কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তিন বাধা
jugantor
সানেমের ওয়েবিনারে বক্তারা
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তিন বাধা

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, বর্তমানে কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধির হার জিডিপির প্রবৃদ্ধির হারের চেয়ে কম। দ্বিতীয়ত, উৎপাদন ও নির্মাণ খাতে কর্মসংস্থান ২০১৩ থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের মধ্যবর্তী সময়ে হ্রাস পেয়েছে। তৃতীয়ত, অনানুষ্ঠানিক খাতে তরুণদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ৮ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তারুণ্যের প্রত্যাশা থাকবে- জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলের পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন, বেকারদের জন্য বীমা প্রকল্প প্রণয়ন এবং বাল্যবিয়ে, শিশুশ্রম ও শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ করতে বিদ্যমান বৃত্তি প্রদান প্রকল্পগুলোর আওতা বৃদ্ধি। সেই সঙ্গে শ্রম বাজারে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি লিঙ্গ সমতা নিশ্চিতকরণে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তরুণেরা। সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) এবং একশন এইড বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ওয়েবিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
শনিবার ‘৮ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় তরুণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন এজেন্ডা’ শীর্ষক এ ওয়েবিনার সঞ্চালনা করেন সানেমের জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী ইশরাত হোসাইন। সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম। আলোচক ছিলেন একশনএইড বাংলাদেশের ম্যানেজার নাজমুল আহসান, ইনস্টিটিউট অফ ইনফরমেটিক্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইআইডি) যুগ্ম পরিচালক ফাল্গুনি রেজা, ব্র্যাক ইয়ুথ প্ল্যাটফরমের

অপারেশন্স লিড সামাঞ্জার চৌধুরী, জাগো ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক এশা ফারুক, ও একশন এইড বাংলাদেশের নারী অধিকার ও জেন্ডার সমতা বিষয়ক ম্যানেজার মরিয়ম নেসা। ওয়েবিনারে গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সানেমের জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী ইশরাত শারমীন।
ইশরাত শারমীন বলেন, অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ পরিকল্পনা এমন সময়ে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে যখন দেশ কোভিড-১৯ মহামারির কারণে সৃষ্ট আর্থ-সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দারিদ্র্যবিমোচন, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে অর্জিত সাফল্য কোভিডের কারণে আশঙ্কার সম্মুখীন হয়েছে। দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য এ পরিস্থিতি আরও চ্যালেঞ্জিং। এ চ্যালেঞ্জ ভালোভাবে মোকাবিলা করতে না পারলে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগানোর যে সুযোগ রয়েছে তা ঝুঁকির মুখে পড়বে। আগামী দিনে এসব চ্যালেঞ্জ কিভাবে মোকাবিলা করা হয় তা দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফলে এ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন বিদ্যমান প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য খাতে সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে মনোযোগ দেয়া প্রয়োজন। কোভিড-১৯ এর প্রেক্ষাপটে সবার জন্য টিকা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংক্রামক রোগ ও মহামারি প্রতিরোধে স্বাস্থ্য খাতকে এখন থেকেই ঢেলে সাজানো প্রয়োজন। বর্তমান সময়ে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য একটি বহুল আলোচিত বিষয়। মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিষদ মনোযোগ দেয়া দরকার। সেই সঙ্গে তরুণদের মাঝে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এসব বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম বলেন, ৮ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার সচেষ্ট রয়েছে এবং এর অধীনে বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। সুষ্ঠু পরিকল্পনার জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন। সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। সরকার এ ব্যাপারে সচেষ্ট রয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে দেশে বাল্যবিয়ে বেড়ে গেছে, শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ছে, এসব ব্যাপারে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। ই-কমার্স খাতে দুর্নীতির ফলে এই খাতের ওপর আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে, যা এ খাতের সৎ তরুণ উদ্যোক্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ড. সেলিম রায়হান বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ প্রথম পর্যায়ের জনমিতি পার করছে। এর সুবিধা ভালোমতো নিতে আমাদের অর্থনৈতিক নীতির পাশাপাশি সামজিক নীতিও গ্রহণ করে দুটির সমন্বয় করতে হবে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সানেমের ওয়েবিনারে বক্তারা

কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তিন বাধা

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, বর্তমানে কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধির হার জিডিপির প্রবৃদ্ধির হারের চেয়ে কম। দ্বিতীয়ত, উৎপাদন ও নির্মাণ খাতে কর্মসংস্থান ২০১৩ থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের মধ্যবর্তী সময়ে হ্রাস পেয়েছে। তৃতীয়ত, অনানুষ্ঠানিক খাতে তরুণদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ৮ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তারুণ্যের প্রত্যাশা থাকবে- জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলের পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন, বেকারদের জন্য বীমা প্রকল্প প্রণয়ন এবং বাল্যবিয়ে, শিশুশ্রম ও শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ করতে বিদ্যমান বৃত্তি প্রদান প্রকল্পগুলোর আওতা বৃদ্ধি। সেই সঙ্গে শ্রম বাজারে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি লিঙ্গ সমতা নিশ্চিতকরণে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তরুণেরা। সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) এবং একশন এইড বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ওয়েবিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
শনিবার ‘৮ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় তরুণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন এজেন্ডা’ শীর্ষক এ ওয়েবিনার সঞ্চালনা করেন সানেমের জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী ইশরাত হোসাইন। সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড.  সেলিম রায়হান। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম। আলোচক ছিলেন একশনএইড বাংলাদেশের ম্যানেজার নাজমুল আহসান, ইনস্টিটিউট অফ ইনফরমেটিক্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইআইডি) যুগ্ম পরিচালক ফাল্গুনি রেজা, ব্র্যাক ইয়ুথ প্ল্যাটফরমের

অপারেশন্স লিড সামাঞ্জার চৌধুরী, জাগো ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক এশা ফারুক, ও একশন এইড বাংলাদেশের নারী অধিকার ও জেন্ডার সমতা বিষয়ক ম্যানেজার মরিয়ম নেসা। ওয়েবিনারে গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সানেমের জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী ইশরাত শারমীন।  
ইশরাত শারমীন বলেন, অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ পরিকল্পনা এমন সময়ে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে যখন দেশ কোভিড-১৯ মহামারির কারণে সৃষ্ট আর্থ-সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দারিদ্র্যবিমোচন, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে অর্জিত সাফল্য কোভিডের কারণে আশঙ্কার সম্মুখীন হয়েছে। দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য এ পরিস্থিতি আরও চ্যালেঞ্জিং। এ চ্যালেঞ্জ ভালোভাবে মোকাবিলা করতে না পারলে  ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগানোর যে সুযোগ রয়েছে তা ঝুঁকির মুখে পড়বে। আগামী দিনে এসব চ্যালেঞ্জ কিভাবে মোকাবিলা করা হয় তা দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফলে এ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন বিদ্যমান প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য খাতে সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে মনোযোগ দেয়া প্রয়োজন। কোভিড-১৯ এর প্রেক্ষাপটে সবার জন্য টিকা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংক্রামক রোগ ও মহামারি প্রতিরোধে স্বাস্থ্য খাতকে এখন থেকেই ঢেলে সাজানো প্রয়োজন। বর্তমান সময়ে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য একটি বহুল আলোচিত বিষয়। মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিষদ মনোযোগ দেয়া দরকার। সেই সঙ্গে তরুণদের মাঝে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এসব বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম বলেন, ৮ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার সচেষ্ট রয়েছে এবং এর অধীনে বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। সুষ্ঠু পরিকল্পনার জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন। সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। সরকার এ ব্যাপারে সচেষ্ট রয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে দেশে বাল্যবিয়ে বেড়ে গেছে, শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ছে, এসব ব্যাপারে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। ই-কমার্স খাতে দুর্নীতির ফলে এই খাতের ওপর আস্থার সংকট  তৈরি হতে পারে, যা এ খাতের সৎ তরুণ উদ্যোক্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ড. সেলিম রায়হান বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ প্রথম পর্যায়ের জনমিতি পার করছে। এর সুবিধা ভালোমতো নিতে আমাদের অর্থনৈতিক নীতির পাশাপাশি সামজিক নীতিও গ্রহণ করে দুটির সমন্বয় করতে হবে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন