ডিসিসিআইয়ের সুপারিশ

করহার কমালে বিনিয়োগ বাড়বে

এলএনজিতে ভর্তুকি দিয়ে ধীরে ধীরে দাম বাড়ানো উচিত * মন্দ ঋণ আদায়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও উদ্যোগী হতে হবে * পুঁজিবাজার থেকে টাকা উত্তোলনের নিয়ম-কানুন শিথিলের দাবি

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৬ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিনিয়োগের জন্য উদ্যোক্তাদের টাকার চাহিদা ব্যাংকগুলো জোগান দিতে পারছে না। এ অবস্থায় বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে করহার কমানো উচিত বলে মনে করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। কর কমালে ভবিষ্যতে উদ্যোক্তারা যত টাকা কম ট্যাক্স পরিশোধ করতে হবে, ওই টাকা তারা পুনরায় শিল্পে বিনিয়োগ করার সুযোগ পাবেন। এতে ব্যাংকের ওপর চাপ কমবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে আয়কর আইনে শর্ত জুড়ে দেয়া যেতে পারে।

একই সঙ্গে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কম খরচে তহবিল সংগ্রহের জন্য পুঁজিবাজার থেকে টাকা উত্তোলনের নিয়ম-কানুন শিথিল, অবকাঠামো উন্নয়নে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপকে (পিপিপি) শক্তিশালী করা, আমদানি করা তরলীকৃত গ্যাস (এলএনজি) বর্তমান দামে বিক্রি করা উচিত বলে মনে করে সংগঠনটি।

শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআইয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রাক-বাজেট সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এসব দাবি জানিয়েছে। সংগঠনের পক্ষে বাজেট কর ও বিনিয়োগসংক্রান্ত একগুচ্ছ প্রস্তাব তুলে ধরনের সভাপতি আবুল কাশেম খান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি কামরুল ইসলাম, সহসভাপতি রিয়াদ হোসেন, পরিচালক জিল্লুর রহমান, আন্দালিব হাসান প্রমুখ।

আবুল কাশেম খান বলেন, কর কমালে দেশে বিনিয়োগ বাড়বে। কারণ ট্যাক্স থেকে বাঁচানো টাকা উদ্যোক্তারা পুনরায় বিনিয়োগ করতে পারবেন। এটা কর ছাড় নয়, উদ্যোক্তাদের আস্থা বাড়াতে সাহায্য করবে। উদ্বৃত্ত টাকা দিয়ে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি, অবকাঠামো নির্মাণ-সংস্কারের শর্ত আয়কর আইনে যুক্ত করে দেয়া যেতে পারে। এ কর ছাড় দেয়া হলে ব্যাংকের ওপর নির্ভরতা ২-৫ শতাংশ হলেও কমবে। তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগ বাড়াতে কর্পোরেট ট্যাক্স কমানো উচিত। একবারে না কমিয়ে আগামী ৩ বছরে পর্যায়ক্রমে ১০ শতাংশ ট্যাক্স কমালে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে এগিয়ে আসবেন।

অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ কম। প্রতিবছর যেখানে অবকাঠামো খাতে ২০-২৪ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন, সেখানে গত বছর ৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ না আসার পেছনে অবকাঠামো দায়ী। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকে অবকাঠামো উন্নয়নে উৎসাহিত করা যেতে পারে, যেমন বিদ্যুৎ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগের পর বিদ্যুৎ উৎপাদন ৫ গুণ বেড়েছে। মডেল অবকাঠামো নিয়ে আসলে দুই অঙ্কের জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব। না হলে ৭-৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন দুরূহ হবে। যদিও প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, এ বছর অবকাঠামো খাতকে গুরুত্ব দেয়া হবে।

ব্যাংক ও আর্থিক খাতের প্রস্তাব তুলে ধরে আবুল কাশেম বলেন, খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে গেছে। এখনই সতর্ক হতে হবে। মন্দ ঋণ আদায়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে আরও উদ্যোগী হতে হবে। প্রয়োজনে মন্দ ঋণ আদায়ে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে।

বিনিয়োগের জন্য তহবিল সংগ্রহে পুঁজিবাজার থেকে টাকা উত্তোলনের নিয়ম-কানুন শিথিল করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমানে কোনো কোম্পানিকে পুঁজিবাজার থেকে টাকা তুলতে পরপর ৩ বছর লাভজনক হতে হয়। এ কারণে অনেক ভালো উদ্যোগও পুঁজিবাজার থেকে টাকা তুলতে পারে না। এ সুযোগ দেয়া উচিত। কোনো নতুন প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজার থেকে টাকা তুলতে চাইলে বিনিয়োগকারীরা যদি মনে করেন, উদ্যোগটি ভালো তাহলে বিনিয়োগ করবেন। আর যদি মনে করেন উদ্যোগ ভালো না তাহলে বিনিয়োগ করবেন না। এ ক্ষেত্রে কারোরই আপত্তি থাকার কথা নয়! তিনি আরও বলেন, অবকাঠামো খাতের উন্নয়নে সরকার যেসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দিয়েছে, তাদের পুঁজিবাজার থেকে টাকা তোলার ব্যবস্থা রাখতে হবে। এতে কস্ট অব ফান্ড কমবে।

প্রশ্নোত্তর পর্ব : সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আবুল কাশেম বলেন, ডিসিসিআই ট্যাক্স দিয়ে অবৈধ আয়কে (ঘুষ, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত) বৈধ করার পক্ষে না। তবে বৈধভাবে আয় করেছে কিন্তু আয়কর রিটার্নে ঘোষণা দেয়া হয়নি- এ জাতীয় আয়ের ক্ষেত্রে উচ্চ ট্যাক্স দিয়ে বৈধ করার সুযোগ দেয়া উচিত। অপর প্রশ্নের জবাবে বলেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি মেটানোর কাজে ব্যবহার করতে দেয়া উচিত না। যদি ব্যাংকগুলো খারাপ করে তাহলে খারাপ করতে দেয়া উচিত। এভাবে মূলধন দিতে থাকলে খারাপ গ্রাহকরা আরও উৎসাহিত হবে। এলএনজির দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথম পর্যায়ে এলএনজি বর্তমান গ্যাসের দামে বিক্রি করা উচিত। এ ক্ষেত্রে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে। পরবর্তী সময়ে শিল্প অভ্যস্ত হয়ে গেলে পর্যায়ক্রমে দাম বাড়ানো যেতে পারে। হুট করে এলএনজি উচ্চমূল্য নির্ধারণ করা হলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে। অনেক শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে, বিশেষ করে টেক্সটাইল খাত। এলএনজির মূল্য শিল্প খাতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে সেটি পর্যালোচনা করার দাবি জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, বাপেক্সকে শক্তিশালী করতে হবে। গ্যাসের সঠিক মজুদ হিসাব করে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ ও ভূগর্ভস্থ কয়লা ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে।

এ ছাড়া আগামী বাজেটে এসএমই উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা, কর পরিশোধ পদ্ধতি সহজীকরণ, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, রফতানি পণ্য বহুমুখীকরণ, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন ও করজাল বৃদ্ধিকে গুরুত্ব দেয়ার দাবি জানিয়েছে ডিসিসিআই।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter