ভোটের প্রস্তুতি শুরু জাতীয় পার্টির
jugantor
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
ভোটের প্রস্তুতি শুরু জাতীয় পার্টির
এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং ৩০০ আসনেই প্রার্থী ঠিক করে রাখার কথা ভাবছি ; বাকিটা সময় বলবে -জিএম কাদের

  শেখ মামুনুর রশীদ  

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। এরই অংশ হিসাবে বিভিন্ন ইস্যুতে জোরেশোরে মাঠে নেমেছেন দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। এছাড়া এখনই নিজেদের ঘর গোছাতে চায় দলটি। এ লক্ষ্যে একটি রোডম্যাপও তৈরি করা হয়েছে। যেটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামী বছর ফেব্রুয়ারির মধ্যে পার্টিকে একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো হবে। পাশাপাশি চূড়ান্ত করে রাখা হবে ৩০০ আসনের জন্য দলের প্রার্থী। জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে অংশগ্রহণের আপাতত প্রস্তুতি জাতীয় পার্টির। তবে অতীতের মতো জোটবদ্ধ নির্বাচনের পথটিও খোলা রাখবে তারা। ভোটের আগে দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে ধাবিত হয়- তার ওপর নির্ভর করেই নিবাচনি কৌশল প্রণয়ন করবে দলটি। জোট গঠন এবং আসন ভাগাভাগির বিষয়টিও ফয়সালা হবে তখন। এর আগে নেতাকর্মীদের সক্রিয় করে জাতীয় পার্টিকে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করাই এখন দলটির শীর্ষ নেতাদের প্রধান চাওয়া।

জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের সোমবার যুগান্তরকে বলেন, ‘জাতীয় পার্টি নির্বাচনমুখী দল। অতীতে নানান প্রতিকূলতার মধ্যেও আমরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পুরোদমে প্রস্তুতি চলছে। অতীতের মতো জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেব কি না তা দেশের ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় এবং রাজনীতির মেরুকরণ কী হয়, তা দেখেই আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব। এ বিষয়ে এখন আগাম বলা যাবে না কিছুই।’ তিনি আরও বলেন, আমরা আপাতত এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং এজন্য ৩০০ আসনেই প্রার্থী ঠিক করে রাখার কথা ভাবছি। বাকিটা সময় বলবে।

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য হাতে প্রায় আড়াই বছরের মতো সময় আছে। আমরা এই সময়টিকে কাজে লাগাতে চাই পুরোদমে। করোনা মহামারির কারণে অনেকটাই স্তিমিত ছিল দলীয় কর্মকাণ্ড। পরিস্থিতির উন্নতি ঘটায় এখন আমরা দলীয় কর্মকাণ্ডকে জোরদার করার কাজে মনোবিবেশ করেছি। এই সময়ের মধ্যে জাতীয় পার্টিকে সুসংগঠিত করার পাশাপাশি একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে চাই। এজন্য আগামী বছর ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত একটি কর্মপরিকল্পনাও প্রণয়ন করা হয়েছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৭ আগস্ট জাতীয় পার্টির অতিরিক্ত মহাসচিব ও বিভাগীয় সমন্বয়কারীদের একটি বৈঠক দলটির চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জেলা, উপজেলা, থানা ও পৌরসভাসহ তৃণমূল পর্যয়ের সম্মেলন শেষ করা সিদ্ধান্ত হয় ওই সভায়। বিভাগীয় কমিটিগুলোর তত্ত্বাবধানে এসব স্থানে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। কোথাও অনৈক্য, বিভেদ বা অন্য কোনো সমস্যা থাকলে- তা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে নিরসন করবে। এই সময়ের মধ্যে দলের অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর তৃণমূল পর্যায়ে সম্মেলনও শেষ করতে বলা হয়েছে। অতিরিক্ত মহাসচিব ও বিভাগীয় সমন্বয়কারীরা পুরো বিষয়টি দেখভাল করবেন।

সূত্র জানায়, এর আগে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে বিভাগীয় সমন্বয়কারী ও অতিরিক্ত মহাসচিবদের নেতৃত্বে আট বিভাগে সভা অনুষ্ঠিত হবে। মূলদলসহ অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর তৃণমূল পর্যায়ে সম্মেলন শেষ হলে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি আট বিভাগে বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের এবং মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুসহ দলটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ প্রতিনিধি সভাগুলোতে উপস্থিত থাকবেন। এর আগে চলমান স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও দলীয় প্রতীকে অংশ নেবে জাতীয় পার্টি। অতিরিক্ত মহাসচিব ও বিভাগীয় সমন্বয়কারীদের ওই বৈঠক থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে সর্বশক্তি নিয়োগ করে মাঠে থাকতে বলা হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে প্রধান করে একটি টিমও তৈরি করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাতে গড়া রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টির জন্য আগামী নির্বাচন একটি বড় ধরনের অগ্নিপরীক্ষা। আগের দুটি নির্বাচনে তার নেতৃত্বেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ভোটে অংশ নেয় দলটি। পরপর দু’বার প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসে জাতীয় পার্টি। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রয়াত হয়েছেন প্রায় দুই বছরেরও বেশি সময়। জাতীয় পার্টির হাল ধরেছেন তার সহোদর, সজ্জন রাজনীতিবিদ হিসাবে পরিচিত জিএম কাদের। আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টির অবস্থান কী হবে, প্রাপ্তির হিসাবে কী যোগ হবে তা বলার সময় আসেনি এখনও। তবে কাণ্ডারি হিসাবে জিএম কাদেরকে যে কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে এ নিয়ে সন্দেহ নেই কারও মনে।

জাতীয় পার্টির একাধিক নেতার ভাষায়, বিষয়টি মাথায় রেখেই জিএম কাদের আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সর্বাত্মক প্রস্তুতি শুরু করেছেকন। ভোটের রাজনীতিতে দলের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে বেশ আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছে তিনি। অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন জাতীয় পার্টির নীতিনির্ধারকরাও। তাদের মতে, নির্বাচনের জন্য হাতে দুই বছরের বেশি সময় থাকলেও জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী সংগঠন হিসাবে গড়ে তোলাই হচ্ছে এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

জাতীয় পার্টির নীতিনির্ধারকদের মতে, নব্বইয়ের পর এবারই সবচেয়ে বেশি সুসময় অপেক্ষা করছে জাতীয় পার্টির সামনে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন এবং পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা না-করা নিয়ে দলটির মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কাজ করলেও এবার আর সেই দ্বিধা-দ্বন্দ্ব নেই। কে অংশ নিল, আর কে নিল না এ চিন্তা মাথায় না নিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বশক্তি দিয়ে লড়াইয়ের কথা ভাবছে জাতীয় পার্টি। সে অনুযায়ী দল গোছানো, প্রার্থী ঠিক করা, কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে পার্টিকে শক্তিশালী করাসহ নানা উদ্যোগ চলছে। তৃণমূলে পার্টি এবং প্রার্থীর অবস্থান জানার জন্য এবারই প্রথম মাঠপর্যায়ে জরিপ চালানোর কথা ভাবছে জাতীয় পার্টি।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

ভোটের প্রস্তুতি শুরু জাতীয় পার্টির

এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং ৩০০ আসনেই প্রার্থী ঠিক করে রাখার কথা ভাবছি ; বাকিটা সময় বলবে -জিএম কাদের
 শেখ মামুনুর রশীদ 
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। এরই অংশ হিসাবে বিভিন্ন ইস্যুতে জোরেশোরে মাঠে নেমেছেন দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। এছাড়া এখনই নিজেদের ঘর গোছাতে চায় দলটি। এ লক্ষ্যে একটি রোডম্যাপও তৈরি করা হয়েছে। যেটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামী বছর ফেব্রুয়ারির মধ্যে পার্টিকে একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো হবে। পাশাপাশি চূড়ান্ত করে রাখা হবে ৩০০ আসনের জন্য দলের প্রার্থী। জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে অংশগ্রহণের আপাতত প্রস্তুতি জাতীয় পার্টির। তবে অতীতের মতো জোটবদ্ধ নির্বাচনের পথটিও খোলা রাখবে তারা। ভোটের আগে দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে ধাবিত হয়- তার ওপর নির্ভর করেই নিবাচনি কৌশল প্রণয়ন করবে দলটি। জোট গঠন এবং আসন ভাগাভাগির বিষয়টিও ফয়সালা হবে তখন। এর আগে নেতাকর্মীদের সক্রিয় করে জাতীয় পার্টিকে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করাই এখন দলটির শীর্ষ নেতাদের প্রধান চাওয়া।

জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের সোমবার যুগান্তরকে বলেন, ‘জাতীয় পার্টি নির্বাচনমুখী দল। অতীতে নানান প্রতিকূলতার মধ্যেও আমরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পুরোদমে প্রস্তুতি চলছে। অতীতের মতো জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেব কি না তা দেশের ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় এবং রাজনীতির মেরুকরণ কী হয়, তা দেখেই আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব। এ বিষয়ে এখন আগাম বলা যাবে না কিছুই।’ তিনি আরও বলেন, আমরা আপাতত এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং এজন্য ৩০০ আসনেই প্রার্থী ঠিক করে রাখার কথা ভাবছি। বাকিটা সময় বলবে।

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য হাতে প্রায় আড়াই বছরের মতো সময় আছে। আমরা এই সময়টিকে কাজে লাগাতে চাই পুরোদমে। করোনা মহামারির কারণে অনেকটাই স্তিমিত ছিল দলীয় কর্মকাণ্ড। পরিস্থিতির উন্নতি ঘটায় এখন আমরা দলীয় কর্মকাণ্ডকে জোরদার করার কাজে মনোবিবেশ করেছি। এই সময়ের মধ্যে জাতীয় পার্টিকে সুসংগঠিত করার পাশাপাশি একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে চাই। এজন্য আগামী বছর ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত একটি কর্মপরিকল্পনাও প্রণয়ন করা হয়েছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৭ আগস্ট জাতীয় পার্টির অতিরিক্ত মহাসচিব ও বিভাগীয় সমন্বয়কারীদের একটি বৈঠক দলটির চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জেলা, উপজেলা, থানা ও পৌরসভাসহ তৃণমূল পর্যয়ের সম্মেলন শেষ করা সিদ্ধান্ত হয় ওই সভায়। বিভাগীয় কমিটিগুলোর তত্ত্বাবধানে এসব স্থানে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। কোথাও অনৈক্য, বিভেদ বা অন্য কোনো সমস্যা থাকলে- তা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে নিরসন করবে। এই সময়ের মধ্যে দলের অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর তৃণমূল পর্যায়ে সম্মেলনও শেষ করতে বলা হয়েছে। অতিরিক্ত মহাসচিব ও বিভাগীয় সমন্বয়কারীরা পুরো বিষয়টি দেখভাল করবেন।

সূত্র জানায়, এর আগে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে বিভাগীয় সমন্বয়কারী ও অতিরিক্ত মহাসচিবদের নেতৃত্বে আট বিভাগে সভা অনুষ্ঠিত হবে। মূলদলসহ অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর তৃণমূল পর্যায়ে সম্মেলন শেষ হলে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি আট বিভাগে বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের এবং মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুসহ দলটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ প্রতিনিধি সভাগুলোতে উপস্থিত থাকবেন। এর আগে চলমান স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও দলীয় প্রতীকে অংশ নেবে জাতীয় পার্টি। অতিরিক্ত মহাসচিব ও বিভাগীয় সমন্বয়কারীদের ওই বৈঠক থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে সর্বশক্তি নিয়োগ করে মাঠে থাকতে বলা হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে প্রধান করে একটি টিমও তৈরি করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাতে গড়া রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টির জন্য আগামী নির্বাচন একটি বড় ধরনের অগ্নিপরীক্ষা। আগের দুটি নির্বাচনে তার নেতৃত্বেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ভোটে অংশ নেয় দলটি। পরপর দু’বার প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসে জাতীয় পার্টি। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রয়াত হয়েছেন প্রায় দুই বছরেরও বেশি সময়। জাতীয় পার্টির হাল ধরেছেন তার সহোদর, সজ্জন রাজনীতিবিদ হিসাবে পরিচিত জিএম কাদের। আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টির অবস্থান কী হবে, প্রাপ্তির হিসাবে কী যোগ হবে তা বলার সময় আসেনি এখনও। তবে কাণ্ডারি হিসাবে জিএম কাদেরকে যে কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে এ নিয়ে সন্দেহ নেই কারও মনে।

জাতীয় পার্টির একাধিক নেতার ভাষায়, বিষয়টি মাথায় রেখেই জিএম কাদের আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সর্বাত্মক প্রস্তুতি শুরু করেছেকন। ভোটের রাজনীতিতে দলের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে বেশ আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছে তিনি। অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন জাতীয় পার্টির নীতিনির্ধারকরাও। তাদের মতে, নির্বাচনের জন্য হাতে দুই বছরের বেশি সময় থাকলেও জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী সংগঠন হিসাবে গড়ে তোলাই হচ্ছে এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

জাতীয় পার্টির নীতিনির্ধারকদের মতে, নব্বইয়ের পর এবারই সবচেয়ে বেশি সুসময় অপেক্ষা করছে জাতীয় পার্টির সামনে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন এবং পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা না-করা নিয়ে দলটির মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কাজ করলেও এবার আর সেই দ্বিধা-দ্বন্দ্ব নেই। কে অংশ নিল, আর কে নিল না এ চিন্তা মাথায় না নিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বশক্তি দিয়ে লড়াইয়ের কথা ভাবছে জাতীয় পার্টি। সে অনুযায়ী দল গোছানো, প্রার্থী ঠিক করা, কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে পার্টিকে শক্তিশালী করাসহ নানা উদ্যোগ চলছে। তৃণমূলে পার্টি এবং প্রার্থীর অবস্থান জানার জন্য এবারই প্রথম মাঠপর্যায়ে জরিপ চালানোর কথা ভাবছে জাতীয় পার্টি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন