বিমা কোম্পানির অবৈধ আমানত সংগ্রহ!
jugantor
সঞ্চয়ের আদলে পলিসি স্কিম
বিমা কোম্পানির অবৈধ আমানত সংগ্রহ!

  সাদ্দাম হোসেন ইমরান  

২২ আগস্ট ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বেআইনিভাবে বেশ কয়েকটি বিমা কোম্পানি ব্যাংকের মতো আমানত সংগ্রহ করছে। আইনি জটিলতা এড়াতে এসব সঞ্চয়ী স্কিম বা পলিসির নামের পেছনে ‘বিমা’ শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু মুনাফার হার, অর্থ জমাসহ পুরো প্রক্রিয়াটিই ব্যাংকের আদলে পরিচালিত হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের বিমাকর্মীরা গ্রাহকদের কাছে বিমা পলিসির পরিবর্তে এসব ‘ডিপোজিট স্কিম’ কিনতে প্রলুব্ধ করছে। সাধারণ মানুষও উচ্চ মুনাফার লোভে ব্যাংকের মতো ডিপিএস (ডিপোজিট পেনশন স্কিম) মনে করে এসব স্কিমে বিনিয়োগ করছে। আর প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের সঞ্চয়ী প্রকল্পের দিকে আকৃষ্ট করতে নানা চটকদার বিজ্ঞাপনের আশ্রয় নিচ্ছে।

গত ৩১ মে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কেন্দ্রীয় টাস্কফোর্সের ১২তম সভা ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিমা কোম্পানিগুলোর অবৈধভাবে আমানত সংগ্রহের বিষয়ে আলোচনা হয়। এর ভিত্তিতে বেশকিছু বিমা কোম্পানির ওয়েবসাইট ঘেঁটে আমানত সংগ্রহের সত্যতা পাওয়া গেছে।

কয়েকটি কোম্পানির ওয়েবসাইটে দেখা যায়, একটি কোম্পানি তাদের ওয়েবসাইটে মানুষকে সঞ্চয়মুখী করতে নানা স্লোগানে আমানত সংগ্রহ করছে। এগুলো হচ্ছে ‘বেশি বেশি সঞ্চয় করি নিরাপদ জীবন গড়ি’; ‘এক এক করে সঞ্চয় করি নিরাপদ জীবন গড়ি’ এবং ‘ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় হোক আজ থেকেই’। এছাড়া তাদের হজ বিমা ও মেয়াদি বিমা নামে প্রকল্প রয়েছে। মেয়াদি বিমা প্রকল্পের শুরুতেই তারা লিখেছে ‘সঞ্চয় ও আর্থিক নিরাপত্তার জন্য ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়’। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির ডিপোজিট পেনশন স্কিম (এফডিপিএস-মুনাফাসহ) নামে একটি বিমা প্রকল্প রয়েছে। মাসভিত্তিক সঞ্চয় বিমা পরিকল্পক (এমএসপি) নামে তাদের আরও একটি প্রকল্প রয়েছে। আরেকটি লাইফ ইন্সুরেন্সের সঞ্চয়ী নামে একাধিক বিমা প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সঞ্চয়ী বিমা, মাসিক সঞ্চয়ী বিমা, একক প্রধান সঞ্চয়ী বিমা। অন্য আরেকটি ইন্সুরেন্স প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়ের আদলে বিমা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে আছে মাসিক সঞ্চয়ী অ্যাসুরেন্স প্ল্যান (মুনাফা ছাড়া)। সঞ্চয় ও বিমা নিয়ে তাদের রয়েছে তিনটি প্রকল্প।

অবশ্য টাস্কফোর্সের সভায় অংশ নেওয়া বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (আইডিআরএ) একজন নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘বিমা কোম্পানির আমানত সংগ্রহের এখতিয়ার নেই।’ এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিমা কোম্পানিগুলো আমানত সংগ্রহের প্রকল্প পরিচালনা করতে পারে কি না, তা পর্যালোচনা করতে আইডিআরএ-কে নির্দেশ দেওয়া হয়।

জানতে চাইলে বিমা কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সংগঠন ইন্সুরেন্স বাংলাদেশ ফোরামের সভাপতি ও পপুলার লাইফ ইন্সুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিএম ইউসুফ আলী শনিবার যুগান্তরকে বলেন, বিমা কোম্পানিগুলো কোনো ধরনের আমানত সংগ্রহ করে না। আমরা পলিসির বিপরীতে প্রিমিয়াম সংগ্রহ করি। কয়েকটি কোম্পানির ডিপিসি স্কিম রয়েছে-এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই ডিপিএসগুলোও আমানত নয়, সঞ্চয়ী বিমা। এই সঞ্চয়ী বিমা অ্যাকচুয়ারি (বিমা আইন বিশেষজ্ঞ) এবং আইডিআরএ অনুমোদিত। তার মতে, এখানে আইনের কোনো ব্যত্যয় নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে ব্যাংকগুলোর সঞ্চয়ী প্রকল্পের মুনাফার হার কম। যে কারণে বীমা কোম্পানিগুলো ব্যাংকের চেয়ে বেশি মুনাফা দিয়ে সঞ্চয়ী প্রকল্পের আদলে বিমা প্রকল্প চালু করছে। মাঠপর্যায়ের বিমাকর্মীরাও গ্রাহকদের সঞ্চয় বা ডিপিএস নামে গ্রাহকদের বুঝিয়ে এগুলোয় বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে। ব্যাংকগুলোয় যেসব সঞ্চয় প্রকল্প রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রকল্প হচ্ছে ডিপোজিট পেনশন স্কিম (ডিপিএস)। প্রায় সব ব্যাংকেই এই প্রকল্পটি রয়েছে। সাধারণ সঞ্চয়ীরাও ডিপিএস নামটির সঙ্গেই বেশি পরিচিতি। এ কারণে সঞ্চয়কারীদের আকৃষ্ট করতে বিমা কোম্পানিগুলোও ডিপিএস নামে বিভিন্ন প্রকল্প চালু করেছে। এর মাধ্যমে তারা গ্রাহকদের কাছ থেকে বিমা পলিসির নামে আমানত সংগ্রহ করছে। কিন্তু গ্রাহকদের কাছে প্রচার করছে ডিপিএস নামে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, শুধু ব্যাংকগুলোই গ্রাহকদের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করতে পারবে। এজন্য আকর্ষণীয় সঞ্চয় প্রকল্পও চালু করতে পারবে। এছাড়া মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি আইন অনুযায়ী ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো এবং সমবায় আইন অনুযায়ী কো-অপারেটিভ সংস্থাগুলো কেবল তাদের সদস্যদের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করতে পারবে। আর বিমা কোম্পানিগুলো পলিসির আওতায় গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রিমিয়াম নিতে পারবে। কিন্তু তারা কোনো সঞ্চয়ী স্কিম চালু করতে পারে না। একই সঙ্গে গ্রাহকদের কাছ থেকে কোনো আমানতও নিতে পারবে না।

এর আগে বেআইনিভাবে আমানত নেওয়ার দায়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের আমানত সংগ্রহ প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছে। এর মধ্যে ২০০২ সালে ইসলামিক ট্রেড অ্যান্ড কমার্স লিমিটেড (আইটিসিএল) নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম, ২০০৫ সালে যুবকের সঞ্চয় প্রকল্প এবং ২০১০ সালে ডেসটিনির সঞ্চয় প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়া আরও কিছু প্রতিষ্ঠানের সঞ্চয়ী প্রকল্প বন্ধ করা হয়েছে। যেসব কো-অপারেটিভ সোসাইটি সদস্যদের বাইরে থেকে বেআইনিভাবে আমানত সংগ্রহ করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সমবায় অধিদপ্তরকে কয়েক দফা চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, বিমা খাত এখনো শৃঙ্খলার মধ্যে আসেনি। বিমা কোম্পানিগুলো পলিসি বিক্রি করতে মাঠপর্যায়ে অনেক কর্মী নিয়োগ দিয়েছে। যেগুলো শাখা থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়। বিমাকর্মীরা গ্রাহকদের কাছে ডিপিএস নামে বিমা পলিসির প্রচার চালায়। তারা আমানত সংগ্রহ করলে এবং এগুলো পরিশোধ করতে না পারলে ভবিষ্যতে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। এ বিষয়ে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, আইনত বিমা কোম্পানি ব্যাংকের মতো আমানত সংগ্রহ করতে পারে না। যেহেতু বিএফআইইউসহ অন্য সরকারি সংস্থাগুলো বিষয়টি নিয়ে ওয়াকিবহাল আছে, আশা করছি, তারা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে।

সঞ্চয়ের আদলে পলিসি স্কিম

বিমা কোম্পানির অবৈধ আমানত সংগ্রহ!

 সাদ্দাম হোসেন ইমরান 
২২ আগস্ট ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বেআইনিভাবে বেশ কয়েকটি বিমা কোম্পানি ব্যাংকের মতো আমানত সংগ্রহ করছে। আইনি জটিলতা এড়াতে এসব সঞ্চয়ী স্কিম বা পলিসির নামের পেছনে ‘বিমা’ শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু মুনাফার হার, অর্থ জমাসহ পুরো প্রক্রিয়াটিই ব্যাংকের আদলে পরিচালিত হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের বিমাকর্মীরা গ্রাহকদের কাছে বিমা পলিসির পরিবর্তে এসব ‘ডিপোজিট স্কিম’ কিনতে প্রলুব্ধ করছে। সাধারণ মানুষও উচ্চ মুনাফার লোভে ব্যাংকের মতো ডিপিএস (ডিপোজিট পেনশন স্কিম) মনে করে এসব স্কিমে বিনিয়োগ করছে। আর প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের সঞ্চয়ী প্রকল্পের দিকে আকৃষ্ট করতে নানা চটকদার বিজ্ঞাপনের আশ্রয় নিচ্ছে।

গত ৩১ মে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কেন্দ্রীয় টাস্কফোর্সের ১২তম সভা ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিমা কোম্পানিগুলোর অবৈধভাবে আমানত সংগ্রহের বিষয়ে আলোচনা হয়। এর ভিত্তিতে বেশকিছু বিমা কোম্পানির ওয়েবসাইট ঘেঁটে আমানত সংগ্রহের সত্যতা পাওয়া গেছে।

কয়েকটি কোম্পানির ওয়েবসাইটে দেখা যায়, একটি কোম্পানি তাদের ওয়েবসাইটে মানুষকে সঞ্চয়মুখী করতে নানা স্লোগানে আমানত সংগ্রহ করছে। এগুলো হচ্ছে ‘বেশি বেশি সঞ্চয় করি নিরাপদ জীবন গড়ি’; ‘এক এক করে সঞ্চয় করি নিরাপদ জীবন গড়ি’ এবং ‘ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় হোক আজ থেকেই’। এছাড়া তাদের হজ বিমা ও মেয়াদি বিমা নামে প্রকল্প রয়েছে। মেয়াদি বিমা প্রকল্পের শুরুতেই তারা লিখেছে ‘সঞ্চয় ও আর্থিক নিরাপত্তার জন্য ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়’। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির ডিপোজিট পেনশন স্কিম (এফডিপিএস-মুনাফাসহ) নামে একটি বিমা প্রকল্প রয়েছে। মাসভিত্তিক সঞ্চয় বিমা পরিকল্পক (এমএসপি) নামে তাদের আরও একটি প্রকল্প রয়েছে। আরেকটি লাইফ ইন্সুরেন্সের সঞ্চয়ী নামে একাধিক বিমা প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সঞ্চয়ী বিমা, মাসিক সঞ্চয়ী বিমা, একক প্রধান সঞ্চয়ী বিমা। অন্য আরেকটি ইন্সুরেন্স প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়ের আদলে বিমা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে আছে মাসিক সঞ্চয়ী অ্যাসুরেন্স প্ল্যান (মুনাফা ছাড়া)। সঞ্চয় ও বিমা নিয়ে তাদের রয়েছে তিনটি প্রকল্প।

অবশ্য টাস্কফোর্সের সভায় অংশ নেওয়া বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (আইডিআরএ) একজন নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘বিমা কোম্পানির আমানত সংগ্রহের এখতিয়ার নেই।’ এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিমা কোম্পানিগুলো আমানত সংগ্রহের প্রকল্প পরিচালনা করতে পারে কি না, তা পর্যালোচনা করতে আইডিআরএ-কে নির্দেশ দেওয়া হয়।

জানতে চাইলে বিমা কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সংগঠন ইন্সুরেন্স বাংলাদেশ ফোরামের সভাপতি ও পপুলার লাইফ ইন্সুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিএম ইউসুফ আলী শনিবার যুগান্তরকে বলেন, বিমা কোম্পানিগুলো কোনো ধরনের আমানত সংগ্রহ করে না। আমরা পলিসির বিপরীতে প্রিমিয়াম সংগ্রহ করি। কয়েকটি কোম্পানির ডিপিসি স্কিম রয়েছে-এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই ডিপিএসগুলোও আমানত নয়, সঞ্চয়ী বিমা। এই সঞ্চয়ী বিমা অ্যাকচুয়ারি (বিমা আইন বিশেষজ্ঞ) এবং আইডিআরএ অনুমোদিত। তার মতে, এখানে আইনের কোনো ব্যত্যয় নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে ব্যাংকগুলোর সঞ্চয়ী প্রকল্পের মুনাফার হার কম। যে কারণে বীমা কোম্পানিগুলো ব্যাংকের চেয়ে বেশি মুনাফা দিয়ে সঞ্চয়ী প্রকল্পের আদলে বিমা প্রকল্প চালু করছে। মাঠপর্যায়ের বিমাকর্মীরাও গ্রাহকদের সঞ্চয় বা ডিপিএস নামে গ্রাহকদের বুঝিয়ে এগুলোয় বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে। ব্যাংকগুলোয় যেসব সঞ্চয় প্রকল্প রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রকল্প হচ্ছে ডিপোজিট পেনশন স্কিম (ডিপিএস)। প্রায় সব ব্যাংকেই এই প্রকল্পটি রয়েছে। সাধারণ সঞ্চয়ীরাও ডিপিএস নামটির সঙ্গেই বেশি পরিচিতি। এ কারণে সঞ্চয়কারীদের আকৃষ্ট করতে বিমা কোম্পানিগুলোও ডিপিএস নামে বিভিন্ন প্রকল্প চালু করেছে। এর মাধ্যমে তারা গ্রাহকদের কাছ থেকে বিমা পলিসির নামে আমানত সংগ্রহ করছে। কিন্তু গ্রাহকদের কাছে প্রচার করছে ডিপিএস নামে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, শুধু ব্যাংকগুলোই গ্রাহকদের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করতে পারবে। এজন্য আকর্ষণীয় সঞ্চয় প্রকল্পও চালু করতে পারবে। এছাড়া মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি আইন অনুযায়ী ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো এবং সমবায় আইন অনুযায়ী কো-অপারেটিভ সংস্থাগুলো কেবল তাদের সদস্যদের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করতে পারবে। আর বিমা কোম্পানিগুলো পলিসির আওতায় গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রিমিয়াম নিতে পারবে। কিন্তু তারা কোনো সঞ্চয়ী স্কিম চালু করতে পারে না। একই সঙ্গে গ্রাহকদের কাছ থেকে কোনো আমানতও নিতে পারবে না।

এর আগে বেআইনিভাবে আমানত নেওয়ার দায়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের আমানত সংগ্রহ প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছে। এর মধ্যে ২০০২ সালে ইসলামিক ট্রেড অ্যান্ড কমার্স লিমিটেড (আইটিসিএল) নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম, ২০০৫ সালে যুবকের সঞ্চয় প্রকল্প এবং ২০১০ সালে ডেসটিনির সঞ্চয় প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়া আরও কিছু প্রতিষ্ঠানের সঞ্চয়ী প্রকল্প বন্ধ করা হয়েছে। যেসব কো-অপারেটিভ সোসাইটি সদস্যদের বাইরে থেকে বেআইনিভাবে আমানত সংগ্রহ করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সমবায় অধিদপ্তরকে কয়েক দফা চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, বিমা খাত এখনো শৃঙ্খলার মধ্যে আসেনি। বিমা কোম্পানিগুলো পলিসি বিক্রি করতে মাঠপর্যায়ে অনেক কর্মী নিয়োগ দিয়েছে। যেগুলো শাখা থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়। বিমাকর্মীরা গ্রাহকদের কাছে ডিপিএস নামে বিমা পলিসির প্রচার চালায়। তারা আমানত সংগ্রহ করলে এবং এগুলো পরিশোধ করতে না পারলে ভবিষ্যতে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। এ বিষয়ে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, আইনত বিমা কোম্পানি ব্যাংকের মতো আমানত সংগ্রহ করতে পারে না। যেহেতু বিএফআইইউসহ অন্য সরকারি সংস্থাগুলো বিষয়টি নিয়ে ওয়াকিবহাল আছে, আশা করছি, তারা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন