চার খাতেই সরকারের ব্যয় ৩৮ শতাংশ

  মিজান চৌধুরী ০৫ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাজেট

আসন্ন ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটের সম্ভাব্য আকার নির্ধারণ করা হয়েছে চার লাখ ৬৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে চারটি খাতেই সরকার ব্যয় করবে মোট বাজেটের এক-তৃতীয়াংশের বেশি। টাকা অঙ্কে ব্যয়ের পরিমাণ এক লাখ ৭৯ হাজার ৮২৪ কোটি টাকা। খাতগুলো হচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা, ঋণের সুদ পরিশোধ, ভর্তুকি ও প্রণোদনা এবং সেবা। শতাংশ হিসেবে এ ব্যয় মোট বাজেটের ৩৮ দশমিক ৪০ ভাগ। সম্ভাব্য ব্যয়ের হিসাব বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

বাজেট প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান যুগান্তরকে বলেন, সবদিক বিবেচনায় রেখেই আগামী বাজেট প্রণয়নের কাজ চলছে। নতুন বাজেটে সাধারণ মানুষের ওপর কোনো ধরনের চাপ পড়বে না। এবারের বাজেটে একটি সমন্বিত পেনশন পদ্ধতির রূপরেখা দেয়া হবে। যার মাধ্যমে বেসরকারি খাতে চাকরিজীবীরাও পেনশনের আওতায় আসবেন। তিনি আরও বলেন, প্রবৃদ্ধি অর্জনে সরকার উন্নয়ন খাতকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

সূত্র মতে, ব্যয়ের বড় চারটি খাতের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতায় যাবে ৬৬ হাজার ২২৪ কোটি টাকা। ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হবে ৫১ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া ভর্তুকি ও প্রণোদনায় ৩১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা এবং সেবা খাতে ব্যয় হবে ৩০ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা। উল্লেখিত সম্ভাব্য এ ব্যয় নির্ধারণ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

আগামী ৭ জুন বৃহস্পতিবার ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সেখানে তিনি ব্যয়ের এ রূপরেখাও তুলে ধরবেন।

জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ আছে ৫৩ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা। এ ব্যয়ের তুলনায় আগামী বাজেটে এ খাতে ১২ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ রাখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আসন্ন বাজেটে সরকারের ১২ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বৃদ্ধির (ইনক্রিমেন্ট) ঘোষণা দেয়ার সম্ভাবনা আছে। কারণ এ বাজেট নির্বাচনের প্রভাব পড়বে। আসন্ন নির্বাচনী বাজেটে চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা আসতে পারে। ইতিমধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা নির্ধারণসংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ে কমিটি এটি নিয়ে কাজ শেষ করেছে। ওই কমিটি ভবিষ্যৎ বেতন সমন্বয়ের একগুচ্ছ সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে এটি করা হয়েছে। শিগগিরই সুপারিশসংক্রান্ত প্রতিবেদনটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে হস্তান্তর করা হবে। যে কারণে আগামী বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে বেশি বরাদ্দ রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অর্থমন্ত্রী আগামী ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় বেতন বাড়ানোর বিষয়টি উল্লেখ করতে পারেন।

এদিকে ভর্তুকি ও প্রণোদনা খাতে চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা আছে ২৭ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা। এ হিসাবের তুলনায় আগামী বাজেটে এ খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে চার হাজার ২৪২ কোটি টাকা। ভর্তুকি বাবদ খাদ্য, অন্যান্য খাত বরাদ্দ থাকছে।

এদিকে ঋণ দেয়া হলেও ভর্তুকি হিসেবে গণ্য হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) ও পিডিবিকে দেয়া অর্থ। এ দুটি প্রতিষ্ঠানকে দেয়া ঋণকে এক ধরনের ভর্তুকি হিসেবেই দেখা হয়ে থাকে। কারণ এসব ঋণ পারতপক্ষে সরকার ফেরত পায় না। পরে পুরো ঋণই অনুদান, ভর্তুকি ইত্যাদিতে রূপান্তরিত হয়। বেসরকারি খাত থেকে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বিদ্যুৎ পেতে পিডিবিকে ঋণ দেয় সরকার।

এ ছাড়া বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম তুলনামূলক কম থাকায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) জন্য কয়েক বছর কোনো ভর্তুকি দিতে হয়নি সরকারকে। আগামী বাজেটেও বিপিসির জন্য ভর্তুকি বাবদ কোনো অর্থ ব্যয় করতে হবে না। ফলে নতুন করে এ খাতে এক টাকাও ভর্তুকি হিসেবে বরাদ্দ রাখা হয়নি।

পাশাপাশি প্রণোদনা বাবদ কৃষি খাতে সম্ভাব্য বরাদ্দ থাকছে ৯ হাজার কোটি টাকা। চলতি বাজেটেও এ খাতে একই বরাদ্দ আছে। পাশাপাশি রফতানি, পাটজাত পণ্য, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) এবং অন্যান্য খাতও থাকছে।

এদিকে সরকার বিভিন্ন কারণে ঋণ নিচ্ছে। এ ঋণ অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে গ্রহণ করা হয়। ঋণের বিপরীতে সরকারকে সুদ গুনতে হয় প্রতি বছর। ফলে বাজেটে সুদ পরিশোধের জন্য আলাদাভাবে বরাদ্দ রাখা হয়। চলতি বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৪১ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে ৩৯ হাজার ৫১১ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে এক হাজার ৯৪৬ কোটি টাকা নেয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এসব ঋণের হিসাব বিশ্লেষণ করেই আগামী বাজেটে সুদ খাতে যে বরাদ্দ থাকছে তা চলতি বছরের তুলনায় ৯ হাজার ৮৭৮ কোটি টাকা বেশি হবে।

সেবা খাতে সরকার আসন্ন বাজেটে বরাদ্দ রাখছে ৩০ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা। এ অর্থ ব্যয় করবে সরকারের মেরামত ও সংরক্ষণ এবং সরবরাহ কাজে। চলতি বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ আছে ২৪ হাজার ৭২৬ কোটি টাকা। ওই হিসেবে বেশি বরাদ্দ থাকছে পাঁচ হাজার ৮৩৯ কোটি টাকা।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.