পত্তির জন্য প্রসিকিউশনকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, এখানে দুটি বিষয় বিবেচনা করতে হবে। একটি হলো-মামলাগুলো তদন্তে তদন্ত সংস্থার দক্ষতার ঘাটতি থাকতে পারে।

অপর দিকে বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়ার বিষয় থাকতে পারে। বাংলাদেশে এ ধরনের মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচার দীর্ঘসূত্রতার নমুনা রয়েছে। সার্বিকভাবে দীর্ঘ সময়ে তদন্ত শেষ করতে না পারায় তদন্ত সংস্থাগুলোর দক্ষতার ঘাটতি প্রতীয়মান হয়।

এ ছাড়া তদন্ত সংস্থার সদিচ্ছা ও সৎ সাহসের ব্যাপারও রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের ওপর যেহেতু প্রধানমন্ত্রী বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। সেহেতু এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল। দৃষ্টান্তমূলক সুরাহা হলে সরকারের ওপর জনগণের আস্থা আরও বাড়বে।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি তাপস কুমার পাল যুগান্তরকে বলেন, ক্যাসিনোকাণ্ডে সম্রাট, খালেদ মাহমুদসহ অন্যান্য যাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেওয়া হয়েছে, সেসব মামলার বিচারকাজ চলছে।

তবে করোনার কারণে বর্তমানে বিচারকাজ স্থগিত রয়েছে। আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হলে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এসব মামলায় আসামিদের সাজা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

১২ প্রভাবশালীর মামলা, তদন্ত ও বিচার : ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে সবচেয়ে আলোচিত নেতা হলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাট। তার বিরুদ্ধে পাঁচ মামলার মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেওয়া সাজা তিনি ইতোমধ্যেই ভোগ করেছেন।

অস্ত্র ও মাদক আইনের মামলা বিচারাধীন। মানি লন্ডারিং ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা অবৈধ সম্পদের মামলাটি তদন্তাধীন।

প্রভাবশালী ঠিকাদার এসএম গোলাম কিবরিয়া শামীমের (জিকে শামীম) বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও মানি লন্ডারিং আইনে তিনটি মামলাসহ দুদকের অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা রয়েছে। মামলাগুলোর মধ্যে অস্ত্র ও মাদক মামলা বিচারাধীন। বাকিগুলো তদন্তাধীন।

মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডের ডিরেক্টর ইনচার্জ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে মাদক আইনের মামলা ছাড়াও অবৈধ সম্পদ অর্জনে দুদকের মামলা রয়েছে।

মাদক মামলা বিচারাধীন ও দুদকের মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের সভাপতি ও কৃষক লীগের নেতা শফিকুল আলম ওরফে ফিরোজের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনের মামলা ছাড়াও অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা রয়েছে।

অস্ত্র ও মাদক আইনের দুটি বিচারাধীন ও দুদকের মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। রাজধানীর ইয়ংমেনস ক্লাবের ক্যাসিনোর মালিক ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি, মদক আইনে দুটি, মানি লন্ডারিং আইনে একটি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা রয়েছে।

অস্ত্র, মাদক ও মানি লন্ডারিং আইনের মামলা বিচারাধীন এবং দুদকের মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। অনলাইন ক্যাসিনো জুয়ার আন্তর্জাতিক গডফাদার সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে চারটি মামলা রয়েছে।

এসব মামলার মধ্যে একটিতে সাজা ভোগ করেছেন। মাদক মামলায় চার্জশিট দেওয়া হলেও অস্ত্র ও দুদকের করা মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক এনু ও তার ভাই রুপন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ১০টি মামলা রয়েছে।

মামলাগুলোর মধ্যে মানি লন্ডারিং আইনের চার মামলা বিচারাধীন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিল মো. তারেকুজ্জামান রাজীবের অস্ত্র ও মাদক মামলা বিচারাধীন এবং দুদকের মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।

কাউন্সিলর ময়নুল হকের (মনজু) অস্ত্র ও মাদক আইনের মামলা বিচারাধীন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে পাগলা মিজানের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মানি লন্ডারিং আইনের দুই মামলা বিচারাধীন এবং দুদকের অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। আসামিদের মধ্যে শফিকুল আলম ওরফে ফিরোজ ও লোকমান হোসেন ভূঁইয়া জামিনে আছেন। বাকি সব কারাগারে।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ক্যাসিনোয় অভিযান