স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ বন্ধ টাকার অভাবে
jugantor
ভূমিকম্পে ক্ষতি মোকাবিলা
স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ বন্ধ টাকার অভাবে

  বাহরাম খান  

১৩ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কয়েক মাস আগে কম সময়ের ব্যবধানে একাধিক দিন ভূমিকম্পে কেঁপেছে সিলেট শহর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘন ঘন মৃদু ভূমিকম্প বড় ভূমিকম্পের লক্ষণ। তাই ভূমিকম্পের জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি থাকা জরুরি।

ভূমিকম্প প্রস্তুতিতে অনেক পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়নে সময় লাগছে। দেশের বড় শহরগুলোতে ভূমিকম্প প্রস্তুতির অন্যতম প্রয়োজনীয় বিষয় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ। ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামসহ সারা দেশে টাকার অভাবে এ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বন্ধ আছে অনেকদিন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্প মোকাবিলায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হচ্ছে ‘সিভিল ডিফেন্স’। যে কোনো দুর্যোগে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই সিভিল ডিফেন্স শুরু হয়ে যায়। অর্থাৎ আশপাশের সাধারণ মানুষ নিজেদের উদ্যোগে দুর্যোগ প্রতিরোধে বা দুর্যোগ পরবর্তী কাজ শুরু করে দেন। এ কারণে ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ প্রস্তুতির জন্য স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়। কিন্তু নীতিনির্ধারণী অগ্রাধিকারে সিভিল ডিফেন্স উপেক্ষিত।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক গবেষক গওহার নঈম ওয়ারা যুগান্তরকে বলেন, নগর দুর্যোগের জন্য মূল কাজ হচ্ছে শহরের মূল বা স্থায়ী বাসিন্দাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে সিভিল ডিফেন্স তৈরি করা। দুর্যোগ নিয়ে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরগুলো প্রকল্প তৈরি করে শুধু যন্ত্রপাতি কেনায় আগ্রহ দেখায়। কিন্তু ভূমিকম্প প্রস্তুতির জন্য সিভিল ডিফেন্সকেই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া উচিত। ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরে খোঁজ নিয়ে দেখেন, সিভিল ডিফেন্স শাখাকে সবচেয়ে গুরুত্বহীন করে রাখা হয়েছে। সেখানে তুলনামূলক কম গুরুত্বের অফিসারদের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

ভূমিকম্প প্রস্তুতির অংশ হিসাবে স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও এ বিষয়ে সরকারিভাবে পৃথক কোনো উদ্যোগ নেই। কম্প্রিহেনসিভ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামের (সিডিএমপি) অংশ হিসাবে নগর স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেটিও এখন বন্ধ। তবে এনজিওদের উদ্যোগে মাঝে-মধ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আয়োজন করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নগর দুর্যোগ মোকাবিলায় স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত নতুন একটি প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি পাশ হলে সরকারি পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ শুরু হবে।

নগরে ভূমিকম্প পরবর্তী দুর্যোগ মোকাবিলায় স্বেচ্ছাসেবক তৈরির কথা বলছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। কিন্তু ঢাকার বাসিন্দাদের মধ্য থেকে স্বেচ্ছাসেবক না নিয়ে তারা প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন সাইক্লোন প্রিপেয়ার্ডনেস প্রোগ্রামের (সিপিপি) আওতায় থাকা স্বেচ্ছাসেবকদের। এতে সময় ও অর্থ দুটোরই অপচয় হচ্ছে। সিপিপি স্বেচ্ছাসেবকরা মূলত উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দা। সাইক্লোন, বন্যায় মোকাবিলায় ভূমিকা রাখার জন্য তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

সিপিপির পরিচালক আহমাদুল হক যুগান্তরকে বলেন, ঘূর্ণিঝড় নিয়েই মূল কাজ করে সিপিপি। ব্যাকআপ হিসাবে সিপিপি ভলান্টিয়ারদের ভূমিকম্প বিষয়ে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সিপিপির অধীনে সারা দেশে ৭৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক আছেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, সিপিপিতে ভূমিকম্প প্রস্তুতি প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ অর্থহীন একটি কাজ। এ টাকা দিয়ে শহরের মানুষদের প্রশিক্ষণ দিলে ভালো হতো।

নগরে ভূমিকম্প মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসাবে ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের অধীনে দেশব্যাপী একটি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে ঢিমেতালে। এতে ৬২ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার টার্গেট নিয়ে গত ১০ বছরে দেওয়া হয়েছে ৪৭ হাজার জনকে। এর জন্য পৃথকভাবে কোনো টাকা বরাদ্দ নেই। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের অধীনে জোড়াতালি দিয়ে এসব প্রশিক্ষণ হয়েছে। টাকার অভাবে এখন এই প্রশিক্ষণটিও বন্ধ আছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্নভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ মাঝে-মধ্যে হচ্ছে। তবে এটা পর্যাপ্ত নয়।’ এদিকে ফায়ার সার্ভিস অফিসের অন্য একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে সেটাও খুব প্রাথমিক। এসব প্রশিক্ষণে ছোটখাটো আগুনের মতো দুর্যোগে সাহায্য করতে পারবেন স্বেচ্ছাসেবকরা। ভূমিকম্প দুর্যোগ মোকাবিলায় অ্যাডভান্সড লেভেলের প্রশিক্ষণ দরকার, সেটা হচ্ছে না।

সিভিল ডিফেন্স প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্তদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সিদের মধ্য থেকে নগর স্বেচ্ছাসেবকদের নেওয়া হয়। এ বয়সিরা চাকরি, বিয়ে, ব্যবসা, পড়াশোনা নানা কারণে জায়গা বদল করে। এসব কারণে পরিকল্পনা অনুযায়ী নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করা দরকার। ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশিক্ষণ) আব্দুল মমিন বলেন, টাকার সংস্থান হলেই নগর স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। তিন দিনের প্রাথমিক প্রশিক্ষণে একজন প্রশিক্ষণার্থীর পেছনে অনেক টাকা খরচ হয়। এই বিষয়ে স্থায়ী ব্যবস্থা থাকলে প্রশিক্ষণ দ্রুত হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও দুর্যোগ বিশেষজ্ঞ মাকসুদ কামালের মতে, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগ মোকাবিলা করে আমরা অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। ভূমিকম্পে সেই সুযোগ নেই। ভূমিকম্পে আক্রান্ত হয়ে শেখা যাবে না। অন্য দেশের উদাহরণ দেখে শিখে নিয়ে নিজেদের দেশের উপযোগী প্রস্তুতি নিতে হবে। তিনি বলেন, ঢাকার মতো শহরে বড় ভূমিকম্প হলে কী হবে আমরা ভাবতেই পারি না। কিন্তু এর জন্য প্রস্তুতি নেই, এটা বাস্তবতা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীন যুগান্তরকে বলেন, প্রশিক্ষণের বিষয়টিতে জোর দেওয়ার পরিকল্পনা আছে। এ খাতে প্রয়োজনীয় অর্থও বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু করোনা শুরুর কারণে গত দুই বছর স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া যায়নি। তিনি বলেন, এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসার কারণে শিগগিরই প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেব।

ভূমিকম্পে ক্ষতি মোকাবিলা

স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ বন্ধ টাকার অভাবে

 বাহরাম খান 
১৩ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কয়েক মাস আগে কম সময়ের ব্যবধানে একাধিক দিন ভূমিকম্পে কেঁপেছে সিলেট শহর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘন ঘন মৃদু ভূমিকম্প বড় ভূমিকম্পের লক্ষণ। তাই ভূমিকম্পের জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি থাকা জরুরি।

ভূমিকম্প প্রস্তুতিতে অনেক পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়নে সময় লাগছে। দেশের বড় শহরগুলোতে ভূমিকম্প প্রস্তুতির অন্যতম প্রয়োজনীয় বিষয় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ। ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামসহ সারা দেশে টাকার অভাবে এ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বন্ধ আছে অনেকদিন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্প মোকাবিলায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হচ্ছে ‘সিভিল ডিফেন্স’। যে কোনো দুর্যোগে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই সিভিল ডিফেন্স শুরু হয়ে যায়। অর্থাৎ আশপাশের সাধারণ মানুষ নিজেদের উদ্যোগে দুর্যোগ প্রতিরোধে বা দুর্যোগ পরবর্তী কাজ শুরু করে দেন। এ কারণে ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ প্রস্তুতির জন্য স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়। কিন্তু নীতিনির্ধারণী অগ্রাধিকারে সিভিল ডিফেন্স উপেক্ষিত।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক গবেষক গওহার নঈম ওয়ারা যুগান্তরকে বলেন, নগর দুর্যোগের জন্য মূল কাজ হচ্ছে শহরের মূল বা স্থায়ী বাসিন্দাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে সিভিল ডিফেন্স তৈরি করা। দুর্যোগ নিয়ে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরগুলো প্রকল্প তৈরি করে শুধু যন্ত্রপাতি কেনায় আগ্রহ দেখায়। কিন্তু ভূমিকম্প প্রস্তুতির জন্য সিভিল ডিফেন্সকেই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া উচিত। ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরে খোঁজ নিয়ে দেখেন, সিভিল ডিফেন্স শাখাকে সবচেয়ে গুরুত্বহীন করে রাখা হয়েছে। সেখানে তুলনামূলক কম গুরুত্বের অফিসারদের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

ভূমিকম্প প্রস্তুতির অংশ হিসাবে স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও এ বিষয়ে সরকারিভাবে পৃথক কোনো উদ্যোগ নেই। কম্প্রিহেনসিভ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামের (সিডিএমপি) অংশ হিসাবে নগর স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেটিও এখন বন্ধ। তবে এনজিওদের উদ্যোগে মাঝে-মধ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আয়োজন করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নগর দুর্যোগ মোকাবিলায় স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত নতুন একটি প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি পাশ হলে সরকারি পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ শুরু হবে।

নগরে ভূমিকম্প পরবর্তী দুর্যোগ মোকাবিলায় স্বেচ্ছাসেবক তৈরির কথা বলছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। কিন্তু ঢাকার বাসিন্দাদের মধ্য থেকে স্বেচ্ছাসেবক না নিয়ে তারা প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন সাইক্লোন প্রিপেয়ার্ডনেস প্রোগ্রামের (সিপিপি) আওতায় থাকা স্বেচ্ছাসেবকদের। এতে সময় ও অর্থ দুটোরই অপচয় হচ্ছে। সিপিপি স্বেচ্ছাসেবকরা মূলত উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দা। সাইক্লোন, বন্যায় মোকাবিলায় ভূমিকা রাখার জন্য তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

সিপিপির পরিচালক আহমাদুল হক যুগান্তরকে বলেন, ঘূর্ণিঝড় নিয়েই মূল কাজ করে সিপিপি। ব্যাকআপ হিসাবে সিপিপি ভলান্টিয়ারদের ভূমিকম্প বিষয়ে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সিপিপির অধীনে সারা দেশে ৭৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক আছেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, সিপিপিতে ভূমিকম্প প্রস্তুতি প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ অর্থহীন একটি কাজ। এ টাকা দিয়ে শহরের মানুষদের প্রশিক্ষণ দিলে ভালো হতো।

নগরে ভূমিকম্প মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসাবে ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের অধীনে দেশব্যাপী একটি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে ঢিমেতালে। এতে ৬২ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার টার্গেট নিয়ে গত ১০ বছরে দেওয়া হয়েছে ৪৭ হাজার জনকে। এর জন্য পৃথকভাবে কোনো টাকা বরাদ্দ নেই। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের অধীনে জোড়াতালি দিয়ে এসব প্রশিক্ষণ হয়েছে। টাকার অভাবে এখন এই প্রশিক্ষণটিও বন্ধ আছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্নভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ মাঝে-মধ্যে হচ্ছে। তবে এটা পর্যাপ্ত নয়।’ এদিকে ফায়ার সার্ভিস অফিসের অন্য একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে সেটাও খুব প্রাথমিক। এসব প্রশিক্ষণে ছোটখাটো আগুনের মতো দুর্যোগে সাহায্য করতে পারবেন স্বেচ্ছাসেবকরা। ভূমিকম্প দুর্যোগ মোকাবিলায় অ্যাডভান্সড লেভেলের প্রশিক্ষণ দরকার, সেটা হচ্ছে না।

সিভিল ডিফেন্স প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্তদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সিদের মধ্য থেকে নগর স্বেচ্ছাসেবকদের নেওয়া হয়। এ বয়সিরা চাকরি, বিয়ে, ব্যবসা, পড়াশোনা নানা কারণে জায়গা বদল করে। এসব কারণে পরিকল্পনা অনুযায়ী নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করা দরকার। ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশিক্ষণ) আব্দুল মমিন বলেন, টাকার সংস্থান হলেই নগর স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। তিন দিনের প্রাথমিক প্রশিক্ষণে একজন প্রশিক্ষণার্থীর পেছনে অনেক টাকা খরচ হয়। এই বিষয়ে স্থায়ী ব্যবস্থা থাকলে প্রশিক্ষণ দ্রুত হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও দুর্যোগ বিশেষজ্ঞ মাকসুদ কামালের মতে, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগ মোকাবিলা করে আমরা অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। ভূমিকম্পে সেই সুযোগ নেই। ভূমিকম্পে আক্রান্ত হয়ে শেখা যাবে না। অন্য দেশের উদাহরণ দেখে শিখে নিয়ে নিজেদের দেশের উপযোগী প্রস্তুতি নিতে হবে। তিনি বলেন, ঢাকার মতো শহরে বড় ভূমিকম্প হলে কী হবে আমরা ভাবতেই পারি না। কিন্তু এর জন্য প্রস্তুতি নেই, এটা বাস্তবতা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীন যুগান্তরকে বলেন, প্রশিক্ষণের বিষয়টিতে জোর দেওয়ার পরিকল্পনা আছে। এ খাতে প্রয়োজনীয় অর্থও বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু করোনা শুরুর কারণে গত দুই বছর স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া যায়নি। তিনি বলেন, এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসার কারণে শিগগিরই প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেব।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন