করোনার ক্ষতি মোকাবিলায় ঋণপ্রবাহ বাড়ানো হবে
jugantor
নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা আজ
করোনার ক্ষতি মোকাবিলায় ঋণপ্রবাহ বাড়ানো হবে
সম্প্রসারণমুখী নীতি অব্যাহত থাকবে * গত মুদ্রানীতির লক্ষ্য অর্জিত হয়নি

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৯ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের জন্য আগামী অর্থবছরের মুদ্রানীতিতেও বাজারে ঋণের প্রবাহ বাড়ানোর নীতি অনুসরণ করা হবে। ঋণের জোগান সবচেয়ে বেশি বাড়ানো হবে উৎপাদন ও ব্যবসা খাতে। নতুন শিল্প স্থাপনেও বিনিয়োগ বাড়ানোর নীতি অনুসরণ করা হবে। এসব লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আজ বৃহস্পতিবার চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির এ নীতি ঘোষণা করবেন।

এদিকে করোনার প্রভাব মোকাবিলা করতে গত অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে যেসব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তার বেশিরভাগই অর্জিত হয়নি। এ অবস্থায় বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোতে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর মধ্যে বড় শিল্পের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। নতুন উদ্যোক্তা তৈরি ও তাদেরকে ঋণের জোগান দেওয়াতেও গুরুত্ব থাকবে।

কৃষি ও গ্রামীণ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতকে ঋণের জোগান বাড়ানোর জন্য বহুমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। করোনার নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলার জন্য সরকার ঘোষিত ২৩টি প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে ১০টি সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এগুলো অব্যাহত রাখা হবে। বাজারে তারল্যের প্রবাহ বাড়াতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নীতি সহায়তার যে ছাড় দেওয়া হয়েছে সেগুলো অব্যাহত রাখা হবে।

এর আগে গত জুনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মানিটারি পলিসি বিভাগ থেকে মুদ্রানীতির বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক মতামত দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে অনেকেই মতামত দিয়েছেন। এদের সবাই মুদ্রানীতির বর্তমান সম্প্রসারণশীল ধারা অব্যাহত রাখার সুপারিশ করেছেন। একই সঙ্গে তারা চলমান শিল্পে ঋণের জোগান বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে নতুন শিল্পে ঋণ বিতরণ আরও সহজ করার প্রস্তাব দিয়েছেন।

এদিকে গত অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে বাজারে টাকার প্রবাহ, সরকারি ও বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়ানোর যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল সেগুলোর বেশির ভাগই অর্জিত হয়নি। তবে বৈদেশিক সম্পদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি বেড়েছে।

গত বছরের জুনে মূল্যস্ফীতির হার ৬ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। গত মে মাসে তা কমে ৫ দশমিক ২৬ শতাংশ হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে বাজারে টাকার প্রবাহ (ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহ বা এম-২) বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ। কিন্তু গত এপ্রিল পর্যন্ত বেড়েছে ১২ দশমিক ৯২ শতাংশ। ওই সময়ে ব্যাংকিং খাতে আমানত প্রবাহ বাড়লেও ঋণের চাহিদা খুব একটা বাড়েনি। এছাড়া নতুন বিনিয়োগ হয়নি। যে কারণে টাকার প্রবাহ বাড়ানো সম্ভব হয়নি।

মুদ্রানীতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রিজার্ভ মানি রাখার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। কিন্তু গত মে পর্যন্ত এর হার বেড়ে হয়েছে ২১ দশমিক ৩২ শতাংশ। ঋণের প্রবাহ না বাড়ার কারণে রিজার্ভ মানি বেড়ে গেছে।

দেশের অভ্যন্তরীণ ঋণ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ। গত মে পর্যন্ত বেড়েছে ৯ দশমিক ২২ শতাংশ। সরকারি ও বেসরকারি দুই খাতেই লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ঋণের প্রবাহ বাড়েনি। ফলে অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।

মুদ্রানীতিতে সরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ। কিন্তু গত মে পর্যন্ত বেড়েছে ২১ দশমিক ৫১ শতাংশ। করোনার কারণে সরকারের অনেক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীর গতির কারণে ঋণের চাহিদা কমেছে। ফলে সরকারের ঋণ গ্রহণও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী হয়নি।

বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। গত মে পর্যন্ত বেড়েছে ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা আজ

করোনার ক্ষতি মোকাবিলায় ঋণপ্রবাহ বাড়ানো হবে

সম্প্রসারণমুখী নীতি অব্যাহত থাকবে * গত মুদ্রানীতির লক্ষ্য অর্জিত হয়নি
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৯ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের জন্য আগামী অর্থবছরের মুদ্রানীতিতেও বাজারে ঋণের প্রবাহ বাড়ানোর নীতি অনুসরণ করা হবে। ঋণের জোগান সবচেয়ে বেশি বাড়ানো হবে উৎপাদন ও ব্যবসা খাতে। নতুন শিল্প স্থাপনেও বিনিয়োগ বাড়ানোর নীতি অনুসরণ করা হবে। এসব লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আজ বৃহস্পতিবার চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির এ নীতি ঘোষণা করবেন।

এদিকে করোনার প্রভাব মোকাবিলা করতে গত অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে যেসব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তার বেশিরভাগই অর্জিত হয়নি। এ অবস্থায় বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোতে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর মধ্যে বড় শিল্পের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। নতুন উদ্যোক্তা তৈরি ও তাদেরকে ঋণের জোগান দেওয়াতেও গুরুত্ব থাকবে।

কৃষি ও গ্রামীণ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতকে ঋণের জোগান বাড়ানোর জন্য বহুমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। করোনার নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলার জন্য সরকার ঘোষিত ২৩টি প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে ১০টি সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এগুলো অব্যাহত রাখা হবে। বাজারে তারল্যের প্রবাহ বাড়াতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নীতি সহায়তার যে ছাড় দেওয়া হয়েছে সেগুলো অব্যাহত রাখা হবে।

এর আগে গত জুনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মানিটারি পলিসি বিভাগ থেকে মুদ্রানীতির বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক মতামত দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে অনেকেই মতামত দিয়েছেন। এদের সবাই মুদ্রানীতির বর্তমান সম্প্রসারণশীল ধারা অব্যাহত রাখার সুপারিশ করেছেন। একই সঙ্গে তারা চলমান শিল্পে ঋণের জোগান বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে নতুন শিল্পে ঋণ বিতরণ আরও সহজ করার প্রস্তাব দিয়েছেন।

এদিকে গত অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে বাজারে টাকার প্রবাহ, সরকারি ও বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়ানোর যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল সেগুলোর বেশির ভাগই অর্জিত হয়নি। তবে বৈদেশিক সম্পদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি বেড়েছে।

গত বছরের জুনে মূল্যস্ফীতির হার ৬ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। গত মে মাসে তা কমে ৫ দশমিক ২৬ শতাংশ হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে বাজারে টাকার প্রবাহ (ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহ বা এম-২) বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ। কিন্তু গত এপ্রিল পর্যন্ত বেড়েছে ১২ দশমিক ৯২ শতাংশ। ওই সময়ে ব্যাংকিং খাতে আমানত প্রবাহ বাড়লেও ঋণের চাহিদা খুব একটা বাড়েনি। এছাড়া নতুন বিনিয়োগ হয়নি। যে কারণে টাকার প্রবাহ বাড়ানো সম্ভব হয়নি।

মুদ্রানীতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রিজার্ভ মানি রাখার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। কিন্তু গত মে পর্যন্ত এর হার বেড়ে হয়েছে ২১ দশমিক ৩২ শতাংশ। ঋণের প্রবাহ না বাড়ার কারণে রিজার্ভ মানি বেড়ে গেছে।

দেশের অভ্যন্তরীণ ঋণ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ। গত মে পর্যন্ত বেড়েছে ৯ দশমিক ২২ শতাংশ। সরকারি ও বেসরকারি দুই খাতেই লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ঋণের প্রবাহ বাড়েনি। ফলে অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।

মুদ্রানীতিতে সরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ। কিন্তু গত মে পর্যন্ত বেড়েছে ২১ দশমিক ৫১ শতাংশ। করোনার কারণে সরকারের অনেক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীর গতির কারণে ঋণের চাহিদা কমেছে। ফলে সরকারের ঋণ গ্রহণও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী হয়নি।

বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। গত মে পর্যন্ত বেড়েছে ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস