শিল্পকারখানা খুলে দিতে ব্যবসায়ীদের অনুরোধ
jugantor
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে বৈঠক
শিল্পকারখানা খুলে দিতে ব্যবসায়ীদের অনুরোধ
‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে খুব তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে’

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

৩০ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চলমান কঠোর বিধিনিষেধের (লকডাউন) মধ্যে গার্মেন্টসহ সব ধরনের শিল্পকারখানা খুলে দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন শিল্পমালিকরা। তারা বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজার হারানোর শঙ্কা, সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়া, বন্দরে জট, সার্বিক অর্থনীতিসহ সবকিছু বিবেচনা নিয়েই তারা এ অনুরোধ জানাতে বাধ্য হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করে তারা এ অনুরোধ জনান। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কেএম আলী আজমসহ এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের পর এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আমাদের কনসার্নটা বলেছি, ইন্ডাস্ট্রি বন্ধ থাকলে কী প্রবলেম হচ্ছে সেটা। কারণ সাপ্লাই চেইনটা ভেঙে যাচ্ছে। পোর্টে জটের কথা আপনারা সবাই জানেন। আন্তর্জাতিক বাজার হারানোর শঙ্কা আছে আমাদের। লাস্ট, আমাদের লোকাল ইন্ডাস্ট্রিগুলোতেও সাপ্লাই চেইনে প্রবলেম হচ্ছে।’

খাদ্য, চামড়া, ওষুধ শিল্পকে খুলে দেওয়া হলেও সেখানেও ‘সাপ্লাই চেইনের সংকট’ তৈরি হয়েছে দাবি করে এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ফুড ইন্ডাস্ট্রির র‌্যাপিংয়ের দরকার। কার্টনের দরকার। এমন অবস্থায় ইন্ডাস্ট্রি বন্ধ রাখা যায় না।’

এফবিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, ‘করোনার কারণে আরোপিত বিধিনিষেধে সব শিল্পকারখানা বন্ধ রাখায় অর্থনৈতিক কার্যক্রমের প্রাণশক্তির উৎপাদন ব্যবস্থাই বন্ধ রয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বিঘ্নিত হওয়ার উপক্রম। উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সবাই এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সব ধরনের পণ্যেও দাম বৃদ্ধি পাবে। এতে স্বল্প আয়ের ক্রেতারা ভোগান্তির শিকার হবেন। পাশাপাশি রপ্তানি খাতের উৎপাদন ব্যবস্থা বন্ধ থাকলে পরবর্তী রপ্তানি আদেশ অনুযায়ী সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। এতে রপ্তানি আদেশ বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে জীবন ও জীবিকার সমন্বয়ে প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে সচল রাখতে হবে। এ জন্য উৎপাদন ব্যবস্থা সচল রাখা খুবই জরুরি। করোনাভাইরাস থেকে জীবন রক্ষাকে অবশ্যই অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি শিল্পকারখানা বিধিনিষেধের আওতার বাইরে রেখে উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল রাখতে হবে। ছোট কারখানাগুলো বন্ধ রাখায় উদ্যোক্তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কারখানাগুলো পুনরায় চালু রাখা অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে। এ জন্য তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে এফবিসিসিআইকে অনুরোধ করেছেন।’

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘যে লকডাউনটা আছে, এটা থেকে যেন সব ধরনের শিল্পকে বাদ দিয়ে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়, এটাই অনুরোধ করতে এসেছিলাম।’

সরকারের তরফ থেকে কোনো আশ্বাস দেওয়া হয়েছে কিনা-জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের মাধ্যমে এই অনুরোধটা আমরা করেছি। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন। কথা বলে খুব তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্তটা দেবেন। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি, সংক্রমণ, মৃত্যু সবকিছু মাথায় নিয়ে সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সরকার এটা বিবেচনা করবে বলে আমরা আশা করি। পোশাক শিল্প শুধু নয়, সব শিল্পপ্রতিষ্ঠান পক্ষে আমরা এসেছি। সব শিল্পের সঙ্গে অনেক কিছু ইনভলভড। সে কারণে আমরা এটা আবারও অনুরোধ করেছি। যেন এটাকে লকডাউনের বাইরে রাখা হয়, যেন বিষয়টা বিবেচনা করা হয়।’

কোনো নির্ধারিত দিন থেকে কারখানা খুলে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে কিনা-এমন প্রশ্নে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘কোনো নির্দিষ্ট দিন নয়, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। যেহেতু ২৩ তারিখ থেকে লকডাউনে সবকিছু বন্ধ আছে, ঈদের আগে অলমোস্ট ১৮-১৯ তারিখ থেকে সবকিছু বন্ধ হয়ে গেছে, সবকিছু অনেকদিন বন্ধ থাকার কারণে সবকিছুরই সাপ্লাই চেইনে একটা শর্টেজ হয়। আমাদের এক্সপোর্ট যেটা আছে, তার সঙ্গে সঙ্গে লোকাল এবং পোর্টেও অনেক ইমপোর্টেড মাল আসে। জাহাজগুলো আনলোড করা যাচ্ছে না। মালগুলো পোর্টে রাখার জায়গা থাকছে না। সে কারণে যদি ফ্যাক্টরিগুলো, শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো না খোলে, পোর্ট থেকে কনটেইনারে মাল রিলিজ না করলে একটা জটিলতার দিকে চলে যাচ্ছে। তাই সবকিছু বিচার-বিবেচনা করে সব ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার অনুরোধ করেছি।’

গার্মেন্ট শ্রমিকদের করোনা টিকা দেওয়ার বিষয়ে কিছু বলেছেন কিনা-জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘আমরা এই অনুরোধটাও করেছি। যেহেতু সরকার টিকার ব্যবস্থা করেছে এবং আমরা অলরেডি ঈদের আগে ১৮ ও ১৯ তারিখ ৩০ হাজারের মতো কর্মীকে টিকা দিয়েছি। শ্রমিকরা যখন ফ্যাক্টরিতে থাকে তখন তারা টিকা দিতে নিরাপদ ফিল করে। আর যখন তারা গ্রামে থাকে তখন তারা দিতে চায় না।’

শ্রমিকদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য কারখানা খুলে দেওয়া দরকার মন্তব্য করে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘শ্রমিকরা গ্রামে থাকলে সেখানে ডাক্তার বা ওষুধের দোকান বা হসপিটাল নেই। কিন্তু যে ফ্যাক্টরিগুলো আছে, যার আশপাশে তারা থাকে, সেখানে যদি থাকে, তাহলে শ্রমিকদের আমরা নিরাপত্তা দিতে পারি।’
বিকেএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, ‘কেন শিল্পকলকারখান খুলে দেওয়া উচিত সেটা বোঝানোর জন্য আজকের মিটিংটি হয়েছে। কারখানা ও রপ্তানিমুখী উৎপাদন বন্ধ থাকার ফলে প্রত্যক্ষ ক্ষতিগুলো তুলে ধরতে গিয়েছিলাম। এ বিষয়ে মালিক-শ্রমিক এবং শ্রমিক নেতারা একমত যে, কারখানা বন্ধ করার ফলে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।’

গত এপ্রিলে এবং জুলাই মাসের শুরুতে যখন লকডাউন জারি হয়েছিল, তখন শিল্পকারখানা চালু রাখার অনুমতি ছিল। কিন্তু ঈদের ছুটির পর ২৩ জুলাই শুরু হওয়া কঠোর লকডাউনে সব শিল্পকারখানাও বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। তবে শিল্প খাতের মধ্যে কুরবানির পশুর চামড়াসংশ্লিষ্ট খাত, খাদ্যপণ্য এবং কোভিড-১৯ প্রতিরোধে পণ্য ও ওষুধ উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিধিনিষেধের আওতার বাইরে রয়েছে। ভরা মৌসুমে রপ্তানি পণ্য যথাসময়ে পাঠানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকা তৈরি পোশাক শিল্প মালিকরা তাদের ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ শিথিলের আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। ১৫ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে দেখা করে চিঠি দিয়ে শিল্পকারখানা খোলা রাখার অনুরোধ জানিয়েছিলেন তারা। এরপর গত মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) করোনা পরিস্থিতি নিয়ে এক সভার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘চলমান লকডাউন চলবেই। শিল্পপতিরা যে অনুরোধ করেছেন, তা হয়তো গ্রহণ করতে পারছি না।’

এরপরই বৃহস্পতিবার এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে আবারও মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে দেখা করে সব ধরনের শিল্পকারখানা খোলা রাখার অনুরোধ জানাল শিল্প মালিকরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএ সভাপতি একেএম সেলিম ওসমান এমপি, আবদুস সালাম মুর্শেদী এমপি, বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান, ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রহমান, এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, বিটিএমএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফজলুল হকসহ ব্যবসায়ী নেতারা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে বৈঠক

শিল্পকারখানা খুলে দিতে ব্যবসায়ীদের অনুরোধ

‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে খুব তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে’
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
৩০ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চলমান কঠোর বিধিনিষেধের (লকডাউন) মধ্যে গার্মেন্টসহ সব ধরনের শিল্পকারখানা খুলে দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন শিল্পমালিকরা। তারা বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজার হারানোর শঙ্কা, সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়া, বন্দরে জট, সার্বিক অর্থনীতিসহ সবকিছু বিবেচনা নিয়েই তারা এ অনুরোধ জানাতে বাধ্য হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করে তারা এ অনুরোধ জনান। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কেএম আলী আজমসহ এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। 

বৈঠকের পর এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আমাদের কনসার্নটা বলেছি, ইন্ডাস্ট্রি বন্ধ থাকলে কী প্রবলেম হচ্ছে সেটা। কারণ সাপ্লাই চেইনটা ভেঙে যাচ্ছে। পোর্টে জটের কথা আপনারা সবাই জানেন। আন্তর্জাতিক বাজার হারানোর শঙ্কা আছে আমাদের। লাস্ট, আমাদের লোকাল ইন্ডাস্ট্রিগুলোতেও সাপ্লাই চেইনে প্রবলেম হচ্ছে।’

খাদ্য, চামড়া, ওষুধ শিল্পকে খুলে দেওয়া হলেও সেখানেও ‘সাপ্লাই চেইনের সংকট’ তৈরি হয়েছে দাবি করে এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ফুড ইন্ডাস্ট্রির র‌্যাপিংয়ের দরকার। কার্টনের দরকার। এমন অবস্থায় ইন্ডাস্ট্রি বন্ধ রাখা যায় না।’

এফবিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, ‘করোনার কারণে আরোপিত বিধিনিষেধে সব শিল্পকারখানা বন্ধ রাখায় অর্থনৈতিক কার্যক্রমের প্রাণশক্তির উৎপাদন ব্যবস্থাই বন্ধ রয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বিঘ্নিত হওয়ার উপক্রম। উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সবাই এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সব ধরনের পণ্যেও দাম বৃদ্ধি পাবে। এতে স্বল্প আয়ের ক্রেতারা ভোগান্তির শিকার হবেন। পাশাপাশি রপ্তানি খাতের উৎপাদন ব্যবস্থা বন্ধ থাকলে পরবর্তী রপ্তানি আদেশ অনুযায়ী সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। এতে রপ্তানি আদেশ বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে জীবন ও জীবিকার সমন্বয়ে প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে সচল রাখতে হবে। এ জন্য উৎপাদন ব্যবস্থা সচল রাখা খুবই জরুরি। করোনাভাইরাস থেকে জীবন রক্ষাকে অবশ্যই অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি শিল্পকারখানা বিধিনিষেধের আওতার বাইরে রেখে উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল রাখতে হবে। ছোট কারখানাগুলো বন্ধ রাখায় উদ্যোক্তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কারখানাগুলো পুনরায় চালু রাখা অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে। এ জন্য তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে এফবিসিসিআইকে অনুরোধ করেছেন।’

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘যে লকডাউনটা আছে, এটা থেকে যেন সব ধরনের শিল্পকে বাদ দিয়ে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়, এটাই অনুরোধ করতে এসেছিলাম।’

সরকারের তরফ থেকে কোনো আশ্বাস দেওয়া হয়েছে কিনা-জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের মাধ্যমে এই অনুরোধটা আমরা করেছি। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন। কথা বলে খুব তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্তটা দেবেন। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি, সংক্রমণ, মৃত্যু সবকিছু মাথায় নিয়ে সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সরকার এটা বিবেচনা করবে বলে আমরা আশা করি। পোশাক শিল্প শুধু নয়, সব শিল্পপ্রতিষ্ঠান পক্ষে আমরা এসেছি। সব শিল্পের সঙ্গে অনেক কিছু ইনভলভড। সে কারণে আমরা এটা আবারও অনুরোধ করেছি। যেন এটাকে লকডাউনের বাইরে রাখা হয়, যেন বিষয়টা বিবেচনা করা হয়।’

কোনো নির্ধারিত দিন থেকে কারখানা খুলে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে কিনা-এমন প্রশ্নে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘কোনো নির্দিষ্ট দিন নয়, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। যেহেতু ২৩ তারিখ থেকে লকডাউনে সবকিছু বন্ধ আছে, ঈদের আগে অলমোস্ট ১৮-১৯ তারিখ থেকে সবকিছু বন্ধ হয়ে গেছে, সবকিছু অনেকদিন বন্ধ থাকার কারণে সবকিছুরই সাপ্লাই চেইনে একটা শর্টেজ হয়। আমাদের এক্সপোর্ট যেটা আছে, তার সঙ্গে সঙ্গে লোকাল এবং পোর্টেও অনেক ইমপোর্টেড মাল আসে। জাহাজগুলো আনলোড করা যাচ্ছে না। মালগুলো পোর্টে রাখার জায়গা থাকছে না। সে কারণে যদি ফ্যাক্টরিগুলো, শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো না খোলে, পোর্ট থেকে কনটেইনারে মাল রিলিজ না করলে একটা জটিলতার দিকে চলে যাচ্ছে। তাই সবকিছু বিচার-বিবেচনা করে সব ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার অনুরোধ করেছি।’

গার্মেন্ট শ্রমিকদের করোনা টিকা দেওয়ার বিষয়ে কিছু বলেছেন কিনা-জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘আমরা এই অনুরোধটাও করেছি। যেহেতু সরকার টিকার ব্যবস্থা করেছে এবং আমরা অলরেডি ঈদের আগে ১৮ ও ১৯ তারিখ ৩০ হাজারের মতো কর্মীকে টিকা দিয়েছি। শ্রমিকরা যখন ফ্যাক্টরিতে থাকে তখন তারা টিকা দিতে নিরাপদ ফিল করে। আর যখন তারা গ্রামে থাকে তখন তারা দিতে চায় না।’

শ্রমিকদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য কারখানা খুলে দেওয়া দরকার মন্তব্য করে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘শ্রমিকরা গ্রামে থাকলে সেখানে ডাক্তার বা ওষুধের দোকান বা হসপিটাল নেই। কিন্তু যে ফ্যাক্টরিগুলো আছে, যার আশপাশে তারা থাকে, সেখানে যদি থাকে, তাহলে শ্রমিকদের আমরা নিরাপত্তা দিতে পারি।’
বিকেএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, ‘কেন শিল্পকলকারখান খুলে দেওয়া উচিত সেটা বোঝানোর জন্য আজকের মিটিংটি হয়েছে। কারখানা ও রপ্তানিমুখী উৎপাদন বন্ধ থাকার ফলে প্রত্যক্ষ ক্ষতিগুলো তুলে ধরতে গিয়েছিলাম। এ বিষয়ে মালিক-শ্রমিক এবং শ্রমিক নেতারা একমত যে, কারখানা বন্ধ করার ফলে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।’

গত এপ্রিলে এবং জুলাই মাসের শুরুতে যখন লকডাউন জারি হয়েছিল, তখন শিল্পকারখানা চালু রাখার অনুমতি ছিল। কিন্তু ঈদের ছুটির পর ২৩ জুলাই শুরু হওয়া কঠোর লকডাউনে সব শিল্পকারখানাও বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। তবে শিল্প খাতের মধ্যে কুরবানির পশুর চামড়াসংশ্লিষ্ট খাত, খাদ্যপণ্য এবং কোভিড-১৯ প্রতিরোধে পণ্য ও ওষুধ উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিধিনিষেধের আওতার বাইরে রয়েছে। ভরা মৌসুমে রপ্তানি পণ্য যথাসময়ে পাঠানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকা তৈরি পোশাক শিল্প মালিকরা তাদের ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ শিথিলের আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। ১৫ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে দেখা করে চিঠি দিয়ে শিল্পকারখানা খোলা রাখার অনুরোধ জানিয়েছিলেন তারা। এরপর গত মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) করোনা পরিস্থিতি নিয়ে এক সভার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘চলমান লকডাউন চলবেই। শিল্পপতিরা যে অনুরোধ করেছেন, তা হয়তো গ্রহণ করতে পারছি না।’ 

এরপরই বৃহস্পতিবার এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে আবারও মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে দেখা করে সব ধরনের শিল্পকারখানা খোলা রাখার অনুরোধ জানাল শিল্প মালিকরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএ সভাপতি একেএম সেলিম ওসমান এমপি, আবদুস সালাম মুর্শেদী এমপি, বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান, ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রহমান, এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, বিটিএমএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফজলুল হকসহ ব্যবসায়ী নেতারা।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন