স্কুলশিক্ষার্থীদের পরীক্ষামূলক টিকাদান শুরু
jugantor
স্কুলশিক্ষার্থীদের পরীক্ষামূলক টিকাদান শুরু

  যুগান্তর প্রতিবেদন, মানিকগঞ্জ  

১৫ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে ১২-১৭ বছর বয়সি স্কুল শিক্ষার্থীদের পরীক্ষামূলক করোনার টিকাদান কার্যক্রম শুরু হলো। বৃহস্পতিবার কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মানিকগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোবাশ্বির রহমান রাফির (১৭) শরীরে টিকা পুশ করার মধ্যদিয়ে এ কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হয়।

এর উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। দ্বিতীয় টিকা নেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নিজের নামের গড়া স্কুল গড়পাড়া জাহিদ মালেক উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী তাসমিয়া আক্তার তোয়া।

টিকা পুশ করেন মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র নার্স সুমি পারভীন। এসময় বক্তৃতাকালে মন্ত্রী বলেন, দেশে এক কোটির বেশি শিশুকে করোনার টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষকে টিকার আওতায় নিয়ে আসা। শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার স্বপ্নও ছিল তার। সেই স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। আমাদের হাতে ৬০ লাখ টিকা আছে যার মধ্যে আমরা প্রাথমিকভাবে ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে টিকা দেব।

বৃহস্পতিবার পরীক্ষামূলকভাবে ১২-১৭ বছর বয়সি ১২০ জনকে টিকা দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছে ১১১ জনকে। শরীরিক অসুস্থতার কারণে বাকি ৯ জনকে দেওয়া সম্ভব হয়নি।

জেলা সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. লুৎফর রহমান জানান উদ্বোধনপর্বে চারটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১২০ শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়ার জন্য মনোনীত করা হলেও শেষ পর্যন্ত ১১১ জনকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

ঠান্ডা-কাশি ও শরীরের তাপমাত্রা বেশি থাকায় বাকিদের টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক এবিএম খুরশীদ আলম ফেসবুক লাইভে এসে জানিয়েছিলেন, যেসব স্কুল শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া হবে, তাদের ১০ থেকে ১৪ দিন পর্যবেক্ষণ করা হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমেরিকার তৈরি নিরাপদ টিকা শিক্ষার্থীদের দেওয়া হচ্ছে। খোদ আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এই টিকা দেওয়া হচ্ছে। এই টিকা খুবই নিরাপদ। আগামীতে শিক্ষার্থীদের এক কোটি টিকা দিতে পারব। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন থাকেন। তাদের এই উদ্বেগ নিরসন করতে টিকার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা), অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) মো. বেলাল হোসেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ, কর্নেল মালেক মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. জাকির হোসেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান, মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মহীউদ্দিন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, এই টিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারিত করা হবে। পরে দেশের ২১টি স্থান থেকে শিশুদের টিকা দেওয়া হবে। রাজধানীতে বিশাল আয়োজনের মাধ্যমে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হবে।

করোনাভাইরাস থেকে শিশুদের নিরাপদ রাখতেই এ টিকার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী বলেছেন, দেশে এক কোটি শিশু রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব শিশুকে টিকা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, দেশে ইতোমধ্যে ৫ কোটি করোনার টিকা দেওয়া হয়েছে। জানুয়ারির মধ্যে দেশের ৫০ ভাগ মানুষকে করোনার টিকা দেওয়ার টার্গেট রয়েছে। সময়মতো টিকা পেলে এপ্রিলের মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

স্কুলশিক্ষার্থীদের পরীক্ষামূলক টিকাদান শুরু

 যুগান্তর প্রতিবেদন, মানিকগঞ্জ 
১৫ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে ১২-১৭ বছর বয়সি স্কুল শিক্ষার্থীদের পরীক্ষামূলক করোনার টিকাদান কার্যক্রম শুরু হলো। বৃহস্পতিবার কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মানিকগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোবাশ্বির রহমান রাফির (১৭) শরীরে টিকা পুশ করার মধ্যদিয়ে এ কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হয়।

এর উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। দ্বিতীয় টিকা নেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নিজের নামের গড়া স্কুল গড়পাড়া জাহিদ মালেক উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী তাসমিয়া আক্তার তোয়া।

টিকা পুশ করেন মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র নার্স সুমি পারভীন। এসময় বক্তৃতাকালে মন্ত্রী বলেন, দেশে এক কোটির বেশি শিশুকে করোনার টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষকে টিকার আওতায় নিয়ে আসা। শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার স্বপ্নও ছিল তার। সেই স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। আমাদের হাতে ৬০ লাখ টিকা আছে যার মধ্যে আমরা প্রাথমিকভাবে ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে টিকা দেব।

বৃহস্পতিবার পরীক্ষামূলকভাবে ১২-১৭ বছর বয়সি ১২০ জনকে টিকা দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছে ১১১ জনকে। শরীরিক অসুস্থতার কারণে বাকি ৯ জনকে দেওয়া সম্ভব হয়নি।

জেলা সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. লুৎফর রহমান জানান উদ্বোধনপর্বে চারটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১২০ শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়ার জন্য মনোনীত করা হলেও শেষ পর্যন্ত ১১১ জনকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

ঠান্ডা-কাশি ও শরীরের তাপমাত্রা বেশি থাকায় বাকিদের টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক এবিএম খুরশীদ আলম ফেসবুক লাইভে এসে জানিয়েছিলেন, যেসব স্কুল শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া হবে, তাদের ১০ থেকে ১৪ দিন পর্যবেক্ষণ করা হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমেরিকার তৈরি নিরাপদ টিকা শিক্ষার্থীদের দেওয়া হচ্ছে। খোদ আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এই টিকা দেওয়া হচ্ছে। এই টিকা খুবই নিরাপদ। আগামীতে শিক্ষার্থীদের এক কোটি টিকা দিতে পারব। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন থাকেন। তাদের এই উদ্বেগ নিরসন করতে টিকার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা), অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) মো. বেলাল হোসেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ, কর্নেল মালেক মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. জাকির হোসেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান, মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মহীউদ্দিন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, এই টিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারিত করা হবে। পরে দেশের ২১টি স্থান থেকে শিশুদের টিকা দেওয়া হবে। রাজধানীতে বিশাল আয়োজনের মাধ্যমে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হবে।

করোনাভাইরাস থেকে শিশুদের নিরাপদ রাখতেই এ টিকার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী বলেছেন, দেশে এক কোটি শিশু রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব শিশুকে টিকা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, দেশে ইতোমধ্যে ৫ কোটি করোনার টিকা দেওয়া হয়েছে। জানুয়ারির মধ্যে দেশের ৫০ ভাগ মানুষকে করোনার টিকা দেওয়ার টার্গেট রয়েছে। সময়মতো টিকা পেলে এপ্রিলের মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন