ই-অরেঞ্জ গ্রাহকদের পুলিশের লাঠিপেটা
jugantor
ই-অরেঞ্জ গ্রাহকদের পুলিশের লাঠিপেটা

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিনিয়োগের টাকা ফেরতের দাবিতে আন্দোলনরত ই-অরেঞ্জের গ্রাহকদের লাঠিপেটা করেছে পুলিশ। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মৎস্যভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

অর্ডারের পণ্য অথবা বিনিয়োগের টাকা যে কোনো একটি ফেরতের দাবিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিতে যাচ্ছিলেন ই-অরেঞ্জের গ্রাহকরা। এ সময় তারা পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। পরে গ্রাহকরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্রেস ক্লাব থেকে মৎস্যভবনের সামনের সড়ক অবরোধ করতে গেলে পুলিশ তাদের লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এর আগে তারা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন।

ই-অরেঞ্জের গ্রাহক মাসুদ রানা বলেন, আমরা আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে মৎস্যভবনের সামনে গেলে পুলিশ বিনা উস্কানিতে আমাদের ওপর লাঠিচার্জ করে এতে কমপক্ষে ১০ জন সদস্য আহত হয়েছেন। তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছেন।

আশপাশের অন্যান্য হাসপাতালেও চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকে। তবে তাদের পরিচয় দিতে পারেননি তিনি।

এ বিষয়ে ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (প্যাট্রোল-রমনা) রাজন কুমার সাহা বলেন, ওরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শুরু করে। আমরা তাদের সহযোগিতা করতে চেয়েছি। তবে শেষের দিকে তারা ভায়োলেন্ট হয়ে পড়ে। ওদের অর্গানাইজড কিছু ছিল না। তিনি বলেন, তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিনিধি পাঠাতে চেয়েছিল। আমরা সেই অনুযায়ী যোগাযোগও করেছিলাম। আমাদের সঙ্গে কথা ছিল দুজন প্রতিনিধি পাঠাবে। কিন্তু একপর্যায়ে তারা সবাই সচিবালয়ে যেতে চায়। আমাদের ফোর্স তাদের সচিবালয় থেকে মৎস্যভবনের দিকে নিয়ে যায়। পরে ওরা মৎস্যভবনে গিয়ে বসে পড়ে। তখন তাদের সরাতে লাঠিচার্জ করা হয়।

ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বৃহস্পতিবার, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস। এমনিতেই যানবাহনের চাপ বেশি ছিল। এর মধ্যে তারা সড়ক অবরোধ করেছিল। আমরা তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিই। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২-৩ জনকে থানায় নেওয়া হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘প্রথমে আমরা তাদের সড়ক ছেড়ে দিতে বলি। পরে তাদের ছত্রভঙ্গ করা হয়। যাদের আটক করা হয়েছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের আটক রাখা বা ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

এর আগে প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ থেকে দশ দফা দাবি তোলা হয়? ই-অরেঞ্জ ভুক্তভোগী কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক আফজাল হোসেন সাংবাদিকের সামনে দাবিগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ই-অরেঞ্জ যেহেতু অরেঞ্জ বাংলাদেশের সিস্টার কনসার্ন, তাই আর্থিক ক্ষতির দায় অরেঞ্জ বাংলাদেশকে নিতে হবে।

ই-অরেঞ্জ প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, সরকারি আমলা ও কর্তাব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান আফজাল হোসেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত দায়ের করা সব মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি করতে হবে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির মূল হোতা সোহেলকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং এসএসএল কমার্সে ই-অরেঞ্জের কত টাকা আটকে আছে, তা অবিলম্বে প্রকাশ করতে হবে। আটকে থাকা টাকা গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।

আফজাল হোসেন আরও বলেন, প্রশাসনের সামনে ই-অরেঞ্জ ১১ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে। এখন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কোনো দায় নিচ্ছে না। ই-ক্যাবও সদস্যপদ বাতিল করে দায় এড়াতে চাইছে। তাই আইনের আওতায় এনে ই-ক্যাবের অসঙ্গতির সুষ্ঠু তদন্ত এবং ই-অরেঞ্জসহ সব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে বৈধতা দানকারী বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে ক্ষতির দায়ভার নিয়ে দ্রুত সমস্যা নিষ্পত্তির দাবি জানান তিনি। সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কোনো আসামির যাতে জামিন না হয়, সেই দাবিও জানান আফজাল হোসেন।

মিছিলে অংশ নেওয়া আমিনুর রহমান নামে এক গ্রাহক বলেন, আরও ২০-২৫ জনের সঙ্গে তিনি ঝালকাঠি থেকে এসেছেন বিক্ষোভে অংশ নিতে। মিছিল নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার লক্ষ্য ছিল তাদের। কিন্তু মৎস্যভবনের কাছে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

আমিনুর বলছেন, পণ্য কিনতে ই-অরেঞ্জকে তিনি ৪ লাখ টাকা অগ্রিম দিয়েছিলেন। ওই দামে তার বাজারমূল্যে প্রায় আট লাখ টাকার পণ্য পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কোনো পণ্যই তিনি বুঝে পাননি। টাকাও ফেরত পাচ্ছে না। আগের মালিক কোম্পানি হাতবদল করে বিদেশে চলে গেছে। নতুন মালিকদের কয়েকজনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কোম্পানি এখন পুরোপুরি বন্ধ।

যাত্রাবাড়ী থেকে আসা শহিদুল ইসলাম জানান, ই-অরেঞ্জে গ্রাহকদের একটি অনলাইন গ্র“পে আমন্ত্রণ পাওয়ার পর তিনি যাত্রাবাড়ী থেকে মিছিলে এসেছেন। মৌ আক্তার নামের পান্থপথের এক বাসিন্দা জানান, সদ্য নতুন সংসারে প্রবেশ করার পর ফ্রিজ, টিভিসহ অন্যান্য গৃহস্থালির পণ্য কিনতে ই-অরেঞ্জে সাত লাখ টাকা দিয়েছেন তিনি। কোনো পণ্য পাননি, এখন কোম্পানি ধরাছোঁয়ার বাইরে। তিনি বলেন, ‘সরকারকে এই প্রতারণার দায় নিতে হবে। আমরা আমাদের টাকা ফেরত চাই।

ই-অরেঞ্জ গ্রাহকদের পুলিশের লাঠিপেটা

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিনিয়োগের টাকা ফেরতের দাবিতে আন্দোলনরত ই-অরেঞ্জের গ্রাহকদের লাঠিপেটা করেছে পুলিশ। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মৎস্যভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

অর্ডারের পণ্য অথবা বিনিয়োগের টাকা যে কোনো একটি ফেরতের দাবিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিতে যাচ্ছিলেন ই-অরেঞ্জের গ্রাহকরা। এ সময় তারা পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। পরে গ্রাহকরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্রেস ক্লাব থেকে মৎস্যভবনের সামনের সড়ক অবরোধ করতে গেলে পুলিশ তাদের লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এর আগে তারা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন।

ই-অরেঞ্জের গ্রাহক মাসুদ রানা বলেন, আমরা আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে মৎস্যভবনের সামনে গেলে পুলিশ বিনা উস্কানিতে আমাদের ওপর লাঠিচার্জ করে এতে কমপক্ষে ১০ জন সদস্য আহত হয়েছেন। তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছেন।

আশপাশের অন্যান্য হাসপাতালেও চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকে। তবে তাদের পরিচয় দিতে পারেননি তিনি।

এ বিষয়ে ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (প্যাট্রোল-রমনা) রাজন কুমার সাহা বলেন, ওরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শুরু করে। আমরা তাদের সহযোগিতা করতে চেয়েছি। তবে শেষের দিকে তারা ভায়োলেন্ট হয়ে পড়ে। ওদের অর্গানাইজড কিছু ছিল না। তিনি বলেন, তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিনিধি পাঠাতে চেয়েছিল। আমরা সেই অনুযায়ী যোগাযোগও করেছিলাম। আমাদের সঙ্গে কথা ছিল দুজন প্রতিনিধি পাঠাবে। কিন্তু একপর্যায়ে তারা সবাই সচিবালয়ে যেতে চায়। আমাদের ফোর্স তাদের সচিবালয় থেকে মৎস্যভবনের দিকে নিয়ে যায়। পরে ওরা মৎস্যভবনে গিয়ে বসে পড়ে। তখন তাদের সরাতে লাঠিচার্জ করা হয়।

ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বৃহস্পতিবার, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস। এমনিতেই যানবাহনের চাপ বেশি ছিল। এর মধ্যে তারা সড়ক অবরোধ করেছিল। আমরা তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিই। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২-৩ জনকে থানায় নেওয়া হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘প্রথমে আমরা তাদের সড়ক ছেড়ে দিতে বলি। পরে তাদের ছত্রভঙ্গ করা হয়। যাদের আটক করা হয়েছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের আটক রাখা বা ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

এর আগে প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ থেকে দশ দফা দাবি তোলা হয়? ই-অরেঞ্জ ভুক্তভোগী কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক আফজাল হোসেন সাংবাদিকের সামনে দাবিগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ই-অরেঞ্জ যেহেতু অরেঞ্জ বাংলাদেশের সিস্টার কনসার্ন, তাই আর্থিক ক্ষতির দায় অরেঞ্জ বাংলাদেশকে নিতে হবে।

ই-অরেঞ্জ প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, সরকারি আমলা ও কর্তাব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান আফজাল হোসেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত দায়ের করা সব মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি করতে হবে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির মূল হোতা সোহেলকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং এসএসএল কমার্সে ই-অরেঞ্জের কত টাকা আটকে আছে, তা অবিলম্বে প্রকাশ করতে হবে। আটকে থাকা টাকা গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।

আফজাল হোসেন আরও বলেন, প্রশাসনের সামনে ই-অরেঞ্জ ১১ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে। এখন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কোনো দায় নিচ্ছে না। ই-ক্যাবও সদস্যপদ বাতিল করে দায় এড়াতে চাইছে। তাই আইনের আওতায় এনে ই-ক্যাবের অসঙ্গতির সুষ্ঠু তদন্ত এবং ই-অরেঞ্জসহ সব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে বৈধতা দানকারী বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে ক্ষতির দায়ভার নিয়ে দ্রুত সমস্যা নিষ্পত্তির দাবি জানান তিনি। সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কোনো আসামির যাতে জামিন না হয়, সেই দাবিও জানান আফজাল হোসেন।

মিছিলে অংশ নেওয়া আমিনুর রহমান নামে এক গ্রাহক বলেন, আরও ২০-২৫ জনের সঙ্গে তিনি ঝালকাঠি থেকে এসেছেন বিক্ষোভে অংশ নিতে। মিছিল নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার লক্ষ্য ছিল তাদের। কিন্তু মৎস্যভবনের কাছে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

আমিনুর বলছেন, পণ্য কিনতে ই-অরেঞ্জকে তিনি ৪ লাখ টাকা অগ্রিম দিয়েছিলেন। ওই দামে তার বাজারমূল্যে প্রায় আট লাখ টাকার পণ্য পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কোনো পণ্যই তিনি বুঝে পাননি। টাকাও ফেরত পাচ্ছে না। আগের মালিক কোম্পানি হাতবদল করে বিদেশে চলে গেছে। নতুন মালিকদের কয়েকজনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কোম্পানি এখন পুরোপুরি বন্ধ।

যাত্রাবাড়ী থেকে আসা শহিদুল ইসলাম জানান, ই-অরেঞ্জে গ্রাহকদের একটি অনলাইন গ্র“পে আমন্ত্রণ পাওয়ার পর তিনি যাত্রাবাড়ী থেকে মিছিলে এসেছেন। মৌ আক্তার নামের পান্থপথের এক বাসিন্দা জানান, সদ্য নতুন সংসারে প্রবেশ করার পর ফ্রিজ, টিভিসহ অন্যান্য গৃহস্থালির পণ্য কিনতে ই-অরেঞ্জে সাত লাখ টাকা দিয়েছেন তিনি। কোনো পণ্য পাননি, এখন কোম্পানি ধরাছোঁয়ার বাইরে। তিনি বলেন, ‘সরকারকে এই প্রতারণার দায় নিতে হবে। আমরা আমাদের টাকা ফেরত চাই।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন