প্রত্যাবাসনে সোচ্চার ভূমিকাই কাল হলো মুহিবুল্লাহর?
jugantor
শীর্ষ রোহিঙ্গা নেতা হত্যা
প্রত্যাবাসনে সোচ্চার ভূমিকাই কাল হলো মুহিবুল্লাহর?
মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলামের বিশ্লেষণে তিন কারণে এ হত্যাকাণ্ড

  শফিউল্লাহ শফি ও জসিম উদ্দিন কক্সবাজার   

০১ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গাদের পক্ষে কথা বলার কারণে শিবিরে একক শীর্ষ নেতা হিসাবে উজ্জ্বল হয়ে ওঠা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সোচ্চার ভূমিকাই কি কাল হলো মুহিবুল্লাহর জীবনে। এমন প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রোহিঙ্গা শিবির ঘিরে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও মিয়ানমারে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম বলছেন, মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের পেছনে তিনটি কারণ থাকতে পারে।

প্রথমত, রোহিঙ্গাদের মধ্যে তার একক নেতৃত্ব গড়ে ওঠা, জাতীয়তাবোধ জাগ্রত করা এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পক্ষে তার দৃঢ় অবস্থান। জানা গেছে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে তার ভূমিকা মেনে নিতে পারছিল না মিয়ানমার সরকার।

মুহিবুল্লাহর জনপ্রিয়তার পারদ বাড়ার বিষয়টি মিয়ানমার জান্তার জন্য ক্রমেই দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠছিল। শিবিরে অনেক অস্ত্রধারী রোহিঙ্গার মিয়ানমার সরকারের কাছে বিক্রি হয়ে যাওয়ার অভিযোগ ছিল আগেই।

অনেক দিন ধরেই মুহিবুল্লাহকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। শিবিরের অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ হত্যাকাণ্ড যে পরিকল্পিত তা পরিষ্কার। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বলেছেন, কি কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন কাজ করছে। জোরদার করা হয়েছে ক্যাম্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শিবিরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

মুহিবুল্লাহর হত্যাকাণ্ডে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার আলাদা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এতে এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তের দাবি জানিয়ে ঘাতকদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।

বুধবার রাত পৌনে ৯টার দিকে উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে ঢুকে একদল অস্ত্রধারী মুহিবুল্লাহকে গুলি করে হত্যা করে। কুতুপালং লম্বাশিয়া ক্যাম্পের ইস্ট-ওয়েস্ট ১ নম্বর ব্লকের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

মুহিবুল্লাহ (৫০) মিয়ানমারের রাখাইনের মংডু এলাকার লংডাছড়া গ্রামের মৌলভি ফজল আহমদের ছেলে।

মুহিবুল্লাহর ছোট ভাই হাবিবুল্লাহ জানান, কুতুপালংয়ের মসজিদে এশার নামাজ শেষ করে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) অফিসে অবস্থান করছিলেন তারা।

হঠাৎ ২০-২৫ জন অস্ত্রধারী আমার ভাইয়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। অফিসের সবাইকে মারধর করে বের করে দিলেও ভাইয়ের বুকে একাধিক গুলি করে।

তার দাবি, এ হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়েছেন রোহিঙ্গাদের কাছে ‘আরসা’ নেতা নামে পরিচিত মাস্টার আব্দুর রহিম, মুর্শিদ, লালুরা। হামলাকারীদের কয়েকজন কথিত ‘আল ইয়াকিন’র সদস্য।

হাবিবুল্লাহ বলেন, রোহিঙ্গাদের যে কোনো সমস্যায় ভাই এগিয়ে আসতেন। তাদের অধিকারের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছিলেন। তিনি বলেন, বিশ্ব মহলে মুহিবুল্লাহর গ্রহণযোগ্যতা বাধাগ্রস্ত করতেই এই হত্যাকাণ্ড।

হত্যাকাণ্ডের পর রোহিঙ্গাদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কয়েকজন রোহিঙ্গা নেতার দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পক্ষে সক্রিয় অবস্থান নেওয়ার কারণেই মিয়ানমার সরকারের পরিকল্পনায় এই হত্যাকাণ্ড।

রোহিঙ্গাদের জন্য কাজ করত এমন অনেকেই নানা প্রলোভনে মিয়ানমার জান্তার কাছে বিক্রি হয়ে গেছেন। এ হত্যাকাণ্ডে তাদের বড় ভূমিকা রয়েছে। আরও কয়েকজন রোহিঙ্গা নেতাও টার্গেটে রয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, প্রত্যাবাসনের বদলে বাংলাদেশে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী প্রমাণে মরিয়া হয়ে উঠেছে মিয়ানমার সরকার। এজন্য তারা বিপথগামী রোহিঙ্গাদের দিয়ে ক্যাম্পে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালানোর চেষ্টা করছে।

বিশ্ব দরবারে রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী হিসাবে তুলে ধরে ২০১৯ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার করা মামলাটি প্রশ্নবিদ্ধ করাই তাদের লক্ষ্য।

রোহিঙ্গা নেতা আবদুল হামিদ বলেন, আমরা দেশে ফিরতে চাই। তবে মিয়ানমার সরকার একদিকে আমাদের ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে যাতে আর মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে না হয় সেজন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছে।

তার দাবি, ক্যাম্পে এখন যেসব সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলছে সবই হচ্ছে মিয়ানমারের ইশারায়। তারা বিপথগামী কিছু রোহিঙ্গাকে ব্যবহার করে আল-ইয়াকিন ও আরসার নাম ভাঙিয়ে ক্যাম্পে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে। মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ড এরই অংশ।

রোহিঙ্গাদের নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করে আসা মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম বলছেন, তিনটি কারণ সামনে রেখে তদন্ত করলেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য বের হবে। মুহিবুল্লাহ জাতিসংঘ গিয়ে বৈঠক করেছেন, জেনেভায় গিয়েছেন ও তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেছিলেন।

তার জনপ্রিয়তায় অন্য যেসব রোহিঙ্গা নেতৃত্ব দিয়ে সামনে আসতে পারছে না তাদের একটি গ্রুপ এ হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে। দ্বিতীয়ত, মুহিবুল্লাহ সবসময় রোহিঙ্গা জাতীয়তাবোধ জাগ্রত করার চেষ্টা করছিলেন।

এর বিপরীতে যাদের অবস্থান তারাও এ হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে। তৃতীয়ত, তিনি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। তবে কিছু দেশ ভূ-রাজনীতি বা ভূ-কৌশলের কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিপক্ষে রয়েছে।

সেসব দেশও মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের পেছনে কলকাঠি নাড়তে পারে। জড়িত থাকতে পারে মিয়ানমার সরকারও। কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শাহন রেজওয়ান হায়াত যুগান্তরকে বলেন, মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ড ঘিরে যেসব কথাবার্তা আমরা শুনতে পাচ্ছি।

সব বিষয় মাথায় রেখে তদন্তের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করা হবে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ক্যাম্পে যাতে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করতে পারে সে ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুহিবুল্লাহর উত্থান : ইংরেজি জানার কারণে মুহিবুল্লাহ সাক্ষাৎ করেছেন বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে। রোহিঙ্গা সলিডারিটি অরগানাইজেশনে (আরএসও) মুখ্য ভূমিকা পালন করায় ১৯৯২ সালে তিনি মিয়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশে আসেন। মাঝখানে মিয়ানমারে চলে যান।

২০০০ সালের শুরুতে ১৫ জন সদস্য নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন ‘আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস’ (এআরএসপিএইচ) নামের সংগঠন। উখিয়া-টেকনাফে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ান তিনি।

তাদের জমায়েত করার চেষ্টা করে ধীরে ধীরে রোহিঙ্গাদের নেতা হয়ে ওঠেন। তখন বাংলাদেশ থেকে সহজে মিয়ানমারে যাতায়াত করার কারণে সে দেশে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল।

সর্বশেষ ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাদের হাত থেকে প্রাণে বাঁচতে দ্বিতীয় বার বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন, আশ্রয় নেন উখিয়া ক্যাম্পে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কয়েকটি সংগঠন কাজ করলেও মুহিবুল্লাহর এআরএসপিএইচ সংগঠনটি বেশ শক্তিশালী।

এ সংগঠনে ৩০০ জন সক্রিয় সদস্য রয়েছে বলে জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরিত এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরা সফর করা ছাড়াও ২০১৯ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ১৭ দেশের যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ২৭ প্রতিনিধি সাক্ষাৎ করেন সেখানেও ছিলেন মুহিবুল্লাহ।

যুক্তরাষ্ট্র সফরের পর তিনি আরও সামনে চলে আসেন। তাকে আখ্যায়িত করা হচ্ছিল রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধি হিসাবে। মুহিবুল্লাহর মূল উত্থান হয় ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা আগমনের বর্ষপূর্তিতে।

ওই দিন তিনি ৩-৫ লাখ রোহিঙ্গার সমাবেশ ঘটিয়ে আলোচনার শীর্ষে আসেন। উখিয়া-টেকনাফের ৩২ রোহিঙ্গা শিবিরের একচ্ছত্র আধিপত্য গড়ে ওঠে তার।

এ হত্যাকাণ্ড দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করেছে-ফখরুল : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বিবৃতিতে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা শিবিরে তাকে নির্মমভাবে প্রকাশ্যে হত্যার ঘটনা বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি চরমভাবে বিনষ্ট হয়েছে।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে ব্যর্থ এই সরকার দেশে আশ্রিত শরণার্থীদের নিরাপত্তা দিতেও ব্যর্থ হয়েছে। রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহকে গুলি করে হত্যাকারী সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান ফখরুল

দায়ীদের ন্যায়বিচারের মুখোমুখি করা বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব-অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল : মুহিবুল্লাহ হত্যার ঘটনা তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি।

সংগঠনটি এক বিবৃতিতে বলেছে, মুহিবুল্লাহকে হত্যার ঘটনা পুরো রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। এ হত্যার ঘটনা তদন্ত করে দোষীদের সবাইকে তাদের অপরাধের জন্য ন্যায়বিচারের মুখোমুখি করা এখন বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব।

অ্যামনেস্টির দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের ক্যাম্পেইনার সাদ হামাদি রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর বাসিন্দাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনের শোক : শোক জানিয়ে সংগঠনের মুখপাত্র বলেছেন, শরণার্থী শিবিরে যাতে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় থাকে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছি।

রোহিঙ্গাদের জন্য যারা কথা বলেন তাদের জন্য বড় ধাক্কা -হিউম্যান রাইটস ওয়াচ : সংস্থার দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি এক বিবৃতিতে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের মধ্যে যারা অধিকারের কথা বলে, সহিসংতার বিরুদ্ধে কথা বলে, মুহিবুল্লাহর মৃত্যু তাদের জন্য একটি বড় ধাক্কা।

বিচার চায় পশ্চিমা কূটনীতিকরা : যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কূটনীতিকরা মুহিবুল্লাহর হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার, ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন, নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত আন্নে গেরার্ড ভেন লিউইন টুইটারে দেওয়া পৃথক বার্তায় মুহিবুল্লাহ হত্যার বিচারের দাবি করেন।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার টুইটে লিখেছেন, রোহিঙ্গা নেতা ও মানবাধিকারকর্মী মুহিবুল্লাহ হত্যা একটি দুঃখজনক ঘটনা। আমরা তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।

আশা করি, যারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তাদের বিচারের আওতায় আনতে কর্তৃপক্ষ সফল হবে। ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন লিখেছেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবাধিকারের একজন সাহসী চ্যাম্পিয়ন মুহিবুল্লাহর হত্যাকাণ্ডে মর্মাহত ও ব্যথিত।

কুতুপালং শিবিরে দাফন : কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় নামাজে জানাজা শেষে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মুহিবুল্লাহকে দাফন করা হয়েছে।

জানাজায় বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা অংশ নেন। এর আগে বেলা ৩টায় উখিয়ায় তার লাশ হস্তান্তর করা হয়। এসময় মুহিবুল্লাহর পরিবাবের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শীর্ষ রোহিঙ্গা নেতা হত্যা

প্রত্যাবাসনে সোচ্চার ভূমিকাই কাল হলো মুহিবুল্লাহর?

মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলামের বিশ্লেষণে তিন কারণে এ হত্যাকাণ্ড
 শফিউল্লাহ শফি ও জসিম উদ্দিন কক্সবাজার  
০১ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গাদের পক্ষে কথা বলার কারণে শিবিরে একক শীর্ষ নেতা হিসাবে উজ্জ্বল হয়ে ওঠা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সোচ্চার ভূমিকাই কি কাল হলো মুহিবুল্লাহর জীবনে। এমন প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রোহিঙ্গা শিবির ঘিরে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও মিয়ানমারে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম বলছেন, মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের পেছনে তিনটি কারণ থাকতে পারে।

প্রথমত, রোহিঙ্গাদের মধ্যে তার একক নেতৃত্ব গড়ে ওঠা, জাতীয়তাবোধ জাগ্রত করা এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পক্ষে তার দৃঢ় অবস্থান। জানা গেছে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে তার ভূমিকা মেনে নিতে পারছিল না মিয়ানমার সরকার।

মুহিবুল্লাহর জনপ্রিয়তার পারদ বাড়ার বিষয়টি মিয়ানমার জান্তার জন্য ক্রমেই দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠছিল। শিবিরে অনেক অস্ত্রধারী রোহিঙ্গার মিয়ানমার সরকারের কাছে বিক্রি হয়ে যাওয়ার অভিযোগ ছিল আগেই।

অনেক দিন ধরেই মুহিবুল্লাহকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। শিবিরের অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ হত্যাকাণ্ড যে পরিকল্পিত তা পরিষ্কার। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বলেছেন, কি কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন কাজ করছে। জোরদার করা হয়েছে ক্যাম্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শিবিরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

মুহিবুল্লাহর হত্যাকাণ্ডে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার আলাদা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এতে এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তের দাবি জানিয়ে ঘাতকদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। 

বুধবার রাত পৌনে ৯টার দিকে উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে ঢুকে একদল অস্ত্রধারী মুহিবুল্লাহকে গুলি করে হত্যা করে। কুতুপালং লম্বাশিয়া ক্যাম্পের ইস্ট-ওয়েস্ট ১ নম্বর ব্লকের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

মুহিবুল্লাহ (৫০) মিয়ানমারের রাখাইনের মংডু এলাকার লংডাছড়া গ্রামের মৌলভি ফজল আহমদের ছেলে।

মুহিবুল্লাহর ছোট ভাই হাবিবুল্লাহ জানান, কুতুপালংয়ের মসজিদে এশার নামাজ শেষ করে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) অফিসে অবস্থান করছিলেন তারা।

হঠাৎ ২০-২৫ জন অস্ত্রধারী আমার ভাইয়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। অফিসের সবাইকে মারধর করে বের করে দিলেও ভাইয়ের বুকে একাধিক গুলি করে।

তার দাবি, এ হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়েছেন রোহিঙ্গাদের কাছে ‘আরসা’ নেতা নামে পরিচিত মাস্টার আব্দুর রহিম, মুর্শিদ, লালুরা। হামলাকারীদের কয়েকজন কথিত ‘আল ইয়াকিন’র সদস্য।

হাবিবুল্লাহ বলেন, রোহিঙ্গাদের যে কোনো সমস্যায় ভাই এগিয়ে আসতেন। তাদের অধিকারের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছিলেন। তিনি বলেন, বিশ্ব মহলে মুহিবুল্লাহর গ্রহণযোগ্যতা বাধাগ্রস্ত করতেই এই হত্যাকাণ্ড।

হত্যাকাণ্ডের পর রোহিঙ্গাদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কয়েকজন রোহিঙ্গা নেতার দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পক্ষে সক্রিয় অবস্থান নেওয়ার কারণেই মিয়ানমার সরকারের পরিকল্পনায় এই হত্যাকাণ্ড।

রোহিঙ্গাদের জন্য কাজ করত এমন অনেকেই নানা প্রলোভনে মিয়ানমার জান্তার কাছে বিক্রি হয়ে গেছেন। এ হত্যাকাণ্ডে তাদের বড় ভূমিকা রয়েছে। আরও কয়েকজন রোহিঙ্গা নেতাও টার্গেটে রয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, প্রত্যাবাসনের বদলে বাংলাদেশে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী প্রমাণে মরিয়া হয়ে উঠেছে মিয়ানমার সরকার। এজন্য তারা বিপথগামী রোহিঙ্গাদের দিয়ে ক্যাম্পে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালানোর চেষ্টা করছে।

বিশ্ব দরবারে রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী হিসাবে তুলে ধরে ২০১৯ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার করা মামলাটি প্রশ্নবিদ্ধ করাই তাদের লক্ষ্য।

রোহিঙ্গা নেতা আবদুল হামিদ বলেন, আমরা দেশে ফিরতে চাই। তবে মিয়ানমার সরকার একদিকে আমাদের ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে যাতে আর মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে না হয় সেজন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছে।

তার দাবি, ক্যাম্পে এখন যেসব সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলছে সবই হচ্ছে মিয়ানমারের ইশারায়। তারা বিপথগামী কিছু রোহিঙ্গাকে ব্যবহার করে আল-ইয়াকিন ও আরসার নাম ভাঙিয়ে ক্যাম্পে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে। মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ড এরই অংশ। 

রোহিঙ্গাদের নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করে আসা মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম বলছেন, তিনটি কারণ সামনে রেখে তদন্ত করলেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য বের হবে। মুহিবুল্লাহ জাতিসংঘ গিয়ে বৈঠক করেছেন, জেনেভায় গিয়েছেন ও তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেছিলেন।

তার জনপ্রিয়তায় অন্য যেসব রোহিঙ্গা নেতৃত্ব দিয়ে সামনে আসতে পারছে না তাদের একটি গ্রুপ এ হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে। দ্বিতীয়ত, মুহিবুল্লাহ সবসময় রোহিঙ্গা জাতীয়তাবোধ জাগ্রত করার চেষ্টা করছিলেন।

এর বিপরীতে যাদের অবস্থান তারাও এ হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে। তৃতীয়ত, তিনি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। তবে কিছু দেশ ভূ-রাজনীতি বা ভূ-কৌশলের কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিপক্ষে রয়েছে।

সেসব দেশও মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের পেছনে কলকাঠি নাড়তে পারে। জড়িত থাকতে পারে মিয়ানমার সরকারও। কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শাহন রেজওয়ান হায়াত যুগান্তরকে বলেন, মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ড ঘিরে যেসব কথাবার্তা আমরা শুনতে পাচ্ছি।

সব বিষয় মাথায় রেখে তদন্তের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করা হবে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ক্যাম্পে যাতে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করতে পারে সে ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

মুহিবুল্লাহর উত্থান : ইংরেজি জানার কারণে মুহিবুল্লাহ সাক্ষাৎ করেছেন বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে। রোহিঙ্গা সলিডারিটি অরগানাইজেশনে (আরএসও) মুখ্য ভূমিকা পালন করায় ১৯৯২ সালে তিনি মিয়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশে আসেন। মাঝখানে মিয়ানমারে চলে যান।

২০০০ সালের শুরুতে ১৫ জন সদস্য নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন ‘আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস’ (এআরএসপিএইচ) নামের সংগঠন। উখিয়া-টেকনাফে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ান তিনি।

তাদের জমায়েত করার চেষ্টা করে ধীরে ধীরে রোহিঙ্গাদের নেতা হয়ে ওঠেন। তখন বাংলাদেশ থেকে সহজে মিয়ানমারে যাতায়াত করার কারণে সে দেশে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল।

সর্বশেষ ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাদের হাত থেকে প্রাণে বাঁচতে দ্বিতীয় বার বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন, আশ্রয় নেন উখিয়া ক্যাম্পে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কয়েকটি সংগঠন কাজ করলেও মুহিবুল্লাহর এআরএসপিএইচ সংগঠনটি বেশ শক্তিশালী।

এ সংগঠনে ৩০০ জন সক্রিয় সদস্য রয়েছে বলে জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরিত এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরা সফর করা ছাড়াও ২০১৯ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ১৭ দেশের যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ২৭ প্রতিনিধি সাক্ষাৎ করেন সেখানেও ছিলেন মুহিবুল্লাহ।

যুক্তরাষ্ট্র সফরের পর তিনি আরও সামনে চলে আসেন। তাকে আখ্যায়িত করা হচ্ছিল রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধি হিসাবে। মুহিবুল্লাহর মূল উত্থান হয় ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা আগমনের বর্ষপূর্তিতে।

ওই দিন তিনি ৩-৫ লাখ রোহিঙ্গার সমাবেশ ঘটিয়ে আলোচনার শীর্ষে আসেন। উখিয়া-টেকনাফের ৩২ রোহিঙ্গা শিবিরের একচ্ছত্র আধিপত্য গড়ে ওঠে তার। 

এ হত্যাকাণ্ড দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করেছে-ফখরুল : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বিবৃতিতে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা শিবিরে তাকে নির্মমভাবে প্রকাশ্যে হত্যার ঘটনা বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি চরমভাবে বিনষ্ট হয়েছে।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে ব্যর্থ এই সরকার দেশে আশ্রিত শরণার্থীদের নিরাপত্তা দিতেও ব্যর্থ হয়েছে। রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহকে গুলি করে হত্যাকারী সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান ফখরুল 

দায়ীদের ন্যায়বিচারের মুখোমুখি করা বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব-অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল : মুহিবুল্লাহ হত্যার ঘটনা তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি।

সংগঠনটি এক বিবৃতিতে বলেছে, মুহিবুল্লাহকে হত্যার ঘটনা পুরো রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। এ হত্যার ঘটনা তদন্ত করে দোষীদের সবাইকে তাদের অপরাধের জন্য ন্যায়বিচারের মুখোমুখি করা এখন বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব।

অ্যামনেস্টির দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের ক্যাম্পেইনার সাদ হামাদি রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর বাসিন্দাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। 

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনের শোক : শোক জানিয়ে সংগঠনের মুখপাত্র বলেছেন, শরণার্থী শিবিরে যাতে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় থাকে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছি।

রোহিঙ্গাদের জন্য যারা কথা বলেন তাদের জন্য বড় ধাক্কা -হিউম্যান রাইটস ওয়াচ : সংস্থার দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি এক বিবৃতিতে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের মধ্যে যারা অধিকারের কথা বলে, সহিসংতার বিরুদ্ধে কথা বলে, মুহিবুল্লাহর মৃত্যু তাদের জন্য একটি বড় ধাক্কা।

বিচার চায় পশ্চিমা কূটনীতিকরা : যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কূটনীতিকরা মুহিবুল্লাহর হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার, ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন, নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত আন্নে গেরার্ড ভেন লিউইন টুইটারে দেওয়া পৃথক বার্তায় মুহিবুল্লাহ হত্যার বিচারের দাবি করেন।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার টুইটে লিখেছেন, রোহিঙ্গা নেতা ও মানবাধিকারকর্মী মুহিবুল্লাহ হত্যা একটি দুঃখজনক ঘটনা। আমরা তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।

আশা করি, যারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তাদের বিচারের আওতায় আনতে কর্তৃপক্ষ সফল হবে। ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন লিখেছেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবাধিকারের একজন সাহসী চ্যাম্পিয়ন মুহিবুল্লাহর হত্যাকাণ্ডে মর্মাহত ও ব্যথিত।

কুতুপালং শিবিরে দাফন : কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় নামাজে জানাজা শেষে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মুহিবুল্লাহকে দাফন করা হয়েছে।

জানাজায় বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা অংশ নেন। এর আগে বেলা ৩টায় উখিয়ায় তার লাশ হস্তান্তর করা হয়। এসময় মুহিবুল্লাহর পরিবাবের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা