না পালালে লাশ ল্যাম্পপোস্টে ঝুলিয়ে রাখত: আশরাফ ঘানি
jugantor
না পালালে লাশ ল্যাম্পপোস্টে ঝুলিয়ে রাখত: আশরাফ ঘানি

  যুগান্তর ডেস্ক  

২০ আগস্ট ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল তালেবানের দখলে যাওয়ার পরপরই তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিনি পালিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। খবর আলজাজিরা, এপি ও রয়টার্সের।

বুধবার রাতে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় আশরাফ ঘানি বলেন, ‘যদি আমি থাকতাম, তাহলে কাবুলে রক্তপাত হতো।

সেদিন প্রেসিডেন্ট প্যালেসে ঢুকে রুমে রুমে আমাকে খুঁজেছে তালেবান সদস্যরা। এমন পরিস্থিতিতে জীবন বাঁচাতে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা টিমের সদস্যরা আমাকে দেশ ছাড়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। ফলে নিরাপত্তার কারণে সম্পদ ও গোপন নথিপত্র ফেলেই আমি কাবুল ছাড়তে বাধ্য হয়েছি।’

আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় আশরাফ ঘানি চারটি গাড়িভর্তি নগদ অর্থ সঙ্গে নিয়েছিলেন বলে কাবুলের রাশিয়ান দূতাবাসের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।

এ অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, বিমানবন্দরে শুল্ক দপ্তরের কঠোর নিরাপত্তার বেড়াজাল পেরিয়ে আমিরাতে প্রবেশ করেছি। ফলে সঙ্গে বিপুল পরিমাণ অর্থ থাকলে তখন তা ধরা পড়ে যেত। তিনি বলেন, আমি শুধু দেশবাসীর শান্তির কথা ভেবে দেশত্যাগ করেছি। সঙ্গে কোনো টাকাপয়সা আনিনি। আসার সময় শুধু কোমর কোট আর কিছু জামাকাপড় এনেছি। নিজের লাইব্রেরির একটা বই পর্যন্ত আনতে পারিনি।

তিনি আরও বলেন, দেশে থাকলে হয়তো তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলত তালেবান। অন্যথায় সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নজিবুল্লাহর মতো পরিণতি হতো তার। ল্যাম্পপোস্টে লাশ ঝুলিয়ে দিত।

এদিকে এরই মধ্যে আফগানিস্তানে নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে তালেবান। এমন পরিস্থিতিতে দলটির সঙ্গে সমঝোতায় এগিয়ে এসেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই।

আশরাফ ঘানির বিরোধী হিসাবে পরিচিত আবদুল্লাহ আবদুল্লাহও দলটির সঙ্গে বোঝাপড়ায় নেমেছেন। তাদের উভয়ের সঙ্গে ঘানির তিক্ত সম্পর্ক থাকলেও তিনি দেশের স্বার্থে তাদের এ উদ্যোগকে সমর্থন জানান।

তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের মধ্যস্থতায় সরকার গঠনের প্রয়াসে আমার সমর্থন রয়েছে। আমি চাই-এ প্রয়াস সফল হোক।’

তিনি আরও বলেন, আফগানিস্তানে ফিরতে নিজেও আমি কথাবার্তা চালাচ্ছি। যাতে আফগানবাসী ন্যায়বিচার পান। সত্যিকারের ইসলামি ও জাতীয়তাবাদী মূল্যবোধের যেন বিজয় হয়। তবে নিজে ক্ষমতায় ফেরার কোনো ইঙ্গিত তিনি দেননি।

না পালালে লাশ ল্যাম্পপোস্টে ঝুলিয়ে রাখত: আশরাফ ঘানি

 যুগান্তর ডেস্ক 
২০ আগস্ট ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল তালেবানের দখলে যাওয়ার পরপরই তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিনি পালিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। খবর আলজাজিরা, এপি ও রয়টার্সের।

বুধবার রাতে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় আশরাফ ঘানি বলেন, ‘যদি আমি থাকতাম, তাহলে কাবুলে রক্তপাত হতো।

সেদিন প্রেসিডেন্ট প্যালেসে ঢুকে রুমে রুমে আমাকে খুঁজেছে তালেবান সদস্যরা। এমন পরিস্থিতিতে জীবন বাঁচাতে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা টিমের সদস্যরা আমাকে দেশ ছাড়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। ফলে নিরাপত্তার কারণে সম্পদ ও গোপন নথিপত্র ফেলেই আমি কাবুল ছাড়তে বাধ্য হয়েছি।’

আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় আশরাফ ঘানি চারটি গাড়িভর্তি নগদ অর্থ সঙ্গে নিয়েছিলেন বলে কাবুলের রাশিয়ান দূতাবাসের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।

এ অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, বিমানবন্দরে শুল্ক দপ্তরের কঠোর নিরাপত্তার বেড়াজাল পেরিয়ে আমিরাতে প্রবেশ করেছি। ফলে সঙ্গে বিপুল পরিমাণ অর্থ থাকলে তখন তা ধরা পড়ে যেত। তিনি বলেন, আমি শুধু দেশবাসীর শান্তির কথা ভেবে দেশত্যাগ করেছি। সঙ্গে কোনো টাকাপয়সা আনিনি। আসার সময় শুধু কোমর কোট আর কিছু জামাকাপড় এনেছি। নিজের লাইব্রেরির একটা বই পর্যন্ত আনতে পারিনি।

তিনি আরও বলেন, দেশে থাকলে হয়তো তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলত তালেবান। অন্যথায় সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নজিবুল্লাহর মতো পরিণতি হতো তার। ল্যাম্পপোস্টে লাশ ঝুলিয়ে দিত।

এদিকে এরই মধ্যে আফগানিস্তানে নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে তালেবান। এমন পরিস্থিতিতে দলটির সঙ্গে সমঝোতায় এগিয়ে এসেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই।

আশরাফ ঘানির বিরোধী হিসাবে পরিচিত আবদুল্লাহ আবদুল্লাহও দলটির সঙ্গে বোঝাপড়ায় নেমেছেন। তাদের উভয়ের সঙ্গে ঘানির তিক্ত সম্পর্ক থাকলেও তিনি দেশের স্বার্থে তাদের এ উদ্যোগকে সমর্থন জানান।

তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের মধ্যস্থতায় সরকার গঠনের প্রয়াসে আমার সমর্থন রয়েছে। আমি চাই-এ প্রয়াস সফল হোক।’

তিনি আরও বলেন, আফগানিস্তানে ফিরতে নিজেও আমি কথাবার্তা চালাচ্ছি। যাতে আফগানবাসী ন্যায়বিচার পান। সত্যিকারের ইসলামি ও জাতীয়তাবাদী মূল্যবোধের যেন বিজয় হয়। তবে নিজে ক্ষমতায় ফেরার কোনো ইঙ্গিত তিনি দেননি।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : মার্কিন-তালেবান শান্তি আলোচনা