মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়বে
jugantor
বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কতা
মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়বে
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বড় চার ঝুঁকি, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা রাখতে সতর্কতা

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৩ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা করে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে আগামীতে মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি ও বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ছে লাগামহীন।

এর প্রভাবে দেশের বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ছাড়া করোনার প্রভাব মোকাবিলায় বাজারে টাকার প্রবাহ বাড়ানো হয়েছে। এসব কারণে দেশের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার সংকেত পাওয়া যাচ্ছে।

দেশের হালনাগাদ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৈরি এক বিশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য ওঠে এসেছে। এতে বলা হয়, অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির ওপর যত অযৌক্তিক চাপই আসুক না কেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা নিয়ন্ত্রণ করতে ও সামষ্টিক আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সব সময় সজাগ থাকবে। একই সঙ্গে অর্থনীতির চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিবেদনে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে চারটি প্রধান ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে-বৈশ্বিক খাতে প্রত্যাশার চেয়ে পুনরুদ্ধারের গতি কম, বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির হারে ঊর্ধ্বগতি, শ্রমবাজারে কর্মের অভাব এবং পণ্য পরিবহণ খরচ অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। প্রতিবেদনে বলা হয়, খাদ্যপণ্যসহ খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে-যা গত জুলাইয়ে ছিল ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ। আগস্টে তা বেড়ে হয়েছে ৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ। গত বছরের জুনে ছিল ৬ দশমিক ০২ শতাংশ। সম্প্রতি খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার বেশি বাড়ছে। এটি উদ্বেগজনক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ হার সাড়ে ৫ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখতে মুদ্রানীতির দিক থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।

প্রতিবেদনে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলা হয়, আগামীতে করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রমে আরও গতি আসবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সম্প্রসারণমুখী মুদ্রানীতি অব্যাহত রেখেছে। ফলে অদূর ভবিষ্যতে ব্যাপকভিত্তিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। এর মধ্যে দিয়েই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো মোকাবিলা করতে হবে। এ লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সরকারকেও বিভিন্ন সময় নীতি সহায়তা ও প্রণোদনার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোকে সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সবার আগে মানুষের মধ্যে আস্থার সঞ্চার করতে হবে। মানুষকে নিশ্চয়তা দিতে হবে এ মাসে যে আয় করে খরচ করেছে, আগামী মাসেও তার আয় কমবে না, অন্তত একই থাকবে। তাহলে মানুষ খরচ করবে। তখন অর্থনীতিতে ভোগ বাড়বে। পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে গতি পাবে। একই সঙ্গে ভোক্তার পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের মধ্যেও তার উৎপাদিত পণ্য বিপণনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। বিনিয়োগ থেকে মুনাফা আসবে সেটাও নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনার সংক্রমণ মোকাবিলা করে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানির বাজারগুলো এখন স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করেছে। এতে পণ্যের চাহিদা বেড়ে গেছে। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নেই। ফলে দাম বাড়ছে। এতে বাড়ছে মূল্যস্ফীতির হারও। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণ করে জ্বালানির মূল্য। জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৮৩ ডলারে উঠেছে। এর দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত মার্চে এর দাম ৫০ ডলারের নিচে ছিল। করোনার শুরুতে গত বছরের এপ্রিলে এর দাম ৩৩ ডলারে নেমে গিয়েছিল। গত বছরের জুনে জ্বালানি তেলের প্রতি ব্যারেলের দাম ছিল ৪০ ডলার। এর পাশাপাশি এলএনজিসহ অন্যান্য জ্বালানির দামও বাড়ছে। জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে পণ্য উৎপাদন ও পরিবহণ ব্যয় বেড়ে গেছে। বিশেষ করে জাহাজে পণ্য পরিবহণ ব্যয় বেশি বেড়েছে। জ্বালানিবহির্ভূত অন্য পণ্যের দাম গত বছরের জুনে ছিল গড়ে ৭৫ ডলার। এখন তা বেড়ে হয়েছে ১১০ ডলার। খাদ্য উপকরণের দাম একই সময়ে ৮০ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ১১৫ ডলার। সয়াবিন তেলের দাম প্রতি টন ৭০০ থেকে বেড়ে হয়েছে দেড় হাজার ডলার।

সূত্র জানায়, করোনার কারণে সব দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এখনো স্বাভাবিক হয়নি। ফলে কোথাও আমদানি বেশি রপ্তানি কম। আবার কোথাও বা আমদানি কম রপ্তানি বেশি। বাংলাদেশে রপ্তানি বেশি আমদানি কম হচ্ছে। ফলে কনটেইনার সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এতে খালি কনটেইনার আনতে গিয়ে পণ্য পরিবহণ খরচ বাড়ছে।

বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি পণ্য আমদানি করে চীন ও ভারত থেকে। এই দুই দেশেই মূল্যস্ফীতির হার বাড়ছে। ভারতে গত তিন মাসে মূল্যস্ফীতির হার ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬ শতাংশে উঠেছে। ফলে পণ্য আমদানির নামে বাংলাদেশ এক ধরনের মূল্যস্ফীতি আমদানি করছে। এতে দেশের বাজারে এ হার বেড়ে যাচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্রমবাজারে এখন স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসেনি। শ্রমের মূল্য এখনো কমছে। তবে প্রণোদনা প্যাকেজ ও নীতি সহায়তা অব্যাহত রাখায় শিল্প ও কৃষি খাতে উৎপাদন ব্যবস্থায় গতি ফিরেছে। এসব খাতে টাকার জোগান বাড়াতে সম্প্রসারণমুখী মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাজারে টাকার প্রবাহ বাড়ানো হয়েছে। এ কারণে মূল্যস্ফীতিতে চাপ তৈরি হতে পারে। তবে এ কারণে মূল্যস্ফীতির হার মোকাবিলা করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতির উপকরণগুলো ব্যবহার করে বাজারে টাকার প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী পণ্য মূল্যবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে অপ্রত্যাশিতভাবে সরবরাহজনিত বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। এতেও বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতির চাপ। করোনার কারণে দেশের ভেতরে পরিবহণ ব্যয়সহ প্রায় সব খাতেই ব্যয় বেড়েছে। এর প্রভাবও পড়ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, করোনা পরবর্তী স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড শুরু হওয়ার পর যেভাবে চাহিদা বেড়েছে, সেভাবে জোগান বাড়েনি। ফলে প্রত্যাশা অনুযায়ী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে গতি পাচ্ছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কতা

মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়বে

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বড় চার ঝুঁকি, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা রাখতে সতর্কতা
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৩ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা করে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে আগামীতে মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি ও বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ছে লাগামহীন।

এর প্রভাবে দেশের বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ছাড়া করোনার প্রভাব মোকাবিলায় বাজারে টাকার প্রবাহ বাড়ানো হয়েছে। এসব কারণে দেশের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার সংকেত পাওয়া যাচ্ছে।

দেশের হালনাগাদ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৈরি এক বিশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য ওঠে এসেছে। এতে বলা হয়, অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির ওপর যত অযৌক্তিক চাপই আসুক না কেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা নিয়ন্ত্রণ করতে ও সামষ্টিক আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সব সময় সজাগ থাকবে। একই সঙ্গে অর্থনীতির চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিবেদনে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে চারটি প্রধান ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে-বৈশ্বিক খাতে প্রত্যাশার চেয়ে পুনরুদ্ধারের গতি কম, বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির হারে ঊর্ধ্বগতি, শ্রমবাজারে কর্মের অভাব এবং পণ্য পরিবহণ খরচ অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। প্রতিবেদনে বলা হয়, খাদ্যপণ্যসহ খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে-যা গত জুলাইয়ে ছিল ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ। আগস্টে তা বেড়ে হয়েছে ৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ। গত বছরের জুনে ছিল ৬ দশমিক ০২ শতাংশ। সম্প্রতি খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার বেশি বাড়ছে। এটি উদ্বেগজনক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ হার সাড়ে ৫ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখতে মুদ্রানীতির দিক থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।

প্রতিবেদনে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলা হয়, আগামীতে করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রমে আরও গতি আসবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সম্প্রসারণমুখী মুদ্রানীতি অব্যাহত রেখেছে। ফলে অদূর ভবিষ্যতে ব্যাপকভিত্তিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। এর মধ্যে দিয়েই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো মোকাবিলা করতে হবে। এ লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সরকারকেও বিভিন্ন সময় নীতি সহায়তা ও প্রণোদনার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোকে সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সবার আগে মানুষের মধ্যে আস্থার সঞ্চার করতে হবে। মানুষকে নিশ্চয়তা দিতে হবে এ মাসে যে আয় করে খরচ করেছে, আগামী মাসেও তার আয় কমবে না, অন্তত একই থাকবে। তাহলে মানুষ খরচ করবে। তখন অর্থনীতিতে ভোগ বাড়বে। পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে গতি পাবে। একই সঙ্গে ভোক্তার পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের মধ্যেও তার উৎপাদিত পণ্য বিপণনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। বিনিয়োগ থেকে মুনাফা আসবে সেটাও নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনার সংক্রমণ মোকাবিলা করে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানির বাজারগুলো এখন স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করেছে। এতে পণ্যের চাহিদা বেড়ে গেছে। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নেই। ফলে দাম বাড়ছে। এতে বাড়ছে মূল্যস্ফীতির হারও। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণ করে জ্বালানির মূল্য। জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৮৩ ডলারে উঠেছে। এর দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত মার্চে এর দাম ৫০ ডলারের নিচে ছিল। করোনার শুরুতে গত বছরের এপ্রিলে এর দাম ৩৩ ডলারে নেমে গিয়েছিল। গত বছরের জুনে জ্বালানি তেলের প্রতি ব্যারেলের দাম ছিল ৪০ ডলার। এর পাশাপাশি এলএনজিসহ অন্যান্য জ্বালানির দামও বাড়ছে। জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে পণ্য উৎপাদন ও পরিবহণ ব্যয় বেড়ে গেছে। বিশেষ করে জাহাজে পণ্য পরিবহণ ব্যয় বেশি বেড়েছে। জ্বালানিবহির্ভূত অন্য পণ্যের দাম গত বছরের জুনে ছিল গড়ে ৭৫ ডলার। এখন তা বেড়ে হয়েছে ১১০ ডলার। খাদ্য উপকরণের দাম একই সময়ে ৮০ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ১১৫ ডলার। সয়াবিন তেলের দাম প্রতি টন ৭০০ থেকে বেড়ে হয়েছে দেড় হাজার ডলার।

সূত্র জানায়, করোনার কারণে সব দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এখনো স্বাভাবিক হয়নি। ফলে কোথাও আমদানি বেশি রপ্তানি কম। আবার কোথাও বা আমদানি কম রপ্তানি বেশি। বাংলাদেশে রপ্তানি বেশি আমদানি কম হচ্ছে। ফলে কনটেইনার সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এতে খালি কনটেইনার আনতে গিয়ে পণ্য পরিবহণ খরচ বাড়ছে।

বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি পণ্য আমদানি করে চীন ও ভারত থেকে। এই দুই দেশেই মূল্যস্ফীতির হার বাড়ছে। ভারতে গত তিন মাসে মূল্যস্ফীতির হার ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬ শতাংশে উঠেছে। ফলে পণ্য আমদানির নামে বাংলাদেশ এক ধরনের মূল্যস্ফীতি আমদানি করছে। এতে দেশের বাজারে এ হার বেড়ে যাচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্রমবাজারে এখন স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসেনি। শ্রমের মূল্য এখনো কমছে। তবে প্রণোদনা প্যাকেজ ও নীতি সহায়তা অব্যাহত রাখায় শিল্প ও কৃষি খাতে উৎপাদন ব্যবস্থায় গতি ফিরেছে। এসব খাতে টাকার জোগান বাড়াতে সম্প্রসারণমুখী মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাজারে টাকার প্রবাহ বাড়ানো হয়েছে। এ কারণে মূল্যস্ফীতিতে চাপ তৈরি হতে পারে। তবে এ কারণে মূল্যস্ফীতির হার মোকাবিলা করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতির উপকরণগুলো ব্যবহার করে বাজারে টাকার প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী পণ্য মূল্যবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে অপ্রত্যাশিতভাবে সরবরাহজনিত বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। এতেও বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতির চাপ। করোনার কারণে দেশের ভেতরে পরিবহণ ব্যয়সহ প্রায় সব খাতেই ব্যয় বেড়েছে। এর প্রভাবও পড়ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, করোনা পরবর্তী স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড শুরু হওয়ার পর যেভাবে চাহিদা বেড়েছে, সেভাবে জোগান বাড়েনি। ফলে প্রত্যাশা অনুযায়ী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে গতি পাচ্ছে না।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন