কুমিল্লার ঘটনা দুঃখজনক অপরাধীদের বিচার হবে: প্রধানমন্ত্রী
jugantor
কুমিল্লার ঘটনা দুঃখজনক অপরাধীদের বিচার হবে: প্রধানমন্ত্রী

  বাসস  

২২ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। এখানে সব ধর্মের মানুষ সম্মানের সঙ্গে যুগের পর যুগ ধরে বসবাস করছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে সব ধর্মের মানুষ রক্ত দিয়েছেন। পবিত্র কুরআন অবমাননাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লায় যে ঘটনা ঘটেছে তা খুবই দুঃখজনক। এ ঘটনায় অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তাদের বিচার করা হবে। বৃহস্পতিবার কুমিল্লা আওয়ামী লীগ কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

গণভবন থেকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আরও বলেন, মানবধর্মকে সম্মান করা ইসলাম আমাদের শেখায়। নিজের ধর্ম পালনের অধিকার যেমন সবার আছে, তেমনি অন্যের ধর্মকে কেউ হেয় করতে পারেন না। নিজের ধর্মকে সম্মান করার সঙ্গে সঙ্গে অন্যের ধর্মকেও সম্মান করতে হয়। তিনি বলেন, অন্যের ধর্মকে হেয় করলে নিজের ধর্মকেই অসম্মান করা হয়। কুমিল্লার ঘটনাটা বিশ্লেষণ করলে সেটাই দেখতে পাওয়া যায়। পবিত্র কুরআনকে অবমাননা করা হয়েছে, অন্যের ধর্মকে অসম্মান করতে গিয়ে। এটাই হলো- সব থেকে দুঃখজনক। নিজের ধর্মের সম্মান নিজেকেই রক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন, আইন কেউ নিজের হাতে তুলে নেবেন না। কেউ অপরাধ করলে সে যে-ই হোক না কেন, বিচার করা হবে। আমাদের সরকার সেই বিচার করবে।

সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের নবি করিম (সা.) বলেছেন, ‘ধর্ম নিয়ে কেউ বাড়াবাড়ি করবে না।’ আমাদের সেই কথাটা মেনে চলতে হবে, স্মরণ করতে হবে, জানতে হবে। তাহলেই ইসলামের সঠিক শিক্ষাটা পাব। প্রতিটি ধর্মেই শান্তির কথা বলে। সবাই শান্তি চায়। বাংলাদেশে আমরা সবাই একটা অসাম্প্রদায়িক সমাজে বসবাস করি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এখানে সব ধর্মের সঙ্গে আমাদের সম্প্রীতি থাকবে। সম্প্রীতি নিয়ে আমাদের চলতে হবে। যুগ যুগ ধরে আমরা সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে আসছি। মুক্তিযুদ্ধে সব ধর্মের মানুষ জীবন দিয়েছেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছেন তারা কিন্তু কোনো ধর্ম দেখেননি। সব ধর্মের জন্যই তারা রক্ত দিয়েছেন। সব ধর্মের রক্ত একাকার হয়ে মিশে গেছে। এটা সবাইকে মনে রাখতে হবে। এখানে সব ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি, পেশার মানুষ মর্যাদা ও সম্মান নিয়ে চলবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি শান্তি সম্মিলন, শান্তি মিছিল এবং শান্তি সভা করার জন্য দলের নেতাকর্মীদের পরামর্শ দিয়েছি। সম্প্রীতি রক্ষার ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে কোনোরকমের সংঘাত দেখা না দেয়। কারণ এ মাটিতে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই যেন ভালোভাবে বাঁচতে পারে। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে মাঝে মাঝে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর প্রচেষ্টা করা হয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, প্রকৃতপক্ষে দেশের উন্নয়ন একটি শ্রেণি মানতে পারে না। কুমিল্লার ঘটনা ঘটার পরপরই পীরগঞ্জসহ বিভিন্ন জায়গায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানো হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় যে ঘটনা ঘটেছে, ঘর-বাড়ি পুড়িয়েছে সঙ্গে সঙ্গে তাঁবু টানিয়ে তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুকনো খাবার থেকে শুরু করে রান্না করা খাবার বিতরণ, কাপড়-চোপড় এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে আমরা ঘর-বাড়ি করে দেব। ইতোমধ্যে সে ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি।

অনুষ্ঠানে কুমিল্লাকে বিভাগে রূপান্তরিত করার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ফরিদপুর ও এর আশপাশের জেলাগুলোকে নিয়ে ‘পদ্মা’ এবং কুমিল্লা ও এর আশপাশের জেলাগুলোকে নিয়ে ‘মেঘনা’ বিভাগ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ গণমানুষের সংগঠন। এ দল এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করবে, দেশের মানুষকে উন্নত জীবন দেবে এবং দেশের মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করবে।

অনুষ্ঠানে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার এমপি কুমিল্লাপ্রান্ত থেকে স্বাগত বক্তৃতা করেন। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনসহ স্থানীয় নেতারা কুমিল্লা প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন।

রপ্তানি পণ্যের নতুন বাজার অনুসন্ধানে গুরুত্বারোপ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা কোন দেশে কোন ধরনের পণ্য রপ্তানি করতে পারি সে বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে পণ্য উৎপাদনের ব্যবস্থা করতে হবে। দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী করতে বিদেশে নতুন বাজার অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আমাদের রপ্তানি পণ্যের সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বাড়াতে হবে। আমাদের পণ্যের আরও বহুমুখীকরণের চেষ্টা করতে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোসহ সবাইকে অনুরোধ করব। রাজধানীর পূর্বাচলে নবনির্মিত ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্র’ ভার্চুয়ালি উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি প্রদর্শনী কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেন।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, আমাদের যত শিল্প খাত আছে এখন থেকে সেগুলোর প্রস্তুতি নিতে হবে। সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। দেশের পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ সম্ভব উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইসিটি সংশ্লিষ্ট সেবা খাতের রপ্তানি বৃদ্ধির প্রতি তার সরকার জোর দিয়েছে। আমরা এখন যে ডিজিটাল ডিভাইস রপ্তানি করছি এক সময় সেটাই সবচেয়ে বড় রপ্তানি পণ্য হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন প্রদর্শনী কেন্দ্রে রপ্তানি মেলা, বাণিজ্য মেলা, রপ্তানিকারকদের সম্মেলন, ক্রেতা-বিক্রেতা মেলা এবং অন্য সব বাণিজ্য বৃদ্ধিমূলক কর্মকাণ্ড আয়োজনের মাধ্যমে কেন্দ্রটির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। এটি বছরব্যাপী বিভিন্ন পণ্যভিত্তিক মেলার স্থায়ী ভেন্যু হিসাবে ব্যবহৃত হবে। আর এখন থেকে এখানে স্থায়ী প্ল্যাটফরমে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মহামারির কারণে উন্নয়নের গতি কিছুটা কমে গেলেও দেশ থেমে থাকেনি, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সরকারের ধারাবাহিকতা আছে বলেই দেশের উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষ, বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বক্তব্য দেন। এ সময় মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এবং দেশি-বিদেশি আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। পূর্বাচল নিউ সিটি প্রজেক্ট এরিয়ায় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ‘বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার কন্ট্রাকশন প্রজেক্ট’ গ্রহণ করে। এতে বাংলাদেশ ও চীন যৌথভাবে অর্থায়ন করে। আধুনিক প্রদর্শনী কেন্দ্রটির নিজস্ব পানি শোধনাগার, সিসিটিভি কন্ট্রোল রুম, ইন্টারনেটের জন্য ওয়াইফাই সিস্টেম, একটি আধুনিক ঝরনা ও রিমোট কন্ট্রোলড প্রবেশদ্বার রয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, কেন্দ্রটির ফ্লোর স্পেস ৩৩ হাজার বর্গমিটার। এর মধ্যে ১৫ হাজার ৪১৮ বর্গমিটারের একটি প্রদর্শনী হল রয়েছে। সরকার ২০১৫ সালে রাজউকের পূর্বাচলে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর অনুকূলে প্রথমে ২০ একর এবং পরে আরও ৬ দশমিক ১ একর জমি বরাদ্দ দেয়। সেখানে চীন সরকারের প্রকল্প সহায়তায় সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত এই সুপরিসর এক্সিবিশন সেন্টার নির্মাণ করা হয়েছে।

কুমিল্লার ঘটনা দুঃখজনক অপরাধীদের বিচার হবে: প্রধানমন্ত্রী

 বাসস 
২২ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। এখানে সব ধর্মের মানুষ সম্মানের সঙ্গে যুগের পর যুগ ধরে বসবাস করছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে সব ধর্মের মানুষ রক্ত দিয়েছেন। পবিত্র কুরআন অবমাননাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লায় যে ঘটনা ঘটেছে তা খুবই দুঃখজনক। এ ঘটনায় অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তাদের বিচার করা হবে। বৃহস্পতিবার কুমিল্লা আওয়ামী লীগ কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

গণভবন থেকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আরও বলেন, মানবধর্মকে সম্মান করা ইসলাম আমাদের শেখায়। নিজের ধর্ম পালনের অধিকার যেমন সবার আছে, তেমনি অন্যের ধর্মকে কেউ হেয় করতে পারেন না। নিজের ধর্মকে সম্মান করার সঙ্গে সঙ্গে অন্যের ধর্মকেও সম্মান করতে হয়। তিনি বলেন, অন্যের ধর্মকে হেয় করলে নিজের ধর্মকেই অসম্মান করা হয়। কুমিল্লার ঘটনাটা বিশ্লেষণ করলে সেটাই দেখতে পাওয়া যায়। পবিত্র কুরআনকে অবমাননা করা হয়েছে, অন্যের ধর্মকে অসম্মান করতে গিয়ে। এটাই হলো- সব থেকে দুঃখজনক। নিজের ধর্মের সম্মান নিজেকেই রক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন, আইন কেউ নিজের হাতে তুলে নেবেন না। কেউ অপরাধ করলে সে যে-ই হোক না কেন, বিচার করা হবে। আমাদের সরকার সেই বিচার করবে।

সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের নবি করিম (সা.) বলেছেন, ‘ধর্ম নিয়ে কেউ বাড়াবাড়ি করবে না।’ আমাদের সেই কথাটা মেনে চলতে হবে, স্মরণ করতে হবে, জানতে হবে। তাহলেই ইসলামের সঠিক শিক্ষাটা পাব। প্রতিটি ধর্মেই শান্তির কথা বলে। সবাই শান্তি চায়। বাংলাদেশে আমরা সবাই একটা অসাম্প্রদায়িক সমাজে বসবাস করি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এখানে সব ধর্মের সঙ্গে আমাদের সম্প্রীতি থাকবে। সম্প্রীতি নিয়ে আমাদের চলতে হবে। যুগ যুগ ধরে আমরা সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে আসছি। মুক্তিযুদ্ধে সব ধর্মের মানুষ জীবন দিয়েছেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছেন তারা কিন্তু কোনো ধর্ম দেখেননি। সব ধর্মের জন্যই তারা রক্ত দিয়েছেন। সব ধর্মের রক্ত একাকার হয়ে মিশে গেছে। এটা সবাইকে মনে রাখতে হবে। এখানে সব ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি, পেশার মানুষ মর্যাদা ও সম্মান নিয়ে চলবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি শান্তি সম্মিলন, শান্তি মিছিল এবং শান্তি সভা করার জন্য দলের নেতাকর্মীদের পরামর্শ দিয়েছি। সম্প্রীতি রক্ষার ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে কোনোরকমের সংঘাত দেখা না দেয়। কারণ এ মাটিতে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই যেন ভালোভাবে বাঁচতে পারে। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে মাঝে মাঝে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর প্রচেষ্টা করা হয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, প্রকৃতপক্ষে দেশের উন্নয়ন একটি শ্রেণি মানতে পারে না। কুমিল্লার ঘটনা ঘটার পরপরই পীরগঞ্জসহ বিভিন্ন জায়গায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানো হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় যে ঘটনা ঘটেছে, ঘর-বাড়ি পুড়িয়েছে সঙ্গে সঙ্গে তাঁবু টানিয়ে তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুকনো খাবার থেকে শুরু করে রান্না করা খাবার বিতরণ, কাপড়-চোপড় এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে আমরা ঘর-বাড়ি করে দেব। ইতোমধ্যে সে ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি।

অনুষ্ঠানে কুমিল্লাকে বিভাগে রূপান্তরিত করার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ফরিদপুর ও এর আশপাশের জেলাগুলোকে নিয়ে ‘পদ্মা’ এবং কুমিল্লা ও এর আশপাশের জেলাগুলোকে নিয়ে ‘মেঘনা’ বিভাগ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ গণমানুষের সংগঠন। এ দল এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করবে, দেশের মানুষকে উন্নত জীবন দেবে এবং দেশের মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করবে।

অনুষ্ঠানে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার এমপি কুমিল্লাপ্রান্ত থেকে স্বাগত বক্তৃতা করেন। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনসহ স্থানীয় নেতারা কুমিল্লা প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন।

রপ্তানি পণ্যের নতুন বাজার অনুসন্ধানে গুরুত্বারোপ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা কোন দেশে কোন ধরনের পণ্য রপ্তানি করতে পারি সে বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে পণ্য উৎপাদনের ব্যবস্থা করতে হবে। দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী করতে বিদেশে নতুন বাজার অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আমাদের রপ্তানি পণ্যের সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বাড়াতে হবে। আমাদের পণ্যের আরও বহুমুখীকরণের চেষ্টা করতে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোসহ সবাইকে অনুরোধ করব। রাজধানীর পূর্বাচলে নবনির্মিত ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্র’ ভার্চুয়ালি উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি প্রদর্শনী কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেন।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, আমাদের যত শিল্প খাত আছে এখন থেকে সেগুলোর প্রস্তুতি নিতে হবে। সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। দেশের পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ সম্ভব উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইসিটি সংশ্লিষ্ট সেবা খাতের রপ্তানি বৃদ্ধির প্রতি তার সরকার জোর দিয়েছে। আমরা এখন যে ডিজিটাল ডিভাইস রপ্তানি করছি এক সময় সেটাই সবচেয়ে বড় রপ্তানি পণ্য হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন প্রদর্শনী কেন্দ্রে রপ্তানি মেলা, বাণিজ্য মেলা, রপ্তানিকারকদের সম্মেলন, ক্রেতা-বিক্রেতা মেলা এবং অন্য সব বাণিজ্য বৃদ্ধিমূলক কর্মকাণ্ড আয়োজনের মাধ্যমে কেন্দ্রটির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। এটি বছরব্যাপী বিভিন্ন পণ্যভিত্তিক মেলার স্থায়ী ভেন্যু হিসাবে ব্যবহৃত হবে। আর এখন থেকে এখানে স্থায়ী প্ল্যাটফরমে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মহামারির কারণে উন্নয়নের গতি কিছুটা কমে গেলেও দেশ থেমে থাকেনি, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সরকারের ধারাবাহিকতা আছে বলেই দেশের উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষ, বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বক্তব্য দেন। এ সময় মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এবং দেশি-বিদেশি আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। পূর্বাচল নিউ সিটি প্রজেক্ট এরিয়ায় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ‘বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার কন্ট্রাকশন প্রজেক্ট’ গ্রহণ করে। এতে বাংলাদেশ ও চীন যৌথভাবে অর্থায়ন করে। আধুনিক প্রদর্শনী কেন্দ্রটির নিজস্ব পানি শোধনাগার, সিসিটিভি কন্ট্রোল রুম, ইন্টারনেটের জন্য ওয়াইফাই সিস্টেম, একটি আধুনিক ঝরনা ও রিমোট কন্ট্রোলড প্রবেশদ্বার রয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, কেন্দ্রটির ফ্লোর স্পেস ৩৩ হাজার বর্গমিটার। এর মধ্যে ১৫ হাজার ৪১৮ বর্গমিটারের একটি প্রদর্শনী হল রয়েছে। সরকার ২০১৫ সালে রাজউকের পূর্বাচলে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর অনুকূলে প্রথমে ২০ একর এবং পরে আরও ৬ দশমিক ১ একর জমি বরাদ্দ দেয়। সেখানে চীন সরকারের প্রকল্প সহায়তায় সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত এই সুপরিসর এক্সিবিশন সেন্টার নির্মাণ করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন