মোবাইল ফোন ও ঘড়ি বেচে চাকরি বাঁচানোর চেষ্টা
jugantor
মোবাইল ফোন ও ঘড়ি বেচে চাকরি বাঁচানোর চেষ্টা

  তন্ময় তপু, বরিশাল  

০১ আগস্ট ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

লকডাউন

ঈদের ছুটিতে মানুষজন যে টাকা-পয়সা নিয়ে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন তা ঈদের সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়েছে। কর্মস্থলে ফেরার জন্য তারা কিছু টাকা গচ্ছিতও রেখেছেন। কিন্তু যেটুকু টাকা রেখেছিলেন তাতে এখন আর হচ্ছে না। কঠোর লকডাউনে বরিশালসহ সারা দেশে গণপরিবহণ বন্ধ। এর মধ্যে শিল্পকারখানা খোলার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। চাকরি বাঁচাতে ফিরতে হবে কর্মস্থলে। তাই বাধ্য হয়ে মোবাইল ফোন আর শখের ঘড়ি বিক্রি করে বাড়তি টাকা নিয়ে গাজীপুরের উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিক রবিউল ইসলাম।

শনিবার দুপুরে বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসংলগ্ন কবি মুকুন্দ দাস কালীবাড়ি মন্দিরের সামনে রবিউল জানান, ভাঙা পথে বরগুনা থেকে বরিশালে এসেছি। এতেই আমার ১৬শ টাকা খরচ হয়েছে। ঢাকায় যাওয়ার জন্য যে টাকা জমিয়ে রেখেছিলাম তা পথের মাঝে শেষ হয়ে গেছে। উপায় না পেয়ে নিজের শখের ঘড়ি আর মোবাইল ফোনসেটটি বিক্রি করে দিয়েছি। ২৫শ টাকা পেয়েছি। দুপুর ১টায় বরিশালের বাসস্ট্যান্ডে এসেছি। কোনো গাড়ি পাচ্ছি না। শুধু মোটরসাইকেল, ভ্যান, রিকশা, কাভার্ডভ্যান, ট্রাক আর পিকআপ। সময় মতো পৌঁছাতে না পারলে চাকরি থাকবে না। তাই বাধ্য হয়ে ৭০০ টাকায় পিকআপে মাওয়া পর্যন্ত যাচ্ছি। আমি একা নই, পিকআপে আরও ৩৫ জন উঠবে। চাকরি বাঁচাতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই যেতে হবে।

ঝালকাঠি থেকে বরিশালের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল পর্যন্ত আসতে ১ হাজার টাকা খরচ হয়েছে গাজীপুরের গার্মেন্ট কর্মী শফিকের। যেতে হবে ঢাকায়। তাই অনেক খোঁজাখুঁজি শেষে মেলে একটি ট্রাক। অনেক নারী-পুরুষকেই বাস টার্মিনালসংলগ্ন নগরীর জিয়া সড়কের মুখ থেকে একটি ট্রাকে উঠানো হচ্ছিল ঢাকা নেওয়ার উদ্দেশে। ৮০০ টাকা ভাড়া চুক্তিতে ট্রাকচালক যাত্রী উঠালেও শফিক রাজি হন ৬০০ টাকা দিতে। তবে তাতে রাজি নন ট্রাকচালক।

শফিক বলেন, ট্রাক না পাওয়ার পর ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালকদের কাছে যাওয়ার পর মাওয়া পর্যন্ত তাদের মধ্যে একজন ভাড়া চেয়েছে ৩ হাজার এবং অপর আরেকজন চেয়েছে ৪ হাজার টাকা। হয়নি তাতেও যাওয়া। কিছুক্ষণ পর একটি থ্রি হুইলার মাহিন্দ্রা পেয়ে আশ্বস্ত হই, হয়তো ভাড়া কমে যাওয়া যাবে। কিন্তু ১ হাজার টাকার নিচে যাবে না থ্রি হুইলার মাহিন্দ্রা, সবশেষ ৭০০ টাকা দিতে রাজি হলেও কাজ হয়নি। দুপুর ২টা পর্যন্ত বসেছিলাম। এরপর আর কোনো উপায় না পেয়ে ৭০০ টাকায় একটি ট্রাকে উঠেছি।

বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার ওসি কমলেশ চন্দ্র হালদার বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাস টার্মিনাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা রয়েছে। সকাল থেকে বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদ এলাকায় ঢাকামুখী মানুষের ঢল নামে। অনেককে হেঁটে কয়েক কিলোমিটার পাড়ি দিতেও দেখা গেছে।

মোবাইল ফোন ও ঘড়ি বেচে চাকরি বাঁচানোর চেষ্টা

 তন্ময় তপু, বরিশাল 
০১ আগস্ট ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
লকডাউন
ফাইল ছবি

ঈদের ছুটিতে মানুষজন যে টাকা-পয়সা নিয়ে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন তা ঈদের সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়েছে। কর্মস্থলে ফেরার জন্য তারা কিছু টাকা গচ্ছিতও রেখেছেন। কিন্তু যেটুকু টাকা রেখেছিলেন তাতে এখন আর হচ্ছে না। কঠোর লকডাউনে বরিশালসহ সারা দেশে গণপরিবহণ বন্ধ। এর মধ্যে শিল্পকারখানা খোলার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। চাকরি বাঁচাতে ফিরতে হবে কর্মস্থলে। তাই বাধ্য হয়ে মোবাইল ফোন আর শখের ঘড়ি বিক্রি করে বাড়তি টাকা নিয়ে গাজীপুরের উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিক রবিউল ইসলাম।

শনিবার দুপুরে বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসংলগ্ন কবি মুকুন্দ দাস কালীবাড়ি মন্দিরের সামনে রবিউল জানান, ভাঙা পথে বরগুনা থেকে বরিশালে এসেছি। এতেই আমার ১৬শ টাকা খরচ হয়েছে। ঢাকায় যাওয়ার জন্য যে টাকা জমিয়ে রেখেছিলাম তা পথের মাঝে শেষ হয়ে গেছে। উপায় না পেয়ে নিজের শখের ঘড়ি আর মোবাইল ফোনসেটটি বিক্রি করে দিয়েছি। ২৫শ টাকা পেয়েছি। দুপুর ১টায় বরিশালের বাসস্ট্যান্ডে এসেছি। কোনো গাড়ি পাচ্ছি না। শুধু মোটরসাইকেল, ভ্যান, রিকশা, কাভার্ডভ্যান, ট্রাক আর পিকআপ। সময় মতো পৌঁছাতে না পারলে চাকরি থাকবে না। তাই বাধ্য হয়ে ৭০০ টাকায় পিকআপে মাওয়া পর্যন্ত যাচ্ছি। আমি একা নই, পিকআপে আরও ৩৫ জন উঠবে। চাকরি বাঁচাতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই যেতে হবে।

ঝালকাঠি থেকে বরিশালের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল পর্যন্ত আসতে ১ হাজার টাকা খরচ হয়েছে গাজীপুরের গার্মেন্ট কর্মী শফিকের। যেতে হবে ঢাকায়। তাই অনেক খোঁজাখুঁজি শেষে মেলে একটি ট্রাক। অনেক নারী-পুরুষকেই বাস টার্মিনালসংলগ্ন নগরীর জিয়া সড়কের মুখ থেকে একটি ট্রাকে উঠানো হচ্ছিল ঢাকা নেওয়ার উদ্দেশে। ৮০০ টাকা ভাড়া চুক্তিতে ট্রাকচালক যাত্রী উঠালেও শফিক রাজি হন ৬০০ টাকা দিতে। তবে তাতে রাজি নন ট্রাকচালক।

শফিক বলেন, ট্রাক না পাওয়ার পর ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালকদের কাছে যাওয়ার পর মাওয়া পর্যন্ত তাদের মধ্যে একজন ভাড়া চেয়েছে ৩ হাজার এবং অপর আরেকজন চেয়েছে ৪ হাজার টাকা। হয়নি তাতেও যাওয়া। কিছুক্ষণ পর একটি থ্রি হুইলার মাহিন্দ্রা পেয়ে আশ্বস্ত হই, হয়তো ভাড়া কমে যাওয়া যাবে। কিন্তু ১ হাজার টাকার নিচে যাবে না থ্রি হুইলার মাহিন্দ্রা, সবশেষ ৭০০ টাকা দিতে রাজি হলেও কাজ হয়নি। দুপুর ২টা পর্যন্ত বসেছিলাম। এরপর আর কোনো উপায় না পেয়ে ৭০০ টাকায় একটি ট্রাকে উঠেছি।

বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার ওসি কমলেশ চন্দ্র হালদার বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাস টার্মিনাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা রয়েছে। সকাল থেকে বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদ এলাকায় ঢাকামুখী মানুষের ঢল নামে। অনেককে হেঁটে কয়েক কিলোমিটার পাড়ি দিতেও দেখা গেছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন