রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানা খুলছে কাল
jugantor
রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানা খুলছে কাল

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

৩১ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চলমান কঠোর লকডাউনের মধ্যে ১ আগস্ট রোববার (কাল) থেকে রপ্তানিমুখী শিল্প ও কল-কারখানা খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছে সরকার। শুক্রবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সেখানে বলা হয়, ‘সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ১ আগস্ট সকাল ৬টা থেকে রপ্তানিমুখী সব শিল্প ও কল-কারখানা বিধিনিষেধের আওতাবহির্ভূত রাখা হলো।’

তৈরি পোশাক শিল্পসহ সব ধরনের শিল্প-কারখানা খুলে দিতে সরকারের উচ্চ মহলে বারবার অনুরোধ করছিলেন শিল্পমালিকরা। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার তাদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করা হয়। ওইদিন এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমইএ ও ঢাকা চেম্বারের নেতারা মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তৈরি পোশাক শিল্পসহ সব ধরনের শিল্প-কারখানা খুলে দিতে অনুরোধ জানান। তারা বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজার হারানোর শঙ্কা, সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়া, বন্দরে জট, সার্বিক অর্থনীতিসহ সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই শিল্প-কারখানা খোলা জরুরি। এর পরদিনই সরকারের পক্ষ থেকে উল্লিখিত সিদ্ধান্ত এলো।

এদিকে সরকার এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সাধুবাদ জানিয়েছে-ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইসহ বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) সূত্র জানায়, সরকারের আদেশমতো এখন শুধু রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানাগুলোর রপ্তানি কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চলবে। অধিকাংশ কারখানার শ্রমিক কারখানার আশপাশে অবস্থান করছেন। আপাতত তাদের দিয়ে কাজ চালিয়ে নেওয়া হবে। লকডাউন শিথিল হওয়ার পর দূরের শ্রমিকরা চলে আসবে।

দেশে করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যু বাড়তে থাকায় কোভিড সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি কমপক্ষে ১৪ দিনের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ দেওয়ার সুপারিশ করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১ জুলাই থেকে এক সপ্তাহের জন্য সরকার সারা দেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। দেওয়া হয় ২১টি নির্দেশনা। এই সময়ে জরুরি সেবা ছাড়া অন্য সব অফিস-আদালত বন্ধ, যান্ত্রিক যানবাহনে যাত্রী বহনও নিষিদ্ধ করা হয়। জনসাধারণকে অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। রাস্তায় বেরিয়ে যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে না পারলে করা হচ্ছে গ্রেফতার ও জরিমানা। এ বিধিনিষেধের পরও পরিস্থিতির দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হয়নি। বরং আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় প্রতিদিনই হচ্ছে নতুন রেকর্ড। এ সময় চলমান বিধিনিষেধ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর পক্ষে সুপারিশ করে কোভিড সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। সেই সুপারিশের আলোকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত বিধিনিষেধ বাড়িয়ে ৫ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আদেশ জারি করা হয়। এরপর পবিত্র ঈদুল আজহার কারণে বিধিনিষেধ ১৫ থেকে ২২ জুলাই শিথিল করা হয়। সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় ২৩টি শর্ত সংযুক্ত করে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৫ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত ফের কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে আদেশ জারি করা হয়। এরপর ১৯ জুলাই কঠোর বিধিনিষেধে নির্দিষ্ট কিছু শিল্প-কারখানা খোলা রাখার ঘোষণা দিয়ে আদেশ জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সেখানে বলা হয়, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আরোপিত বিধিনিষেধের আওতামুক্ত থাকবে খাদ্য ও খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন/ প্রক্রিয়াজাতকরণ মিল-কারখানা, কুরবানির পশুর চামড়া পরিবহণ, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ওষুধ, অক্সিজেন ও কোভিড-১৯ প্রতিরোধে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য উৎপাদনকারী শিল্প-কারখানা।

রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানা খুলছে কাল

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
৩১ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চলমান কঠোর লকডাউনের মধ্যে ১ আগস্ট রোববার (কাল) থেকে রপ্তানিমুখী শিল্প ও কল-কারখানা খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছে সরকার। শুক্রবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সেখানে বলা হয়, ‘সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ১ আগস্ট সকাল ৬টা থেকে রপ্তানিমুখী সব শিল্প ও কল-কারখানা বিধিনিষেধের আওতাবহির্ভূত রাখা হলো।’

তৈরি পোশাক শিল্পসহ সব ধরনের শিল্প-কারখানা খুলে দিতে সরকারের উচ্চ মহলে বারবার অনুরোধ করছিলেন শিল্পমালিকরা। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার তাদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করা হয়। ওইদিন এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমইএ ও ঢাকা চেম্বারের নেতারা মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তৈরি পোশাক শিল্পসহ সব ধরনের শিল্প-কারখানা খুলে দিতে অনুরোধ জানান। তারা বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজার হারানোর শঙ্কা, সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়া, বন্দরে জট, সার্বিক অর্থনীতিসহ সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই শিল্প-কারখানা খোলা জরুরি। এর পরদিনই সরকারের পক্ষ থেকে উল্লিখিত সিদ্ধান্ত এলো।

এদিকে সরকার এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সাধুবাদ জানিয়েছে-ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইসহ বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) সূত্র জানায়, সরকারের আদেশমতো এখন শুধু রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানাগুলোর রপ্তানি কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চলবে। অধিকাংশ কারখানার শ্রমিক কারখানার আশপাশে অবস্থান করছেন। আপাতত তাদের দিয়ে কাজ চালিয়ে নেওয়া হবে। লকডাউন শিথিল হওয়ার পর দূরের শ্রমিকরা চলে আসবে।

দেশে করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যু বাড়তে থাকায় কোভিড সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি কমপক্ষে ১৪ দিনের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ দেওয়ার সুপারিশ করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১ জুলাই থেকে এক সপ্তাহের জন্য সরকার সারা দেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। দেওয়া হয় ২১টি নির্দেশনা। এই সময়ে জরুরি সেবা ছাড়া অন্য সব অফিস-আদালত বন্ধ, যান্ত্রিক যানবাহনে যাত্রী বহনও নিষিদ্ধ করা হয়। জনসাধারণকে অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। রাস্তায় বেরিয়ে যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে না পারলে করা হচ্ছে গ্রেফতার ও জরিমানা। এ বিধিনিষেধের পরও পরিস্থিতির দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হয়নি। বরং আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় প্রতিদিনই হচ্ছে নতুন রেকর্ড। এ সময় চলমান বিধিনিষেধ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর পক্ষে সুপারিশ করে কোভিড সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। সেই সুপারিশের আলোকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত বিধিনিষেধ বাড়িয়ে ৫ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আদেশ জারি করা হয়। এরপর পবিত্র ঈদুল আজহার কারণে বিধিনিষেধ ১৫ থেকে ২২ জুলাই শিথিল করা হয়। সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় ২৩টি শর্ত সংযুক্ত করে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৫ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত ফের কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে আদেশ জারি করা হয়। এরপর ১৯ জুলাই কঠোর বিধিনিষেধে নির্দিষ্ট কিছু শিল্প-কারখানা খোলা রাখার ঘোষণা দিয়ে আদেশ জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সেখানে বলা হয়, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আরোপিত বিধিনিষেধের আওতামুক্ত থাকবে খাদ্য ও খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন/ প্রক্রিয়াজাতকরণ মিল-কারখানা, কুরবানির পশুর চামড়া পরিবহণ, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ওষুধ, অক্সিজেন ও কোভিড-১৯ প্রতিরোধে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য উৎপাদনকারী শিল্প-কারখানা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন