আইনজীবীকে খালেদা জিয়া

আমি অত্যন্ত অসুস্থ এটা কোর্টকে জানাবেন

তার অপরাধ কি জানতে চেয়েছেন

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৬ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

খালেদা জিয়া
ফাইল ফটো

৮ মে জামিন শুনানিতে ‘অসুস্থতা’র বিষয়টি আপিল বিভাগে উপস্থাপনের জন্য আইনজীবীদের বলেছেন খালেদা জিয়া।

শনিবার বিকালে পাঁচ আইনজীবী পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারে বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে তার অ্যাডভোকেট আবদুর রেজাক খান এ কথা জানান।

তিনি বলেন, “ম্যাডাম বলেছেন, ‘আমি অত্যন্ত গুরুতর অসুস্থ, এটা কোর্টকে জানাবেন। জেলে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে থাকার কারণে দিন দিন আমার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে। মেডিকেল গ্রাউন্ডে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট- এটা সর্বোচ্চ আদালতে উপস্থাপন করবেন।’”

এক ঘণ্টারও বেশি সময় খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলেন আইনজীবীরা। তারা হলেন অ্যাডভোকেট আবদুর রেজাক খান, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, সুপ্রিমকোর্ট বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এজে মোহাম্মদ আলী ও সুপ্রিমকোর্ট বারের সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আমরা ম্যাডামকে দেখতে এসেছিলাম আইনজীবী হিসেবে। যেহেতু আমরা মামলা করি সেই কারণে। ম্যাডাম খুবই অসুস্থ। তার বাম হাত তিনি নাড়াতে পারেন না, তা শক্ত হয়ে গেছে। ঘাড়েও তার সমস্যা আছে।

অর্থাৎ এ রকম একটি স্যাঁতসেঁতে জায়গায় বন্দি থাকা অবস্থায় যে রকম অবস্থা হয় ম্যাডামের তাই হয়েছে। ম্যাডামের বয়সও চিন্তা করতে হবে, তার বয়স ৭৩ বছরের ওপরে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আগেও বলেছি, এখনও বলছি, ম্যাডামের যে চিকিৎসা দরকার তা জেলখানায় সম্ভব নয়। ম্যাডামের চিকিৎসা ইউনাইটেড হাসপাতালে হওয়া দরকার। আপনারা দেখেছেন জেল কর্তৃপক্ষ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখেছে তার চিকিৎসার জন্য।

কিন্তু এখন পর্যন্ত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, দেশের বৃহৎ গণতান্ত্রিক দলের প্রধান, তিনি আজকে জেলখানায় আছেন। কী মামলায় আছেন তা আপনারা জানেন। একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক মামলায় তিনি আজকে বিনা চিকিৎসায় জেলখানায় কষ্ট পাচ্ছেন। এটা খুবই দুঃখজনক।’

অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, হাইকোর্ট বিস্তারিত শুনানি করে ম্যাডামকে জামিন দিয়েছেন।

বাংলাদেশের সুপ্রিমকোর্টের ইতিহাসে এবং আমার ৫০ বছরের ক্রিমিনাল প্রাকটিসে দেখেছি- পাঁচ বছর সাজার পর হাইকোর্ট বিভাগ যখন জামিন দেয় উচ্চ আদালত সেই জামিন কখনও স্থগিত করেননি। এখানে শুধু স্থগিতই করেননি, এখানে তারা পূর্ণাঙ্গ শুনানির জন্য দীর্ঘ সময় দিয়ে তারিখ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আমরা আশা করি, বিশ্বাস করি, দেশে যদি আইনের শাসন বিন্দুমাত্রও থাকে তা হলে অবশ্যই ৮ তারিখে ম্যাডাম জামিন পাবেন।

ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, নেত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তাকে খুবই অসুস্থ দেখেছি। বাম হাতে প্রচণ্ড ব্যথা। ফিজিও থেরাপি দেয়া হচ্ছে না। নেত্রী আমাদের বলেছেন, যে মামলায় তাকে সাজা দেয়া হয়েছে সেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে এ সংক্রান্ত কোনো চেকে তিনি সই করেননি। কোনো লিখিত নির্দেশও দেননি। তিনি কোনো অন্যায় করেননি। তাহলে তার অপরাধ কি জানতে চেয়েছেন নেত্রী।

ব্যরিস্টার খোকন বলেন, ম্যাডাম আরও বলেন, ‘যে টাকা নিয়ে মামলা হয়েছে, সেই টাকা বেড়ে এখন তিনগুণ হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে যতগুলো মামলা করা হয়েছে সবগুলোই নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের নীলনকশা। পাতানো ষড়যন্ত্র। একটা মিথ্যা মামলায় আমাকে এভাবে কারাগারে রাখা হয়েছে।’ নেত্রী বলেন, ‘ফারমার্স ব্যাংকের কোটি কোটি টাকা লুট হল, একটি মামলাও হল না। আর আমাকে মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়া হল।’

খোকন বলেন, খালেদা জিয়া পিছিয়ে যাওয়ার নেত্রী নন। তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে বলেছেন। আমরা আইনগত এবং মামলার বিষয়ে আলোচনা করেছি।

আইনজীবীরা বিকাল ৪টা ০৫ মিনিটে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে প্রবেশ করেন। ৮ ফেব্র“য়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়। এরপর পুরান ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারকে বিশেষ কারাগার ঘোষণা দিয়ে খালেদা জিয়াকে সেখানে রাখা হয়।

প্রায়ই জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন খালেদা জিয়া- রিজভী : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘শুক্রবার তার (খালেদা জিয়া) নিকটাÍীয়রা দেখা করতে গিয়েছিলেন।

তাদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি- বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থার ক্রমান্বয়ে অবনতি হচ্ছে। তার হাঁটু ও শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা। নানাবিধ জটিল শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত তিনি। স্যাঁতসেঁতে পরিত্যক্ত রুমে থাকায় এখন তিনি প্রায়ই জ্বরে ভুগছেন। কাশি লেগেই আছে। তার চোখের ব্যথা এখনও সারেনি।

শনিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন। সেখানে ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মামুন আহমেদ, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আসাদুল করিম শাহিন, মুনির হোসেন প্রমুখ।

রিজভী বলেন, ‘বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু সরকার ও কারা কর্তৃপক্ষ চেয়ারপারসনের চিকিৎসার বিষয়ে কোনো কর্ণপাতই করছে না। খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে সরকারের একটি গভীর দুরভিসন্ধি আছে।’ অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে তার পছন্দের ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার দাবি জানান রিজভী।

পাহাড়ে উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমাসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় নিন্দা জানান রিজভী। তিনি বলেন, ‘দিনদুপুরে গুলি করে হত্যা করার ঘটনা আওয়ামী দুঃশাসনের এক ভয়ঙ্কর দৃষ্টান্ত।’ রিজভী বলেন, ‘সারা দেশের মানুষ এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, জীবন আশঙ্কায় ভুগছে। এই সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন কারও নিরাপত্তা থাকবে না।’

গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে জয়ী করতে সরকারের প্রশ্রয়ে পুলিশ হয়ে উঠেছে স্বেচ্ছাচারী, অনিয়ন্ত্রিত ও বেপরোয়া। ভরাডুবির ভয়ে সরকার দুটি সিটিতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায় না। গণমাধ্যমে একতরফা ফলাফল ঘোষণা করাই প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায়।’

গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুনুর রশীদ ও খুলনা পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবীরকে প্রত্যাহারের দাবিও জানান রিজভী।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter