এবার রাজাপাকসে পরিবারের গোপন লেনদেন ফাঁস
jugantor
প্যান্ডোরা পেপারস কেলেঙ্কারি
এবার রাজাপাকসে পরিবারের গোপন লেনদেন ফাঁস

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৬ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্যান্ডোরা পেপারসে এবার শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের পরিবারের এক সদস্যের গোপন লেনদেনের তথ্য ফাঁস হয়েছে। এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ কিছু হাই প্রোফাইল নেতার নাম প্যান্ডোরা পেপারসে উঠে এসেছে। তাদের ঘিরে প্রচুর অস্বস্তিকর প্রশ্ন উঠছে।

করস্বর্গ হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ নেভাদাসহ আরও কয়েকটি প্রদেশ। এর মধ্যে শুধু সাউথ ডাকোটাতেই ৩৬৭ কোটি ডলার কর দেওয়া হয়েছে। অফশোর কোম্পানিতে ব্রিটিশ রাজনীতিকদের ৪০০ কোটি ডলার রয়েছে বলে জানা গেছে।

কাতার শাসক পরিবার ১ কোটি ৮৫ লাখ ইউরো কর ফাঁকি দিয়ে লন্ডনে দুই প্রাসাদ ক্রয় করেছে। বিবিসি, এএফপি ও রয়টার্স।

ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস প্রাপ্ত গোপনীয় নথিতে দেখা যায় যে, শ্রীলংকায় রক্তক্ষয়ী কয়েক গৃহযুদ্ধের কারণে বিধ্বস্ত ছিল। এই দেশটিতেও মাহিন্দা রাজাপাকসের চাচাতো ভাইয়ের মেয়ে নিরুপমা রাজাপাকসে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম করেছেন।

তিনি তার স্বামী থিরুকুমার নাদেসানসহ এসব দুর্নীতি করেন। এই দম্পতি ক্ষমতার অপব্যবহার করে শিল্পকর্ম এবং বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ও নগদ সঞ্চয় করার জন্য বেনামি অফশোর ট্রাস্ট এবং শেল কোম্পানি স্থাপন করেছিলেন।

তারা আর্থিক সেবা প্রদানকারী, আইনজীবী অন্য পেশাজীবীদের সহায়তায় অর্থ লুকিয়ে রাখেন। তাদের বিরুদ্ধে শ্রীলংকান কর্তৃপক্ষ তদন্তও করেছিল।

২০১৭ সালের হিসাবে রাজাপাকসে ও নাদেসানের ট্রাস্টের সম্পদ প্রায় ১৮ মিলিয়ন ডলার। আইসিআইজের বিশ্লেষণে বিষয়টি উঠে এসেছে। এশিয়াসিটির ই-মেইলে দেখা গেছে, নাদেসানের দীর্ঘদিনের উপদেষ্টার সামগ্রিক সম্পদ ২০১১ সালে ১৬০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি রেখেছিলেন। তবে আইসিআইজে স্বাধীনভাবে বিষয়টি যাচাই করতে পারেনি।

উনিশ শতকের ভারতীয় মাস্টার রাজা রবি ভার্মার আঁকা দেবী লক্ষ্মী একটি চিত্রকর্ম। যার মূল্য ছিল ১ মিলিয়ন ডলার। দেবী লক্ষ্মীর মালিক ও এর সঙ্গে ট্রানজিটের শিল্পকর্মগুলো প্যাকিং স্লিপে লিপিবদ্ধ করা হয়। এটি একটি সামোয়ান-নিবন্ধিত শেল কোম্পানি। যার নাম প্যাসিফিক কমোডিটিস লিমিটেড। থিরুকুমার নাদেসান গোপনে কোম্পানিটিকে নিয়ন্ত্রণ করেন।

নিরুপমা রাজাপাকসের বাবা জর্জ রাজাপাকসে। তিনি ডিএ রাজাপাকসের ছেলে। মাহিন্দা রাজাপাকসের বাবা ডিএম রাজাপাকসে ও ডিএ রাজাপাকসে আপন ভাই। শ্রীলংকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট গোতভায়ে রাজাপাকসে মাহিন্দা রাজাপাকসের ভাই। এই পরিবার শ্রীলংকার রাজনীতিতে কয়েক দশক ধরে আধিপত্য বিস্তার করে আছে। এই পরিবারের এক সদস্যের নাম প্যান্ডোরা পেপারসে উঠে আসায় বিষয়টি অনেক তাৎপর্য বহন করে।

এদিকে প্যান্ডোরা পেপারস নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ব্রাসেলসে বেশ সতর্ক লাগছিল ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র ডানা স্পিনান্টকে। একের পর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলছিলেন, আপনাদের মতো আমরাও মিডিয়া রিপোর্ট দেখেছি। আমরা কোনো ব্যক্তির নাম নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারব না। কোনো সংস্থাকে নিয়েও জবাব দিতে পারব না।

সম্ভবত ইউরোপীয় হেলথ ও কনজিউমার পলিসির সাবেক কমিশনার জন ডালিকে নিয়ে এবার উৎসাহ দেখাবে ইইউ। তামাকজাত পণ্য নিয়ে একটা কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ে ২০১২ সালে তিনি ইস্তফা দিতে বাধ্য হন। কিন্তু সাবেক ইউরোপীয় কমিশনার হিসাবে তিনি পেনশন পান। ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস (আইসিআইজে) রিপোর্ট অনুযায়ী, ডালি তাদের জানিয়েছেন, তিনি ২০০৬ সালে ব্রিটিশ ভার্জিনিয়া দ্বীপে একটি শেল কোম্পানি খোলেন। কিন্তু তিনি তা ব্যবহার করেননি।

তিনি মাল্টার নাগরিক। সে দেশের আইন অনুসারে এ ধরনের কোম্পানি খুললে তা পার্লামেন্টকে জানাতে হয়। কিন্তু তিনি তা জানাননি। এর আগে ইউরোপীয় কমিশন দাবি করেছিল, গত পাঁচ বছরে কর ফাঁকি রুখতে প্রচুর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কমিশনের মুখপাত্র ড্যানিয়েল ফেরির দাবি, ব্যাংকের গোপনীয়তার বিষয়টি বাতিল করা হয়েছে। প্রতিটি দেশ তাদের কর বাঁচানোর প্রকল্পগুলো অন্য দেশকে জানায়।

মানি লন্ডারিং নিয়ে কড়া মনোভাব দেখানো হয়েছে। শেল কোম্পানিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আইন করা হচ্ছে, যাতে এই ফাঁক গলে কর ফাঁকি দেওয়া না যায়। ২০১৭ সালে কর ফাঁকির স্বর্গরাজ্যগুলো নিয়ে ইইউর নীতি তৈরি হয়। আইসিআইজে পানামা পেপারস প্রকাশ করার পর তখনই দেখা গিয়েছিল-রাজনীতিক, শিল্পপতি, অভিনেতা, ক্রীড়াবিদ, বিত্তবানরা কীভাবে বিশাল অঙ্কের কর ফাঁকি দেন। ইইউ কিছু দেশের তালিকা তৈরি করেছে, যা কর ফাঁকির স্বর্গরাজ্য।

জার্মানির গ্রিন পার্টির নেতা ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য স্বেন গিগোল্ড বলেছেন, ‘ইইউ যে তালিকা তৈরি করেছে, তা দিয়ে কর ফাঁকি বন্ধ করা যাবে না। অনেক দেশের নাম এ তালিকয় নেই।’

প্যান্ডোরা কাগজপত্রের নথি অনুসারে, সাউথ ডাকোটায় বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সম্পদ আশ্রয় দিচ্ছে, কিছু ব্যক্তি এবং কোম্পানির সঙ্গে আর্থিক অপরাধ বা গুরুতর ভুলও জড়িত রয়েছে। মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলীয় এ রাজ্য এখন প্রতিদ্বন্দ্বী সুইজারল্যান্ড, পানামা, কেম্যান দ্বীপপুঞ্জ এবং অন্যান্য বিখ্যাত ট্যাক্স হেভেনগুলো আন্তর্জাতিক ধনীদের জন্য একটি প্রধান স্থান হিসাবে। ধনী বিদেশি ব্যক্তি এবং তাদের পরিবার লাখ লাখ ডলার সাউথ ডাকোটা ট্রাস্ট ফান্ডে স্থানান্তর করছে।

প্যান্ডোরা পেপারসের ফাঁস হওয়া নথি থেকে জানা যায়, গার্ডিয়ান ব্রিটেনের প্রায় ৬০০ জনকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে। যারা গোপন অফশোর কোম্পানি ব্যবহার করে তাদের ব্রিটিশ সম্পত্তি গোপন রাখত।

১৭০ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি মূল্যের যুক্তরাজ্যের সম্পত্তি বিদেশে রাখা হয়েছে। এর বেশিরভাগই বেনামে। এতে সরকারের ওপর পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতি প্রণয়নের জন্য চাপ বাড়িয়ে দেবে ও বিদেশি মালিকদের প্রকাশ্যে তাদের ইউকে হোল্ডিং নিবন্ধন করতে বাধ্য করবে।

ফাঁস হওয়া নথিতে দেখা যায়, কাতারের ক্ষমতাসীন রাজ পরিবার মধ্য লন্ডনে ১৭ বেডরুমের ওই ‘সুপার ম্যানশন’ ক্রয় করেন। এই ‘সুপার ম্যানশন’র মূল্য প্রায় ১২০ মিলিয়ন পাউন্ড। তবে ওই ম্যানশন বিক্রেতা ও কাতারি রাজপরিবার অবৈধভাবে কেনাবেচা করেছে-এ ধরনের কোনো প্রমাণ নেই।

২০১৩ সালে ব্রিটিশ গণমাধ্যম রিপোর্ট করেছিল যে, তৎকালীন কাতারের আমিরের স্ত্রী ও বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির মা শায়েখা মোজা বিনতে নাসের লন্ডনে ৪০ মিলিয়ন পাউন্ডে দুটি কর্নওয়াল টেরেস কিনেছিলেন। যা যুক্তরাজ্যে বিক্রি হওয়া সবচেয়ে ব্যয়বহুল ছাদযুক্ত সম্পত্তি। কর্নওয়াল টেরেস একই সঙ্গে

বিশ্বের যে কোনো জায়গায় সবচেয়ে দামি বাড়ি বলে মনে করা হয়। রিজেন্ট পার্কের মুখোমুখি এই ম্যানশনের অবস্থান। ১৮০০ এর দশকের গোড়ার দিকে বিখ্যাত জর্জিয়ান স্থপতি জেমস ও ডেসিমাস বার্টন এবং জন ন্যাশ পার্কটি ডিজাইন করেছিল।

কেনার পর ক্ষমতাসীন রাজ পরিবার ২০১৫ সালে ১৭টি শয়নকক্ষ, ১৪ লাউঞ্জ, একটি সিনেমা, একটি জুস বার এবং একটি সুইমিং পুলসহ এসব সম্পত্তি একটি একক ‘সুপার-ম্যানশন’ করেন।

প্যান্ডোরা পেপারস কেলেঙ্কারি

এবার রাজাপাকসে পরিবারের গোপন লেনদেন ফাঁস

 যুগান্তর ডেস্ক 
০৬ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্যান্ডোরা পেপারসে এবার শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের পরিবারের এক সদস্যের গোপন লেনদেনের তথ্য ফাঁস হয়েছে। এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ কিছু হাই প্রোফাইল নেতার নাম প্যান্ডোরা পেপারসে উঠে এসেছে। তাদের ঘিরে প্রচুর অস্বস্তিকর প্রশ্ন উঠছে।

করস্বর্গ হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ নেভাদাসহ আরও কয়েকটি প্রদেশ। এর মধ্যে শুধু সাউথ ডাকোটাতেই ৩৬৭ কোটি ডলার কর দেওয়া হয়েছে। অফশোর কোম্পানিতে ব্রিটিশ রাজনীতিকদের ৪০০ কোটি ডলার রয়েছে বলে জানা গেছে।

কাতার শাসক পরিবার ১ কোটি ৮৫ লাখ ইউরো কর ফাঁকি দিয়ে লন্ডনে দুই প্রাসাদ ক্রয় করেছে। বিবিসি, এএফপি ও রয়টার্স।

ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস প্রাপ্ত গোপনীয় নথিতে দেখা যায় যে, শ্রীলংকায় রক্তক্ষয়ী কয়েক গৃহযুদ্ধের কারণে বিধ্বস্ত ছিল। এই দেশটিতেও মাহিন্দা রাজাপাকসের চাচাতো ভাইয়ের মেয়ে নিরুপমা রাজাপাকসে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম করেছেন।

তিনি তার স্বামী থিরুকুমার নাদেসানসহ এসব দুর্নীতি করেন। এই দম্পতি ক্ষমতার অপব্যবহার করে শিল্পকর্ম এবং বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ও নগদ সঞ্চয় করার জন্য বেনামি অফশোর ট্রাস্ট এবং শেল কোম্পানি স্থাপন করেছিলেন।

তারা আর্থিক সেবা প্রদানকারী, আইনজীবী অন্য পেশাজীবীদের সহায়তায় অর্থ লুকিয়ে রাখেন। তাদের বিরুদ্ধে শ্রীলংকান কর্তৃপক্ষ তদন্তও করেছিল।

২০১৭ সালের হিসাবে রাজাপাকসে ও নাদেসানের ট্রাস্টের সম্পদ প্রায় ১৮ মিলিয়ন ডলার। আইসিআইজের বিশ্লেষণে বিষয়টি উঠে এসেছে। এশিয়াসিটির ই-মেইলে দেখা গেছে, নাদেসানের দীর্ঘদিনের উপদেষ্টার সামগ্রিক সম্পদ ২০১১ সালে ১৬০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি রেখেছিলেন। তবে আইসিআইজে স্বাধীনভাবে বিষয়টি যাচাই করতে পারেনি।

উনিশ শতকের ভারতীয় মাস্টার রাজা রবি ভার্মার আঁকা দেবী লক্ষ্মী একটি চিত্রকর্ম। যার মূল্য ছিল ১ মিলিয়ন ডলার। দেবী লক্ষ্মীর মালিক ও এর সঙ্গে ট্রানজিটের শিল্পকর্মগুলো প্যাকিং স্লিপে লিপিবদ্ধ করা হয়। এটি একটি সামোয়ান-নিবন্ধিত শেল কোম্পানি। যার নাম প্যাসিফিক কমোডিটিস লিমিটেড। থিরুকুমার নাদেসান গোপনে কোম্পানিটিকে নিয়ন্ত্রণ করেন।

নিরুপমা রাজাপাকসের বাবা জর্জ রাজাপাকসে। তিনি ডিএ রাজাপাকসের ছেলে। মাহিন্দা রাজাপাকসের বাবা ডিএম রাজাপাকসে ও ডিএ রাজাপাকসে আপন ভাই। শ্রীলংকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট গোতভায়ে রাজাপাকসে মাহিন্দা রাজাপাকসের ভাই। এই পরিবার শ্রীলংকার রাজনীতিতে কয়েক দশক ধরে আধিপত্য বিস্তার করে আছে। এই পরিবারের এক সদস্যের নাম প্যান্ডোরা পেপারসে উঠে আসায় বিষয়টি অনেক তাৎপর্য বহন করে।

এদিকে প্যান্ডোরা পেপারস নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ব্রাসেলসে বেশ সতর্ক লাগছিল ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র ডানা স্পিনান্টকে। একের পর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলছিলেন, আপনাদের মতো আমরাও মিডিয়া রিপোর্ট দেখেছি। আমরা কোনো ব্যক্তির নাম নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারব না। কোনো সংস্থাকে নিয়েও জবাব দিতে পারব না।

সম্ভবত ইউরোপীয় হেলথ ও কনজিউমার পলিসির সাবেক কমিশনার জন ডালিকে নিয়ে এবার উৎসাহ দেখাবে ইইউ। তামাকজাত পণ্য নিয়ে একটা কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ে ২০১২ সালে তিনি ইস্তফা দিতে বাধ্য হন। কিন্তু সাবেক ইউরোপীয় কমিশনার হিসাবে তিনি পেনশন পান। ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস (আইসিআইজে) রিপোর্ট অনুযায়ী, ডালি তাদের জানিয়েছেন, তিনি ২০০৬ সালে ব্রিটিশ ভার্জিনিয়া দ্বীপে একটি শেল কোম্পানি খোলেন। কিন্তু তিনি তা ব্যবহার করেননি।

তিনি মাল্টার নাগরিক। সে দেশের আইন অনুসারে এ ধরনের কোম্পানি খুললে তা পার্লামেন্টকে জানাতে হয়। কিন্তু তিনি তা জানাননি। এর আগে ইউরোপীয় কমিশন দাবি করেছিল, গত পাঁচ বছরে কর ফাঁকি রুখতে প্রচুর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কমিশনের মুখপাত্র ড্যানিয়েল ফেরির দাবি, ব্যাংকের গোপনীয়তার বিষয়টি বাতিল করা হয়েছে। প্রতিটি দেশ তাদের কর বাঁচানোর প্রকল্পগুলো অন্য দেশকে জানায়।

মানি লন্ডারিং নিয়ে কড়া মনোভাব দেখানো হয়েছে। শেল কোম্পানিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আইন করা হচ্ছে, যাতে এই ফাঁক গলে কর ফাঁকি দেওয়া না যায়। ২০১৭ সালে কর ফাঁকির স্বর্গরাজ্যগুলো নিয়ে ইইউর নীতি তৈরি হয়। আইসিআইজে পানামা পেপারস প্রকাশ করার পর তখনই দেখা গিয়েছিল-রাজনীতিক, শিল্পপতি, অভিনেতা, ক্রীড়াবিদ, বিত্তবানরা কীভাবে বিশাল অঙ্কের কর ফাঁকি দেন। ইইউ কিছু দেশের তালিকা তৈরি করেছে, যা কর ফাঁকির স্বর্গরাজ্য।

জার্মানির গ্রিন পার্টির নেতা ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য স্বেন গিগোল্ড বলেছেন, ‘ইইউ যে তালিকা তৈরি করেছে, তা দিয়ে কর ফাঁকি বন্ধ করা যাবে না। অনেক দেশের নাম এ তালিকয় নেই।’

প্যান্ডোরা কাগজপত্রের নথি অনুসারে, সাউথ ডাকোটায় বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সম্পদ আশ্রয় দিচ্ছে, কিছু ব্যক্তি এবং কোম্পানির সঙ্গে আর্থিক অপরাধ বা গুরুতর ভুলও জড়িত রয়েছে। মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলীয় এ রাজ্য এখন প্রতিদ্বন্দ্বী সুইজারল্যান্ড, পানামা, কেম্যান দ্বীপপুঞ্জ এবং অন্যান্য বিখ্যাত ট্যাক্স হেভেনগুলো আন্তর্জাতিক ধনীদের জন্য একটি প্রধান স্থান হিসাবে। ধনী বিদেশি ব্যক্তি এবং তাদের পরিবার লাখ লাখ ডলার সাউথ ডাকোটা ট্রাস্ট ফান্ডে স্থানান্তর করছে।

প্যান্ডোরা পেপারসের ফাঁস হওয়া নথি থেকে জানা যায়, গার্ডিয়ান ব্রিটেনের প্রায় ৬০০ জনকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে। যারা গোপন অফশোর কোম্পানি ব্যবহার করে তাদের ব্রিটিশ সম্পত্তি গোপন রাখত।

১৭০ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি মূল্যের যুক্তরাজ্যের সম্পত্তি বিদেশে রাখা হয়েছে। এর বেশিরভাগই বেনামে। এতে সরকারের ওপর পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতি প্রণয়নের জন্য চাপ বাড়িয়ে দেবে ও বিদেশি মালিকদের প্রকাশ্যে তাদের ইউকে হোল্ডিং নিবন্ধন করতে বাধ্য করবে।

ফাঁস হওয়া নথিতে দেখা যায়, কাতারের ক্ষমতাসীন রাজ পরিবার মধ্য লন্ডনে ১৭ বেডরুমের ওই ‘সুপার ম্যানশন’ ক্রয় করেন। এই ‘সুপার ম্যানশন’র মূল্য প্রায় ১২০ মিলিয়ন পাউন্ড। তবে ওই ম্যানশন বিক্রেতা ও কাতারি রাজপরিবার অবৈধভাবে কেনাবেচা করেছে-এ ধরনের কোনো প্রমাণ নেই।

২০১৩ সালে ব্রিটিশ গণমাধ্যম রিপোর্ট করেছিল যে, তৎকালীন কাতারের আমিরের স্ত্রী ও বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির মা শায়েখা মোজা বিনতে নাসের লন্ডনে ৪০ মিলিয়ন পাউন্ডে দুটি কর্নওয়াল টেরেস কিনেছিলেন। যা যুক্তরাজ্যে বিক্রি হওয়া সবচেয়ে ব্যয়বহুল ছাদযুক্ত সম্পত্তি। কর্নওয়াল টেরেস একই সঙ্গে

বিশ্বের যে কোনো জায়গায় সবচেয়ে দামি বাড়ি বলে মনে করা হয়। রিজেন্ট পার্কের মুখোমুখি এই ম্যানশনের অবস্থান। ১৮০০ এর দশকের গোড়ার দিকে বিখ্যাত জর্জিয়ান স্থপতি জেমস ও ডেসিমাস বার্টন এবং জন ন্যাশ পার্কটি ডিজাইন করেছিল।

কেনার পর ক্ষমতাসীন রাজ পরিবার ২০১৫ সালে ১৭টি শয়নকক্ষ, ১৪ লাউঞ্জ, একটি সিনেমা, একটি জুস বার এবং একটি সুইমিং পুলসহ এসব সম্পত্তি একটি একক ‘সুপার-ম্যানশন’ করেন।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন