বৈষম্য কমাতে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হোন
jugantor
পাঁচ বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী
বৈষম্য কমাতে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হোন
অশুভ শক্তি যাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে দেশকে পিছিয়ে দিতে না পারে সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে

  বাসস  

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বিদ্যুৎ খাতে তার সরকারের দেওয়া ভর্তুকির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হলে আরও বেশিসংখ্যক মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার মাধ্যমে গ্রাম ও শহরের বৈষম্য আরও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

একই সঙ্গে সরকারের উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত রাখার জন্য অশুভ কোনো শক্তি যাতে এ দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে দেশকে যেন আবার সেই দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে পিছিয়ে দিতে না পারে সে ব্যাপারেও দেশবাসীকে সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার সকালে ৭৭৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঁচটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে বিদ্যুৎ ভবনে বিদ্যুৎ বিভাগ আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে সংযুক্ত হয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন। এই সময় সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোও ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিল।

নতুন পাঁচটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে-৪০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র হবিগঞ্জের জুলদায় বিবিয়ানা-৩, চট্টগ্রাম ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র ইউনিট-২, নারায়ণগঞ্জে মেঘনাঘাট ১০৪ মেগাওয়াট পাওয়ার প্লান্ট, বাগেরহাটে মধুমতি ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সিলেটের ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উত্তরণ। বর্তমানে বিদ্যুৎ গ্রাহক ৪ কোটি ৯ লাখ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ার ফলে গ্রাম পর্যায়েও তার সরকার নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে পারায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর নাগরিক সুবিধা অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল। মানুষের মাঝে বৈষম্য কমিয়ে আনাই ছিল সেই স্বপ্ন, এই সুযোগ তার সরকার সৃষ্টি করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি তার খরচ অনেক বেশি। আমরা গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করতে ব্যাপক হারে ভর্তুকি দিচ্ছি। উৎপাদনের যে খরচ সেটা কিন্তু বিদ্যুৎ বিল হিসেবে আপনাদের দিতে হচ্ছে না। অনেক কম টাকা বিল নেওয়া হয়। সবাইকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতন হওয়ার অনুরোধ করব। যখন লাগবে না নিজের হাতেই বিদ্যুতের সুইচগুলো বন্ধ করে রাখবেন। তাতে বিল কম আসবে, আপনাকেও টাকা কম দিতে হবে। আমাদেরও বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। আগামীতে দেশে বিদ্যুৎচালিত মেট্রোরেল চালু হবে, পর্যায়ক্রমে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎচালিত যানবাহনের ব্যবস্থা সরকার করবে, বিদ্যুৎচালিত গাড়ি উৎপাদন হবে দেশে, রেল খাতকে ধীরে ধীরে বিদ্যুৎচালিত খাতে নিয়ে আসাসহ এ রকম ভবিষ্যতের বহু পরিকল্পনা তার সরকারের রয়েছে। তিনি বলেন, ‘কাজেই বিদ্যুৎ সব সময় আমাদের লাগবে। অতীতের ৩ হাজার ২শ মেগাওয়াট থেকে আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে দৈনিক ২৫ হাজার ২৩৫ মেগাওয়াট হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, বিদ্যুৎ সচিব হাবিবুর রহমান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে নবনির্মিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ওপর ভিডিওচিত্র প্রদর্শিত হয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কাযক্রম সম্পর্কিত প্রকাশনা ‘হান্ড্রেড’র মোড়ক উন্মোচন করেন। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। জনগণের আর্থিক সংগতি ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন একেবারে গ্রামের মানুষও টেলিভিশন, ফ্রিজ, এমনকি এসিও ব্যবহার করে। সক্ষমতা আরও বাড়ুক সেটাই আমি চাই। গ্রাম ও শহরের বৈষম্য যেন আর না থাকে ও গ্রামের মানুষ যাতে সব ধরনের সুযোগ-সুুবিধা পায়, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সব সময় তো আর প্রধানমন্ত্রী থাকবেন না। কারণ ক্ষমতার মেয়াদকাল মাত্র ৫ বছর। কাজেই যখন ক্ষমতায় থাকবেন না তখন তো আবার নিজের মতোই চলতে হবে। তাই বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার অভ্যাসটা যাতে নষ্ট না হয় সেদিকে তিনি লক্ষ্য রাখেন বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সবাইকে বলব, মিতব্যয়ী হন যেটা সাশ্রয় হবে সেটা দিয়ে আমরা হয়তো আরেকটা গরিব মানুষকে সহায়তা দিতে পারব এবং দেশ এগিয়ে যাবে। আর এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী চলমান কোভিড-১৯ প্রতিরোধে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার এবং বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহারের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেন। তার সরকার টিকা কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে এবং দেশের একজনও যাতে টিকা দেওয়া থেকে বাদ না পড়ে সেজন্য যত লাগে সরকার সংগ্রহ করবে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন বলেই আমরা অর্থনীতির গতিটা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে জাতির পিতার অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা সদ্যস্বাধীন, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের অবকাঠামো ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ১৯৭২-এর ১ মে প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডার (পিও-৫৯) জারির মাধ্যমে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড গঠন করেন। তিনি গ্রামে গ্রামে বিদ্যুতায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং পল্লী বিদ্যুতের ব্যবস্থাটাও তার হাতেই শুরু।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি এত উন্নয়ন করার পরও কিছু কিছু লোকের মুখে কিছু কথা যখন শুনি মনে হয় যেন সেসব সুরে কথা বলার প্রতিধ্বনিটাই আমি শুনতে পাই। সেসব শ্রেণির লোকরা কিন্তু সমালোচনা করেই যায়। যদিও আমি এর পরোয়া করি না। কারণ দেশের জন্য, মানুষের জন্য আমার কাজ করতে হবে এবং জাতির পিতার যে স্বপ্ন এদেশকে ঘিরে, তা পূরণ করতে হবে।

সীমাহীন লোডশেডিং কাটিয়ে ভেঙে পড়া বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে পুনর্বিন্যাস করার এবং উন্নত করার প্রয়াস পায় তখনই যখন ’৯৬ সালে ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার আবার ক্ষমতায় আসে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, বেসরকারি খাতে দেশে প্রথম হরিপুর ৩৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র ‘পাওয়ার সেলে’র মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয় এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৪৩০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করি। শিল্প মালিকদের ডেকে নিজস্ব উদ্যোগে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকে সে সময় তার উৎসাহিত করার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। ২০০৬-এর জানুয়ারি মাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে বিদ্যুতের দাবিতে আন্দোলনে ১৮ জনকে হত্যাসহ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বিদ্যুতের উৎপাদন এক ইউনিটও না বাড়িয়ে উলটো কমিয়ে ফেলার পরিসংখ্যান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০০১ সালে ক্ষমতা থেকে যাওয়ার সময় তার সরকার দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ৪ হাজার ৩শ মেগাওয়াটে উন্নীত করলেও ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর দেশে বিদ্যুৎ পান মাত্র ৩ হাজার ২শ মেগাওয়াট।

পাঁচ বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী

বৈষম্য কমাতে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হোন

অশুভ শক্তি যাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে দেশকে পিছিয়ে দিতে না পারে সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে
 বাসস 
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বিদ্যুৎ খাতে তার সরকারের দেওয়া ভর্তুকির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হলে আরও বেশিসংখ্যক মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার মাধ্যমে গ্রাম ও শহরের বৈষম্য আরও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

একই সঙ্গে সরকারের উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত রাখার জন্য অশুভ কোনো শক্তি যাতে এ দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে দেশকে যেন আবার সেই দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে পিছিয়ে দিতে না পারে সে ব্যাপারেও দেশবাসীকে সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার সকালে ৭৭৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঁচটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে বিদ্যুৎ ভবনে বিদ্যুৎ বিভাগ আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে সংযুক্ত হয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন। এই সময় সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোও ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিল।

নতুন পাঁচটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে-৪০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র হবিগঞ্জের জুলদায় বিবিয়ানা-৩, চট্টগ্রাম ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র ইউনিট-২, নারায়ণগঞ্জে মেঘনাঘাট ১০৪ মেগাওয়াট পাওয়ার প্লান্ট, বাগেরহাটে মধুমতি ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সিলেটের ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উত্তরণ। বর্তমানে বিদ্যুৎ গ্রাহক ৪ কোটি ৯ লাখ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ার ফলে গ্রাম পর্যায়েও তার সরকার নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে পারায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর নাগরিক সুবিধা অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল। মানুষের মাঝে বৈষম্য কমিয়ে আনাই ছিল সেই স্বপ্ন, এই সুযোগ তার সরকার সৃষ্টি করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি তার খরচ অনেক বেশি। আমরা গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করতে ব্যাপক হারে ভর্তুকি দিচ্ছি। উৎপাদনের যে খরচ সেটা কিন্তু বিদ্যুৎ বিল হিসেবে আপনাদের দিতে হচ্ছে না। অনেক কম টাকা বিল নেওয়া হয়। সবাইকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতন হওয়ার অনুরোধ করব। যখন লাগবে না নিজের হাতেই বিদ্যুতের সুইচগুলো বন্ধ করে রাখবেন। তাতে বিল কম আসবে, আপনাকেও টাকা কম দিতে হবে। আমাদেরও বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। আগামীতে দেশে বিদ্যুৎচালিত মেট্রোরেল চালু হবে, পর্যায়ক্রমে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎচালিত যানবাহনের ব্যবস্থা সরকার করবে, বিদ্যুৎচালিত গাড়ি উৎপাদন হবে দেশে, রেল খাতকে ধীরে ধীরে বিদ্যুৎচালিত খাতে নিয়ে আসাসহ এ রকম ভবিষ্যতের বহু পরিকল্পনা তার সরকারের রয়েছে। তিনি বলেন, ‘কাজেই বিদ্যুৎ সব সময় আমাদের লাগবে। অতীতের ৩ হাজার ২শ মেগাওয়াট থেকে আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে দৈনিক ২৫ হাজার ২৩৫ মেগাওয়াট হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, বিদ্যুৎ সচিব হাবিবুর রহমান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে নবনির্মিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ওপর ভিডিওচিত্র প্রদর্শিত হয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কাযক্রম সম্পর্কিত প্রকাশনা ‘হান্ড্রেড’র মোড়ক উন্মোচন করেন। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। জনগণের আর্থিক সংগতি ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন একেবারে গ্রামের মানুষও টেলিভিশন, ফ্রিজ, এমনকি এসিও ব্যবহার করে। সক্ষমতা আরও বাড়ুক সেটাই আমি চাই। গ্রাম ও শহরের বৈষম্য যেন আর না থাকে ও গ্রামের মানুষ যাতে সব ধরনের সুযোগ-সুুবিধা পায়, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সব সময় তো আর প্রধানমন্ত্রী থাকবেন না। কারণ ক্ষমতার মেয়াদকাল মাত্র ৫ বছর। কাজেই যখন ক্ষমতায় থাকবেন না তখন তো আবার নিজের মতোই চলতে হবে। তাই বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার অভ্যাসটা যাতে নষ্ট না হয় সেদিকে তিনি লক্ষ্য রাখেন বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সবাইকে বলব, মিতব্যয়ী হন যেটা সাশ্রয় হবে সেটা দিয়ে আমরা হয়তো আরেকটা গরিব মানুষকে সহায়তা দিতে পারব এবং দেশ এগিয়ে যাবে। আর এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী চলমান কোভিড-১৯ প্রতিরোধে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার এবং বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহারের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেন। তার সরকার টিকা কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে এবং দেশের একজনও যাতে টিকা দেওয়া থেকে বাদ না পড়ে সেজন্য যত লাগে সরকার সংগ্রহ করবে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন বলেই আমরা অর্থনীতির গতিটা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে জাতির পিতার অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা সদ্যস্বাধীন, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের অবকাঠামো ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ১৯৭২-এর ১ মে প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডার (পিও-৫৯) জারির মাধ্যমে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড গঠন করেন। তিনি গ্রামে গ্রামে বিদ্যুতায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং পল্লী বিদ্যুতের ব্যবস্থাটাও তার হাতেই শুরু।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি এত উন্নয়ন করার পরও কিছু কিছু লোকের মুখে কিছু কথা যখন শুনি মনে হয় যেন সেসব সুরে কথা বলার প্রতিধ্বনিটাই আমি শুনতে পাই। সেসব শ্রেণির লোকরা কিন্তু সমালোচনা করেই যায়। যদিও আমি এর পরোয়া করি না। কারণ দেশের জন্য, মানুষের জন্য আমার কাজ করতে হবে এবং জাতির পিতার যে স্বপ্ন এদেশকে ঘিরে, তা পূরণ করতে হবে।

সীমাহীন লোডশেডিং কাটিয়ে ভেঙে পড়া বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে পুনর্বিন্যাস করার এবং উন্নত করার প্রয়াস পায় তখনই যখন ’৯৬ সালে ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার আবার ক্ষমতায় আসে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, বেসরকারি খাতে দেশে প্রথম হরিপুর ৩৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র ‘পাওয়ার সেলে’র মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয় এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৪৩০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করি। শিল্প মালিকদের ডেকে নিজস্ব উদ্যোগে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকে সে সময় তার উৎসাহিত করার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। ২০০৬-এর জানুয়ারি মাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে বিদ্যুতের দাবিতে আন্দোলনে ১৮ জনকে হত্যাসহ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বিদ্যুতের উৎপাদন এক ইউনিটও না বাড়িয়ে উলটো কমিয়ে ফেলার পরিসংখ্যান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০০১ সালে ক্ষমতা থেকে যাওয়ার সময় তার সরকার দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ৪ হাজার ৩শ মেগাওয়াটে উন্নীত করলেও ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর দেশে বিদ্যুৎ পান মাত্র ৩ হাজার ২শ মেগাওয়াট।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন