জিয়াকে আসামি করা উচিত ছিল
jugantor
বঙ্গবন্ধু হত্যা প্রসঙ্গে সংসদে প্রধানমন্ত্রী
জিয়াকে আসামি করা উচিত ছিল
জিয়া কারাগারে কত মানুষ হত্যা করেছে, তা খুঁজে বের করুন

  সংসদ প্রতিবেদক      

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার সঙ্গে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান জড়িত ছিলেন। তিনি বলেন, আমি তাকে মামলায় আসামি করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেসময় স্বরাষ্ট্র সচিব রেজাউল হায়াত বলেছিলেন, মৃত ব্যক্তিকে আসামি করা যায় না। আমার মনে হয়, তাকে আসামি করা উচিত ছিল। বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জিয়া যে ষড়যন্ত্রে জড়িত, সেটা বিবিসির ইন্টারভিউয়ে ফারুক-রশিদরাই স্বীকার করেছে। অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের বইয়ে আছে, লরেন্স লিফশুলজের বইয়ে আছে, এখন তারা কীভাবে অস্বীকার করবে? আর তাই যদি না করে তবে স্বাধীনতার পর যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছিল, তাদের সে ছেড়ে দিল কেন। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলের ৭ খুনের আসামিকেও মুক্ত করে দিল। এমন বহু ঘটনা সে ঘটিয়েছে। জিয়া সেই খুনিদের নিয়েই পরে দল করল।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় জিয়াউর রহমানের আমলে দেশে ‘সামরিক ক্যু’র ওজর তুলে বিভিন্ন কারাগারে কী পরিমাণ মানুষ হত্যা করা হয়েছে, তা খুঁজে বের করার জন্য সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জিয়ার আমলে ঢাকা, বগুড়া, রাজশাহী, খুলনা ও কুমিল্লা কারাগারে কত মানুষকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে, তা বের করতে আমাদের সংসদ সদস্যদের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। একটার পর একটা ক্যু আর শত শত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। সেনাবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর কতশত সৈনিক-কর্মকর্তা এবং মানুষকে সেসময় হত্যা করা হয়েছে। এগুলো তো (রেকর্ড) থেকে যায়, সেগুলো একটু খুঁজে বের করে দেখেন। একেক রাতে ফাঁসি দিতে দিতে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিল, এখনো এরকম লোক আছে। তিনি বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, এদের কাছ থেকে মানবাধিকারের কথা শুনতে হয়। এদের কাছে জ্ঞানের কথা, আইনের শাসনের কথা শুনতে হয়। অথচ আমি আমার বাবা-মা হত্যার জন্য মামলা করতে পারিনি। আমার কোনো অধিকার ছিল না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব। বাংলাদেশকে নিয়ে জাতির পিতা যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, আমরা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করব। কারণ আওয়ামী লীগ সরকারে এলে জনগণের কল্যাণ হয়। প্রধানমন্ত্রী এ সময় কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষায় যত টিকার প্রয়োজন, সরকার তার ব্যবস্থা করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, যারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে এক হয়ে এদেশে অগ্নিসংযোগ, হত্যা, খুন, ধর্ষণ করেছে, তাদেরকে মন্ত্রী, উপদেষ্টা করে সংসদে বসিয়েছিল। জাতির পিতার খুনিদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছিল। পরে এক ধাপ উপরে গিয়ে তার স্ত্রী খালেদা জিয়া কর্নেল রশিদ এবং হুদাকে এমপি বানিয়ে সংসদে বসিয়েছে। এই তো তাদের চরিত্র। খুনি, সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদ, যুদ্ধাপরাধী, ধর্ষণকারী-এদের নিয়েই তাদের চলাফেরা। গোলাম আযম পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে চলে গিয়েছিল। জিয়াউর রহমাান তাকে ফেরত নিয়ে এলো। আর বহুদলীয় গণতন্ত্র, জিয়ার নির্বাচন, ’৭৭-এর হ্যাঁ-না ভোট, ’৭৯-এর নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিচিত্রা তখন সরকারি পত্রিকা, সেখানে উঠল আওয়ামী লীগ ৪০টি সিট পাবে। অথচ তখন দল বলতে বাংলাদেশে একটাই ছিল আওয়ামী লীগ।

শেখ হাসিনা বলেন, ভোটের ওপর বাংলাদেশে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস জিয়াউর রহমানই নষ্ট করেছে। ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে লোন শোধ না করার কালচারও তার শুরু করা। মানুষকে দুর্নীতি করতেও তারাই শিখিয়েছে। মেধাবী ছাত্রদের এক হাতে পুরস্কার দিয়েছে, অন্যহাতে অস্ত্র, অর্থ তুলে দিয়ে বিপথে পাঠিয়েছে। জিয়া আসলে বহুদলীয় নয়, দেশে কারফিউ গণতন্ত্র দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ জিয়ার কবর নিয়ে কথা উঠেছে। জিয়ার মৃত্যুসংবাদের পর তার লাশ পাওয়া যায়নি। গায়েবানা জানাজা হয়েছিল। আর কয়েকদিন পর একটা বাক্স আনা হলো। তিনি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, কারও পরামর্শে এটি করা হয়। সাজিয়ে-গুছিয়ে একটা বাক্স নিয়ে এসে দেখানো হলো। তখন এই সংসদে বারবার প্রশ্ন এসেছে।

যদি লাশ পাওয়া যায় তবে লাশের ছবি থাকবে না কেন? প্রধানমন্ত্রী বলেন, মীর শওকত সেই লাশ শনাক্ত করেন। মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে তাকে চেনার কারণে প্রধানমন্ত্রী একদিন তাকে যে প্রশ্ন করেন, তার উদ্ধৃতি তুলে ধরেন তিনি। ‘সত্যি কথা বলেন তো, সে বলেছিল লাশ কোথায় পাব।’ এমনকি এরশাদকেও বারবার এবং মৃত্যুর কিছুদিন আগেও তিনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘আপনি যে একটা বাক্স নিয়ে এলেন, লাশটা কোথায় পেলেন।’ জবাবে এরশাদ বলেন, ‘বোন লাশ পাব কোথায়?’ আর কী বলব। কাজেই আজ যে কথাটা উঠেছে, তখন সেটা আমরা বারবার জানতে চেয়েছি এবং তখন যে বিএনপির নেতারা ছিল, তারা কী করে গেছে, সেটা আপনারাই দেখেন।

বিএনপির রুমিন ফারহানার বক্তব্যের একটি অংশের সঙ্গে তিনি একমত পোষণ করে বলেন, ইতিহাস ফিরে আসে। একদিন জাতির পিতার নাম মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল, ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা হয়েছিল, এমনকি ৭ মার্চের ভাষণটি পর্যন্ত এদেশে বাজাতে দেওয়া হতো না। তিনি বলেন, ২৫ মার্চ যখন সারা দেশে রাস্তায় ব্যারিকেড দেওয়া হচ্ছিল, চট্টগ্রামেও ব্যারিকেড দেওয়া হচ্ছিল। জিয়াউর রহমান তখন পাকিস্তানি সেনাদের হয়ে ব্যারিকেডদানকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছিল। এরপর সে গেল সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র নামাতে। সেখানে পাবলিক ঘেরাও দিয়ে তাকে আটকাল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার স্বাধীনতার ঘোষণা তৎকালীন ইপিআর ওয়্যারলেস এবং পুলিশ স্টেশনের মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে গেল। যে সংগ্রাম পরিষদ গঠন হয়েছিল, সেই নেতারা সেটা সংগ্রহ করে সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিল। জিয়াউর রহমান যে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টে ছিল, সেখানে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। যে কারণে সব থেকে বেশি মানুষ মারা গেছে সেখানে। এখনো ভাটিয়ারিতে সেই গণকবর রয়ে গেছে। সে যদি সঠিক সিদ্ধান্ত দিত, আমাদের সোলজাররা সেটার ব্যবস্থা নিতে পারত। কিন্তু তা সে করেনি, যা অন্যরা করেছিল। তিনি বলেন, ২৭ তারিখ সন্ধ্যায় জিয়াউর রহমান কেবল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেছিল।

‘হাড়িভাঙা আম’ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানোর জন্য বিএনপির সমালোচনার জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, দেখুন আমাদের পররাষ্ট্রনীতি হচ্ছে সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়। তিনি বলেন, আমি কেবল পাকিস্তান নয়, আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা এমনকি মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে সব দেশেই এই আম পাঠিয়েছি। কারণ আমাদের আম অত্যন্ত সুস্বাদু। একটা হচ্ছে বন্ধুত্বের নিদর্শন। আরেকটা হচ্ছে আমার এই উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণ, এটা বাস্তব কথা। দুইদিকেই আমাকে দেখতে হবে এবং আম কিন্তু সবাইকেই পাঠিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৭১ সালে পাকিস্তানি সেনারা আমাদের ওপর যে অত্যাচার করেছে, সেটা নিশ্চয়ই আমরা ভুলতে পারি না। সেটা ভুলে গিয়েছিল বিএনপি। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা, বঙ্গবন্ধু তাকে খেতাব দিয়েছে-সবই সত্যি। কিন্তু আদতে মুক্তিযুদ্ধে তার অবদানটা কী। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কর্নেল আসলাম বেগ জিয়াউর রহমানকে চিঠি দেয় এবং যে চিঠিও তার কাছে রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, কর্নেল আসলাম বেগ তখন ঢাকায় দায়িত্বরত ছিল, পরে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান হয়েছিল। সেই কর্নেল আসলাম বেগ জিয়াকে মুক্তিযুদ্ধকালীন ’৭১ সালে একটা চিঠি দেয়। সেই চিঠিতে সে লিখেছিল ‘আপনি খুব ভালো কাজ করছেন। আমরা আপনার কাজে সস্তষ্ট। আপনার স্ত্রী-পুত্রকে নিয়ে চিন্তা করবেন না। আপনাকে ভবিষ্যতে আরও কাজ দেওয়া হবে।’ এই চিঠি অতীতেও সংসদে পড়া হয়েছে, তারপরও তিনি সংসদে এনে উপস্থাপন করবেন যাতে সংসদীয় প্রসিডিংসের এটা একটা অংশ হয়ে থাকে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

মুজিববর্ষের ঘর কারা ভেঙেছে, দুদককে তদন্তের নির্দেশ : মুজিববর্ষের উপহার হিসাবে দেওয়া ঘর কারা ভেঙেছে, তা তদন্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশনকে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমি দুর্নীতি দমন কমিশনকে বলব যে কয়টা ঘর, এই যে ৩০০ ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, প্রত্যেকটার তদন্ত তাদের করতে হবে এবং রিপোর্ট দিতে হবে। এটাই আমার কথা। তাদের রিপোর্ট দিতে হবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় সারা দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীন ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬২২টি পরিবারের তালিকা করে তাদের জমিসহ ঘর উপহার দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু বর্ষার শুরুতে কয়েকটি স্থানে ভূমিধসে ঘর ভেঙে পড়ায় এবং কয়েকটি ঘরে ফাটল দেখা দেওয়ায় নির্মাণের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পাশাপাশি অনিয়ম-দুর্নীতিরও কিছু অভিযোগ আসে।

অভিযোগ তদন্ত করে সেসময় পাঁচজন সরকারি কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়। সম্প্রতি খবর আসে, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার হিরণ ইউনিয়নের বর্ষাপাড়া গ্রামে ওবাইদুল বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তি তার বরাদ্দ পাওয়া ঘর ‘পছন্দ না হওয়ায়’ ভেঙে ফেলেছেন। আর্থিকভাবে সচ্ছল ওবাইদুল কীভাবে ওই ঘর পেলেন, তা নিয়েও তখন এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন আসে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা তদন্ত করেছি। দেখা গেছে নয়টি জায়গায় আমরা দুর্নীতি পেয়েছি। আর ১০ থেকে ১২টা জায়গায় যেখানে অতিবৃষ্টি হলো, সেই বৃষ্টির কারণে মাটি ধসে ঘর পড়ে গেছে। সেখানে কিন্তু আরও অনেক ঘর ছিল। আর প্রায় ৩০০টি জায়গায় প্রত্যেকটি ঘরের ছবি আমার কাছে আছে। তিনি আরও বলেন, তদন্ত করে দেখা গেছে, সেখানে দরজা জানালার উপরে হাতুড়ির আঘাত, ফ্লোরগুলো খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে ভাঙা। ইটের গাঁথুনির পিলার ভেঙে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এটা তো দুর্নীতির জন্য হয়নি।

এটা কারা করল? তবে হ্যাঁ, কারা করেছে, তদন্ত হচ্ছে। এর মধ্যে কিছু গ্রেফতার হয়েছে। যাদের গ্রেফতার করা হবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের একজন সংসদ সদস্য বললেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের লোক নাকি তাকে বলেছে, ‘আমরা তদন্ত করব কী? প্রধানমন্ত্রী এই কথা বলেছেন।’ কিন্তু যে ভেঙেছে তারও নিশ্চয়ই কোনো উদ্দেশ্য ছিল। এখানে দুর্নীতি দমন কমিশনের কোনো কর্মকর্তার তো এই কথা বলার কথা না। এই কথা যেই কর্মকর্তা বলেছে, যদি আমি জানতে পারি, তার ব্যাপারেও একটু খোঁজ নিতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, অবশ্যই এখানে দুর্নীতি করলে আমি সেই দুর্নীতি মানতে রাজি না। গরিবদের ঘর করে দেব আর সেখান থেকেও টাকা মেরে খাবে? সরকার ভূমিহীন-গৃহহীনদের জন্য এখন কংক্রিটের পিলার এবং স্টিলের ফ্রেম দিয়ে ঘর করে দিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেভাবে করে দেব, যাতে চট করে ভাঙতে না পারে। কারণ দরজা, জানালা, ফ্লোর সবকিছু ভাঙা। ছবি দেখলে বোঝা যায়।

টকশোতে কী বলল, ওসব নিয়ে আমি দেশ পরিচালনা করি না : প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিডিয়ায় কী লিখল আর টকশোতে কী বলল-ওসব নিয়ে আমি দেশ পরিচালনা করি না, আমি দেশ পরিচালনা করি অন্তর থেকে। তিনি বলেন, আছে কিছু লোক, আছে না? যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা। এই অবস্থায় কিছু লোক ভোগে। আর কিছু লোক আছে হতাশায় ভোগে।

তিনি বলেন, আমার বাবা এই দেশ স্বাধীন করেছেন। এই দেশের দরিদ্র মানুষের জন্য বছরের পর বছর তিনি জেল খেটেছেন। নিজের জীবনটাকে উৎসর্গ করেছেন। সেই মানুষগুলোর জন্য কী কাজ করতে হবে, এটা শিখেছি আমার বাবার কাছ থেকে, মায়ের কাছ থেকে; আমি সেটাই কাজে লাগাই। মানুষ এর সুফল পাচ্ছে কি না, সেটা যাচাই করি। কে কী বলল, ওটা শুনে হতাশ হওয়া বা উৎসাহিত হওয়া আমার সাজে না, আমি করিও না। এটাই হলো বাস্তবতা।

বঙ্গবন্ধু হত্যা প্রসঙ্গে সংসদে প্রধানমন্ত্রী

জিয়াকে আসামি করা উচিত ছিল

জিয়া কারাগারে কত মানুষ হত্যা করেছে, তা খুঁজে বের করুন
 সংসদ প্রতিবেদক     
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার সঙ্গে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান জড়িত ছিলেন। তিনি বলেন, আমি তাকে মামলায় আসামি করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেসময় স্বরাষ্ট্র সচিব রেজাউল হায়াত বলেছিলেন, মৃত ব্যক্তিকে আসামি করা যায় না। আমার মনে হয়, তাকে আসামি করা উচিত ছিল। বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জিয়া যে ষড়যন্ত্রে জড়িত, সেটা বিবিসির ইন্টারভিউয়ে ফারুক-রশিদরাই স্বীকার করেছে। অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের বইয়ে আছে, লরেন্স লিফশুলজের বইয়ে আছে, এখন তারা কীভাবে অস্বীকার করবে? আর তাই যদি না করে তবে স্বাধীনতার পর যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছিল, তাদের সে ছেড়ে দিল কেন। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলের ৭ খুনের আসামিকেও মুক্ত করে দিল। এমন বহু ঘটনা সে ঘটিয়েছে। জিয়া সেই খুনিদের নিয়েই পরে দল করল।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় জিয়াউর রহমানের আমলে দেশে ‘সামরিক ক্যু’র ওজর তুলে বিভিন্ন কারাগারে কী পরিমাণ মানুষ হত্যা করা হয়েছে, তা খুঁজে বের করার জন্য সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জিয়ার আমলে ঢাকা, বগুড়া, রাজশাহী, খুলনা ও কুমিল্লা কারাগারে কত মানুষকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে, তা বের করতে আমাদের সংসদ সদস্যদের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। একটার পর একটা ক্যু আর শত শত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। সেনাবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর কতশত সৈনিক-কর্মকর্তা এবং মানুষকে সেসময় হত্যা করা হয়েছে। এগুলো তো (রেকর্ড) থেকে যায়, সেগুলো একটু খুঁজে বের করে দেখেন। একেক রাতে ফাঁসি দিতে দিতে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিল, এখনো এরকম লোক আছে। তিনি বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, এদের কাছ থেকে মানবাধিকারের কথা শুনতে হয়। এদের কাছে জ্ঞানের কথা, আইনের শাসনের কথা শুনতে হয়। অথচ আমি আমার বাবা-মা হত্যার জন্য মামলা করতে পারিনি। আমার কোনো অধিকার ছিল না। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব। বাংলাদেশকে নিয়ে জাতির পিতা যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, আমরা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করব। কারণ আওয়ামী লীগ সরকারে এলে জনগণের কল্যাণ হয়। প্রধানমন্ত্রী এ সময় কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষায় যত টিকার প্রয়োজন, সরকার তার ব্যবস্থা করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, যারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে এক হয়ে এদেশে অগ্নিসংযোগ, হত্যা, খুন, ধর্ষণ করেছে, তাদেরকে মন্ত্রী, উপদেষ্টা করে সংসদে বসিয়েছিল। জাতির পিতার খুনিদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছিল। পরে এক ধাপ উপরে গিয়ে তার স্ত্রী খালেদা জিয়া কর্নেল রশিদ এবং হুদাকে এমপি বানিয়ে সংসদে বসিয়েছে। এই তো তাদের চরিত্র। খুনি, সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদ, যুদ্ধাপরাধী, ধর্ষণকারী-এদের নিয়েই তাদের চলাফেরা। গোলাম আযম পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে চলে গিয়েছিল। জিয়াউর রহমাান তাকে ফেরত নিয়ে এলো। আর বহুদলীয় গণতন্ত্র, জিয়ার নির্বাচন, ’৭৭-এর হ্যাঁ-না ভোট, ’৭৯-এর নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিচিত্রা তখন সরকারি পত্রিকা, সেখানে উঠল আওয়ামী লীগ ৪০টি সিট পাবে। অথচ তখন দল বলতে বাংলাদেশে একটাই ছিল আওয়ামী লীগ। 

শেখ হাসিনা বলেন, ভোটের ওপর বাংলাদেশে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস জিয়াউর রহমানই নষ্ট করেছে। ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে লোন শোধ না করার কালচারও তার শুরু করা। মানুষকে দুর্নীতি করতেও তারাই শিখিয়েছে। মেধাবী ছাত্রদের এক হাতে পুরস্কার দিয়েছে, অন্যহাতে অস্ত্র, অর্থ তুলে দিয়ে বিপথে পাঠিয়েছে। জিয়া আসলে বহুদলীয় নয়, দেশে কারফিউ গণতন্ত্র দিয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ জিয়ার কবর নিয়ে কথা উঠেছে। জিয়ার মৃত্যুসংবাদের পর তার লাশ পাওয়া যায়নি। গায়েবানা জানাজা হয়েছিল। আর কয়েকদিন পর একটা বাক্স আনা হলো। তিনি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, কারও পরামর্শে এটি করা হয়। সাজিয়ে-গুছিয়ে একটা বাক্স নিয়ে এসে দেখানো হলো। তখন এই সংসদে বারবার প্রশ্ন এসেছে।

যদি লাশ পাওয়া যায় তবে লাশের ছবি থাকবে না কেন? প্রধানমন্ত্রী বলেন, মীর শওকত সেই লাশ শনাক্ত করেন। মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে তাকে চেনার কারণে প্রধানমন্ত্রী একদিন তাকে যে প্রশ্ন করেন, তার উদ্ধৃতি তুলে ধরেন তিনি। ‘সত্যি কথা বলেন তো, সে বলেছিল লাশ কোথায় পাব।’ এমনকি এরশাদকেও বারবার এবং মৃত্যুর কিছুদিন আগেও তিনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘আপনি যে একটা বাক্স নিয়ে এলেন, লাশটা কোথায় পেলেন।’ জবাবে এরশাদ বলেন, ‘বোন লাশ পাব কোথায়?’ আর কী বলব। কাজেই আজ যে কথাটা উঠেছে, তখন সেটা আমরা বারবার জানতে চেয়েছি এবং তখন যে বিএনপির নেতারা ছিল, তারা কী করে গেছে, সেটা আপনারাই দেখেন।

বিএনপির রুমিন ফারহানার বক্তব্যের একটি অংশের সঙ্গে তিনি একমত পোষণ করে বলেন, ইতিহাস ফিরে আসে। একদিন জাতির পিতার নাম মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল, ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা হয়েছিল, এমনকি ৭ মার্চের ভাষণটি পর্যন্ত এদেশে বাজাতে দেওয়া হতো না। তিনি বলেন, ২৫ মার্চ যখন সারা দেশে রাস্তায় ব্যারিকেড দেওয়া হচ্ছিল, চট্টগ্রামেও ব্যারিকেড দেওয়া হচ্ছিল। জিয়াউর রহমান তখন পাকিস্তানি সেনাদের হয়ে ব্যারিকেডদানকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছিল। এরপর সে গেল সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র নামাতে। সেখানে পাবলিক ঘেরাও দিয়ে তাকে আটকাল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার স্বাধীনতার ঘোষণা তৎকালীন ইপিআর ওয়্যারলেস এবং পুলিশ স্টেশনের মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে গেল। যে সংগ্রাম পরিষদ গঠন হয়েছিল, সেই নেতারা সেটা সংগ্রহ করে সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিল। জিয়াউর রহমান যে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টে ছিল, সেখানে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। যে কারণে সব থেকে বেশি মানুষ মারা গেছে সেখানে। এখনো ভাটিয়ারিতে সেই গণকবর রয়ে গেছে। সে যদি সঠিক সিদ্ধান্ত দিত, আমাদের সোলজাররা সেটার ব্যবস্থা নিতে পারত। কিন্তু তা সে করেনি, যা অন্যরা করেছিল। তিনি বলেন, ২৭ তারিখ সন্ধ্যায় জিয়াউর রহমান কেবল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেছিল। 

‘হাড়িভাঙা আম’ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানোর জন্য বিএনপির সমালোচনার জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, দেখুন আমাদের পররাষ্ট্রনীতি হচ্ছে সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়। তিনি বলেন, আমি কেবল পাকিস্তান নয়, আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা এমনকি মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে সব দেশেই এই আম পাঠিয়েছি। কারণ আমাদের আম অত্যন্ত সুস্বাদু। একটা হচ্ছে বন্ধুত্বের নিদর্শন। আরেকটা হচ্ছে আমার এই উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণ, এটা বাস্তব কথা। দুইদিকেই আমাকে দেখতে হবে এবং আম কিন্তু সবাইকেই পাঠিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৭১ সালে পাকিস্তানি সেনারা আমাদের ওপর যে অত্যাচার করেছে, সেটা নিশ্চয়ই আমরা ভুলতে পারি না। সেটা ভুলে গিয়েছিল বিএনপি। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা, বঙ্গবন্ধু তাকে খেতাব দিয়েছে-সবই সত্যি। কিন্তু আদতে মুক্তিযুদ্ধে তার অবদানটা কী। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কর্নেল আসলাম বেগ জিয়াউর রহমানকে চিঠি দেয় এবং যে চিঠিও তার কাছে রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, কর্নেল আসলাম বেগ তখন ঢাকায় দায়িত্বরত ছিল, পরে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান হয়েছিল। সেই কর্নেল আসলাম বেগ জিয়াকে মুক্তিযুদ্ধকালীন ’৭১ সালে একটা চিঠি দেয়। সেই চিঠিতে সে লিখেছিল ‘আপনি খুব ভালো কাজ করছেন। আমরা আপনার কাজে সস্তষ্ট। আপনার স্ত্রী-পুত্রকে নিয়ে চিন্তা করবেন না। আপনাকে ভবিষ্যতে আরও কাজ দেওয়া হবে।’ এই চিঠি অতীতেও সংসদে পড়া হয়েছে, তারপরও তিনি সংসদে এনে উপস্থাপন করবেন যাতে সংসদীয় প্রসিডিংসের এটা একটা অংশ হয়ে থাকে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

মুজিববর্ষের ঘর কারা ভেঙেছে, দুদককে তদন্তের নির্দেশ : মুজিববর্ষের উপহার হিসাবে দেওয়া ঘর কারা ভেঙেছে, তা তদন্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশনকে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমি দুর্নীতি দমন কমিশনকে বলব যে কয়টা ঘর, এই যে ৩০০ ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, প্রত্যেকটার তদন্ত তাদের করতে হবে এবং রিপোর্ট দিতে হবে। এটাই আমার কথা। তাদের রিপোর্ট দিতে হবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় সারা দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীন ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬২২টি পরিবারের তালিকা করে তাদের জমিসহ ঘর উপহার দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু বর্ষার শুরুতে কয়েকটি স্থানে ভূমিধসে ঘর ভেঙে পড়ায় এবং কয়েকটি ঘরে ফাটল দেখা দেওয়ায় নির্মাণের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পাশাপাশি অনিয়ম-দুর্নীতিরও কিছু অভিযোগ আসে।

অভিযোগ তদন্ত করে সেসময় পাঁচজন সরকারি কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়। সম্প্রতি খবর আসে, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার হিরণ ইউনিয়নের বর্ষাপাড়া গ্রামে ওবাইদুল বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তি তার বরাদ্দ পাওয়া ঘর ‘পছন্দ না হওয়ায়’ ভেঙে ফেলেছেন। আর্থিকভাবে সচ্ছল ওবাইদুল কীভাবে ওই ঘর পেলেন, তা নিয়েও তখন এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন আসে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা তদন্ত করেছি। দেখা গেছে নয়টি জায়গায় আমরা দুর্নীতি পেয়েছি। আর ১০ থেকে ১২টা জায়গায় যেখানে অতিবৃষ্টি হলো, সেই বৃষ্টির কারণে মাটি ধসে ঘর পড়ে গেছে। সেখানে কিন্তু আরও অনেক ঘর ছিল। আর প্রায় ৩০০টি জায়গায় প্রত্যেকটি ঘরের ছবি আমার কাছে আছে। তিনি আরও বলেন, তদন্ত করে দেখা গেছে, সেখানে দরজা জানালার উপরে হাতুড়ির আঘাত, ফ্লোরগুলো খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে ভাঙা। ইটের গাঁথুনির পিলার ভেঙে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এটা তো দুর্নীতির জন্য হয়নি।

এটা কারা করল? তবে হ্যাঁ, কারা করেছে, তদন্ত হচ্ছে। এর মধ্যে কিছু গ্রেফতার হয়েছে। যাদের গ্রেফতার করা হবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের একজন সংসদ সদস্য বললেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের লোক নাকি তাকে বলেছে, ‘আমরা তদন্ত করব কী? প্রধানমন্ত্রী এই কথা বলেছেন।’ কিন্তু যে ভেঙেছে তারও নিশ্চয়ই কোনো উদ্দেশ্য ছিল। এখানে দুর্নীতি দমন কমিশনের কোনো কর্মকর্তার তো এই কথা বলার কথা না। এই কথা যেই কর্মকর্তা বলেছে, যদি আমি জানতে পারি, তার ব্যাপারেও একটু খোঁজ নিতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, অবশ্যই এখানে দুর্নীতি করলে আমি সেই দুর্নীতি মানতে রাজি না। গরিবদের ঘর করে দেব আর সেখান থেকেও টাকা মেরে খাবে? সরকার ভূমিহীন-গৃহহীনদের জন্য এখন কংক্রিটের পিলার এবং স্টিলের ফ্রেম দিয়ে ঘর করে দিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেভাবে করে দেব, যাতে চট করে ভাঙতে না পারে। কারণ দরজা, জানালা, ফ্লোর সবকিছু ভাঙা। ছবি দেখলে বোঝা যায়।

টকশোতে কী বলল, ওসব নিয়ে আমি দেশ পরিচালনা করি না : প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিডিয়ায় কী লিখল আর টকশোতে কী বলল-ওসব নিয়ে আমি দেশ পরিচালনা করি না, আমি দেশ পরিচালনা করি অন্তর থেকে। তিনি বলেন, আছে কিছু লোক, আছে না? যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা। এই অবস্থায় কিছু লোক ভোগে। আর কিছু লোক আছে হতাশায় ভোগে। 

তিনি বলেন, আমার বাবা এই দেশ স্বাধীন করেছেন। এই দেশের দরিদ্র মানুষের জন্য বছরের পর বছর তিনি জেল খেটেছেন। নিজের জীবনটাকে উৎসর্গ করেছেন। সেই মানুষগুলোর জন্য কী কাজ করতে হবে, এটা শিখেছি আমার বাবার কাছ থেকে, মায়ের কাছ থেকে; আমি সেটাই কাজে লাগাই। মানুষ এর সুফল পাচ্ছে কি না, সেটা যাচাই করি। কে কী বলল, ওটা শুনে হতাশ হওয়া বা উৎসাহিত হওয়া আমার সাজে না, আমি করিও না। এটাই হলো বাস্তবতা।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন