বাজেট ২০১৮-১৯

ট্যারিফ ভ্যালুতে বড় পরিবর্তন আসছে

  সাদ্দাম হোসেন ইমরান ১১ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ট্যারিফ ভ্যালুতে বড় পরিবর্তন আসছে

আগামী অর্থবছরের বাজেটে আমদানি পণ্যের ট্যারিফ ভ্যালুতে বড় পরিবর্তন আসছে।

যদিও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত কোনো পণ্যেই ট্যারিফ ভ্যালু কার্যকর রাখতে চান না। তার মতে, এ ধরনের মূল্য ব্যবস্থায় শুল্ক ফাঁকি উৎসাহিত হচ্ছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিদ্যমান মূল্য বাজারমূল্যের চেয়েও অনেক কম।

অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আমদানি পর্যায়ে ট্যারিফ ভ্যালু যৌক্তিকীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত বাজেটে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পণ্যে বর্তমানে কার্যকর ট্যারিফ ভ্যালু থাকছে না। কিছু পণ্যের এই ভ্যালু আরও বাড়ানো হবে। দেশে উৎপাদিত পণ্যকে সুরক্ষা দিয়ে অনেক পণ্যে এ ব্যবস্থা সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সম্প্রতি এনবিআরকে পাঠানো এক নির্দেশনায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অনেক পণ্যের জন্য ট্যারিফ মূল্য নির্ধারণ করে থাকি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ট্যারিফ মূল্য প্রকৃত বাজারমূল্যের চেয়ে কম। ইতিমধ্যে আমি নির্দেশ দিয়েছি, ট্যারিফ মূল্যকে একেবারেই বাদ দিতে হবে। আগামী বাজেটে অনেক ট্যারিফ মূল্য বাদ দেয়া হবে বা উল্লেখযোগ্যভাবে বাজারমূল্যের কাছে নিয়ে আসতে হবে।’

তিনি জানান, ‘ট্যারিফ মূল্য বিভিন্ন পণ্যের ওপর বিদ্যমান। এই মূল্যকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাদ দিতে হবে। সে জন্য কোন পণ্যের ট্যারিফ মূল্য কত ও বাজারমূল্য কত তার তালিকা চাই। একই সঙ্গে কীভাবে তা বাতিল করা যাবে তার সময়সূচি চাই।’

জানা গেছে, শুল্ক ফাঁকি রোধ করতে ট্যারিফ ভ্যালু একটি টুলস হিসেবে কাজ করে। ২০১৬ সালের বাজেটে আন্ডার ইনভয়েসিং রোধে বেশ কিছু পণ্যে ট্যারিফ ভ্যালু নির্ধারণ করে দেয়া হয়।

এর আগের বছরগুলোতেও ব্যবসায়ীদের দাবি এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে আরও কিছু পণ্যে এ ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়। সব মিলিয়ে বর্তমানে আমদানি পর্যায়ে ৪২২টি এইচএস কোডের পণ্যে ট্যারিফ ভ্যালু কার্যকর আছে।

এর মধ্যে অনেক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যও আছে যেগুলোর ট্যারিফ ভ্যালু বাড়ানো হলে বাজারমূল্যে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত চিনি, চা, ফলের জুসসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্য পণ্য আছে।

এই ভ্যালু নির্ধারণের সময় পণ্যের কান্ট্রি অব অরিজিন বিবেচনায় নিয়ে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে এশিয়া অঞ্চলের পণ্যের কম ভ্যালু এবং ইউরোপীয় অঞ্চলের পণ্যের বেশি মূল্য নির্ধারণ করা হয়।

কাস্টমসের ভাষায়, আমদানি পণ্যের দাম সুনির্দিষ্ট করে দেয়াকে ট্যারিফ ভ্যালু বলা হয়। গেজেটের মাধ্যমে আমদানি-রফতানি পণ্যের ওপর ট্যারিফ ভ্যালু নির্ধারণ করে দেয়। ট্যারিফ ভ্যালু আরোপিত পণ্য কাস্টমসে শুল্কায়নের সময় পণ্যের প্রকৃত মূল্য বিবেচনায় নেয়া হয় না।

অর্থাৎ যেসব পণ্যের ট্যারিফ ভ্যালু মূল্য নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে, আমদানিকারক যদি তার চেয়ে কম দামেও পণ্য আমদানি করেন, তবুও ট্যারিফ ভ্যালুর ওপর শুল্কায়ন করা হবে।

বর্তমানে ট্যারিফ ভ্যালু আছে এমন উল্লেখযোগ্য পণ্য হচ্ছে, অপরিশোধিত প্রতি টন চিনিতে ৩৫০ ডলার, পরিশোধিত ৪৩০ ডলার, চা প্রতি কেজি ২ ডলার, মধু প্রতি কেজি ৫ ডলার (অস্ট্রেলিয়ার হলে ৮ ডলার), সুপারি প্রতি কেজি দেড় ডলার; অলিভ অয়েল ভার্জিন ৩ ডলার, সূর্যমুখীর তেল ১ ডলার ৬০ সেন্ট। এছাড়া চকোলেট, বিস্কুট, ওয়েফার ও ক্রেকার্স, পটেটো চিপস, জ্যাম-জেলি, সয়াসস, মেয়নিজ, টমেটো কেচাপ, ফলের জুস, মিনারেল ওয়াটার, এনার্জি ড্রিংক্স, সুগন্ধি, মহিলাদের লিপস্টিক, লিপ লাইনার, লিপ গ্লস, লিপ জেল, আইশ্যাডো, আই লাইনার, মাশকারা, ফেস ক্রিম, শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার, সাবান, মশার কয়েল ও অ্যারোসল এবং এয়ার ফ্রেশনার।

অভিযোগ আছে, শুল্ক ফাঁকি রোধ করতে ট্যারিফ ভ্যালু আরোপ করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে এটি শুল্ক ফাঁকির বৈধ পন্থা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রথমে ট্যারিফ ভ্যালু নির্ধারণের সময় পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে কম মূল্য ধার্য করা হয়, পরে সে মূল্যেই পণ্য খালাস নেয়া হয়।

এতে অসাধু আমদানিকারকদের বৈধভাবে আন্ডার ইনভয়েসিং করার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে সরকার কাক্সিক্ষত রাজস্ব পাচ্ছে না।

এনবিআর সূত্র জানায়, আগামী সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অর্থমন্ত্রী ও এনবিআরের চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বাজেট বৈঠক হবে। এনবিআরের তরফ থেকে বৈঠকে ব্যবসায়ী সংগঠনের দেয়া বাজেট প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হবে। এসব প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী যেই নির্দেশনা দেবেন তার ওপর ভিত্তিতে বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করা হবে। এ বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের কথা রয়েছে। ওই সফর শেষে দেশে ফিরলে আবারও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে বাজেট চূড়ান্ত করা হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter