জাতীয় পরিচয়পত্র নেই ২২ লাখ শিক্ষার্থীর
jugantor
বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকার তথ্য সংগ্রহে ধীরগতি
জাতীয় পরিচয়পত্র নেই ২২ লাখ শিক্ষার্থীর

  মুসতাক আহমদ  

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সহজেই স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা খুলে দেওয়া হলেও চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে। ৪৩ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২২ লাখেরই জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই। জš§ নিবন্ধন সনদ (বিআরসি) নেই অন্তত ৩ লাখের। এখন পর্যন্ত পৌনে ৬ লাখ শিক্ষার্থী ন্যূনতম এক ডোজ টিকা নিয়েছেন। আর নিবন্ধন করেছে সাড়ে ১৮ লাখ। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) অনলাইনে টিকাসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু এতে তেমন একটা সাড়া নেই। ৮ দিনে মাত্র দেড় লাখ শিক্ষার্থী তাদের টিকা, এনআইডি ও বিআরসি সংক্রান্ত তথ্য দিয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দেয়ার ঘণ্টা বেজে উঠেছে। শুক্রবার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) আবাসিক শিক্ষার্থীদের হলে তুলেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আগে থেকেই কিছু শিক্ষার্থী বসবাস করে আসছে বিভিন্ন হলে। শুধু তাই নয়, কক্ষ দখল নিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর সেখানে ছাত্রলীগের দুগ্রুপে হাতাহাতি হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য আজ কেন্দ্রীয় এবং বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের সেমিনার লাইব্রেরির দ্বার খুলছে। ৫ অক্টোবর মাস্টার্স ও অনার্স চতুর্থ বর্ষের জন্য খুলে দেওয়া হবে আবাসিক হল। এছাড়া বেশকিছু বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ও সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা সরাসরি নেওয়ার তারিখ ঘোষণা করেছে। প্রশ্ন উঠেছে, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। যেখানে আগে থেকেই কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না, সেখানে এখন পরিস্থিতি কোথায় দাঁড়াবে। আর এতে পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা আছে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ শনিবার যুগান্তরকে বলেন, এটা ঠিক যে একটা ঝুঁকি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়া হচ্ছে। তবে এটাও ঠিক যে, শতভাগ ঝুঁকিমুক্ত অবস্থার জন্য আর অপেক্ষার সুযোগ নেই; সেটা সম্ভবও নয়। ১-২ শতাংশ

ঝুঁকি থাকবেই। যদিও এ ক্ষেত্রে আমাদের সুবিধাজনক দিক হচ্ছে, টার্গেটেড গ্রুপের (ছাত্রছাত্রীদের) বয়স ১৭ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। এ বয়স গ্রুপটি মোটামুটি কম ঝুঁকিপূর্ণ। তাই বলে আগের মতো চলা যাবে না। এটা মহামারিকাল। ছাত্রনেতা ও শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় ও হল প্রশাসনকে সহায়তা করতে হবে। তারা কম ঝুঁকিপূর্ণ হলেও বয়স্ক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর কথা তাদের মনে রাখতে হবে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যবিধি, টিকার রেজিস্ট্রেশন ও টিকা নিশ্চিতে প্রশাসনকেও কঠোর হতে হবে। নিজ দায়িত্বে তাদের ক্যাম্পাস খুলতে হবে।

ইউজিসির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে শিক্ষার্থী ৪৩ লাখ। সংস্থাটির সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস জামান যুগান্তরকে জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাড়ে ৪ লাখ ছাত্রছাত্রী এক ডোজ আর ১ লাখ ২২ হাজার উভয় ডোজ টিকা নিয়েছেন। আবার মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে সাড়ে ১৮ লাখ টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থী ১ লাখ ৩২ হাজার। তাদের মধ্যে ৮০ শতাংশই টিকা নিয়েছেন। এনআইডি না থাকা এবং ওয়েবলিংকে নিবন্ধনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন রাজধানীর ৭ কলেজের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে বলে জানান তিনি।

ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ হোসেনের নেতৃত্বে ইউজিসির লিংকে শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। তিনি শনিবার যুগান্তরকে বলেন, ১২ সেপ্টেম্বর প্রথম প্রহরে শিক্ষার্থীদের টিকা সংক্রান্ত তথ্য নিবন্ধন শুরু হয়। এখন পর্যন্ত দেড় লাখ নিবন্ধন করেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে সরাসরি অনেক তথ্য আসছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ লাখ শিক্ষার্থীর এনআইডি কার্ডই নেই। যারা নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারবে না, তারা ক্যাম্পাসও খুলতে পারবে না।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কতজন শিক্ষার্থীর এনআইডি ও বিআরসি আছে- সব শিক্ষার্থীর এ তথ্য সংগ্রহের পর বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়া যাবে। এরপর ক্যাম্পাসে মেডিকেল সেন্টার অথবা নিকটস্থ জেলা হাসপাতালে শিক্ষার্থীদের টিকা নিশ্চিত করা হবে। ইউজিসি কর্মকর্তারা বলছেন, আইন অনুযায়ী, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দেয়ার এখতিয়ার তাদের সিন্ডিকেট বা রিজেন্ট বোর্ড এবং একাডেমিক কাউন্সিলের। তাই যখন তারা ‘সন্তুষ্ট’ হবে, তখন দায়িত্ব নিয়েই তারা ক্যাম্পাস খুলতে পারবে। ইতোমধ্যে দুই শর্তে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও খুলে দেয়ার অনুমতি দিয়েছে ইউজিসি। এগুলো হচ্ছে- শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের কমপক্ষে এক ডোজ টিকা নেয়া অথবা টিকার জন্য এনআইডি দিয়ে জাতীয় সুরক্ষা সেবা পোর্টালে নিবন্ধন থাকতে হবে। ১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব শিক্ষার্থীদের ইউজিসির ওয়েবলিংকে প্রাথমিক নিবন্ধন এবং পরবর্তীতে জাতীয় সুরক্ষা সেবা ওয়েবপোর্টালে নিবন্ধন থাকতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা ক্লাসে অংশ নিতে পারবে।

গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ আছে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১২ সেপ্টেম্বর দ্বাদশ শ্রেণি পর্যায়ে দেশের সব স্কুল, কলেজ, কারিগরি প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসা খুলে দেয়া হয়েছে। গত দুই সপ্তাহে দেশের ৫ স্থান থেকে শিক্ষার্থীদের করোনায় আক্রান্ত বা করোনা উপসর্গ দিয়ে মৃত্যুর খবর এসেছে।

মহামারি বড় আকার ধারণ করলে ফের বন্ধ : শনিবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, করোনা মহামারি বড় আকার ধারণ করলে ফের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত তেমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। এ পর্যন্ত করোনা সংক্রমণের যে সংবাদ পাওয়া গেছে তার মধ্যে অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। এ বিষয়ে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। আর মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেখানে সমস্যা হয়েছে, বিশেষ করে মানিকগঞ্জের একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারা গেছে। আমরা সেই ঘটনার ব্যাপারে সেখানকার সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা বলেছি। স্কুল খোলার পর সেই শিক্ষার্থী মাত্র একবার ক্লাসে এসেছিল। তার ৬-৭ দিন পর আক্রান্তের খবর পাওয়া যায় এবং সে মারা যায়। কেরানীগঞ্জে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর করোনা আক্রান্তের বিষয়ে তিনি বলেন, খবর পাওয়ার পরে আমরা ওই ক্লাসের সব শিক্ষার্থীর পরীক্ষা করেছি। অন্য কারও মধ্যে সংক্রমণ পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, অনেক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো কোনো স্কুলে আক্রান্তের তথ্য জানাচ্ছে। আমি খোঁজ নিচ্ছি। কিন্তু এমন কিছুর সত্যতা পাইনি। তবে আমরা সজাগ দৃষ্টি রাখছি। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই পর্যবেক্ষণ করছি ও ব্যবস্থা নিচ্ছি।

রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে বঙ্গবন্ধু বাপু ডিজিটাল এক্সিবিশন উদ্বোধন শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময়ে তিনি আরও বলেন, আমরা অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছি। এখনো অতিমারি শেষ হয়নি। যে কেউ যে কোনো সময়ে করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন। এ সময় তিনি প্রাক-প্রাথমিকের ক্লাসের বিষয়ে তিন সপ্তাহ পর সিদ্ধান্ত জানানো এবং নভেম্বরের শুরুতে এসএসসি ও ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার কথা পুনরায় উল্লেখ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকার তথ্য সংগ্রহে ধীরগতি

জাতীয় পরিচয়পত্র নেই ২২ লাখ শিক্ষার্থীর

 মুসতাক আহমদ 
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সহজেই স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা খুলে দেওয়া হলেও চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে। ৪৩ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২২ লাখেরই জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই। জš§ নিবন্ধন সনদ (বিআরসি) নেই অন্তত ৩ লাখের। এখন পর্যন্ত পৌনে ৬ লাখ শিক্ষার্থী ন্যূনতম এক ডোজ টিকা নিয়েছেন। আর নিবন্ধন করেছে সাড়ে ১৮ লাখ। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) অনলাইনে টিকাসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু এতে তেমন একটা সাড়া নেই। ৮ দিনে মাত্র দেড় লাখ শিক্ষার্থী তাদের টিকা, এনআইডি ও বিআরসি সংক্রান্ত তথ্য দিয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দেয়ার ঘণ্টা বেজে উঠেছে। শুক্রবার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) আবাসিক শিক্ষার্থীদের হলে তুলেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আগে থেকেই কিছু শিক্ষার্থী বসবাস করে আসছে বিভিন্ন হলে। শুধু তাই নয়, কক্ষ দখল নিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর সেখানে ছাত্রলীগের দুগ্রুপে হাতাহাতি হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য আজ কেন্দ্রীয় এবং বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের সেমিনার লাইব্রেরির দ্বার খুলছে। ৫ অক্টোবর মাস্টার্স ও অনার্স চতুর্থ বর্ষের জন্য খুলে দেওয়া হবে আবাসিক হল। এছাড়া বেশকিছু বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ও সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা সরাসরি নেওয়ার তারিখ ঘোষণা করেছে। প্রশ্ন উঠেছে, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। যেখানে আগে থেকেই কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না, সেখানে এখন পরিস্থিতি কোথায় দাঁড়াবে। আর এতে পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা আছে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ শনিবার যুগান্তরকে বলেন, এটা ঠিক যে একটা ঝুঁকি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়া হচ্ছে। তবে এটাও ঠিক যে, শতভাগ ঝুঁকিমুক্ত অবস্থার জন্য আর অপেক্ষার সুযোগ নেই; সেটা সম্ভবও নয়। ১-২ শতাংশ

ঝুঁকি থাকবেই। যদিও এ ক্ষেত্রে আমাদের সুবিধাজনক দিক হচ্ছে, টার্গেটেড গ্রুপের (ছাত্রছাত্রীদের) বয়স ১৭ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। এ বয়স গ্রুপটি মোটামুটি কম ঝুঁকিপূর্ণ। তাই বলে আগের মতো চলা যাবে না। এটা মহামারিকাল। ছাত্রনেতা ও শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় ও হল প্রশাসনকে সহায়তা করতে হবে। তারা কম ঝুঁকিপূর্ণ হলেও বয়স্ক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর কথা তাদের মনে রাখতে হবে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যবিধি, টিকার রেজিস্ট্রেশন ও টিকা নিশ্চিতে প্রশাসনকেও কঠোর হতে হবে। নিজ দায়িত্বে তাদের ক্যাম্পাস খুলতে হবে।

ইউজিসির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে শিক্ষার্থী ৪৩ লাখ। সংস্থাটির সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস জামান যুগান্তরকে জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাড়ে ৪ লাখ ছাত্রছাত্রী এক ডোজ আর ১ লাখ ২২ হাজার উভয় ডোজ টিকা নিয়েছেন। আবার মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে সাড়ে ১৮ লাখ টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থী ১ লাখ ৩২ হাজার। তাদের মধ্যে ৮০ শতাংশই টিকা নিয়েছেন। এনআইডি না থাকা এবং ওয়েবলিংকে নিবন্ধনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন রাজধানীর ৭ কলেজের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে বলে জানান তিনি।

ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ হোসেনের নেতৃত্বে ইউজিসির লিংকে শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। তিনি শনিবার যুগান্তরকে বলেন, ১২ সেপ্টেম্বর প্রথম প্রহরে শিক্ষার্থীদের টিকা সংক্রান্ত তথ্য নিবন্ধন শুরু হয়। এখন পর্যন্ত দেড় লাখ নিবন্ধন করেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে সরাসরি অনেক তথ্য আসছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ লাখ শিক্ষার্থীর এনআইডি কার্ডই নেই। যারা নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারবে না, তারা ক্যাম্পাসও খুলতে পারবে না।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কতজন শিক্ষার্থীর এনআইডি ও বিআরসি আছে- সব শিক্ষার্থীর এ তথ্য সংগ্রহের পর বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়া যাবে। এরপর ক্যাম্পাসে মেডিকেল সেন্টার অথবা নিকটস্থ জেলা হাসপাতালে শিক্ষার্থীদের টিকা নিশ্চিত করা হবে। ইউজিসি কর্মকর্তারা বলছেন, আইন অনুযায়ী, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দেয়ার এখতিয়ার তাদের সিন্ডিকেট বা রিজেন্ট বোর্ড এবং একাডেমিক কাউন্সিলের। তাই যখন তারা ‘সন্তুষ্ট’ হবে, তখন দায়িত্ব নিয়েই তারা ক্যাম্পাস খুলতে পারবে। ইতোমধ্যে দুই শর্তে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও খুলে দেয়ার অনুমতি দিয়েছে ইউজিসি। এগুলো হচ্ছে- শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের কমপক্ষে এক ডোজ টিকা নেয়া অথবা টিকার জন্য এনআইডি দিয়ে জাতীয় সুরক্ষা সেবা পোর্টালে নিবন্ধন থাকতে হবে। ১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব শিক্ষার্থীদের ইউজিসির ওয়েবলিংকে প্রাথমিক নিবন্ধন এবং পরবর্তীতে জাতীয় সুরক্ষা সেবা ওয়েবপোর্টালে নিবন্ধন থাকতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা ক্লাসে অংশ নিতে পারবে।

গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ আছে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১২ সেপ্টেম্বর দ্বাদশ শ্রেণি পর্যায়ে দেশের সব স্কুল, কলেজ, কারিগরি প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসা খুলে দেয়া হয়েছে। গত দুই সপ্তাহে দেশের ৫ স্থান থেকে শিক্ষার্থীদের করোনায় আক্রান্ত বা করোনা উপসর্গ দিয়ে মৃত্যুর খবর এসেছে।

মহামারি বড় আকার ধারণ করলে ফের বন্ধ : শনিবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, করোনা মহামারি বড় আকার ধারণ করলে ফের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত তেমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। এ পর্যন্ত করোনা সংক্রমণের যে সংবাদ পাওয়া গেছে তার মধ্যে অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। এ বিষয়ে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। আর মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেখানে সমস্যা হয়েছে, বিশেষ করে মানিকগঞ্জের একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারা গেছে। আমরা সেই ঘটনার ব্যাপারে সেখানকার সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা বলেছি। স্কুল খোলার পর সেই শিক্ষার্থী মাত্র একবার ক্লাসে এসেছিল। তার ৬-৭ দিন পর আক্রান্তের খবর পাওয়া যায় এবং সে মারা যায়। কেরানীগঞ্জে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর করোনা আক্রান্তের বিষয়ে তিনি বলেন, খবর পাওয়ার পরে আমরা ওই ক্লাসের সব শিক্ষার্থীর পরীক্ষা করেছি। অন্য কারও মধ্যে সংক্রমণ পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, অনেক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো কোনো স্কুলে আক্রান্তের তথ্য জানাচ্ছে। আমি খোঁজ নিচ্ছি। কিন্তু এমন কিছুর সত্যতা পাইনি। তবে আমরা সজাগ দৃষ্টি রাখছি। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই পর্যবেক্ষণ করছি ও ব্যবস্থা নিচ্ছি।

রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে বঙ্গবন্ধু বাপু ডিজিটাল এক্সিবিশন উদ্বোধন শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময়ে তিনি আরও বলেন, আমরা অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছি। এখনো অতিমারি শেষ হয়নি। যে কেউ যে কোনো সময়ে করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন। এ সময় তিনি প্রাক-প্রাথমিকের ক্লাসের বিষয়ে তিন সপ্তাহ পর সিদ্ধান্ত জানানো এবং নভেম্বরের শুরুতে এসএসসি ও ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার কথা পুনরায় উল্লেখ করেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন