পণ্য পরিবহণ ধর্মঘট প্রত্যাহার
jugantor
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠক
পণ্য পরিবহণ ধর্মঘট প্রত্যাহার

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পণ্য পরিবহণ ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছে দুই সংগঠন। বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংগঠন দুটির নেতারা ধর্মঘটের কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা করেন।

তারা জানান, তাদের বেশির ভাগ দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। বাকি দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়টি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার থেকে ৭২ ঘণ্টার এ ধর্মঘট শুরু হয়। এদিকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর পণ্যবাহী পরিবহণ চলাচলের মধ্য দিয়ে পুরোনো চেহারায় ফিরেছে চট্টগ্রাম বন্দর। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, তারা ১৫টি দাবিদাওয়া আমাদের কাছে পাঠিয়েছিলেন। একটা কর্মসূচিও (৭২ ঘণ্টার কর্মবিরতি) দিয়েছিলেন।

সভায় আমরা তাদের দাবিদাওয়াগুলো শুনেছি। তারা যথাযথভাবে আমাদের কাছে উত্থাপন করেছেন। যে দাবিগুলো তাৎক্ষণিক বা এখনই বাস্তবায়ন করা উচিত বলে আমরা মনে করেছি, সেগুলোর ক্ষেত্রে বলেছি-আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। যেগুলো মনে করেছি সময় লাগবে, আমাদের সচিব মহোদয়রা নোট নিয়েছেন এবং তাদের মন্ত্রণালয় থেকে সেগুলোর ব্যবস্থা নেবেন।

তিনি বলেন, দাবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রসঙ্গ। সেটার বিষয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান একটি টাস্কফোর্স গঠন করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেটি সমাধান করবেন বলে জানিয়েছেন। অন্যান্য যে দাবি ছিল, তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনায় তারা সন্তুষ্ট হয়েছেন। তারা যেসব কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন, সেগুলো প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন।

ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়ে বাংলাদেশ ট্রাকচালক শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি তালুকদার মো. মনির সাংবাদিকদের বলেন, দীর্ঘ সময় অনুষ্ঠিত বৈঠকে অনেক বিষয় আলোচনা হয়েছে। আমাদের ১৫টি দাবির মধ্যে শুধু আয়কর বাড়ানোর বিষয়টি সমাধান হয়নি। অন্য সব দাবি মানা হয়েছে। আমাদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছি। এখন থেকে সব পরিবহণ মালিক-শ্রমিক কাজে নামবে।

ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের আগাম আয়কর নেওয়া বন্ধ করা, চালকদের লাইসেন্স দেওয়ার ব্যবস্থা করাসহ ১৫ দফা দাবিতে মঙ্গলবার ধর্মঘট শুরু হয়। ৭২ ঘণ্টার এই ধর্মঘট শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত চলার কথা ছিল। ধর্মঘটের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানামা চললেও ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান না থাকায় বন্দর থেকে পণ্য পরিবহণে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।

জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন, পুলিশের আইজি বেনজীর আহমেদ, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ, বিআরটিএ, অর্থ মন্ত্রণালয়, হাইওয়ে পুলিশ প্রতিনিধি এবং মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রম ব্যুরো জানায়, বুধবার দুপুরের পর বাংলাদেশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ নেতাদের পক্ষ থেকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়টি জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ৩৪ ঘণ্টা পর বন্দর থেকে পণ্য পরিবহণে অচলাবস্থা কাটতে শুরু করে। বিকাল ৪টা থেকে পণ্যবাহী গাড়ি চট্টগ্রাম বন্দরে আসা-যাওয়া শুরু হয়। এরপর বন্দরের এনসিটি ও সিসিটিতেও চলাচল শুরু হয় প্রাইম মুভার ও ট্রেইলরে কনটেইনার পরিবহণ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠক

পণ্য পরিবহণ ধর্মঘট প্রত্যাহার

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পণ্য পরিবহণ ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছে দুই সংগঠন। বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংগঠন দুটির নেতারা ধর্মঘটের কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা করেন।

তারা জানান, তাদের বেশির ভাগ দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। বাকি দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়টি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার থেকে ৭২ ঘণ্টার এ ধর্মঘট শুরু হয়। এদিকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর পণ্যবাহী পরিবহণ চলাচলের মধ্য দিয়ে পুরোনো চেহারায় ফিরেছে চট্টগ্রাম বন্দর। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, তারা ১৫টি দাবিদাওয়া আমাদের কাছে পাঠিয়েছিলেন। একটা কর্মসূচিও (৭২ ঘণ্টার কর্মবিরতি) দিয়েছিলেন।

সভায় আমরা তাদের দাবিদাওয়াগুলো শুনেছি। তারা যথাযথভাবে আমাদের কাছে উত্থাপন করেছেন। যে দাবিগুলো তাৎক্ষণিক বা এখনই বাস্তবায়ন করা উচিত বলে আমরা মনে করেছি, সেগুলোর ক্ষেত্রে বলেছি-আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। যেগুলো মনে করেছি সময় লাগবে, আমাদের সচিব মহোদয়রা নোট নিয়েছেন এবং তাদের মন্ত্রণালয় থেকে সেগুলোর ব্যবস্থা নেবেন।

তিনি বলেন, দাবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রসঙ্গ। সেটার বিষয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান একটি টাস্কফোর্স গঠন করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেটি সমাধান করবেন বলে জানিয়েছেন। অন্যান্য যে দাবি ছিল, তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনায় তারা সন্তুষ্ট হয়েছেন। তারা যেসব কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন, সেগুলো প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন।

ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়ে বাংলাদেশ ট্রাকচালক শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি তালুকদার মো. মনির সাংবাদিকদের বলেন, দীর্ঘ সময় অনুষ্ঠিত বৈঠকে অনেক বিষয় আলোচনা হয়েছে। আমাদের ১৫টি দাবির মধ্যে শুধু আয়কর বাড়ানোর বিষয়টি সমাধান হয়নি। অন্য সব দাবি মানা হয়েছে। আমাদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছি। এখন থেকে সব পরিবহণ মালিক-শ্রমিক কাজে নামবে।

ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের আগাম আয়কর নেওয়া বন্ধ করা, চালকদের লাইসেন্স দেওয়ার ব্যবস্থা করাসহ ১৫ দফা দাবিতে মঙ্গলবার ধর্মঘট শুরু হয়। ৭২ ঘণ্টার এই ধর্মঘট শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত চলার কথা ছিল। ধর্মঘটের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানামা চললেও ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান না থাকায় বন্দর থেকে পণ্য পরিবহণে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।

জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন, পুলিশের আইজি বেনজীর আহমেদ, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ, বিআরটিএ, অর্থ মন্ত্রণালয়, হাইওয়ে পুলিশ প্রতিনিধি এবং মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রম ব্যুরো জানায়, বুধবার দুপুরের পর বাংলাদেশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ নেতাদের পক্ষ থেকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়টি জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ৩৪ ঘণ্টা পর বন্দর থেকে পণ্য পরিবহণে অচলাবস্থা কাটতে শুরু করে। বিকাল ৪টা থেকে পণ্যবাহী গাড়ি চট্টগ্রাম বন্দরে আসা-যাওয়া শুরু হয়। এরপর বন্দরের এনসিটি ও সিসিটিতেও চলাচল শুরু হয় প্রাইম মুভার ও ট্রেইলরে কনটেইনার পরিবহণ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন