ভোক্তার ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ
jugantor
ভোক্তার ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৩ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভোক্তার ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ ক্রমেই বাড়ছে। গত সেপ্টেম্বরে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। ফলে খাদ্য ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় উপকরণের দাম বাড়ছে এবং নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির এ চিত্র উঠে এসেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যে।

বিবিএস বলছে, গত মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ দশমিক ৫৯ হয়েছে, যা আগস্টে ৫ দশমিক ৫৪ ছিল। খাদ্য নয়, এমন পণ্যের মূল্যস্ফীতির হার সেপ্টেম্বরে ৬ পয়েন্ট বেড়ে ৬ দশমিক ১৯ হয়েছে। আগস্টে এটি ৬ দশমিক ১৩ ছিল। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ দশমিক ২১ হয়েছে, যেটি আগস্টে ৫ দশমিক ১৬ ছিল। আর জুলাইয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

গত অর্থবছরের (২০২০-২১) শেষ মাস জুনে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ। যদিও চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে গড় মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৩ শতাংশে আটকে রাখার লক্ষ্য ধরেছে সরকার। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে এই লক্ষ্য ধরা ছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। কিন্তু অর্থবছর শেষ হয় ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতি নিয়ে। অর্থাৎ বাজেটের লক্ষ্যের চেয়ে বেশি ছিল গড় মূল্যস্ফীতি। আর চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে প্রতি মাসেই বাড়ছে মূল্যস্ফীতি। সেপ্টেম্বর মাসে গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যে পণ্য বা সেবার জন্য ১০০ টাকা খরচ করতে হতো, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে সেই পণ্য বা সেবার জন্য ১০৫ টাকা ৬০ পয়সা খরচ করতে হয়েছে।

বিবিএস জানায়, চাল, ডিম, গম, রসুন, পেঁয়াজ, আদা ও হলুদের দাম গত মাসে বেড়েছে। গ্রামীণ অঞ্চলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি আগস্টের ৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ হয়েছে। একইভাবে, খাদ্য নয় এমন পণ্যের মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ থেকে ৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ হয়েছে। তবে শহরাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি কিছুটা ভালো। খাদ্য মূল্যস্ফীতি আগস্টের ৪ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে। শহরাঞ্চলে খাদ্য নয় এমন পণ্যের মূল্যস্ফীতির হার আগস্টের ৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ হয়েছে।

সিপিআই (কনজুমার প্রাইস ইনডেক্স) প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সেপ্টেম্বরে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আগস্টে ছিল ৫ দশমিক ৭১ শতাংশ। আর সেপ্টেম্বরে শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশে, যা আগস্টে ছিল ৫ দশমিক ২২ শতাংশ।

চাহিদা পুনরুদ্ধার, নজিরবিহীন শিপিং চার্জ এবং সরবরাহের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে বৈশ্বিক বাজারে বেশির ভাগ পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতির হার বাড়ছে।

অর্থনীতিবিদরা জানান, সারাবিশ্বেই মূল্যস্ফীতি বাড়ছে এবং সম্ভবত বাংলাদেশ একই ধারায় যুক্ত হয়েছে। সেপ্টেম্বরে সব ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। উচ্চমাত্রার মূল্যস্ফীতি সরাসরি নিম্ন আয়ের মানুষদের প্রভাবিত করবে। ইতোমধ্যেই তারা মহামারির শুরু থেকে আয় কমে যাওয়া নিয়ে সমস্যায় আছেন।

ভোক্তার ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৩ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভোক্তার ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ ক্রমেই বাড়ছে। গত সেপ্টেম্বরে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। ফলে খাদ্য ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় উপকরণের দাম বাড়ছে এবং নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির এ চিত্র উঠে এসেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যে।

বিবিএস বলছে, গত মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ দশমিক ৫৯ হয়েছে, যা আগস্টে ৫ দশমিক ৫৪ ছিল। খাদ্য নয়, এমন পণ্যের মূল্যস্ফীতির হার সেপ্টেম্বরে ৬ পয়েন্ট বেড়ে ৬ দশমিক ১৯ হয়েছে। আগস্টে এটি ৬ দশমিক ১৩ ছিল। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ দশমিক ২১ হয়েছে, যেটি আগস্টে ৫ দশমিক ১৬ ছিল। আর জুলাইয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

গত অর্থবছরের (২০২০-২১) শেষ মাস জুনে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ। যদিও চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে গড় মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৩ শতাংশে আটকে রাখার লক্ষ্য ধরেছে সরকার। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে এই লক্ষ্য ধরা ছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। কিন্তু অর্থবছর শেষ হয় ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতি নিয়ে। অর্থাৎ বাজেটের লক্ষ্যের চেয়ে বেশি ছিল গড় মূল্যস্ফীতি। আর চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে প্রতি মাসেই বাড়ছে মূল্যস্ফীতি। সেপ্টেম্বর মাসে গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যে পণ্য বা সেবার জন্য ১০০ টাকা খরচ করতে হতো, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে সেই পণ্য বা সেবার জন্য ১০৫ টাকা ৬০ পয়সা খরচ করতে হয়েছে।

বিবিএস জানায়, চাল, ডিম, গম, রসুন, পেঁয়াজ, আদা ও হলুদের দাম গত মাসে বেড়েছে। গ্রামীণ অঞ্চলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি আগস্টের ৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ হয়েছে। একইভাবে, খাদ্য নয় এমন পণ্যের মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ থেকে ৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ হয়েছে। তবে শহরাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি কিছুটা ভালো। খাদ্য মূল্যস্ফীতি আগস্টের ৪ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে। শহরাঞ্চলে খাদ্য নয় এমন পণ্যের মূল্যস্ফীতির হার আগস্টের ৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ হয়েছে।

সিপিআই (কনজুমার প্রাইস ইনডেক্স) প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সেপ্টেম্বরে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আগস্টে ছিল ৫ দশমিক ৭১ শতাংশ। আর সেপ্টেম্বরে শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশে, যা আগস্টে ছিল ৫ দশমিক ২২ শতাংশ।

চাহিদা পুনরুদ্ধার, নজিরবিহীন শিপিং চার্জ এবং সরবরাহের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে বৈশ্বিক বাজারে বেশির ভাগ পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতির হার বাড়ছে।

অর্থনীতিবিদরা জানান, সারাবিশ্বেই মূল্যস্ফীতি বাড়ছে এবং সম্ভবত বাংলাদেশ একই ধারায় যুক্ত হয়েছে। সেপ্টেম্বরে সব ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। উচ্চমাত্রার মূল্যস্ফীতি সরাসরি নিম্ন আয়ের মানুষদের প্রভাবিত করবে। ইতোমধ্যেই তারা মহামারির শুরু থেকে আয় কমে যাওয়া নিয়ে সমস্যায় আছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন