মৃত্যু ছাড়াল ২০ হাজার, শনাক্ত ১২ লাখ
jugantor
২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড শনাক্ত ১৬২৩০
মৃত্যু ছাড়াল ২০ হাজার, শনাক্ত ১২ লাখ

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৯ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে করোনা পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যু ও শনাক্ত। ভাঙছে রেকর্ড। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু কিছুটা কমলেও শনাক্তে হয়েছে নতুন রেকর্ড। বেড়েছে সংক্রমণের হারও। করোনায় মৃত্যু ছাড়িয়েছে ২০ হাজার আর শনাক্ত ১২ লাখ। মৃত ও সংক্রমণের তালিকায় শীর্ষে আছে ঢাকা বিভাগ। এ বিভাগে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৯২৭৩ জন। মৃত্যুর দিকে থেকে এরপরই চট্টগ্রাম বিভাগ। সেখানে মারা গেছে ৩৬৯৬ জন। সবচেয়ে কম ৫২২ জন মারা গেছেন ময়মনসিংহ বিভাগে। এদিকে ২৪ ঘণ্টায় দেশে আক্রান্তদের মধ্যে আরও ২৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগের দিন সর্বাধিক ২৫৮ জন মারা যান। সবমিলিয়ে দেশে আক্রান্তদের মধ্যে মোট ২০ হাজার ১৬ জন মারা গেছেন। একদিনে আরও শনাক্ত হয়েছে ১৬২৩০ জন। যা এ পর্যন্ত সর্বাধিক। এর আগে সোমবার দেশে সর্বাধিক ১৫১৯২ জনের দেহে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। এ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ১০ হাজার ৯৮২ জনে। সরকারি হিসাবে এক দিনে সেরে উঠেছেন ১৩ হাজার ৪৭০ জন। তাদের নিয়ে এই পর্যন্ত সুস্থ হলেন ১০ লাখ ৩৫ হাজার ৮৮৪ জন। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এদিকে বুধবার নিয়মিত করোনা বুলেটিনে অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, দেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি চলছে। এ মুহূর্তে সারা দেশে সংক্রমণের শীর্ষে অবস্থান করছে ঢাকা জেলা। আর সবচেয়ে কম সংক্রমণ হয়েছে রাজশাহী জেলায়। ঢাকা জেলায় (মহানগরসহ) এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ৭৯০ জনের। ঢাকার পরে অবস্থান বন্দরনগরী চট্টগ্রামের। সেখানে এখন পর্যন্ত ৭৮ হাজার ২৬৪ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। আমরা যদি রোগীর সংখ্যা এবং মৃত্যুর সংখ্যা পাশাপাশি রাখি তাহলে দেখা যায় বরিশাল বিভাগে শনাক্ত রোগীর বিপরীতে মৃত্যুর হার ২ শতাংশ। ঢাকায় সেটি ১ দশমিক ৩ শতাংশ আর রংপুর বিভাগে ২ দশমিক ৪ শতাংশ। করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে আগের চেয়ে মহিলাদের মৃত্যু বাড়ছে বলে জানান তিনি। ডেঙ্গি প্রসঙ্গে নাজমুল ইসলাম বলেন, প্রতি বর্ষায় ডেঙ্গি নিয়ে আমাদের ভাবতে হয়। ১ জানুয়ারি থেকে ২৭ জুলাই ১৯৪৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ১৪৩৩ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ৫০৯ জন ডেঙ্গি রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। সন্দেহজনক ৩ জনের মৃত্যুর খবর আমাদের কাছে এসেছে। সেগুলো আইইডিসিআরের মাধ্যমে আমরা পরীক্ষা করে দেখছি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬৩৯টি ল্যাবে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে আরটি-পিসিআর ল্যাব ১৩০টি, জিন এক্সপার্ট ৫২টি, র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন ৪৫৭টি। এসব ল্যাবে ৫৬ হাজার ১৫৭টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৫৩ হাজার ৮৭৭টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৭৬ লাখ ১২ হাজার ৫৮৮টি। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৩০ দশমিক ১২ শতাংশ। আগের দিন এ হার ছিল ২৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৯১ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৫ দশমিক ৫৪ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৪৯ ও নারী ৮৮ জন। এদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ১৬৭ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ৫৭ জন ও বাড়িতে ১৩ জন মারা গেছেন। মৃতদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৭০ জন। এর পরেই রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। এ বিভাগে মারা গেছেন ৬২ জন। এছাড়া রাজশাহী বিভাগে ২১, খুলনা বিভাগে ৩৪, বরিশাল বিভাগে নয়জন, সিলেট বিভাগে ১৮ জন, রংপুর বিভাগে ১৬ ও ময়মনসিংহ বিভাগে সাতজন আছেন। তাদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে একজন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১৫ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৪৫ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৭৮ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৪৪ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩৪ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১১, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে নয়জন রয়েছেন।

২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড শনাক্ত ১৬২৩০

মৃত্যু ছাড়াল ২০ হাজার, শনাক্ত ১২ লাখ

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৯ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে করোনা পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যু ও শনাক্ত। ভাঙছে রেকর্ড। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু কিছুটা কমলেও শনাক্তে হয়েছে নতুন রেকর্ড। বেড়েছে সংক্রমণের হারও। করোনায় মৃত্যু ছাড়িয়েছে ২০ হাজার আর শনাক্ত ১২ লাখ। মৃত ও সংক্রমণের তালিকায় শীর্ষে আছে ঢাকা বিভাগ। এ বিভাগে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৯২৭৩ জন। মৃত্যুর দিকে থেকে এরপরই চট্টগ্রাম বিভাগ। সেখানে মারা গেছে ৩৬৯৬ জন। সবচেয়ে কম ৫২২ জন মারা গেছেন ময়মনসিংহ বিভাগে। এদিকে ২৪ ঘণ্টায় দেশে আক্রান্তদের মধ্যে আরও ২৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগের দিন সর্বাধিক ২৫৮ জন মারা যান। সবমিলিয়ে দেশে আক্রান্তদের মধ্যে মোট ২০ হাজার ১৬ জন মারা গেছেন। একদিনে আরও শনাক্ত হয়েছে ১৬২৩০ জন। যা এ পর্যন্ত সর্বাধিক। এর আগে সোমবার দেশে সর্বাধিক ১৫১৯২ জনের দেহে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। এ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ১০ হাজার ৯৮২ জনে। সরকারি হিসাবে এক দিনে সেরে উঠেছেন ১৩ হাজার ৪৭০ জন। তাদের নিয়ে এই পর্যন্ত সুস্থ হলেন ১০ লাখ ৩৫ হাজার ৮৮৪ জন। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এদিকে বুধবার নিয়মিত করোনা বুলেটিনে অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, দেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি চলছে। এ মুহূর্তে সারা দেশে সংক্রমণের শীর্ষে অবস্থান করছে ঢাকা জেলা। আর সবচেয়ে কম সংক্রমণ হয়েছে রাজশাহী জেলায়। ঢাকা জেলায় (মহানগরসহ) এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ৭৯০ জনের। ঢাকার পরে অবস্থান বন্দরনগরী চট্টগ্রামের। সেখানে এখন পর্যন্ত ৭৮ হাজার ২৬৪ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। আমরা যদি রোগীর সংখ্যা এবং মৃত্যুর সংখ্যা পাশাপাশি রাখি তাহলে দেখা যায় বরিশাল বিভাগে শনাক্ত রোগীর বিপরীতে মৃত্যুর হার ২ শতাংশ। ঢাকায় সেটি ১ দশমিক ৩ শতাংশ আর রংপুর বিভাগে ২ দশমিক ৪ শতাংশ। করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে আগের চেয়ে মহিলাদের মৃত্যু বাড়ছে বলে জানান তিনি। ডেঙ্গি প্রসঙ্গে নাজমুল ইসলাম বলেন, প্রতি বর্ষায় ডেঙ্গি নিয়ে আমাদের ভাবতে হয়। ১ জানুয়ারি থেকে ২৭ জুলাই ১৯৪৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ১৪৩৩ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ৫০৯ জন ডেঙ্গি রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। সন্দেহজনক ৩ জনের মৃত্যুর খবর আমাদের কাছে এসেছে। সেগুলো আইইডিসিআরের মাধ্যমে আমরা পরীক্ষা করে দেখছি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬৩৯টি ল্যাবে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে আরটি-পিসিআর ল্যাব ১৩০টি, জিন এক্সপার্ট ৫২টি, র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন ৪৫৭টি। এসব ল্যাবে ৫৬ হাজার ১৫৭টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৫৩ হাজার ৮৭৭টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৭৬ লাখ ১২ হাজার ৫৮৮টি। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৩০ দশমিক ১২ শতাংশ। আগের দিন এ হার ছিল ২৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৯১ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৫ দশমিক ৫৪ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৪৯ ও নারী ৮৮ জন। এদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ১৬৭ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ৫৭ জন ও বাড়িতে ১৩ জন মারা গেছেন। মৃতদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৭০ জন। এর পরেই রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। এ বিভাগে মারা গেছেন ৬২ জন। এছাড়া রাজশাহী বিভাগে ২১, খুলনা বিভাগে ৩৪, বরিশাল বিভাগে নয়জন, সিলেট বিভাগে ১৮ জন, রংপুর বিভাগে ১৬ ও ময়মনসিংহ বিভাগে সাতজন আছেন। তাদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে একজন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১৫ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৪৫ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৭৮ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৪৪ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩৪ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১১, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে নয়জন রয়েছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন