ইভ্যালির সম্পদ বিক্রি হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা
jugantor
ইভ্যালির সম্পদ বিক্রি হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গ্রাহক ঠকানোর অভিযোগে ইভ্যালির সম্পদ বিক্রি ও হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন হাইকোর্ট। এক গ্রাহকের আবেদনে বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়েছে-বিক্রি, হস্তান্তর বা অন্য কোনো উপায়ে ইভ্যালির সম্পদে কেউ হাত দিতে পারবে না। একইসঙ্গে ইভ্যালিকে কেন অবসায়ন করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাসিব হোসাইন জানান, ফরহাদ হোসেন নামের একজন গ্রাহক মে মাসে ইভ্যালিতে একটি ইলেকট্রনিক পণ্য অর্ডার করেন। তখনই পণ্যের মূল্য তিনি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করেন। বিনিময়ে ইভ্যালি তাকে একটি রশিদ দেয়। কিন্তু দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও পণ্যটি হস্তান্তর করেনি ইভ্যালি। প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা শুধু আশ্বাসই দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু টাকা বা পণ্য কোনোটিই দেয়নি। আবেদনে গ্রাহক ইভ্যালির অবসায়ন চান। তিনি বলেন, ফরহাদ হোসেনের আবেদনটি আদালত অ্যাডমিট করে আদেশ দেন। বলেছেন, ইভ্যালির যত সম্পদ আছে সেটা যেন বিক্রি বা হস্তান্তর না করা হয়। একইসঙ্গে ইভ্যালিকে কেন অবসায়ন করা হবে না তা জানতে চেয়ে আদালত রিট জারি করেছেন। রিটে বিবাদী করা হয়েছে-ইভ্যালি লিমিটেড, রেজিস্ট্রার জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস, বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, কনজ্যুমার রাইটস প্রটেকশন ব্যুরো, নগদ, বিকাশ, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন, ই-ক্যাব অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, বেসিস, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্য সচিবকে। এদিকে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থ পাচার বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। রিটে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। বুধবার দুই আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব এবং ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওছার রিট করেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ ব্যংকের গভর্নর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে। ব্যারিস্টার হুমায়ন কবির পল্লব বলেন, মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাতে অনলাইন পেমেন্টের সুবিধা, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধির সুযোগে ব্যাঙের ছাতার মতো ই-কমার্স ভিত্তিক অসংখ্য প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে ইভ্যালি, ধামাকা, আলেশা মার্ট, কিউকম, দালাল, ই-অরেঞ্জ, আলাদিনের প্রদীপ, দারাজ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
এসির জন্য রাসেল-শামীমার বিরুদ্ধে মামলা : ইভ্যালির রাসেল ও তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবদাস চন্দ্র অধিকারীর আদালতে মামলা করেছেন। ইভ্যালির গ্রাহক মো. মুজাহিদুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে নালিশি আবেদনটি ধানমন্ডি থানাকে এজাহার হিসাবে রেকর্ডের নির্দেশ দেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, গ্রাহক মুজাহিদুর ৮৫ হাজার টাকা মূল্যের এসি এবং ২৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি কাঠের টি টেবিল অর্ডার করেন। গত বছর ১১ জুলাই এসি বাবদ ৮৫ হাজার এবং ২২ জুলাই টেবিল বাবদ ২৩ হাজার টাকা দেন। পণ্য দুটি ৪৫ দিনের মধ্যে ডেলিভারি করার কথা থাকলে তা করেনি ইভ্যালি। কোনো সমাধানও করেনি। পরে রাসেল বরাবর লিগ্যাল নোটিশ পাঠান বাদী। লিগ্যাল নোটিশ পাওয়ার পর টেবিলের টাকা ফেরত দেয়। কিন্তু এসির টাকা বা পণ্য দেয়নি।
ক্ষতিপূরণের দাবিতে এবি যুব পার্টির মানববন্ধন : ই-কমার্স, এমএলএম বা সমবায়ের নামে গ্রহকদের ২১ হাজার কোটি টাকা লোপাটের প্রতিবাদে ও ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে আমার বাংলাদেশ (এবি) যুব পার্টি। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এ সময় বক্তারা বলেন, ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, ডেসটিনি, যুবক ও এহসান গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠানের কারণে অসংখ্য মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাই অবিলম্বে ভুয়া সব আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে হবে। আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আনতে হবে আইনের আওতায়।
এবি যুব পার্টির সমন্বয়ক এবিএম খালিদ হাসানের সভাপতিত্বে ও যুবনেতা ইলিয়াস হোসাইনের পরিচালনায় মানববন্ধনে প্রধান অতিথি ছিলেন এবি পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব বিএম নাজমুল হক। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন পার্টির সহকারী সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম, আনোয়ার সাদাত টুটুল ও শাহ আব্দুর রহমান প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএম নাজমুল হক বলেন, আমরা মনে করি- ইভ্যালি বা এহসান গ্র“পের মতো প্রতিষ্ঠান এমনি এমনি লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করতে পারেনি। রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ও দেশের মানুষের ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে তারা এ লুটপাট চালিয়েছে।

ইভ্যালির সম্পদ বিক্রি হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গ্রাহক ঠকানোর অভিযোগে ইভ্যালির সম্পদ বিক্রি ও হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন হাইকোর্ট। এক গ্রাহকের আবেদনে বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়েছে-বিক্রি, হস্তান্তর বা অন্য কোনো উপায়ে ইভ্যালির সম্পদে কেউ হাত দিতে পারবে না। একইসঙ্গে ইভ্যালিকে কেন অবসায়ন করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাসিব হোসাইন জানান, ফরহাদ হোসেন নামের একজন গ্রাহক মে মাসে ইভ্যালিতে একটি ইলেকট্রনিক পণ্য অর্ডার করেন। তখনই পণ্যের মূল্য তিনি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করেন। বিনিময়ে ইভ্যালি তাকে একটি রশিদ দেয়। কিন্তু দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও পণ্যটি হস্তান্তর করেনি ইভ্যালি। প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা শুধু আশ্বাসই দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু টাকা বা পণ্য কোনোটিই দেয়নি। আবেদনে গ্রাহক ইভ্যালির অবসায়ন চান। তিনি বলেন, ফরহাদ হোসেনের আবেদনটি আদালত অ্যাডমিট করে আদেশ দেন। বলেছেন, ইভ্যালির যত সম্পদ আছে সেটা যেন বিক্রি বা হস্তান্তর না করা হয়। একইসঙ্গে ইভ্যালিকে কেন অবসায়ন করা হবে না তা জানতে চেয়ে আদালত রিট জারি করেছেন। রিটে বিবাদী করা হয়েছে-ইভ্যালি লিমিটেড, রেজিস্ট্রার জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস, বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, কনজ্যুমার রাইটস প্রটেকশন ব্যুরো, নগদ, বিকাশ, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন, ই-ক্যাব অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, বেসিস, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্য সচিবকে। এদিকে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থ পাচার বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। রিটে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। বুধবার দুই আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব এবং ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওছার রিট করেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ ব্যংকের গভর্নর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে। ব্যারিস্টার হুমায়ন কবির পল্লব বলেন, মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাতে অনলাইন পেমেন্টের সুবিধা, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধির সুযোগে ব্যাঙের ছাতার মতো ই-কমার্স ভিত্তিক অসংখ্য প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে ইভ্যালি, ধামাকা, আলেশা মার্ট, কিউকম, দালাল, ই-অরেঞ্জ, আলাদিনের প্রদীপ, দারাজ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
এসির জন্য রাসেল-শামীমার বিরুদ্ধে মামলা : ইভ্যালির রাসেল ও তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবদাস চন্দ্র অধিকারীর আদালতে মামলা করেছেন। ইভ্যালির গ্রাহক মো. মুজাহিদুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে নালিশি আবেদনটি ধানমন্ডি থানাকে এজাহার হিসাবে রেকর্ডের নির্দেশ দেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, গ্রাহক মুজাহিদুর ৮৫ হাজার টাকা মূল্যের এসি এবং ২৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি কাঠের টি টেবিল অর্ডার করেন। গত বছর ১১ জুলাই এসি বাবদ ৮৫ হাজার এবং ২২ জুলাই টেবিল বাবদ ২৩ হাজার টাকা দেন। পণ্য দুটি ৪৫ দিনের মধ্যে ডেলিভারি করার কথা থাকলে তা করেনি ইভ্যালি। কোনো সমাধানও করেনি। পরে রাসেল বরাবর লিগ্যাল নোটিশ পাঠান বাদী। লিগ্যাল নোটিশ পাওয়ার পর টেবিলের টাকা ফেরত দেয়। কিন্তু এসির টাকা বা পণ্য দেয়নি।
ক্ষতিপূরণের দাবিতে এবি যুব পার্টির মানববন্ধন : ই-কমার্স, এমএলএম বা সমবায়ের নামে গ্রহকদের ২১ হাজার কোটি টাকা লোপাটের প্রতিবাদে ও ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে আমার বাংলাদেশ (এবি) যুব পার্টি। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এ সময় বক্তারা বলেন, ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, ডেসটিনি, যুবক ও এহসান গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠানের কারণে অসংখ্য মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাই অবিলম্বে ভুয়া সব আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে হবে। আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আনতে হবে আইনের আওতায়।
এবি যুব পার্টির সমন্বয়ক এবিএম খালিদ হাসানের সভাপতিত্বে ও যুবনেতা ইলিয়াস হোসাইনের পরিচালনায় মানববন্ধনে প্রধান অতিথি ছিলেন এবি পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব বিএম নাজমুল হক। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন পার্টির সহকারী সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম, আনোয়ার সাদাত টুটুল ও শাহ আব্দুর রহমান প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএম নাজমুল হক বলেন, আমরা মনে করি- ইভ্যালি বা এহসান গ্র“পের মতো প্রতিষ্ঠান এমনি এমনি লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করতে পারেনি। রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ও দেশের মানুষের ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে তারা এ লুটপাট চালিয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন