কক্সবাজারে পাহাড় ধস ও ঢলে গেল ১২ প্রাণ
jugantor
কক্সবাজারে পাহাড় ধস ও ঢলে গেল ১২ প্রাণ
টেকনাফে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু

  কক্সবাজার ও বান্দরবান প্রতিনিধি  

২৯ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কক্সবাজারে অতিবর্ষণে পাহাড় ধস ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে ডুবে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে টেকনাফ ও মহেশখালীতে পাহাড় ধসে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যসহ ৬ জন নিহত হয়েছে। উখিয়ায় বানের পানিতে নিখোঁজ তিনজন এবং ঈদগাঁও উপজেলায় খালে মাছ ধরতে গিয়ে ভেসে যাওয়া তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ভিলেজারপাড়ার সৈয়দ আলমের বাড়িতে বুধবার ভোরে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এ সময় মাটির নিচে চাপা পড়ে সৈয়দ আলমের পাঁচ সন্তানের মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা লাশ উদ্ধার করেন। নিহতরা হলো- আব্দুস শুক্কুর (১৬), মোহাম্মদ জুবাইর (১২), আবদুর রহিম (৫), মেয়ে কহিনুর আক্তার (৯) ও জয়নবা আক্তার (৭)। হ্নীলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাশেদ মো. আলি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মহেশখালী উপজেলায় হোয়ানক ইউনিয়নে বুধবার ভোরে পাহাড় ধসে আলী হোসেন (৬৮) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি রাজুয়ার ঘোনার মৃত রফিক উদ্দিনের ছেলে। ঘুমন্ত অবস্থায় পাহাড় ধসে তার বাড়ির ওপর পড়লে তিনি মারা যান। এদিকে উখিয়ায় মঙ্গলবার বানের পানিতে ভেসে যাওয়া নিখোঁজ তিনজনের লাশ বুধবার উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতরা হলো- রাজাপালং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ধইল্যাঘোনা এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে আলী আকবর (২৫) একই ইউনিয়নের মালিয়ারকুল এলাকার মো. ইসলামের ছেলে মো. রুবেল (২২) ও উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের চোরাখোলা এলাকার মৃত আলী আহমদের ছেলে আবদুর রহমান (৪৫)।

উখিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, নিহতের মধ্যে দুজন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে লেবার। তারা মঙ্গলবার কাজ শেষে ক্যাম্প থেকে ফেরার পথে মাছকারিয়া খাল পার হতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিল বলে জানা যায়। বুধবার ৩টার দিকে পৃথক স্থান থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঈদগাঁও উপজেলায় ঢলের পানিতে নিমজ্জিত দরগাহপাড়া এলাকায় স্রোতের মাঝে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ তিনজনের লাশ মিলেছে। আনু মিয়া সিকদারের ইটভাটার পাশের খালে বুধবার বিকালে তাদের লাশ উদ্ধার করে দমকল বাহিনী ও স্বজনরা। নিহতরা হলো- দরগাহপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ শাহাজাহানের দুই ছেলে মোহাম্মদ ফারুক (২৬) ও দেলোয়ার হোসেন (১৫) এবং আবছার কামালের ছেলে মোহাম্মদ মোরশেদ (১৪)।

ঈদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ছৈয়দ আলম জানান, ঈদগাঁও ফুলেশ্বরী নদীর ঢলে ডুবে থাকা দরগাহপাড়া-ভাদিতলা মুক্তিযোদ্ধা ছুরুত আলম সড়কের কাঠের সাঁকো এলাকায় তিনজন নিখোঁজ হন। স্থানীয়দের পাশাপাশি দমকল বাহিনীর সদস্যরাও উদ্ধারকাজে যোগ দেন। বিকেল পৃথক স্থান থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজারের উখিয়ায় ১০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভারি বর্ষণে পাহাড়ধসে পাঁচ রোহিঙ্গাসহ জেলা মোট ৮ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে গত দুদিনে পাহাড় ধস ও ঢলে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মামুনুর রশীদ জানান, শ্রাবণের অতিবর্ষণে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। ভারি বর্ষণে ঢল নেমেছে জেলার তিন প্রধান নদী ঈদগাঁওর ফুলেশ্বরী, চকরিয়ার মাতামুহুরী ও রামুর বাঁকখালীতে। বান ও বৃষ্টির পানিতে জলমগ্ন হয়েছে জেলার নয় উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও সমতল। শত শত বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে জলবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। ডুবে গেছে রাস্তা-ঘাট। পানিবন্দি হয়ে পড়ায় অনেক পরিবারে রান্নাও বন্ধ রয়েছে বলে জেনেছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে কাজ করার।

তিনি আরও জানান, টেকনাফ, উখিয়া ও মহেশখালীতে পাহাড় ধসে নিহত সবার পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও বিভিন্ন উপজেলায় পাহাড় ধসে এবং বানের পানিতে ভেসে এ পর্যন্ত ২০ জন নিহত হয়েছে বলে খবর পেয়েছি। মৃত্যুর ঝুঁকি এড়াতে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে মাইকিং ও অভিযান চলছে।

বান্দরবানে পাহাড় ধস : টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী, ঘুমধুম, সোনাইছড়ি ইউনিয়নে পাহাড় ধস এবং বন্যার পানিতে সড়ক ধসে বুধবার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে উপজেলায়। অপরদিকে আলীকদম-চকরিয়া-লামা সড়কের শীলেরতোয়াসহ কয়েকটি স্থানে বন্যার পানিতে সড়ক ডুবে যাওয়ায় আলীকদম উপজেলার সঙ্গেও দ্বিতীয় দিনের মতো সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এদিকে অব্যাহত ভারি বর্ষণে বান্দরবানে সাঙ্গু, মাতামুহুরী, বাঁকখালী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে লামা উপজেলার রূপসীপাড়াসহ আশপাশের এলাকা এবং বান্দরবান সদরের পুশ্চিম বালাঘাটা, ইসলামপুরসহ বিভিন্ন নিুাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কোনাক খালের পানিতে ডুবে গেছে মিয়ানমার সীমান্তের শূন্যরেখায় আশ্রয় নেওয়া ঘুমধুমের তুমব্রু কোনাপাড়া রোহিঙ্গা আশ্রয় কেন্দ্রও।

কক্সবাজারে পাহাড় ধস ও ঢলে গেল ১২ প্রাণ

টেকনাফে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু
 কক্সবাজার ও বান্দরবান প্রতিনিধি 
২৯ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কক্সবাজারে অতিবর্ষণে পাহাড় ধস ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে ডুবে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে টেকনাফ ও মহেশখালীতে পাহাড় ধসে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যসহ ৬ জন নিহত হয়েছে। উখিয়ায় বানের পানিতে নিখোঁজ তিনজন এবং ঈদগাঁও উপজেলায় খালে মাছ ধরতে গিয়ে ভেসে যাওয়া তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ভিলেজারপাড়ার সৈয়দ আলমের বাড়িতে বুধবার ভোরে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এ সময় মাটির নিচে চাপা পড়ে সৈয়দ আলমের পাঁচ সন্তানের মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা লাশ উদ্ধার করেন। নিহতরা হলো- আব্দুস শুক্কুর (১৬), মোহাম্মদ জুবাইর (১২), আবদুর রহিম (৫), মেয়ে কহিনুর আক্তার (৯) ও জয়নবা আক্তার (৭)। হ্নীলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাশেদ মো. আলি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মহেশখালী উপজেলায় হোয়ানক ইউনিয়নে বুধবার ভোরে পাহাড় ধসে আলী হোসেন (৬৮) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি রাজুয়ার ঘোনার মৃত রফিক উদ্দিনের ছেলে। ঘুমন্ত অবস্থায় পাহাড় ধসে তার বাড়ির ওপর পড়লে তিনি মারা যান। এদিকে উখিয়ায় মঙ্গলবার বানের পানিতে ভেসে যাওয়া নিখোঁজ তিনজনের লাশ বুধবার উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতরা হলো- রাজাপালং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ধইল্যাঘোনা এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে আলী আকবর (২৫) একই ইউনিয়নের মালিয়ারকুল এলাকার মো. ইসলামের ছেলে মো. রুবেল (২২) ও উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের চোরাখোলা এলাকার মৃত আলী আহমদের ছেলে আবদুর রহমান (৪৫)।

উখিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, নিহতের মধ্যে দুজন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে লেবার। তারা মঙ্গলবার কাজ শেষে ক্যাম্প থেকে ফেরার পথে মাছকারিয়া খাল পার হতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিল বলে জানা যায়। বুধবার ৩টার দিকে পৃথক স্থান থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঈদগাঁও উপজেলায় ঢলের পানিতে নিমজ্জিত দরগাহপাড়া এলাকায় স্রোতের মাঝে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ তিনজনের লাশ মিলেছে। আনু মিয়া সিকদারের ইটভাটার পাশের খালে বুধবার বিকালে তাদের লাশ উদ্ধার করে দমকল বাহিনী ও স্বজনরা। নিহতরা হলো- দরগাহপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ শাহাজাহানের দুই ছেলে মোহাম্মদ ফারুক (২৬) ও দেলোয়ার হোসেন (১৫) এবং আবছার কামালের ছেলে মোহাম্মদ মোরশেদ (১৪)।

ঈদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ছৈয়দ আলম জানান, ঈদগাঁও ফুলেশ্বরী নদীর ঢলে ডুবে থাকা দরগাহপাড়া-ভাদিতলা মুক্তিযোদ্ধা ছুরুত আলম সড়কের কাঠের সাঁকো এলাকায় তিনজন নিখোঁজ হন। স্থানীয়দের পাশাপাশি দমকল বাহিনীর সদস্যরাও উদ্ধারকাজে যোগ দেন। বিকেল পৃথক স্থান থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজারের উখিয়ায় ১০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভারি বর্ষণে পাহাড়ধসে পাঁচ রোহিঙ্গাসহ জেলা মোট ৮ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে গত দুদিনে পাহাড় ধস ও ঢলে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মামুনুর রশীদ জানান, শ্রাবণের অতিবর্ষণে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। ভারি বর্ষণে ঢল নেমেছে জেলার তিন প্রধান নদী ঈদগাঁওর ফুলেশ্বরী, চকরিয়ার মাতামুহুরী ও রামুর বাঁকখালীতে। বান ও বৃষ্টির পানিতে জলমগ্ন হয়েছে জেলার নয় উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও সমতল। শত শত বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে জলবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। ডুবে গেছে রাস্তা-ঘাট। পানিবন্দি হয়ে পড়ায় অনেক পরিবারে রান্নাও বন্ধ রয়েছে বলে জেনেছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে কাজ করার।

তিনি আরও জানান, টেকনাফ, উখিয়া ও মহেশখালীতে পাহাড় ধসে নিহত সবার পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও বিভিন্ন উপজেলায় পাহাড় ধসে এবং বানের পানিতে ভেসে এ পর্যন্ত ২০ জন নিহত হয়েছে বলে খবর পেয়েছি। মৃত্যুর ঝুঁকি এড়াতে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে মাইকিং ও অভিযান চলছে।

বান্দরবানে পাহাড় ধস : টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী, ঘুমধুম, সোনাইছড়ি ইউনিয়নে পাহাড় ধস এবং বন্যার পানিতে সড়ক ধসে বুধবার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে উপজেলায়। অপরদিকে আলীকদম-চকরিয়া-লামা সড়কের শীলেরতোয়াসহ কয়েকটি স্থানে বন্যার পানিতে সড়ক ডুবে যাওয়ায় আলীকদম উপজেলার সঙ্গেও দ্বিতীয় দিনের মতো সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এদিকে অব্যাহত ভারি বর্ষণে বান্দরবানে সাঙ্গু, মাতামুহুরী, বাঁকখালী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে লামা উপজেলার রূপসীপাড়াসহ আশপাশের এলাকা এবং বান্দরবান সদরের পুশ্চিম বালাঘাটা, ইসলামপুরসহ বিভিন্ন নিুাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কোনাক খালের পানিতে ডুবে গেছে মিয়ানমার সীমান্তের শূন্যরেখায় আশ্রয় নেওয়া ঘুমধুমের তুমব্রু কোনাপাড়া রোহিঙ্গা আশ্রয় কেন্দ্রও।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন