করোনায় মৃত্যু আরও ২৩৯ শনাক্ত ১৫ হাজার
jugantor
করোনায় মৃত্যু আরও ২৩৯ শনাক্ত ১৫ হাজার

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

৩০ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে থামছেই না করোনার ভয়াবহতা। প্রতিদিন আশঙ্কাজনক হারে হচ্ছে মৃত্যু ও সংক্রমণ। দু’শর নিচে নামছে না মৃত্যু। ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ২৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার মারা গেছে ২৩৭ জন। ২৭ জুলাই সর্বাধিক ২৫৮ জনের প্রাণ কেড়ে নেয় করোনা। সবমিলিয়ে দেশে মোট ২০ হাজার ২৫৫ জন মারা গেছে। একদিনে আরও শনাক্ত হয়েছে ১৫ হাজার ২৭১ জন। আগের দিন সর্বাধিক ১৬ হাজার ২৩০ জনের করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। এ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ২৬ হাজার ২৫৩ জনে। সরকারি হিসাবে একদিনে সেরে উঠেছেন ১৪ হাজার ৩৩৬ জন। তাদের নিয়ে এ পর্যন্ত সুস্থ হলেন ১০ লাখ ৫০ হাজার ২২০ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় রাজধানীসহ সারা দেশের হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর চাপ। অনেক হাসপাতালে দেখা দিয়েছে শয্যা সংকট। আইসিইউ শয্যা যেন সোনার হরিণ। রাজধানীর কোভিড ডেডিকেটেড বেশির ভাগ হাসপাতালে ফাঁকা নেই আইসিইউ শয্যা। বরিশালে শয্যা না পেয়ে লাইলি বেগমকে ঢাকায় নিয়ে আসেন তার স্বজনরা। কিন্তু কুর্মিটোলা হাসপাতালে কোনো শয্যা ফাঁকা নেই। ছুটে গেলেন অন্য হাসপাতালে। রাতের চিত্রটা আরও ভয়াবহ। একটি শয্যা পাওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঢাকার হাসপাতালগুলোর সামনে অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নিয়ে অপেক্ষা করছেন স্বজনরা। শ্বাসকষ্ট নিয়ে আসা রোগীর স্বজনরা দিশেহারা।

এদিকে সরকারি হিসাবে কয়েক হাসপাতালে সাধারণ শয্যা ফাঁকা থাকলেও রোগীর স্বজনরা সেখানে গিয়েও ভর্তি করাতে পারছেন না। শয্যা না পেয়ে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরছেন তারা। এদিকে হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। রাজধানীর হাসপাতালে কয়েকদিনে যেসব রোগী ভর্তি হয়েছেন তাদের বেশির ভাগই ঢাকার বাইরের। এসব রোগী সংকটাপন্ন অবস্থায় আসছেন হাসপাতালে। ফলে বেড়ে যাচ্ছে মৃত্যুর সংখ্যা।

শুধু হাসপাতালে নয়, নমুনা পরীক্ষা কেন্দ্রেও বাড়ছে মানুষের ভিড়। উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ নমুনা পরীক্ষা করাতে আসছেন। কিন্তু সেখানেও ভোগান্তির শেষ নেই। প্রত্যেকটি কেন্দ্রেই উপচে পড়া ভিড়। কেন্দ্রগুলোতে নির্দিষ্টসংখ্যক নমুনা পরীক্ষা করায় অতিরিক্ত লোকের চাপে অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন পরীক্ষা না করেই। আবার অনেকে দিনের পর দিন ঘুরেও পরীক্ষা করাতে পারছেন না। নিবন্ধন জটিলতার কারণে তারা এ সমস্যায় পড়ছেন। মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষা করাতে আসা আবুল হোসেন বলেন, চার দিন ধরে নমুনা পরীক্ষার জন্য ঘুরছি কিন্তু করাতে পারছি না। হাসপাতালে আসার পর বলা হচ্ছে আজকে সিরিয়াল দেওয়া সম্ভব নয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬৪৩টি ল্যাবে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে আরটি-পিসিআর ল্যাব ১৩১টি, জিন এক্সপার্ট ৫২টি, র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন ৪৬০টি। এসব ল্যাবে ৫৫ হাজার ৯৮২টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৫২ হাজার ২৮২টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৭৬ লাখ ৬৪ হাজার ৮৭০টি। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৯ দশমিক ২১ শতাংশ। আগের দিন এ হার ছিল ৩০ দশমিক ১২ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৬ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৫ দশমিক ৬৪ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১২৩ ও নারী ১১৬ জন। এদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ১৮১, বেসরকারি হাসপাতালে ৪৩ ও বাড়িতে ১৫ জন মারা গেছেন। মৃতদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৭৬ জন। এর পরই রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ ৫৭ জন। এছাড়া রাজশাহী বিভাগে ১৩, খুলনা বিভাগে ৪৫, বরিশাল বিভাগে ১৪, সিলেট বিভাগে ১৪, রংপুর বিভাগে ১১ ও ময়মনসিংহ বিভাগে নয়জন আছেন।

তাদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে একজন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১৪ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৪৩ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৬৫ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৫৭ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ২৬ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১৫, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ১৪, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে তিনজন ও ১০ বছরের নিচে একজন রয়েছেন।

করোনায় মৃত্যু আরও ২৩৯ শনাক্ত ১৫ হাজার

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
৩০ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে থামছেই না করোনার ভয়াবহতা। প্রতিদিন আশঙ্কাজনক হারে হচ্ছে মৃত্যু ও সংক্রমণ। দু’শর নিচে নামছে না মৃত্যু। ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ২৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার মারা গেছে ২৩৭ জন। ২৭ জুলাই সর্বাধিক ২৫৮ জনের প্রাণ কেড়ে নেয় করোনা। সবমিলিয়ে দেশে মোট ২০ হাজার ২৫৫ জন মারা গেছে। একদিনে আরও শনাক্ত হয়েছে ১৫ হাজার ২৭১ জন। আগের দিন সর্বাধিক ১৬ হাজার ২৩০ জনের করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। এ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ২৬ হাজার ২৫৩ জনে। সরকারি হিসাবে একদিনে সেরে উঠেছেন ১৪ হাজার ৩৩৬ জন। তাদের নিয়ে এ পর্যন্ত সুস্থ হলেন ১০ লাখ ৫০ হাজার ২২০ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় রাজধানীসহ সারা দেশের হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর চাপ। অনেক হাসপাতালে দেখা দিয়েছে শয্যা সংকট। আইসিইউ শয্যা যেন সোনার হরিণ। রাজধানীর কোভিড ডেডিকেটেড বেশির ভাগ হাসপাতালে ফাঁকা নেই আইসিইউ শয্যা। বরিশালে শয্যা না পেয়ে লাইলি বেগমকে ঢাকায় নিয়ে আসেন তার স্বজনরা। কিন্তু কুর্মিটোলা হাসপাতালে কোনো শয্যা ফাঁকা নেই। ছুটে গেলেন অন্য হাসপাতালে। রাতের চিত্রটা আরও ভয়াবহ। একটি শয্যা পাওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঢাকার হাসপাতালগুলোর সামনে অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নিয়ে অপেক্ষা করছেন স্বজনরা। শ্বাসকষ্ট নিয়ে আসা রোগীর স্বজনরা দিশেহারা।

এদিকে সরকারি হিসাবে কয়েক হাসপাতালে সাধারণ শয্যা ফাঁকা থাকলেও রোগীর স্বজনরা সেখানে গিয়েও ভর্তি করাতে পারছেন না। শয্যা না পেয়ে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরছেন তারা। এদিকে হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। রাজধানীর হাসপাতালে কয়েকদিনে যেসব রোগী ভর্তি হয়েছেন তাদের বেশির ভাগই ঢাকার বাইরের। এসব রোগী সংকটাপন্ন অবস্থায় আসছেন হাসপাতালে। ফলে বেড়ে যাচ্ছে মৃত্যুর সংখ্যা।

শুধু হাসপাতালে নয়, নমুনা পরীক্ষা কেন্দ্রেও বাড়ছে মানুষের ভিড়। উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ নমুনা পরীক্ষা করাতে আসছেন। কিন্তু সেখানেও ভোগান্তির শেষ নেই। প্রত্যেকটি কেন্দ্রেই উপচে পড়া ভিড়। কেন্দ্রগুলোতে নির্দিষ্টসংখ্যক নমুনা পরীক্ষা করায় অতিরিক্ত লোকের চাপে অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন পরীক্ষা না করেই। আবার অনেকে দিনের পর দিন ঘুরেও পরীক্ষা করাতে পারছেন না। নিবন্ধন জটিলতার কারণে তারা এ সমস্যায় পড়ছেন। মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষা করাতে আসা আবুল হোসেন বলেন, চার দিন ধরে নমুনা পরীক্ষার জন্য ঘুরছি কিন্তু করাতে পারছি না। হাসপাতালে আসার পর বলা হচ্ছে আজকে সিরিয়াল দেওয়া সম্ভব নয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬৪৩টি ল্যাবে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে আরটি-পিসিআর ল্যাব ১৩১টি, জিন এক্সপার্ট ৫২টি, র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন ৪৬০টি। এসব ল্যাবে ৫৫ হাজার ৯৮২টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৫২ হাজার ২৮২টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৭৬ লাখ ৬৪ হাজার ৮৭০টি। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৯ দশমিক ২১ শতাংশ। আগের দিন এ হার ছিল ৩০ দশমিক ১২ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৬ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৫ দশমিক ৬৪ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১২৩ ও নারী ১১৬ জন। এদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ১৮১, বেসরকারি হাসপাতালে ৪৩ ও বাড়িতে ১৫ জন মারা গেছেন। মৃতদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৭৬ জন। এর পরই রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ ৫৭ জন। এছাড়া রাজশাহী বিভাগে ১৩, খুলনা বিভাগে ৪৫, বরিশাল বিভাগে ১৪, সিলেট বিভাগে ১৪, রংপুর বিভাগে ১১ ও ময়মনসিংহ বিভাগে নয়জন আছেন।

তাদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে একজন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১৪ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৪৩ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৬৫ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৫৭ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ২৬ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১৫, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ১৪, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে তিনজন ও ১০ বছরের নিচে একজন রয়েছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন