কারা হামলা করছে তা বের করুন: সত্যরঞ্জন বাড়ৈ
jugantor
কারা হামলা করছে তা বের করুন: সত্যরঞ্জন বাড়ৈ

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২০ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ইসকন বাংলাদেশের সভাপতি সত্যরঞ্জন বাড়ৈ বলেছেন, কারা নানা অজুহাতে হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা করছে তা সরকারকেই খুঁজে বের করতে হবে। তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তি ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ধর্মীয় সংলাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংলাপে যেন আমাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব তৈরি হয়। সাম্প্রতিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার যুগান্তরকে তিনি এসব কথা বলেন।

পূজামণ্ডপ, মন্দির ও হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা ও সহিংস ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে সত্যরঞ্জন বাড়ৈ বলেন, দুষ্কৃতকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের হামলা কখনো বন্ধ হবে না। তিনি বলেন, হিন্দুরা এ দেশ ছেড়ে যেতে চায় না। এ দেশে তারা শান্তিতে বসবাস করতে চায়। তাদের নিরাপত্তা সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে।

সাম্প্রতিক ঘটনা টেনে ইসকন সভাপতি সত্যরঞ্জন বলেন, এ বছর পূজায় পুলিশ ফোর্সের কোনো কমতি ছিল না। আমরা শুনেছি প্রতিটি মন্দিরে তিনস্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। এছাড়া সাদা পোশাকে ভ্রাম্যমাণ নিরাপত্তা ফোর্সও ছিল। এতগুলো সংস্থা থাকার পরও কোনো হিন্দু কি দুর্গামন্দিরে অন্য ধর্মের গ্রন্থ রাখতে পারে? তিনি বলেন, কুমিল্লার ঘটনায় বোঝা যায়, একটা গভীর ষড়যন্ত্র ছিল। এ ঘটনার পর সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিলে তা অন্যদিকে মোড় নিতে পারত না। দেশের সব মন্দিরে আরও কড়াকড়ি করা উচিত ছিল। কুমিল্লার পর বাঁশখালী, নোয়াখালী ও চাঁদপুরসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা শুরু হয়। চৌমুহনীতে দুই ইসকন ভক্ত মারা গেলেন। যদিও তারা দুর্গাপূজার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না।

সত্যরঞ্জন বাড়ৈ আরও বলেন, আমি নিজে মুক্তিযোদ্ধা। শুধু তাই নয়, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চে আমি জগন্নাথ হলে ছিলাম। ২৫ মার্চ রাতে আমার জীবনই চলে গিয়েছিল, কোনো রকমে জীবন রক্ষা পেয়েছি। নটর ডেম কলেজে অধ্যাপনা, এরপর বিসিএস দিয়ে চাকরি করলাম। এ দেশ ছেড়ে কখনো যাইনি। এ দেশকে ভালোবেসেছি।

লেখনীর মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার আহবান জানিয়ে সত্যরঞ্জন বাড়ৈ বলেন, এজন্য গণমাধ্যমকে আরও এগিয়ে আসতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, দায়ীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনুন। কারণ শাস্তিই হলো অপরাধ নিয়ন্ত্রণের একমাত্র মাধ্যম। ধর্মীয় সংলাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংলাপে যেন আমাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব তৈরি হয়। ধর্মীয় সংলাপ এর আগেও হয়েছিল। সেখানে কিশোরগঞ্জের এক মৌলানা বৌদ্ধদের সঙ্গে কোলাকুলি করেছিলেন। সেখানে আমিও ছিলাম।

কারা হামলা করছে তা বের করুন: সত্যরঞ্জন বাড়ৈ

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২০ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ইসকন বাংলাদেশের সভাপতি সত্যরঞ্জন বাড়ৈ বলেছেন, কারা নানা অজুহাতে হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা করছে তা সরকারকেই খুঁজে বের করতে হবে। তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তি ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ধর্মীয় সংলাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংলাপে যেন আমাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব তৈরি হয়। সাম্প্রতিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার যুগান্তরকে তিনি এসব কথা বলেন।

পূজামণ্ডপ, মন্দির ও হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা ও সহিংস ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে সত্যরঞ্জন বাড়ৈ বলেন, দুষ্কৃতকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের হামলা কখনো বন্ধ হবে না। তিনি বলেন, হিন্দুরা এ দেশ ছেড়ে যেতে চায় না। এ দেশে তারা শান্তিতে বসবাস করতে চায়। তাদের নিরাপত্তা সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে।

সাম্প্রতিক ঘটনা টেনে ইসকন সভাপতি সত্যরঞ্জন বলেন, এ বছর পূজায় পুলিশ ফোর্সের কোনো কমতি ছিল না। আমরা শুনেছি প্রতিটি মন্দিরে তিনস্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। এছাড়া সাদা পোশাকে ভ্রাম্যমাণ নিরাপত্তা ফোর্সও ছিল। এতগুলো সংস্থা থাকার পরও কোনো হিন্দু কি দুর্গামন্দিরে অন্য ধর্মের গ্রন্থ রাখতে পারে? তিনি বলেন, কুমিল্লার ঘটনায় বোঝা যায়, একটা গভীর ষড়যন্ত্র ছিল। এ ঘটনার পর সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিলে তা অন্যদিকে মোড় নিতে পারত না। দেশের সব মন্দিরে আরও কড়াকড়ি করা উচিত ছিল। কুমিল্লার পর বাঁশখালী, নোয়াখালী ও চাঁদপুরসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা শুরু হয়। চৌমুহনীতে দুই ইসকন ভক্ত মারা গেলেন। যদিও তারা দুর্গাপূজার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না।

সত্যরঞ্জন বাড়ৈ আরও বলেন, আমি নিজে মুক্তিযোদ্ধা। শুধু তাই নয়, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চে আমি জগন্নাথ হলে ছিলাম। ২৫ মার্চ রাতে আমার জীবনই চলে গিয়েছিল, কোনো রকমে জীবন রক্ষা পেয়েছি। নটর ডেম কলেজে অধ্যাপনা, এরপর বিসিএস দিয়ে চাকরি করলাম। এ দেশ ছেড়ে কখনো যাইনি। এ দেশকে ভালোবেসেছি।

লেখনীর মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার আহবান জানিয়ে সত্যরঞ্জন বাড়ৈ বলেন, এজন্য গণমাধ্যমকে আরও এগিয়ে আসতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, দায়ীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনুন। কারণ শাস্তিই হলো অপরাধ নিয়ন্ত্রণের একমাত্র মাধ্যম। ধর্মীয় সংলাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংলাপে যেন আমাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব তৈরি হয়। ধর্মীয় সংলাপ এর আগেও হয়েছিল। সেখানে কিশোরগঞ্জের এক মৌলানা বৌদ্ধদের সঙ্গে কোলাকুলি করেছিলেন। সেখানে আমিও ছিলাম।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন