পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে
jugantor
সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত
পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৩ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে শুক্রবার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধনসহ নানা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন করাসহ অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এজন্য তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বলেন, শান্তির বাংলাদেশকে একটি কুচক্রী মহল অস্থিতিশীল করার চক্রান্তে লিপ্ত। এ জন্য বারবার সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা করা হয়েছে। তারা বলেন, আগের ঘটনাগুলোয় অপরাধী ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটত না। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে তারা সরকারের কাছে আহ্বান জানান।

ঢাবি প্রতিনিধি জানান, রাজধানীর শাহবাগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সার্বিক নিরাপত্তার লক্ষ্যে ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন’ এবং সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠন করাসহ পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। এসব দাবিতে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বেশ কয়েকটি সংগঠন শুক্রবার বিকালে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে। এ কারণে এ সময় শাহবাগসংলগ্ন সব সড়কে যানজট দেখা দেয়। সন্ধ্যার দিকে মশাল মিছিলের মাধ্যমে তারা অবরোধ কর্মসূচি তুলে নেন।

বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের ডাকে কর্মসূচিতে জাগো হিন্দু পরিষদ, বাংলাদেশ সনাতন কল্যাণ জোট, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাসংঘ, ইন্টারন্যাশনাল শ্রীশ্রী হরি-গুরুচাঁদ মতুয়া মিশনসহ বেশ কয়েকটি হিন্দু সংগঠনের দুই শতাধিক নেতাকর্মী সমাবেশে অংশ নেন। সাম্প্রদায়িক হামলার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানান তারা। এদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সার্বিক নিরাপত্তার লক্ষ্যে তারা ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন’ পাশ ও সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠন করার দাবি জানান। বাংলাদেশ হিন্দু আইনজীবী পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুমন কুমার রায় যুগান্তরকে বলেন, আমাদের অন্যতম দাবি হিন্দু সুরক্ষা আইন। এজন্য সাইবার ক্রাইমের মতো বিশেষ ট্রাইব্যুনাল করতে হবে। এর মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীর বিচার করতে হবে। এর আগে শুক্রবার সকালে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে সংগঠনগুলো।

সমাবেশে সংগঠনগুলোর নেতারা বলেন, সারা দেশে হিন্দুদের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও হত্যা করা হচ্ছে। কিন্তু হামলা-ভাঙচুর বন্ধে সরকার ও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয় না। এ হামলার বিচার চাই। আমাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে। আজ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত শাহবাগে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সমাবেশে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তাপস পাল, জাতীয় হিন্দু ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মানিক সরকার, বাংলাদেশ হিন্দু আইনজীবী পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুমন কুমার রায় প্রমুখ বক্তব্য দেন।

অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-জাতীয় সংসদে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে ৬০টি সংরক্ষিত আসন বরাদ্দ করাসহ একজন উপ-রাষ্ট্রপতি ও একজন উপ-প্রধানমন্ত্রীর পদ সৃষ্টি করা, দখল হওয়া দেবোত্তর সম্পত্তি নিজ নিজ মঠ ও মন্দির হস্তান্তরসহ উদ্ধার হওয়া হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিমা জাদুঘরের পরিবর্তে মঠ-মন্দিরের কাছে ফেরত দেওয়া, সরকারি চাকরিতে ২০ শতাংশ কোটা পদ্ধতি চালুসহ হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের জন্য সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং শারদীয় দুর্গাপূজায় তিন দিনের সরকারি ছুটি দেওয়াসহ নিু মাধ্যমিক পর্যায়ে সংস্কৃত শিক্ষা পুনরায় চালু করা।

ঢাবিতে সহিংসতা বিরোধী কনসার্ট : দেশব্যাপী চলমান সহিংসতার বিরুদ্ধে একাত্ম হয়ে সাংস্কৃতিক প্রতিবাদের উদ্দেশ্যে শুক্রবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘সহিংসতা বিরোধী কনসার্টের’ আয়োজন করা হয়। ‘সহিংসতার বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’র ব্যানারে এর আয়োজন করা হয়। কনসার্টে দেশের নামকরা ব্যান্ডগুলো ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একক ও সমবেত সঙ্গীত, মূকাভিনয় এবং নৃত্য পরিবেশন করেন। সেখানে শিরোনামহীন, মেঘদল, সহজিয়া, শহরতলি, বাংলা ফাইভ, গানপোকা, গানকবি, কৃষ্ণপক্ষ, কাল, অবলিক, অর্জন, গঞ্জে ফেরেশতা এবং বুনোফুল গান পরিবেশন করে। জয় শাহরিয়ার, তুহিন কান্তি দাস, সাহস মোস্তাফিজ, লালন মাহমুদ, তন্ময়, প্রিয়াঙ্কা পাণ্ডে, রাহিম, অর্ঘ্য, অর্চন, উদয়, অপু, উপায় ও অনিন্দ্য একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন। উম্মে হাবিবা ও আবু ইবনে রাফি নৃত্য পরিবেশন করেন। ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম একশন মূকাভিনয় পরিবেশন করে।

শাহবাগে ছাত্র ইউনিয়নের বিক্ষোভ সমাবেশ : সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ। সংসদের সভাপতি তামজিদ হায়দার চঞ্চলের সভাপতিত্বে এবং শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক নাজিফা জান্নাতের সঞ্চালনায় সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়নের বিদ্রোহী অংশের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অনিক রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক মিখা পিরেগু, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক রেশমী সাবা, দপ্তর সম্পাদক জয়তী চক্রবর্তী প্রমুখ বক্তব্য দেন।

পুরান ঢাকা প্রতিনিধি জানান, সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন। শুক্রবার সকালে গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশন রোডে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়। এ সময় রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী পূর্ণাত্মনন্দজীসহ মঠের সন্ন্যাসী ও সমমনা বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। স্বামী পূর্ণাত্মনন্দজী সাংবাদিকদের বলেন, এর আগের ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটত না।

সারা দেশে সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী প্রতিবাদ-সমাবেশ সম্পর্কে যুগান্তরের ব্যুরো, অফিস ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্বর, এসএস খালেদ রোডের আসকারদিঘির পাড়, পাহাড়তলী কৈবল্যধাম এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বাংলাদেশ ব্রাহ্মণ সংসদ চট্টগ্রাম উত্তর-দক্ষিণ ও মহানগর, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, চট্টগ্রাম জেলা সৎসঙ্গ, শ্রীশ্রী রাম ঠাকুর সেবাশ্রমসহ বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যোগ দেন। সমাবেশ থেকে শনিবার সারা দেশে গণঅবস্থান কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হয়।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধনে বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেন, কুমিল্লার ঘটনায় ইকবাল হোসেন নামে যাকে শনাক্ত করা হলো তাকে ‘ভবঘুরে’ সাজিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে। এরকম যাদের ধরা হয়, তাদের কখনো পাগল, কখনো ভবঘুরে সাজানো হয়। এ ভবঘুরে কী করে পবিত্র কুরআন শরিফ চিনল এটা পূর্বপরিকল্পিত। এ ঘটনার পেছনের চক্রান্তকারীদের খুঁজে বের করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি দাবি জানান। এতে চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি লায়ন আশীষ কুমার ভট্টাচার্য্য, বাংলাদেশ ব্রাহ্মণ সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির বিভাগীয় যুগ্ম সম্পাদক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জি, সাংগঠনিক সম্পাদক পণ্ডিত দীলিপ চক্রবর্তী, সমীর চক্রবর্তী প্রমুখ।

বরিশাল : বরিশালে পৃথক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরীর শ্রীরামকৃষ্ণ মিশনে অধ্যক্ষ স্বামী বিজিতাত্মানন্দজী মহারাজের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে ভক্ত ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ সময় শ্রীশ্রী শংকর মঠ পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিলন কৃষ্ণ কানুসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। স্বামী বিজিতাত্মানন্দজী মহারাজ বলেন, শান্তির বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য একটি কুচক্রী মহল চক্রান্তে লিপ্ত। এজন্যই বারবার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলা এমনকি হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। তিনি বলেন, মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর থেকে শুরু করে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আমাদের হৃদয় ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়েছে। অনতিবিলম্বে এসব দুষ্কৃতকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। একই সময় নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করে বরিশাল জেলা গণনাট্য সংস্থা। সংগঠনের সভাপতি শাহ্ আজিজুর রহমান খোকনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তারা বলেন, আমরা অপরাধীর শাস্তি চাই। এ বাংলার মাটিতে কোনো অপশক্তি যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সেদিকে সবাইকে লক্ষ রাখাতে হবে। প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জাফর তালুকদার, বীরেন রায়, কমরেড সাইদুর রহমান, নুরুল আমিন খান, হারুন অর-রসিদ, মাহাবুবুল আলম, অ্যাডভোকেট একে আজাদ, সঞ্জিব সিংহ, অধ্যক্ষ বিমল চক্রবর্তী, সজল চক্রবর্তী, শ্যামল চক্রবর্তী প্রমুখ।

ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহে রামকৃষ্ণ আশ্রম ও রামকৃষ্ণ মিশনের উদ্যোগে মিশনের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এতে রামকৃষ্ণ আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী ভক্তি প্রদানন্দ, স্বামী হরিগুণানন্দ, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উত্তম চক্রবর্তী রকেটসহ বিভিন্ন সংগঠনের ভক্তরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ ব্রাহ্মণ সংসদ জেলা শাখার উদ্যোগে নগরীর দুর্গাবাড়ী মন্দিরের সামনে মানববন্ধন পালন করা হয়। এতে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট বিকাশ রায়, সাধারণ সম্পাদ পবিত্র রঞ্জন দে, মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট তপন দে, দুর্গাবাড়ি মন্দিরের আর্যধর্ম জ্ঞান প্রদায়িনী সভার সাধারণ সম্পাদক শংকর সাহা, স্নেহাশীষ চন্দ্র দে, উত্ম ঘোষ, কেশব চক্রবর্তীসহ হিন্দু ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) : প্রগতিশীল সংগঠনগুলোর উদ্যোগে গৌরীপুরে মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। ধানমহালে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক পলাশ মাজহার। সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব এম হাসান শুভ। বক্তব্য দেন গৌরীপুর ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি হারুন আল বারী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ, সাবেক ছাত্রনেতা আবুল হাসনাত রিয়াজুল করিম, সাখাওয়াত হোসেন তসলিম, বাসদ শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি আমিনুল হক, উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কর, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব মণ্ডল, সাবেক সভাপতি হীরা লাল পাস্টার, গৌরীপুর উদীচীর সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান, গৌরীপুর ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি এনামুল হাসান অনয়, সহসভাপতি অর্ক দত্ত, পূজা উদযাপন কমিটির রনি ঘোষ, চন্দন সরকার প্রমুখ।

ফুলপুর (ময়মনসিংহ) : ফুলপুরে রামকৃষ্ণ আশ্রমের উদ্যোগে পৌরসভার সাহাপাড়া রামকৃষ্ণ আশ্রমের সামনে মানববন্ধন হয়েছে। এতে বক্তারা অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। এ সময় ফুলপুর রামকৃষ্ণ আশ্রমের সভাপতি জগদীশ চন্দ্র সাহা, সাধারণ সম্পাদক গৌরাঙ্গ চন্দ্র সাহা, রামকৃষ্ণ আশ্রম নেতা অঞ্জন রায়, অরূপ রতন রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থের আলোকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে ‘ধর্মে ধর্মে সম্প্র্রীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী কবিতা পাঠের আয়োজন হয়। বেলা ১১টায় শহরের শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা মঞ্চে বিক্ষুব্ধ সংস্কৃতি সমাজ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রহিম বিজন সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে নিজ নিজ ধর্মগ্রন্থের আলোকে সাম্প্রদায়িক সম্প্র্রীতি বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরেন ব্যাপ্টিস্ট চার্চের কার্যকরী সভ্য টমাস তুহিন দাস, কাল ভৈরব মন্দিরের পুরোহিত নারায়ণ চক্রবর্তী ও জাতীয় ওলামা পরিষদের জেলা শাখার সভাপতি হযরত মাওলানা ক্বারী মো. আনিছুর রহমান।

বিক্ষুব্ধ সংস্কৃতি সমাজের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম শ্রাবণের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠান সমন্বয়ক শামীম আহমেদ, স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন কবি ও কথাসাহিত্যিক আমির হোসেন, একক কবিতা আবৃত্তি করেন বাচিকশিল্পী বাছির দুলাল, সোনালী সকাল সংগঠনের সদস্য তাবাচ্ছুম মৃধা, দলীয় আবৃত্তি করেন তিতাস আবৃত্তি সংগঠনের সদস্যবৃন্দ।

পাবনা : শহরের পাথরতলার রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন আশ্রমের সভাপতি অসিত কুমার সাহা, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিনয় জ্যোতি কুণ্ডু, সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রভাষ ভদ্র, রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ সাহা প্রমুখ।

বাগেরহাট : বাগেরহাট রামকৃষ্ণ আশ্রমের সামনে সড়কে মানববন্ধন করে রামকৃষ্ণ আশ্রম। এতে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ, হিন্দু, বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ এবং জাতীয় হিন্দু মহাজোট সংহতি প্রকাশ করে। ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকশ নারী-পুরুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আমরা সবাই মিলে এ দেশে শান্তিতে বসবাস করে আসছি। অথচ এ বছর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করা হয়েছে। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বাগেরহাট রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনের মহারাজ স্বামী সেবানন্দজী মহারাজ, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অমিত রায়, সাধারণ সম্পাদক অবনিশ চক্রবর্তী সোনা, জেলা হিন্দু, বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শিবপ্রসাদ ঘোষ ও সাধারণ সম্পাদক মিলন কুমার ব্যানার্জী প্রমুখ।

গাইবান্ধা : গাইবান্ধা শহরের ভিএইড রোড কেন্দ্রীয় কালীবাড়ী মন্দির সংলগ্ন সড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। বাংলাদেশ ব্রাহ্মণ সংসদের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির হিসাবে গাইবান্ধা জেলা পুরোহিত কল্যাণ সমিতি ওই কর্মসূচির আয়োজন করে। গাইবান্ধা-ফুলছড়ি-সাঘাটা সড়কে আয়োজিত মানববন্ধনে সংগঠনের জেলা সভাপতি শংকর চক্রবতীর সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রণজিৎ বকসী সূর্য, সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুজন প্রসাদ, সাধারণ সম্পাদক রকি দেব, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ সদর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক রঞ্জন কুমার সাহা, ছাত্র-যুব ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক চঞ্চল সাহা, শহর ছাত্র-যুব ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রতীম প্রামাণিক, সাংবাদিক অশোক সাহা, জেলা পুরোহিত কল্যাণ সমিতির প্রধান উপদেষ্টা কালীপদ মুখার্জী, পূর্ণেন্দু ভট্টাচার্য, যুগ্ম সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী রিন্টু প্রমুখ।

টাঙ্গাইল : শ্রীরামকৃষ্ণ মঠ ও আশ্রমের উদ্যোগে শহরের বটতলায় মন্দিরের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার গুণ, শ্রীরামকৃষ্ণ মঠ ও আশ্রমের সাধারণ সম্পাদক চিকিৎসক শম্ভুনাথ চক্রবর্তী, সাবেক জিপি আনন্দ মোহন আর্য, শ্রীশ্রী বড় কালীবাড়ীর সহ-সভাপতি সুভাষ চন্দ্র সরকার, যুগ্ম সম্পাদক বিমল কুমার চন্দ, সদস্য বিপুল কান্তি ঘোষ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

এছাড়া কুড়িগ্রাম, নওগাঁ, নওগাঁর নিয়ামতপুর, নেত্রকোনার মদন ও কলমাকান্দায় নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত

পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৩ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে শুক্রবার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধনসহ নানা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন করাসহ অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এজন্য তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বলেন, শান্তির বাংলাদেশকে একটি কুচক্রী মহল অস্থিতিশীল করার চক্রান্তে লিপ্ত। এ জন্য বারবার সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা করা হয়েছে। তারা বলেন, আগের ঘটনাগুলোয় অপরাধী ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটত না। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে তারা সরকারের কাছে আহ্বান জানান।

ঢাবি প্রতিনিধি জানান, রাজধানীর শাহবাগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সার্বিক নিরাপত্তার লক্ষ্যে ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন’ এবং সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠন করাসহ পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। এসব দাবিতে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বেশ কয়েকটি সংগঠন শুক্রবার বিকালে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে। এ কারণে এ সময় শাহবাগসংলগ্ন সব সড়কে যানজট দেখা দেয়। সন্ধ্যার দিকে মশাল মিছিলের মাধ্যমে তারা অবরোধ কর্মসূচি তুলে নেন।

বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের ডাকে কর্মসূচিতে জাগো হিন্দু পরিষদ, বাংলাদেশ সনাতন কল্যাণ জোট, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাসংঘ, ইন্টারন্যাশনাল শ্রীশ্রী হরি-গুরুচাঁদ মতুয়া মিশনসহ বেশ কয়েকটি হিন্দু সংগঠনের দুই শতাধিক নেতাকর্মী সমাবেশে অংশ নেন। সাম্প্রদায়িক হামলার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানান তারা। এদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সার্বিক নিরাপত্তার লক্ষ্যে তারা ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন’ পাশ ও সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠন করার দাবি জানান। বাংলাদেশ হিন্দু আইনজীবী পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুমন কুমার রায় যুগান্তরকে বলেন, আমাদের অন্যতম দাবি হিন্দু সুরক্ষা আইন। এজন্য সাইবার ক্রাইমের মতো বিশেষ ট্রাইব্যুনাল করতে হবে। এর মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীর বিচার করতে হবে। এর আগে শুক্রবার সকালে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে সংগঠনগুলো।

সমাবেশে সংগঠনগুলোর নেতারা বলেন, সারা দেশে হিন্দুদের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও হত্যা করা হচ্ছে। কিন্তু হামলা-ভাঙচুর বন্ধে সরকার ও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয় না। এ হামলার বিচার চাই। আমাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে। আজ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত শাহবাগে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সমাবেশে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তাপস পাল, জাতীয় হিন্দু ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মানিক সরকার, বাংলাদেশ হিন্দু আইনজীবী পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুমন কুমার রায় প্রমুখ বক্তব্য দেন।

অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-জাতীয় সংসদে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে ৬০টি সংরক্ষিত আসন বরাদ্দ করাসহ একজন উপ-রাষ্ট্রপতি ও একজন উপ-প্রধানমন্ত্রীর পদ সৃষ্টি করা, দখল হওয়া দেবোত্তর সম্পত্তি নিজ নিজ মঠ ও মন্দির হস্তান্তরসহ উদ্ধার হওয়া হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিমা জাদুঘরের পরিবর্তে মঠ-মন্দিরের কাছে ফেরত দেওয়া, সরকারি চাকরিতে ২০ শতাংশ কোটা পদ্ধতি চালুসহ হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের জন্য সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং শারদীয় দুর্গাপূজায় তিন দিনের সরকারি ছুটি দেওয়াসহ নিু মাধ্যমিক পর্যায়ে সংস্কৃত শিক্ষা পুনরায় চালু করা।

ঢাবিতে সহিংসতা বিরোধী কনসার্ট : দেশব্যাপী চলমান সহিংসতার বিরুদ্ধে একাত্ম হয়ে সাংস্কৃতিক প্রতিবাদের উদ্দেশ্যে শুক্রবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘সহিংসতা বিরোধী কনসার্টের’ আয়োজন করা হয়। ‘সহিংসতার বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’র ব্যানারে এর আয়োজন করা হয়। কনসার্টে দেশের নামকরা ব্যান্ডগুলো ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একক ও সমবেত সঙ্গীত, মূকাভিনয় এবং নৃত্য পরিবেশন করেন। সেখানে শিরোনামহীন, মেঘদল, সহজিয়া, শহরতলি, বাংলা ফাইভ, গানপোকা, গানকবি, কৃষ্ণপক্ষ, কাল, অবলিক, অর্জন, গঞ্জে ফেরেশতা এবং বুনোফুল গান পরিবেশন করে। জয় শাহরিয়ার, তুহিন কান্তি দাস, সাহস মোস্তাফিজ, লালন মাহমুদ, তন্ময়, প্রিয়াঙ্কা পাণ্ডে, রাহিম, অর্ঘ্য, অর্চন, উদয়, অপু, উপায় ও অনিন্দ্য একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন। উম্মে হাবিবা ও আবু ইবনে রাফি নৃত্য পরিবেশন করেন। ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম একশন মূকাভিনয় পরিবেশন করে।

শাহবাগে ছাত্র ইউনিয়নের বিক্ষোভ সমাবেশ : সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ। সংসদের সভাপতি তামজিদ হায়দার চঞ্চলের সভাপতিত্বে এবং শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক নাজিফা জান্নাতের সঞ্চালনায় সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়নের বিদ্রোহী অংশের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অনিক রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক মিখা পিরেগু, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক রেশমী সাবা, দপ্তর সম্পাদক জয়তী চক্রবর্তী প্রমুখ বক্তব্য দেন।

পুরান ঢাকা প্রতিনিধি জানান, সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন। শুক্রবার সকালে গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশন রোডে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়। এ সময় রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী পূর্ণাত্মনন্দজীসহ মঠের সন্ন্যাসী ও সমমনা বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। স্বামী পূর্ণাত্মনন্দজী সাংবাদিকদের বলেন, এর আগের ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটত না।

সারা দেশে সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী প্রতিবাদ-সমাবেশ সম্পর্কে যুগান্তরের ব্যুরো, অফিস ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্বর, এসএস খালেদ রোডের আসকারদিঘির পাড়, পাহাড়তলী কৈবল্যধাম এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বাংলাদেশ ব্রাহ্মণ সংসদ চট্টগ্রাম উত্তর-দক্ষিণ ও মহানগর, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, চট্টগ্রাম জেলা সৎসঙ্গ, শ্রীশ্রী রাম ঠাকুর সেবাশ্রমসহ বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যোগ দেন। সমাবেশ থেকে শনিবার সারা দেশে গণঅবস্থান কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হয়।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধনে বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেন, কুমিল্লার ঘটনায় ইকবাল হোসেন নামে যাকে শনাক্ত করা হলো তাকে ‘ভবঘুরে’ সাজিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে। এরকম যাদের ধরা হয়, তাদের কখনো পাগল, কখনো ভবঘুরে সাজানো হয়। এ ভবঘুরে কী করে পবিত্র কুরআন শরিফ চিনল এটা পূর্বপরিকল্পিত। এ ঘটনার পেছনের চক্রান্তকারীদের খুঁজে বের করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি দাবি জানান। এতে চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি লায়ন আশীষ কুমার ভট্টাচার্য্য, বাংলাদেশ ব্রাহ্মণ সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির বিভাগীয় যুগ্ম সম্পাদক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জি, সাংগঠনিক সম্পাদক পণ্ডিত দীলিপ চক্রবর্তী, সমীর চক্রবর্তী প্রমুখ।

বরিশাল : বরিশালে পৃথক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরীর শ্রীরামকৃষ্ণ মিশনে অধ্যক্ষ স্বামী বিজিতাত্মানন্দজী মহারাজের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে ভক্ত ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ সময় শ্রীশ্রী শংকর মঠ পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিলন কৃষ্ণ কানুসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। স্বামী বিজিতাত্মানন্দজী মহারাজ বলেন, শান্তির বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য একটি কুচক্রী মহল চক্রান্তে লিপ্ত। এজন্যই বারবার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলা এমনকি হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। তিনি বলেন, মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর থেকে শুরু করে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আমাদের হৃদয় ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়েছে। অনতিবিলম্বে এসব দুষ্কৃতকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। একই সময় নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করে বরিশাল জেলা গণনাট্য সংস্থা। সংগঠনের সভাপতি শাহ্ আজিজুর রহমান খোকনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তারা বলেন, আমরা অপরাধীর শাস্তি চাই। এ বাংলার মাটিতে কোনো অপশক্তি যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সেদিকে সবাইকে লক্ষ রাখাতে হবে। প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জাফর তালুকদার, বীরেন রায়, কমরেড সাইদুর রহমান, নুরুল আমিন খান, হারুন অর-রসিদ, মাহাবুবুল আলম, অ্যাডভোকেট একে আজাদ, সঞ্জিব সিংহ, অধ্যক্ষ বিমল চক্রবর্তী, সজল চক্রবর্তী, শ্যামল চক্রবর্তী প্রমুখ।

ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহে রামকৃষ্ণ আশ্রম ও রামকৃষ্ণ মিশনের উদ্যোগে মিশনের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এতে রামকৃষ্ণ আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী ভক্তি প্রদানন্দ, স্বামী হরিগুণানন্দ, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উত্তম চক্রবর্তী রকেটসহ বিভিন্ন সংগঠনের ভক্তরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ ব্রাহ্মণ সংসদ জেলা শাখার উদ্যোগে নগরীর দুর্গাবাড়ী মন্দিরের সামনে মানববন্ধন পালন করা হয়। এতে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট বিকাশ রায়, সাধারণ সম্পাদ পবিত্র রঞ্জন দে, মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট তপন দে, দুর্গাবাড়ি মন্দিরের আর্যধর্ম জ্ঞান প্রদায়িনী সভার সাধারণ সম্পাদক শংকর সাহা, স্নেহাশীষ চন্দ্র দে, উত্ম ঘোষ, কেশব চক্রবর্তীসহ হিন্দু ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) : প্রগতিশীল সংগঠনগুলোর উদ্যোগে গৌরীপুরে মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। ধানমহালে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক পলাশ মাজহার। সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব এম হাসান শুভ। বক্তব্য দেন গৌরীপুর ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি হারুন আল বারী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ, সাবেক ছাত্রনেতা আবুল হাসনাত রিয়াজুল করিম, সাখাওয়াত হোসেন তসলিম, বাসদ শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি আমিনুল হক, উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কর, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব মণ্ডল, সাবেক সভাপতি হীরা লাল পাস্টার, গৌরীপুর উদীচীর সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান, গৌরীপুর ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি এনামুল হাসান অনয়, সহসভাপতি অর্ক দত্ত, পূজা উদযাপন কমিটির রনি ঘোষ, চন্দন সরকার প্রমুখ।

ফুলপুর (ময়মনসিংহ) : ফুলপুরে রামকৃষ্ণ আশ্রমের উদ্যোগে পৌরসভার সাহাপাড়া রামকৃষ্ণ আশ্রমের সামনে মানববন্ধন হয়েছে। এতে বক্তারা অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। এ সময় ফুলপুর রামকৃষ্ণ আশ্রমের সভাপতি জগদীশ চন্দ্র সাহা, সাধারণ সম্পাদক গৌরাঙ্গ চন্দ্র সাহা, রামকৃষ্ণ আশ্রম নেতা অঞ্জন রায়, অরূপ রতন রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থের আলোকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে ‘ধর্মে ধর্মে সম্প্র্রীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী কবিতা পাঠের আয়োজন হয়। বেলা ১১টায় শহরের শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা মঞ্চে বিক্ষুব্ধ সংস্কৃতি সমাজ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রহিম বিজন সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে নিজ নিজ ধর্মগ্রন্থের আলোকে সাম্প্রদায়িক সম্প্র্রীতি বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরেন ব্যাপ্টিস্ট চার্চের কার্যকরী সভ্য টমাস তুহিন দাস, কাল ভৈরব মন্দিরের পুরোহিত নারায়ণ চক্রবর্তী ও জাতীয় ওলামা পরিষদের জেলা শাখার সভাপতি হযরত মাওলানা ক্বারী মো. আনিছুর রহমান।

বিক্ষুব্ধ সংস্কৃতি সমাজের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম শ্রাবণের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠান সমন্বয়ক শামীম আহমেদ, স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন কবি ও কথাসাহিত্যিক আমির হোসেন, একক কবিতা আবৃত্তি করেন বাচিকশিল্পী বাছির দুলাল, সোনালী সকাল সংগঠনের সদস্য তাবাচ্ছুম মৃধা, দলীয় আবৃত্তি করেন তিতাস আবৃত্তি সংগঠনের সদস্যবৃন্দ।

পাবনা : শহরের পাথরতলার রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন আশ্রমের সভাপতি অসিত কুমার সাহা, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিনয় জ্যোতি কুণ্ডু, সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রভাষ ভদ্র, রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ সাহা প্রমুখ।

বাগেরহাট : বাগেরহাট রামকৃষ্ণ আশ্রমের সামনে সড়কে মানববন্ধন করে রামকৃষ্ণ আশ্রম। এতে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ, হিন্দু, বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ এবং জাতীয় হিন্দু মহাজোট সংহতি প্রকাশ করে। ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকশ নারী-পুরুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আমরা সবাই মিলে এ দেশে শান্তিতে বসবাস করে আসছি। অথচ এ বছর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করা হয়েছে। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বাগেরহাট রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনের মহারাজ স্বামী সেবানন্দজী মহারাজ, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অমিত রায়, সাধারণ সম্পাদক অবনিশ চক্রবর্তী সোনা, জেলা হিন্দু, বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শিবপ্রসাদ ঘোষ ও সাধারণ সম্পাদক মিলন কুমার ব্যানার্জী প্রমুখ।

গাইবান্ধা : গাইবান্ধা শহরের ভিএইড রোড কেন্দ্রীয় কালীবাড়ী মন্দির সংলগ্ন সড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। বাংলাদেশ ব্রাহ্মণ সংসদের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির হিসাবে গাইবান্ধা জেলা পুরোহিত কল্যাণ সমিতি ওই কর্মসূচির আয়োজন করে। গাইবান্ধা-ফুলছড়ি-সাঘাটা সড়কে আয়োজিত মানববন্ধনে সংগঠনের জেলা সভাপতি শংকর চক্রবতীর সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রণজিৎ বকসী সূর্য, সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুজন প্রসাদ, সাধারণ সম্পাদক রকি দেব, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ সদর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক রঞ্জন কুমার সাহা, ছাত্র-যুব ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক চঞ্চল সাহা, শহর ছাত্র-যুব ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রতীম প্রামাণিক, সাংবাদিক অশোক সাহা, জেলা পুরোহিত কল্যাণ সমিতির প্রধান উপদেষ্টা কালীপদ মুখার্জী, পূর্ণেন্দু ভট্টাচার্য, যুগ্ম সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী রিন্টু প্রমুখ।

টাঙ্গাইল : শ্রীরামকৃষ্ণ মঠ ও আশ্রমের উদ্যোগে শহরের বটতলায় মন্দিরের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার গুণ, শ্রীরামকৃষ্ণ মঠ ও আশ্রমের সাধারণ সম্পাদক চিকিৎসক শম্ভুনাথ চক্রবর্তী, সাবেক জিপি আনন্দ মোহন আর্য, শ্রীশ্রী বড় কালীবাড়ীর সহ-সভাপতি সুভাষ চন্দ্র সরকার, যুগ্ম সম্পাদক বিমল কুমার চন্দ, সদস্য বিপুল কান্তি ঘোষ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

এছাড়া কুড়িগ্রাম, নওগাঁ, নওগাঁর নিয়ামতপুর, নেত্রকোনার মদন ও কলমাকান্দায় নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন