রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলা

যথাযথ ভূমিকা পালন করেনি নিরাপত্তা পরিষদ : ওআইসি

পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে প্রধান ইস্যু হবে রোহিঙ্গ সংকট

প্রকাশ : ০৫ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

উখিয়ায় ওআইসির প্রতিনিধি দল

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলা ও তাদের প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ভূমিকায় উষ্মা প্রকাশ করেছে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)। সংস্থাটি বলেছে, এ ব্যাপারে নিরাপত্তা পরিষদের আরও ভূমিকা থাকা প্রয়োজন ছিল। শুক্রবার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন ওআইসির প্রতিনিধি দলের প্রধান হিশাম ইউসেফ। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ওআইসি মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা করবে এবং দ্রুত ফেরত নেয়ার বিষয়ে চাপ দেবে।’

হিশাম ইউসেফ বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় নিরাপত্তা পরিষদের শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর যথেষ্ট ভূমিকা রাখার সুযোগ ছিল। কিন্তু তারা সে ভূমিকাটা পালন করেনি।’ প্রতিনিধি দলের প্রধান বলেন, ‘শনিবার (আজ) ও রোববার (আগামীকাল) ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যুটি প্রাধান্য পাবে। আগামী বর্ষা মৌসুমে দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে এবং প্রত্যাবাসন শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওআইসি রোহিঙ্গাদের পাশে থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে যে মানবতা দেখিয়েছে তার জন্য ওআইসির পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই। শুরু থেকে ওআইসি বাংলাদেশের প্রশংসিত উদ্যোগের পক্ষে রয়েছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত ওআইসি বাংলাদেশের পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাবে।’

হাশেম ইউসেফ বলেন, ‘মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর যে নিপীড়ন চালিয়েছে, তা গণহত্যার শামিল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ ঘটনার জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এখন এ সংকট সমাধানের জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

প্রতিনিধিরা বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা মিয়ানমারের সৃষ্টি। সুতরাং সমস্যার সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে। রোহিঙ্গারা নিরাপদে যেন স্বদেশে বাস করতে পারেন তার জন্য পরিবেশ তৈরির দায়িত্বও মিয়ানমার সরকারের।’

এর আগে সকাল পৌনে ৯টার দিকে ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে অংশ নিতে আসা ৮ জন মন্ত্রী, ৩ জন প্রতিমন্ত্রী, ৮ জন পররাষ্ট্র সচিবসহ ৫৮ দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলটি কক্সবাজার বিমান বন্দরে পৌঁছে। এরপর কক্সবাজারের একটি হোটেলে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে তারা কথা বলেন। এ সময় বাংলাদেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী প্রতিনিধিদের রোহিঙ্গাদের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

প্রতিনিধি দল বেলা ১১টায় কক্সবাজার থেকে সড়কপথে সরাসরি উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যায়। সেখানে নির্যাতিত রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ, শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন তারা। সেখান থেকে কুতুপালং ক্যাম্পে গিয়ে কয়েকটি ভাগে ভাগ হয়ে রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ, শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় রোহিঙ্গারা জানান, মিয়ানমারের রাখাইনে তাদের ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। অনেকের ছেলে, মেয়ে, ভাই, বোন, স্ত্রী, স্বামীসহ নিকটাÍীয়দের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

প্রতিনিধিরা রোহিঙ্গাদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘তারা যেন মিয়ানমারে নিরাপদে ফিরে যেতে পারেন যে ব্যাপারে জাতিসংঘের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করবে ওআইসি। প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে মিয়ানমারেরও ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টিতেও ওআইসি জোরালো ভূমিকা রাখবে।’

ক্যাম্প পরিদর্শনেরকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ছিলেন।