ঐক্যবদ্ধভাবে মৌলবাদী অপশক্তি রোধের আহ্বান
jugantor
শহিদ মিনারে প্রতিবাদী নাগরিক সমাবেশ
ঐক্যবদ্ধভাবে মৌলবাদী অপশক্তি রোধের আহ্বান

  সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক  

১৭ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশের ইতিহাস সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির, মুক্তিযুদ্ধের এবং ঐক্যের ইতিহাস। বাংলাদেশ সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের মৈত্রীর দেশ। এখানে আছে একই বন্ধনে বসবাসের ইতিহাস। অথচ সম্প্রতি কুমিল্লায় যে সাম্প্রদায়িক সহিংস ঘটনা ঘটেছে, তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থি। যারা ধর্মীয় বিভাজনের মাধ্যমে দেশের সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে চায়, তারাই এটা করেছে। তাদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। কোনোভাবেই এই মৌলবাদী অপশক্তিকে ছাড় দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি এ ঘটনায় প্রশাসনের কোনো ব্যর্থতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। একই সঙ্গে যেসব স্থানে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হয়েছে, সেখানের জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখতে হবে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট, পূজামণ্ডপে হামলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত নাগরিক সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। শনিবার বিকালে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট এই সমাবেশের আয়োজন করে। এতে সব প্রগতিশীল রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের মাধ্যমে মৌলবাদী অপশক্তিকে প্রতিরোধের আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া বক্তারা বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।

সমাবেশ থেকে ১৯ অক্টোবর দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় সম্প্রীতি রক্ষা দিবস পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। সেদিন জোটের পক্ষ থেকে নোয়াখালীর চৌমুহনীতে কেন্দ্রীয়ভাবে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া কুমিল্লার যে মন্দিরকে ঘিরে সাম্প্রদায়িক হামলার সূত্রপাত, সেখানে আক্রান্তদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে।

জোটের সভাপতি গোলাম কুদুচ্ছের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের (আইটিআই) সভাপতি রামেন্দু মজুমদার, আইটিআই বাংলাদেশ কেন্দ্রের সভাপতি নাসির উদ্দীন ইউসুফ ও সাধারণ সম্পাদক দেবপ্রসাদ দেবনাথ, বিশিষ্ট সাংবাদিক আবেদ খান, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফৌজিয়া মৌসলেম, জোটের সহসভাপতি ঝুনা চৌধুরী, আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহ্্কাম উল্লাহ্্ ও সহসভাপতি রেজিনা ওয়ালী লীনা, গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের সহসভাপতি মাহমুদ সেলিম, পথনাটক পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মিজানুর রহমান, প্রজন্ম ’৭১-এর সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আব্বাস প্রমুখ।

নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে আমরা রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়েছি। রাষ্ট্রক্ষমতায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার থাকলেও সমাজটা ক্রমেই সরে যাচ্ছে। বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলে যে রাজনীতি, এর মধ্যে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শের কতটা প্রতিফলন ঘটছে? সেই রাজনীতিতে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণের কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না। যে কারণে পাঠ্যপুস্তকে রবীন্দ্রনাথের কবিতা পরিবর্তিত হয়ে যায়। আমরা দেখি, সনাতন ধর্মের লোক কীভাবে নিগৃহীত হচ্ছে। এ নিয়ে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই।

রামেন্দু মজুমদার বলেন, প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রক্ষমতায় মুক্তিযুদ্ধের সরকার থাকলেও সমাজটা চলে যাচ্ছে মৌলবাদীদের পক্ষে। রাষ্ট্রীয়ভাবে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হলেও নৈতিক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে না। উলটোদিকে রাজনৈতিক দলগুলো ধর্মভিত্তিক দলগুলোর সঙ্গে আপস করছে। আবেদ খান বলেন, সরকারের ভেতরেও ঘাপটি মেরে রয়েছে মৌলবাদী শক্তি। লুকিয়ে থাকা দুর্বৃত্তদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রাবিতে মানববন্ধন : রাবি প্রতিনিধি জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাবাজির প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় প্যারিস রোডে এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ঐক্যের ইতিহাস। কিন্তু দুঃখের বিষয়-স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ দেখতে পারিনি। সম্প্রীতি ও ঐক্যকে যারা ভন্ডুল করতে চাই, তারা দেশের শত্রু ও জাতির শত্রু।

দেশে সম্প্রীতি বজায় রাখতে উলামা মাশায়েখ পরিষদের মিছিল সমাবেশ : সিলেট ব্যুরো জানায়, দেশব্যাপী ধর্মবর্ণনির্বিশেষে সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে সিলেটে উলামা মাশায়েখ পরিষদ বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ করেছে। একই সঙ্গে কুমিল্লার নানুয়াদীঘির একটি পূজামণ্ডপে কুরআন অবমাননাকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। নেতারা বলেন, খেয়াল রাখতে হবে, নিরপরাধ কোনো মানুষ যেন ক্ষতির মুখোমুখি না হয়। শনিবার নগরীর কোর্ট পয়েন্টে বিক্ষোভ মিছিলপরবর্তী সমাবেশ হয়।

শহিদ মিনারে প্রতিবাদী নাগরিক সমাবেশ

ঐক্যবদ্ধভাবে মৌলবাদী অপশক্তি রোধের আহ্বান

 সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক 
১৭ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশের ইতিহাস সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির, মুক্তিযুদ্ধের এবং ঐক্যের ইতিহাস। বাংলাদেশ সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের মৈত্রীর দেশ। এখানে আছে একই বন্ধনে বসবাসের ইতিহাস। অথচ সম্প্রতি কুমিল্লায় যে সাম্প্রদায়িক সহিংস ঘটনা ঘটেছে, তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থি। যারা ধর্মীয় বিভাজনের মাধ্যমে দেশের সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে চায়, তারাই এটা করেছে। তাদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। কোনোভাবেই এই মৌলবাদী অপশক্তিকে ছাড় দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি এ ঘটনায় প্রশাসনের কোনো ব্যর্থতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। একই সঙ্গে যেসব স্থানে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হয়েছে, সেখানের জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখতে হবে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট, পূজামণ্ডপে হামলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত নাগরিক সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। শনিবার বিকালে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট এই সমাবেশের আয়োজন করে। এতে সব প্রগতিশীল রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের মাধ্যমে মৌলবাদী অপশক্তিকে প্রতিরোধের আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া বক্তারা বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।

সমাবেশ থেকে ১৯ অক্টোবর দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় সম্প্রীতি রক্ষা দিবস পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। সেদিন জোটের পক্ষ থেকে নোয়াখালীর চৌমুহনীতে কেন্দ্রীয়ভাবে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া কুমিল্লার যে মন্দিরকে ঘিরে সাম্প্রদায়িক হামলার সূত্রপাত, সেখানে আক্রান্তদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে।

জোটের সভাপতি গোলাম কুদুচ্ছের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের (আইটিআই) সভাপতি রামেন্দু মজুমদার, আইটিআই বাংলাদেশ কেন্দ্রের সভাপতি নাসির উদ্দীন ইউসুফ ও সাধারণ সম্পাদক দেবপ্রসাদ দেবনাথ, বিশিষ্ট সাংবাদিক আবেদ খান, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফৌজিয়া মৌসলেম, জোটের সহসভাপতি ঝুনা চৌধুরী, আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহ্্কাম উল্লাহ্্ ও সহসভাপতি রেজিনা ওয়ালী লীনা, গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের সহসভাপতি মাহমুদ সেলিম, পথনাটক পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মিজানুর রহমান, প্রজন্ম ’৭১-এর সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আব্বাস প্রমুখ।

নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে আমরা রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়েছি। রাষ্ট্রক্ষমতায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার থাকলেও সমাজটা ক্রমেই সরে যাচ্ছে। বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলে যে রাজনীতি, এর মধ্যে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শের কতটা প্রতিফলন ঘটছে? সেই রাজনীতিতে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণের কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না। যে কারণে পাঠ্যপুস্তকে রবীন্দ্রনাথের কবিতা পরিবর্তিত হয়ে যায়। আমরা দেখি, সনাতন ধর্মের লোক কীভাবে নিগৃহীত হচ্ছে। এ নিয়ে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই।

রামেন্দু মজুমদার বলেন, প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রক্ষমতায় মুক্তিযুদ্ধের সরকার থাকলেও সমাজটা চলে যাচ্ছে মৌলবাদীদের পক্ষে। রাষ্ট্রীয়ভাবে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হলেও নৈতিক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে না। উলটোদিকে রাজনৈতিক দলগুলো ধর্মভিত্তিক দলগুলোর সঙ্গে আপস করছে। আবেদ খান বলেন, সরকারের ভেতরেও ঘাপটি মেরে রয়েছে মৌলবাদী শক্তি। লুকিয়ে থাকা দুর্বৃত্তদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রাবিতে মানববন্ধন : রাবি প্রতিনিধি জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাবাজির প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় প্যারিস রোডে এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ঐক্যের ইতিহাস। কিন্তু দুঃখের বিষয়-স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ দেখতে পারিনি। সম্প্রীতি ও ঐক্যকে যারা ভন্ডুল করতে চাই, তারা দেশের শত্রু ও জাতির শত্রু।

দেশে সম্প্রীতি বজায় রাখতে উলামা মাশায়েখ পরিষদের মিছিল সমাবেশ : সিলেট ব্যুরো জানায়, দেশব্যাপী ধর্মবর্ণনির্বিশেষে সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে সিলেটে উলামা মাশায়েখ পরিষদ বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ করেছে। একই সঙ্গে কুমিল্লার নানুয়াদীঘির একটি পূজামণ্ডপে কুরআন অবমাননাকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। নেতারা বলেন, খেয়াল রাখতে হবে, নিরপরাধ কোনো মানুষ যেন ক্ষতির মুখোমুখি না হয়। শনিবার নগরীর কোর্ট পয়েন্টে বিক্ষোভ মিছিলপরবর্তী সমাবেশ হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন