পাল্টাপাল্টি অভিযোগের প্রতিযোগিতা

  শেখ মামুনূর রশীদ ০৫ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে চলছে অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগের প্রতিযোগিতা। আচরণবিধি লঙ্ঘন, বহিরাগত ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের আনাগোনা, কালো টাকা ব্যবহারের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছে উভয় দল। এ ছাড়া প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব, প্রচারণায় বাধা, শক্তি প্রয়োগ, পুলিশি হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, গণগ্রেফতারসহ অসংখ্য অভিযোগ এক পক্ষের বিরুদ্ধে অপর পক্ষের। এ নিয়ে দুই নগরীতেই দিন দিন বাড়ছে উত্তাপ। ফলে ভোট সুষ্ঠু হওয়া নিয়েও জনমনে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

আগামী ১৫ মে গাজীপুর ও খুলনা সিটিতে ভোট। দুই সিটিতেই মুখোমুখি লড়াইয়ে নেমেছে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি। প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকের মেয়র পদের এই নির্বাচনকে দুই দলের নেতারা প্রেস্টিজ ইস্যু হিসেবে নিয়েছে। বিশেষ করে শাসক দল আওয়ামী লীগ দুই সিটিতেই যে কোনো মূল্যে জয় চায়। অন্য দিকে বিএনপি চায় জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে। তবে সাধারণ ভোটাররা চান শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। তারা নির্বিগ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের মধ্য দিয়ে বেছে নিতে চান পছন্দের জনপ্রতিনিধি।

গাজীপুরে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার। এখানে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম। অন্য দিকে খুলনায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক। বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। দুই সিটিতেই একাধিক মেয়র প্রার্থী থাকলেও লড়াই হবে মূলত নৌকা এবং ধানের শীষের মধ্যে। দুই মেয়র প্রার্থীর পক্ষেই জোটগতভাবে যেমন চলছে জমজমাট প্রচারণা, তেমনি এই প্রচারণা ঘিরে অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগ উঠছে বিস্তর।

এ প্রসঙ্গে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, ‘নির্বাচন সামনে রেখে চিহ্নিত অপরাধী এবং সন্ত্রাসীদের এলাকায় জড়ো করেছে বিএনপি। তাদের (বিএনপির) প্রার্থীর সঙ্গে স্থানীয়রা নেই। এটা বুঝতে পেরেই বহিরাগতদের নিয়ে আসা হয়েছে। জনগণ ভোটে তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।’

অভিযোগ খণ্ডন করে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার যুগান্তরকে বলেন, ‘প্রশাসন পক্ষাপাতিত্ব করছে। বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের হয়রানি করার পাশাপাশি গ্রেফতার শুরু হয়ে গেছে। ভোটে জয়ী হতে পারবে না জেনে শাসক দল প্রশাসনকে ব্যবহার করার কৌশল নিয়েছে। কিন্তু এতে লাভ হবে না। শেষ পর্যন্ত ধানের শীষেরই জয় হবে।’

যদিও ভোট নির্বিঘ্ন করতে নির্বাচন কমিশন সব ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে দাবি করেন ইসি সচিব হেলাল উদ্দীন আহমদ। যুগান্তরকে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ সজাগ ও তৎপর। কেউ কোনো অভিযোগ করলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে তা খতিয়ে দেখছি।’ তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের কেউ পক্ষপাতিত্ব করছে কিনা, কোথাও কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে কিনা- এসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

জানা গেছে, দুই সিটিই ‘নৌকা’ ও ‘ধানের শীষ’-এর জমজমাট প্রচার-প্রচারণায় এখন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। তবে এই উৎসবে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ। চলছে বাকযুদ্ধ। যা প্রার্থী ও সমর্থকদের বাইরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও উত্তাপ ছাড়াচ্ছে।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক অভিযোগ করে বলেন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নিশ্চিত ভরাডুবির আভাস পেয়ে ভোটে জিততে সারা দেশ থেকে বিএনপি সন্ত্রাসীদের জড়ো করছে। তিনি বলেন, সরকারি সম্পদ ধ্বংস ও আগুনে মানুষ পুড়িয়ে হত্যাসহ নাশকতা মামলার দাগি অপরাধীদের সারা দেশ থেকে গাজীপুরে জড়ো করছে বিএনপি। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে অবিলম্বে এই সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি।

এ অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো পক্ষপাতিত্ব করার অভিযোগে গাজীপুরে এসপি হারুনুর রশীদকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। ভোট সুষ্ঠু না হলে সরকারকে বড় খেসারত দিতে হবে বলে হুশিয়ার করে দেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার। তিনি গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষা ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিচালিত ও নগরীতে নিয়োজিত তিন শতাধিক ট্রাফিক সহকারীদের প্রত্যাহারের দাবি জানান।

রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দেয়া চিঠিতে হাসান উদ্দিন সরকার উল্লেখ করেন, নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থীর নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত ট্রাফিক পুলিশ সহকারীরা জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষা ফাউন্ডেশনের ব্যাচ ধারণ করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার রকিব উদ্দিন মণ্ডল জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

গাজীপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিল্পপতি মো. সোহরাব উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, ভোট অবাধ ও সুষ্ঠুু করতে হলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের এমন উদ্যোগ এখনও চোখে পড়েনি। তিনি বলেন, রাত গভীর হতেই বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে। নানাভাবে হয়রানি করছে পুলিশ। নির্বাচন কমিশনকে এ ঘটনা জানানো হয়েছে, কিন্তু তারা চুপ করে বসে আছে। সোহরাব উদ্দিন আরও বলেন, প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থনে মিছিল হচ্ছে। তোরণ নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও অসংখ্য তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। এক ওয়ার্ডে একটি মাইক ব্যবহার করার কথা থাকলেও আওয়ামী লীগের পক্ষে একাধিক মাইক ব্যবহৃত হচ্ছে। এভাবে নানা উপায়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হচ্ছে। ম্যাজিস্ট্রেটের কোনো ভূমিকা চোখে পড়ছে না।

গাজীপুরের মতোই অসংখ্য অভিযোগ খুলনায়ও। পক্ষপাতিত্ব করার অভিযোগে খুলনার পুলিশ ?সুপারকে বদলির দাবি জানিয়েছে বিএনপি। এখানেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে হয়রানি, গ্রেফতারসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর পক্ষে নিয়ম ভেঙে অধিকসংখ্যক ক্যাম্প স্থাপন করার অভিযোগ করেছে বিএনপি। আরও বেশ কিছু অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে খুলনায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু ৫ ঘণ্টা ভোটের মাঠ থেকে সড়ে দাঁড়ানোর পরে আবার প্রচারণা শুরু করেন। এখানে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও বিএনপির বিরুদ্ধে আনা হয়েছে অসংখ্য অভিযোগ।

জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচন কমিশনকে শক্ত হাতে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। ভোট নির্বিঘœ করতে যা যা করণীয় তা নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের সে ক্ষমতা আছে।

আরও পড়ুন
pran
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

mans-world

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.