সরকারের ব্যর্থতা চ্যালেঞ্জ করে ৩৩ গ্রাহকের রিট
jugantor
ই-কমার্স
সরকারের ব্যর্থতা চ্যালেঞ্জ করে ৩৩ গ্রাহকের রিট

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ই-কমার্সে নজরদারি, কেলেঙ্কারি প্রতিরোধ ও গ্রাহকের স্বার্থরক্ষায় সরকারের ব্যর্থতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের ৩৩ ভুক্তভোগী গ্রাহকের পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির বৃহস্পতিবার আবেদনটি করেন। তিনি বলেন, কাল (আজ) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে এটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় রয়েছে।

রিট আবেদনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রধান, সেন্ট্রাল ডিজিটাল কমার্স সেলের প্রধান, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ই-অরেঞ্জ শপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ১৬ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

আইনজীবী জানান, রিটে ৩৩ ভুক্তভোগী গ্রাহকের ১৬ কোটি টাকা মূল্যের ভাউচার ও বিভিন্ন পণ্যের ক্রয়াদেশ সংযুক্ত করা হয়েছে। তারা নির্দিষ্ট সময়ের পরও তাদের কেনা পণ্য বা তাদের টাকা বুঝে পাননি।

আবেদনে বাংলাদেশ ই-কমার্সের সূচনা ও ক্রমবিকাশ সম্পর্কে তুলে ধরা হয়। বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের কেলেঙ্কারি সম্পর্কিত বিভিন্ন পত্রিকার প্রতিবেদনও আবেদনের সঙ্গে সংযুক্তি হিসাবে দেওয়া হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাংলাদেশে বিদ্যমান ১০০০ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকাও যুক্ত করা হয়।

শিশির মনির আরও বলেন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯, প্রতিযোগিতা আইন-২০১২, জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা-২০১৮, ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা-২০২১ ও বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩১ ও ৪২-এর আলোকে এবং বিভিন্ন মামলার নজির উল্লেখ করে বিবাদীদের ব্যর্থতা তুলে ধরা হয়েছে রিটে।

আবেদনে আদালতের কাছে ই-কমার্স কেলেঙ্কারি নজরদারি ও প্রতিরোধে এবং ভুক্তভোগী গ্রাহকদের স্বার্থরক্ষায় বিবাদীদের ব্যর্থতা অবৈধ ঘোষণা, ভুক্তভোগী গ্রাহকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। গ্রাহক ও ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান উভয়ের স্বার্থ সংরক্ষণ ও সুষ্ঠু পরিচালনার নিমিত্তে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়ার জন্য অর্থনীতিবিদ, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী ও স্বার্থসংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। ই-অরেঞ্জসহ অন্যান্য অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোয় রিসিভার নিয়োগ, অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীল ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয় আবেদনে। অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থ পাচার করছে কি না, তা তদন্ত করতে বলা হয়েছে।

ই-কমার্স

সরকারের ব্যর্থতা চ্যালেঞ্জ করে ৩৩ গ্রাহকের রিট

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ই-কমার্সে নজরদারি, কেলেঙ্কারি প্রতিরোধ ও গ্রাহকের স্বার্থরক্ষায় সরকারের ব্যর্থতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের ৩৩ ভুক্তভোগী গ্রাহকের পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির বৃহস্পতিবার আবেদনটি করেন। তিনি বলেন, কাল (আজ) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে এটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় রয়েছে।

রিট আবেদনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রধান, সেন্ট্রাল ডিজিটাল কমার্স সেলের প্রধান, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ই-অরেঞ্জ শপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ১৬ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

আইনজীবী জানান, রিটে ৩৩ ভুক্তভোগী গ্রাহকের ১৬ কোটি টাকা মূল্যের ভাউচার ও বিভিন্ন পণ্যের ক্রয়াদেশ সংযুক্ত করা হয়েছে। তারা নির্দিষ্ট সময়ের পরও তাদের কেনা পণ্য বা তাদের টাকা বুঝে পাননি।

আবেদনে বাংলাদেশ ই-কমার্সের সূচনা ও ক্রমবিকাশ সম্পর্কে তুলে ধরা হয়। বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের কেলেঙ্কারি সম্পর্কিত বিভিন্ন পত্রিকার প্রতিবেদনও আবেদনের সঙ্গে সংযুক্তি হিসাবে দেওয়া হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাংলাদেশে বিদ্যমান ১০০০ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকাও যুক্ত করা হয়।

শিশির মনির আরও বলেন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯, প্রতিযোগিতা আইন-২০১২, জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা-২০১৮, ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা-২০২১ ও বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩১ ও ৪২-এর আলোকে এবং বিভিন্ন মামলার নজির উল্লেখ করে বিবাদীদের ব্যর্থতা তুলে ধরা হয়েছে রিটে।

আবেদনে আদালতের কাছে ই-কমার্স কেলেঙ্কারি নজরদারি ও প্রতিরোধে এবং ভুক্তভোগী গ্রাহকদের স্বার্থরক্ষায় বিবাদীদের ব্যর্থতা অবৈধ ঘোষণা, ভুক্তভোগী গ্রাহকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। গ্রাহক ও ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান উভয়ের স্বার্থ সংরক্ষণ ও সুষ্ঠু পরিচালনার নিমিত্তে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়ার জন্য অর্থনীতিবিদ, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী ও স্বার্থসংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। ই-অরেঞ্জসহ অন্যান্য অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোয় রিসিভার নিয়োগ, অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীল ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয় আবেদনে। অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থ পাচার করছে কি না, তা তদন্ত করতে বলা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন