আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করতে চায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
jugantor
আফ্রিকার নাগরিকদের অপরাধ দমন
আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করতে চায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

  মাসুদ করিম  

১৪ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশে নাইজেরিয়াসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের অপরাধ বেড়েই চলছে। এটিএম কার্ড জালিয়াতি, মাদক ব্যবসা, জাল মুদ্রা তৈরি, প্রতারণাসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। প্রতারণার শিকার অনেকের অভিযোগের পর পুলিশ আফ্রিকার প্রতারকচক্রের কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে। তারা প্রতারণার অভিনব কৌশলের কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।

বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগ চিঠি দিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, এ বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করা প্রয়োজন। বৈঠক থেকে প্রাপ্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে শেয়ার করতে চায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও আফ্রিকায় অবস্থিত বাংলাদেশের মিশনগুলোকে সতর্ক করা হবে।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি বিভিন্ন সময়ে নাইজেরিয়াসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের অপরাধীদের গ্রেফতার করেছে। শুধু নাইজেরিয়ার ৬০ থেকে ৭০ জনকে ডিটেনশন দেওয়া হয়েছে। আফ্রিকার অন্য দেশগুলোর নাগরিকদেরও অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে আটক করা হয়েছে। তাদের কেউ কেউ আবার জামিনও পেয়েছে। নাইজেরিয়া থেকে ফুটবল খেলার কথা বলে ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। কেউ এসেছে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে। এরপর তারা বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

নাইজেরিয়ার আটক কয়েকজন পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, বাংলাদেশে ফুটবল খেলার জন্য ভিসা নিয়ে আসার পর এক আর্টিস্টকে কয়েক হাজার পাউন্ড মূল্যের পুরস্কার পেয়েছে বলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে জানায় নাইজেরিয়ার প্রতারক গ্রুপটি। ওই আর্টিস্টকে চট্টগ্রাম বন্দরে গিয়ে পুরস্কার গ্রহণ করতে বলেছে। আর্টিস্ট চট্টগ্রাম বন্দরে গেলে প্রতারকদের এদেশীয় সহযোগী নারী-পুরুষ কাস্টমস কর্মকর্তা সেজে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।

একইভাবে নাইজেরিয়ার আরেকটি চক্র ফেসবুকে প্রেম করে উপহার পাঠিয়েছে বলে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সংগ্রহ করতে বলে। তারপর কাস্টমস কর্মকর্তা সেজে অর্থ আদায় করে। নাইজেরিয়ার এসব প্রতারকচক্র ঢাকায় বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত আফ্রো-এশীয় রেস্তোরাঁর সহযোগিতায় গোপন বৈঠক করে প্রতারণা করে বলেও জানা গেছে।

জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আফ্রিকা অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. তরিকুল ইসলাম বুধবার যুগান্তরকে বলেন, ‘আফ্রিকার নাগরিকদের প্রতারণা সংক্রান্ত তথ্য আমাদের কাছে দেওয়া হলে আমরা ওইসব দেশের সঙ্গে তা শেয়ার করব। ভিসার ব্যাপারে বাংলাদেশের মিশনগুলোয় সতর্ক হতে হবে। আমরা আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করে পর্যাপ্ত তথ্য পেলে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আফ্রিকার দেশগুলো বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তোলতে চায়। তবে অপরাধী পৃথিবীর সব দেশে আছে। কোনো দেশই তাদের লালন করে না। আমরা আশা করব, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো তাদের দেশের অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।’

এদিকে নাইজেরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মাসুদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘নাইজেরিয়ার এসব অপরাধী ভিসা নিয়েই বাংলাদেশে গেছে। তবে তারা যে কাজের কথা বলে ভিসা নিয়েছে, সেই কাজ না করে অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। তবে তারা ভিসা নিয়েছে অনেক আগে। কোভিডের কারণে ভিসা দেওয়া বন্ধ। নতুন করে কোনো ভিসা দেওয়া হয়নি।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে ৪ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়, নাইজেরিয়াসহ আফ্রিকার অন্য দেশগুলোর নাগরিকদের বাংলাদেশ মিশনগুলো ভিসা দেওয়ার আগে আমন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে এবং ওই বিদেশি নাগরিক সম্পর্কে সুরক্ষা সেবা বিভাগের মাধ্যমে এসবি প্রতিবেদন গ্রহণ করে ভিসা দিতে হবে।

বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলো মেশিন রিডেবল ভিসার পরিবর্তে যেন হাতে লেখা ভিসা না দেয়, সেই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যেসব দেশের মেশিন রিডেবল ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থা নেই; ওইসব দেশের মিশনগুলোকে সংশ্লিষ্ট দেশের যেসব নাগরিকদের ভিসা দেবে, তাদের তালিকা সুরক্ষা সেবা বিভাগ এবং ইমিগ্রেশন পুলিশকে জানাতে হবে।

আফ্রিকার নাগরিকদের অপরাধ দমন

আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করতে চায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

 মাসুদ করিম 
১৪ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশে নাইজেরিয়াসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের অপরাধ বেড়েই চলছে। এটিএম কার্ড জালিয়াতি, মাদক ব্যবসা, জাল মুদ্রা তৈরি, প্রতারণাসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। প্রতারণার শিকার অনেকের অভিযোগের পর পুলিশ আফ্রিকার প্রতারকচক্রের কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে। তারা প্রতারণার অভিনব কৌশলের কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।

বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগ চিঠি দিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, এ বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করা প্রয়োজন। বৈঠক থেকে প্রাপ্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে শেয়ার করতে চায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও আফ্রিকায় অবস্থিত বাংলাদেশের মিশনগুলোকে সতর্ক করা হবে।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি বিভিন্ন সময়ে নাইজেরিয়াসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের অপরাধীদের গ্রেফতার করেছে। শুধু নাইজেরিয়ার ৬০ থেকে ৭০ জনকে ডিটেনশন দেওয়া হয়েছে। আফ্রিকার অন্য দেশগুলোর নাগরিকদেরও অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে আটক করা হয়েছে। তাদের কেউ কেউ আবার জামিনও পেয়েছে। নাইজেরিয়া থেকে ফুটবল খেলার কথা বলে ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। কেউ এসেছে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে। এরপর তারা বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

নাইজেরিয়ার আটক কয়েকজন পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, বাংলাদেশে ফুটবল খেলার জন্য ভিসা নিয়ে আসার পর এক আর্টিস্টকে কয়েক হাজার পাউন্ড মূল্যের পুরস্কার পেয়েছে বলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে জানায় নাইজেরিয়ার প্রতারক গ্রুপটি। ওই আর্টিস্টকে চট্টগ্রাম বন্দরে গিয়ে পুরস্কার গ্রহণ করতে বলেছে। আর্টিস্ট চট্টগ্রাম বন্দরে গেলে প্রতারকদের এদেশীয় সহযোগী নারী-পুরুষ কাস্টমস কর্মকর্তা সেজে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।

একইভাবে নাইজেরিয়ার আরেকটি চক্র ফেসবুকে প্রেম করে উপহার পাঠিয়েছে বলে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সংগ্রহ করতে বলে। তারপর কাস্টমস কর্মকর্তা সেজে অর্থ আদায় করে। নাইজেরিয়ার এসব প্রতারকচক্র ঢাকায় বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত আফ্রো-এশীয় রেস্তোরাঁর সহযোগিতায় গোপন বৈঠক করে প্রতারণা করে বলেও জানা গেছে।

জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আফ্রিকা অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. তরিকুল ইসলাম বুধবার যুগান্তরকে বলেন, ‘আফ্রিকার নাগরিকদের প্রতারণা সংক্রান্ত তথ্য আমাদের কাছে দেওয়া হলে আমরা ওইসব দেশের সঙ্গে তা শেয়ার করব। ভিসার ব্যাপারে বাংলাদেশের মিশনগুলোয় সতর্ক হতে হবে। আমরা আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করে পর্যাপ্ত তথ্য পেলে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আফ্রিকার দেশগুলো বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তোলতে চায়। তবে অপরাধী পৃথিবীর সব দেশে আছে। কোনো দেশই তাদের লালন করে না। আমরা আশা করব, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো তাদের দেশের অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।’

এদিকে নাইজেরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মাসুদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘নাইজেরিয়ার এসব অপরাধী ভিসা নিয়েই বাংলাদেশে গেছে। তবে তারা যে কাজের কথা বলে ভিসা নিয়েছে, সেই কাজ না করে অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। তবে তারা ভিসা নিয়েছে অনেক আগে। কোভিডের কারণে ভিসা দেওয়া বন্ধ। নতুন করে কোনো ভিসা দেওয়া হয়নি।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে ৪ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়, নাইজেরিয়াসহ আফ্রিকার অন্য দেশগুলোর নাগরিকদের বাংলাদেশ মিশনগুলো ভিসা দেওয়ার আগে আমন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে এবং ওই বিদেশি নাগরিক সম্পর্কে সুরক্ষা সেবা বিভাগের মাধ্যমে এসবি প্রতিবেদন গ্রহণ করে ভিসা দিতে হবে।

বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলো মেশিন রিডেবল ভিসার পরিবর্তে যেন হাতে লেখা ভিসা না দেয়, সেই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যেসব দেশের মেশিন রিডেবল ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থা নেই; ওইসব দেশের মিশনগুলোকে সংশ্লিষ্ট দেশের যেসব নাগরিকদের ভিসা দেবে, তাদের তালিকা সুরক্ষা সেবা বিভাগ এবং ইমিগ্রেশন পুলিশকে জানাতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন